আমার প্রিয় পোস্ট
- কম সময়ে একসাথে আপলোড করে ব্লগে অনেক অনেক ছবি দেওয়ার অনেকগুলো উপায় (নতুনদের জন্য) - সাইফুলহাসানসিপাত
- বাংলা ব্লগের বিভাজন রেখা : কর্পোরেট বনাম ইনডিপেন্ডেন্ট ব্লগ - মাহবুব মোর্শেদ
- একদিন, দেখে নিও! - সুলতানা শিরীন সাজি
- ব্যাবিলনের শুন্যোদ্যান ( Hanging Garden of Babylon) - বীরেনদ্র
- ব্লগ রাজনীতি ও ব্লগের রাজনীতি - একরামুল হক শামীম
- বেগম আখতার গানের জগতের সম্রাজ্ঞী। - সুরঞ্জনা
- জেগে ওঠো মানুষ, বেঁচে উঠুক তিতাস - অন্যমনস্ক শরৎ
- সামুর বেশকিছু টেকি , টিপস এন্ড ট্রিকস এবং দরকারি পোস্টের সংকলন

- রবিন মিলফোর্ড
- ফিরে দেখা ২০১১ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- আমার ছানা পাখীর লেখা গল্প " মুক্তিযোদ্ধার গল্প" পড়ে আমি নিজেই মুগ্ধ - মেহবুবা
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র : জনপ্রিয় কিছু অনুষ্ঠান ও তাদের নেপথ্যের কুশলীরা - দস্যু রত্নাকর
- ১৯৭১ , জেড ফোর্সের মুক্তিযুদ্ধ : জিয়া-শাফায়াত-মইন-আমিনুলদের যুদ্ধ দিনের গল্প জানুন ছবি আর বর্ননায়........ - দাসত্ব
- স্মৃতির পাতা থেকে........ - নাআমি
- খনা : এক ক্ষণজন্মা কিংবদন্তীর দুঃখগাথা - ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন
- ক্যাট স্টিভেন্স থেকে ইউসুফ ইসলাম - অসম্ভব জনপ্রিয় এক নওমুসলিমের ইতিকথা - কবির চৌধুরী
- ব্যাক্তি নিরাপত্তা ও আমরা কি করবো। - জুন
- জেনে নিন আপনি সামহোয়্যারের কত নাম্বার ব্লগার {(যারা জানেনা তাদের জন্য) সম্পূর্ণ আজাইড়া পোস্ট} - অণুজীব
- দেখা হবে আবার, এই সামহয়্যারইন, এই মায়াবীবৃক্ষের তলায় - সুনীল সমুদ্র
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- ·٠•●♥♫♫♫ "লালন" - পোস্ট সংকলন ♫♫♫·•●♥ ·٠ - কবির চৌধুরী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি - চার্ত্রুজ-বী
- সোনারগাঁও হোটেলের সোনালী স্মৃতি .... ২য় খন্ড - চার্ত্রুজ-বী
- শব্দ কল্প দ্রুম -৩ - বোকা ছেলে
- আজম খানকে নৈবেদ্য - তাঁর কীর্তি সমগ্র - কবির চৌধুরী
- আঁধারপ্রেমী - অনিক
- ২০০ বছরের পরাধীনতা এবং আমাদের তথাকথিত ওয়ার সিমেট্রী: পর্ব - ১ - মিলটন
- ডঃ ইউনুস ও আমার দেখা একটি সিনেমার কাহীনি - মুরশীদ
- মাতৃভাষা আন্দোলনের সেই সব সূর্যসন্তানেরা...... - রেজোওয়ানা
- - হৃদয়ের কথা-নির্মম বাস্তবতা আর রূপকথা - মানবী
রাজধানীর এইসব দিন রাত্রিঃ
১৭ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৫৫
রাজধানীর এইসব দিন রাত্রিঃ
