somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

নাগরিক যন্ত্রনা-৭ (কাক)

১৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাগরিক যন্ত্রনা-৭ (কাক)

কাক'কে আমরা 'পাখি' হিসেবে স্বীকৃতি দিতে কিছুটা কুন্ঠিত। অথচ কাক নগররের উপকারী একটি পাখি। নগরবাসীর উচ্ছিস্ট, পঁচাগলা প্রানী-এসব সাবার করে কাক নগরবাসীর প্রভুত কল্যাণ সাধন করে। আমরা নগরবাসীরা এখনো যে খুব দ্বায়িত্বশীল এবং আধুনিক মনা হয়েছি-তানয়। খাদ্যের উচ্ছিস্টাংশ, মাছ-মুরগীর বর্জ অনেক সময় ডাস্টবিনে নাফেলে মাল্টি স্টোরেড বিল্ডিং এর উপড়তলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেই। আমাদের সকলের ঘুম ভাংগার পুর্বেই কাক সেইসব উচ্ছিস্ট খেয়ে পরিবেশ সাফ-সুতরো করার দ্বায়িত্ব নিয়েছে। ফলে নগরীতে কাক আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় একটা পাখি। অথচ সেই কাকদের আমরা যথার্থ মুল্যায়ন পর্যন্ত করছিনা। তাচ্ছিল্য ভরে কাককে "কাউয়া" নামে ডাকি! আমাদের যেমন প্রয়োজন কাকদের, কাকেরো প্রয়োজন আমাদের। আমাদের প্রয়োজন মিটাতে ঢাকা মহানগরীতে কাকের কোন কমতি নেই। এই প্রয়োজনীয় কাক কিন্তু নগরবাসীর অনেক অনিস্টও করে, অনেক বেশি বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়।

যেমন ধরা যাক-কাক বিদ্যুতের তারের উপড় সারিবদ্ধ হয়ে বসতে পছন্দ করে। কাক এর শরিরের ওজনে, দমকা বাতাসে একটা তারের সাথে আর একটা তারের সংস্পর্শে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট ঘটে যায়। দুইএকটা কাক বিদ্যুতপৃস্ট হয়ে মারাও যায় এবং দ্রুম শব্দে সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় এলাকার বিদ্যুত। তখন উপকারী কাক মরেছে কি বেঁচে আছে-সেখবর রাখিনা। এই আজই আমার এলাকায় কিছুক্ষণ পুর্বে এমন একটি ঘটনা কাক ঘটিয়েছিল। এমনিতেই দিনের ভিতর ৭/৮ বার বিদ্যুত চলে যায়। আজ কাকের কারনে সেই সমস্যা দীর্ঘায়ীত হয়েছিল। এভাবে বিদ্যুতায়ীত হয়ে একটি কাকের মৃত্যু হলে কোথা থেকে শত শত কাক ছুটে এসে অবিরাম কা-কা করে। কা-কা করা মানে কাকদের স্বজনের মৃত্যুতে আর্তচিতকার করা। কিন্তু কাকের স্মৃতিশক্তি খুব বেশী নয়-তাই বেশীক্ষণ এই শোক মাতম চলেনা। যার যার মত আবার খাদ্যের অন্বেষনে আবারো উড়ে চলে যায় অন্য কোথাও। বিদ্যুত চলেগেলে কাকের কোন ক্ষতিহয়না কিন্তু নগরবাসীর ভোগান্তির সীমা থাকেনা।

যেখানে নাগরিকেরা খুব বেশী সু-নাগরিক অর্থাৎ যারা রাস্তায়, ঘরের পাশে উচ্ছিস্ট আবর্জনা ফেলেনা-যেখানে আমাদের মত বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা নেই সেইসব নগরীতে কাকের আনাগোনা খুব বেশী রকমের কম। সেইসব শহরে অবশ্য কাকদের প্রবেশ নিষেধ। ঐসব উন্নত শহরে কাক ঢুকলেই নগররক্ষীরা ভয়দেখিয়ে কাকদের তাড়িয়ে দেয়। কারন সেখানে পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য কাকের প্রয়োজন নেই। কাক বিদ্যুতের তারে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে-সেই ভয়ে বনের কাকদের বনেই সুখ শান্তিতে থাকার জন্য প্ররচিত করা হয়। সেইজন্য ঐসব নগরীর অধিপতিরা শুধু নগরই গড়েননা; কাকদের বসবাসের জন্য অরণ্যও গড়ে তোলেন।

আমরা অরণ্য বিনাশ করে নগর গড়েছি বলে কাকরাও নাগরিক হয়েছে। কখনো কখনো তাদের আচরনেও নাগরিক মানসিকতার স্ফুরন দেখা যায়। সুখাদ্যের জন্য অনেক সময় কাক রান্নাঘর ভেদ করে খাবার চুরি করে উড়ে যায়। সন্তানের হাত থেকে খাবার ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। নাগরিকের মাছ, মাংশের টুকরা, শুটকি মাছ ইত্যাদি নিয়ে যায়। তখনো নগর মানুষের কাক'র দিকে তাকিয়ে হাহাকার করা ছারা কোন উপায় থাকেনা। তারপরও এই মহানগরীতে কাক আর মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৮:২৫
২৪টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×