somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

শিক্ষা : ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের জন্য পৃথক বোর্ড গঠন করা উচিতঃ

১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষা : ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের জন্য পৃথক বোর্ড গঠন করা উচিতঃ

যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে গজিয়ে উঠেছে ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়। ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ব্যাপ্তি ঘটেছে রাজধানী শহর ঢাকা থেকে থানা শহর এমনকি গ্রাম পর্যন্ত। আর এ ধরনের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িয়ে পড়ছে প্রকৃত বিদ্যানুরাগী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এবং বেকার ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত। ফলে শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাহত। শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের নেই কোন ব্যবস্থা। সিলেবাস প্রণয়নের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমন্বয়হীনতা। এ অবস্থায় ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলোর উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।

লন্ডন এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আমাদের দেশে যেসব ইংরেজি মাধ্যম স্কুল "ও" এবং "এ" লেভেল প্রদান করে থাকে এ ধরনের স্কুলগুলোকে সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। দেশের সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরে নিবন্ধণ করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। অন্তত এটুকু বলতে পারি যে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর লাগামহীন গতির উপর সরকারের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে এ নীতির ফলে। আবার ভয়ও হচ্ছে অনেক কারণে সরকারি নিয়ন্ত্রণ মানে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি। আমরা সরকারি চিন্তা-ভাবনাকে সাধুবাদ জানাই। ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের পূর্বে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা উচিত। পুরো ব্যাপারটি ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সর্বোপরি দেশবাসীর নিকট স্পষ্ট করতে হবে। সরকারি নীতি-নির্ধারণীতে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব এবং লাগামহীন দুর্নীতি। এ অবস্থা যেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেখা না দেয়।

আমাদের কেন এত ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়? বিশ্বায়নের প্রভাবে দুনিয়াব্যাপী ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব বেড়ে চলেছে। গোটা দুনিয়া এখন পরিচিত "গ্লোবাল ভিলেজ" নামে। গোটা দুনিয়ার মানুষ এখন বাস করছে একই প্রতিবেশীর মতো। একে অপরের ক্ষেত্রে যোগাযোগের কমন ভাষা হচ্ছে ইংরেজি। ইংরেজি জানলে চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় অগ্রাধিকার। এসব কারণে অধিকাংশ অভিভাবক ছুটছে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পেছনে। আর সেই সুবাদে কিছু ব্যবসায়ী ও বেকার লোকজন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পসরা সাজিয়ে বসেছে।

আরও একটি কারণে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে সেটি হচ্ছে দেশি মাধ্যমে উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়েই তাদের বাচ্চাদের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পাঠান। মানসম্মত বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়ের সংখ্যা জনসংখ্যা অনুপাতে নিতান্তই কম- এ সংখ্যা বাড়াতে হবে । এগিয়ে আসতে হবে সমাজের বিদ্যোৎসাহী, বিত্তবান লোকজন এবং সরকারকে।

ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে কিছু প্রতিষ্ঠিত ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় আছে । এগুলোর পাঠ্যক্রম লন্ডন ও ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে। এ বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের অবশ্যই উঁচুমানের শিক্ষা প্রদান করে থাকে, কিন্তুু এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ানোর মত সামর্থ্য অনেকেরই নেই। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সমাজে বিরাট ব্যবধান সৃষ্টি করে রেখেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জন্য ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখার সুযোগ থাকতে হবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে এ ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে তবে মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপোস করা যাবে না।

নামিদামি এই ইংলিশ মাধ্যম স্কুলগুলোতে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের মাঝে এক ধরনের সাংস্কৃতিক শূন্যতা লক্ষ্য করা যায়। দেশীয় কৃষ্টি কালচারে এখানকার শিক্ষার্থীরা অতটা আগ্রহী হয়ে উঠে না। দেশীয় কালচারের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য এদেরকে উৎসাহিতও করা হয় না। বাংলা ভাষা শেখার প্রতি তারা অনীহা প্রকাশ করে থাকে।

এমনকি অনেক ছেলেমেয়ের মাঝে অনেকটা উন্নাসিক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। তারা মনে করে আমরা অচিরেই বিদেশে চলে যাব। অতএব বাংলা ভাষা জানা আমাদের জন্য জরুরী নয়। তারা ভুলে যায় যে, বিদেশে গিয়ে তাদের এদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। এটিই হচ্ছে দেশপ্রেমের ধারণা। তাদের মধ্যে এ ধারণা জন্ম দেয়ার তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলোতে।

ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের উপস্থিতি সমাজে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করছে। বেসরকারি বিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয়গুলোর বেতন দু'শত থেকে সাতশত টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অপরদিকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বেতন এক হাজার থেকে দশ হাজার টাকা। নিঃসন্দেহে সমাজে এটি একটি বিরাট বৈষম্যের জন্ম দিচ্ছে। স্বভাবতই এখানকার ছেলেমেয়েরা একটু নাক উঁচু ভাব নিয়ে বড় হতে দেখা যায়। এতকিছুর পরেও ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠা অস্বীকার করা যাবে না। কারণ এটি যুগের চাহিদা।

ইংরেজি আমাদের শিখতে হবে এবং হচ্ছে। বাংলা মাধ্যম স্কুল কিংবা কলেজে যে পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানো হয় বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে ছাত্রছাত্রীরা সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না অর্থাৎ তাদেরকে সেভাবে শেখানোর ব্যবস্থা নেয়া হয় না। তাছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং পাকিস্তানেও প্রচুর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় আছে। অতএব আমরা এ মাধ্যমে লেখাপড়া করা বা করানো একেবারে অস্বীকার করতে পারব না। তবে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করেও ছাত্রছাত্রীরা যাতে ভাল বাংলা জানে এবং দেশীয় কৃষ্টি-কালচারকে শ্রদ্ধা করতে শিখে। এ কারণেই আমরা চাইব ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলোর উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হোক। তবে সেই নিয়ন্ত্রণ যেন কিছুসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তার উৎকোচ গ্রহণের সুযোগ না হয় এবং শিক্ষার মান নিম্নগামী না যায়।


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:১১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×