তবে কি পার্ক মানে ডার্ক! রাজধানীতে সে অর্থে আজ আর পার্ক কিংবা উদ্যান আছে কই? আভিধানিক অর্থে পার্ক হচ্ছে জনসাধারণের চিত্তবিনোদনের বাগান। এই শহরে পার্কের মানে দাঁড়িয়েছে "ডার্ক" বা আন্ধার। নয়তো কি। দিনের আলোতেও যে কালোদেরই দৌরাত্ম্য এখানে। বিশেষ করে গুলিস্তান পার্ক। ওসমানী-সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা ইত্যাদি সমাজবিরোধীদের আখড়া। আপনার "মুড" ফিরিয়ে আনতে, প্রিয়জনের সঙ্গে অনাকাঙিক্ষত "গ্যাপ" ঘোচাতে পার্কে গিয়ে বসবেন? তা হলেই হয়েছে! মন ফুরফুরে হওয়াতো দূরের কথা উল্টো একরাশ বিষাদ আর তিক্ততা নিয়েই ফিরতে হবে। কখনো কখনো সর্বস্ব খুইয়ে, রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরতে এমন কি জীবন নিয়ে নাও ফিরতে হতে পারে।
বাজারের আগুনে ঘৃতাহুতি অবস্থা! বাড়ছেই বাড়ছে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। গতি কি এখন স্বল্প আয়ের মানুষজনের? প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আয় রোজগার বাড়বে, তেমন সুযোগ কোথায়? রাজধানীর বাজার, বিপনি বিতানগুলো যেন আজ ক্ষুধার্ত বাঘের মুখ এক একটা! ভয়ে ভয়ে পা বাড়ায় ক্রেতাসাধারণ। নিতান্ত বাধ্য না হলে কে চায় কেনা-কাটা করতে গিয়ে কাটা পড়তে! বিত্তবানের হয়তো কিছুই যায় আসে না, দ্রব্যমূল্য বাড়া-কমায়।
কোন রকমে সংসার চালায় যারা, যত হা পিত্যেশ তাদেরই। বাজারে আসা ক্রেতাসাধারণের চোখে মুখে ক্যামন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-বিরক্তির ছাপ। সেদিন মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে বিড়বিড় করে একজনকে বলতে শোনা গেল, অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, কোন রকমে নূন ভাত খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ওদিকে নূন আনতে যাদের পান্তা ফুরায়, তাদের খোঁজ-খবর কে রাখে! বিত্তহীন এতো এতো মানুষের দিন কী করে হয় গুজরান, সে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার বটে।
নাকাল মধ্যবিত্ত! সব দিক বিবেচনায়, মধ্য বিত্তেরই সবচে নাস্তানাবুদ অবস্থা এখন। জীবন যাত্রায় কত কী সামাল দিয়ে এগুতে হয়। একদিকে ইঁদুর দৌড়ের কান্তি তার ওপর বাড়তি মানসিক চাপ। চেনা জানা এমন অনেক পরিবার আছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই যাদের একমাত্র উপার্জন। সম্প্রতি এই অর্থের ১০ ভাগ ছেড়ে দিতে হচ্ছে সরকারি সিদ্ধান্তে! সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারী এক তরুণ বললেন, "আমরা ভাই মাইনকা প্যাঁচে পড়ছি। হঠাৎ কইরা ইন্টারেস্ট থাইক্যা ১০ ভাগ কাটার বিষয়টাতো জবদস্তির। এখন মেয়াদ পুরা হবার আগে টাকা তুইলা নিলেতো আরো লস"! প্রয়াত এক আর্মী অফিসারের স্ত্রী বললেন, আমি যখন সঞ্চয়পত্র কিনেছি, তখন তো এই ১০ পারসেন্ট কেটে নেয়ার শর্ত ছিলো না। নতুন যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আসছে তাদের জন্য এ ঘোষণা প্রযোজ্য হতে পারে। এটি জানার পর কে সঞ্চয়পত্র কিনবে কে কিনবে না, সেটি তার সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আগের ক্রেতাদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ কেটে রাখাটা এক ধরনের ছিনতাই।
সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর কর কেটে নেয়ার এমন সিদ্ধান্তের বলি কেন মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্তকে হতে হবে? প্রযোজ্য হতে পারে এটি বিত্তশালীদের জন্য।
মানবেতর বনাম ইতর মানব জীবনঃ সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের ইতর প্রাণীর মতো বেঁচে থাকাকে বলা হয় মানবেতর জীবন। তাহলে জন্তু-জানোয়ারের বিলাসী জীবন যাপনের সুযোগ সুবিধাকে কি বলবো? ইতর মানব জীবন? এই শহরে একদিকে যখন ভূখা-নাঙ্গা মানুষের কাফেলা, অন্যদিকে তখন কোন কোন বিত্তবানের প্রাসাদে পোষা প্রাণীর জন্য আদর-আপ্যায়নের দৃশ্য দেখে আপনি মূর্ছা যেতে পারেন। বেশ গর্বের সঙ্গেই সেদিন জোড়া কুকুরীর জন্য বিরাট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের কথা শোনালেন এক শিল্পপতির স্ত্রী।
কোন রূপকথা নয়। শেরী-কুকি নামে তাঁর দুই কুকুরীকে প্রতিদিন যে খাবার পরিবেশন করা যে অনেক মধ্যবিত্ত সদস্যেরই কপালে তা জোটে না। কোনরকম বিব্রত না হয়েই মহিলা জানান, কখনো মুরগির মাংস, কখনো গরুর কলিজার সাথে বিদেশী বিস্কিট-দুধ খাওয়ানো হয় তার প্রিয় দু কুকুরীকে। এদের স্বাস্থ্যের দেখভালের জন্য আছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চুল-নখ কেটে দেয়ার জন্য রয়েছে আলাদা কর্মী। একদিকে যখন বিপুল সংখ্যক মানুষের দু'বেলা দু'মুঠো খাবারের বন্দোবস্ত নেই, ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট খুঁজে হয়রান ভাসমান মানুষের দল। সেখানে রীতিমতো জামাই আদরে-বিলাসী আপ্যায়নে, সুরম্য ভবনে বাস করছে ইতর প্রাণী! সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এই রাজধানী!
কী আশ্চর্য্য ঢাকা শহরে পাখি নেই! কাক ছাড়া এই শহরে আজ আর কোন পাখি চোখে পড়ে না। এ কী কাণ্ড! ইঁদুর দৌঁড়ে ব্যতিব্যস্ত নগরবাসীর এ নিয়ে ভাববার সময় কোথায়? একজনতো বলেই বসলেন, "কাজ নিয়ে ভাবো, পাখি খোঁজার দরকার নেই"। এক সময় দোয়েল-শালিক-চড়ুই-ঘুঘু কত না পাখি দেখে চোখ জুড়ানো যেত। শৈশবে এই নগরীতে নানা রং-এর ফড়িং, প্রজাপতি নিয়ে খেলা করেছি মনে পড়ে। এখন খেলা করা না হোক।।চোখের দেখাও কি দেখতে নেই। কাঠখোট্টাভাবে আরেক বন্ধু জানালো, "পাখি নেই কে বলেছে, কাটাবনে যাও, দোকানে দোকানে কত পাখি"। একথা সত্যি। কিন্তু এতো কারাবন্দি প্রিয়জনকে দেখতে যাওয়ার মতো! মুক্ত, ধাবমান উড়ে চলা, শুরতোলা পাখি।।এই শহরের আকাশসীমায় কি নিষিদ্ধ হয়ে গেল! তবে কী কেবল শীতেই পরিযায়ী পাখি দেখার সুযোগ মিলবে শহর প্রান্ত ছাড়িয়ে জাহাঙ্গীরনগরে কিম্বা চিড়িয়াখানার লেকে!
রাজপথে গাড়ির ঘর্ঘর, হর্ণের বিকট শব্দ কিংবা শব্দ দূষণ। গাছ-গাছালীর ডালে উঁচু ভবনের ছাদে কাকের কা কা। এইসব কর্কশ ধ্বনিই বুঝি নগরবাসীর নিয়তি।
সেদিন আকাশে উল্কা পতন দেখার দাওয়াত জানাতে এক বন্ধুকে ফোন করতেই ওপার থেকে হো হো হাসির রোল। যেন উদ্ভট প্রস্তাব দিয়ে বসেছি। দাওয়াত নাকচ করাই শুধু নয়, এ ধরনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার অনুরোধ জানায় বন্ধুবর। তবে কি গ্রহণকালকেই গ্রহণ করতে হবে। চির নির্বাসনে পাঠাতে হবে ফুল-পাখি-চাঁদ?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: সেই দিন খুব বেশী দূরে নয়-হয়ত ঢাকা শহর ঢেকেই রাখতে হবে!
অপরাজিতা ০০৭ বলেছেন:
প্রিয়তে নিলাম। ব্যাপক গবেষনাধর্মী পোস্ট। ভবিষ্যতে রেপারেন্স হিসাবে কাজে লাগবে।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
সস্তায় বিনোদনের জন্য শাহবাগের শিশুপার্কে যাইতারেন!!! ফুল খুঁজতে হইলে মতিঝিল মোড়ে আইতারেন!!!
পাখি খুঁজতে হইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে আইতারেন!!!
কত কিছু আছে ঢাকা শহরে.. খালি নাই নাই করেন ক্যা!!!
লেখক বলেছেন: "বটে বটে,
বুদ্ধি আছে ঘটে"! (এখানে বুদ্ধিজিবীর ইমো হইবে)
দ্যাশ থিকা গাছ-গাছালি উইঠ্যা গেলে মাইনশের লগে লগে আমার ও দেখি বিপদের শ্যাষ নাই।
কবে যে মিনশে গুলোর চোখ খুলবো ???
লেখক বলেছেন: তরে লইয়া আর পারা গেলনা!
লুকোচুরি বলেছেন:
বাহ! কী চমতকার লেখা! আপনার প্রতিটা লেখা পড়ে বুঝেছি আপনি সব কিছু নিয়ে কত গভীর ভাবে উপল্বধি করেন! আপনার প্রতিটি লেখাই আমার অন্তরের প্রিয়তে রেখে দেই।
লেখক বলেছেন: আমি এত বেশী প্রশংসার যোগ্য নই।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
উপলব্ধিগুলো মনে ধরার মত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মিলটন বলেছেন:
আহা বেঁচে আছি এই শহরে এটাই তো বড় আশ্চর্য।আর বিনোদনের কথা বলছেন? আমার বিনোদন হলো চারটা নাকে মুখে গুজে কোনমত ভেটকি দিয়ে থাকা।
লেখক বলেছেন: আসলে কালো টাকার মালিক, রাজা উজির ছারা আমাদের সকলেরই বিনোদন বলতে ভেটকী মাইরা থাকা!
সাইলেন্সার বলেছেন:
সবকিছুর মূলে অপরিকল্পিত নগরায়ন।
দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে ঢাকা এখন জনসংখ্যার ভারে ন্যুজ।
ঢাকায় যারা নিম্নবিত্তের জীবন যাপন করেন, তারা নিজ জেলা বা উপজেলায় অনেক ভাল থাকতে পারেন যদি কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।
কিন্তু কোন সরকার সেই পরিকল্পনা করে না।
আমার মনে হয়, রাজনীতিবিদরা ইচ্ছে করেই পুরো দেশটাকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখতে চায়। তারা চায় না সাধারণ মানুষ সচেতন হোক, সাবলম্বী হোক। ভোটের হিসেব ঠিক রাখতে হবে না?
লেখক বলেছেন: আপনার বক্তব্যের সাথে আমি সম্পুর্ণ সহমত পোষন করি।
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
রাজধানীর দিন এবং রাত্রি দুটোই বোধহয় অনেক দীর্ঘ, সম্ভবত ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪০ ঘণ্টায় দিন রাত্রি হয় এখানে।।। আর ইতরমানব জীবন নিয়ে কিছু বলার নেই।।। টেলিভিশনে তারকাদের ইন্টারভিউয়ে যেভাবে কুকুর-বিড়াল নিয়ে ন্যাকামি করা হয়, তাতে বিত্তবানেরা এরকম করবে এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে।।।। আমরা আসলে এক্সট্রিম লেভেলে চলে যাচ্ছি, কিছু মানুষ চরম দরিদ্র হবে, আর কিছু মানুষ অঢেল টাকা-পয়সার মালিক হবে।। মধ্যবিত্ত শ্রেণীটা অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি চলে আসছে দিনে দিনে।।।
লেখক বলেছেন: হিমু, আমার কাছে বেঁচে থাকার প্রতিটা মুহুর্ত এক একটা কালের মত মনে হয়! সব কিছু ফুরিয়ে যায়-আমার জীবনে শুধু সময় ফুরোয়না।
জীবন এবং মানবতা কোথায় চলে যাচ্ছে-তা যদি তুমি ঘরে বসে থাকো-তাহলে অনুভব করতে পারবেনা। পলাশীর মোড় থেকে যে রোডটা ঢাকেশ্বরী-লাল্বাগেরর দিকে চলে গিয়েছে-সেই রোডের পাশে, রমনা পার্কের পুর্ব-দক্ষিন পাশে, শহীদ মিনারের পাশে, কাওরান বাজারের ফুটপাতে যাদের জীবন-তাদের জীবন যাত্রে না দেখলে কেউ ভাবতেই পারবেনা জীবন কত কঠিন!
সৃস্টির সেরা জীব আশরাফুল মখলুকাত অনাহারে, অবহেলায় না খেয়ে ধুকে ধুকে মরছে, ওসহায় জন্ম দাতা পিতা তার সোমত্ত মেয়েকে আদীম পেশায় নিয়োজিত করে ক্ষুধার অণ্য যোগাতে ব্যস্ত-আর সমাজের এক শ্রেনীর মানুষ তাদেরই একটা পোষা কুকুরের পিছনে মাসে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করছে! হায়রে মানব জীবন!
রাজীব বলেছেন:
কোন রূপকথা নয়। শেরী-কুকি নামে তাঁর দুই কুকুরীকে প্রতিদিন যে খাবার পরিবেশন করা যে অনেক মধ্যবিত্ত সদস্যেরই কপালে তা জোটে না।ছোটবেলায় পড়া পন্ডিৎ মাশাইয়ের তিনপা ওলা কুকুরের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
পাখিঃ আমি একটি জাগায় প্রচুর পাখির ডাক শুনি উত্তরা আজমপুরে ব্রাক ব্যাংকের সামনে কয়েকটি বড় বড় গাছ আছে, গাছগুলোতে অনেকগুলো পাখির আনাগোনা থাকে। সেখানে গেলেই পাখির কিচির মিচির শুনতে পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে পাখির ডাক শুনতে সেখানে কিছুক্ষণ থামি।
লেখক বলেছেন: রাজীব, ছোট বেলা থেকেই আমার কুকুর খেদানো অভ্যাস! অর্থত কুকুর দেখলেই ধাবরানী দেই.........। কুকুর আমি সয্য করতে পারিনা। আমি একদিন সেই শিল্পপতির বাড়ি(বাসভবন) যাই। তখন আমাকে দেখেই তাঁদের আদরের "শেরী-কুকি" একটু ঘেউ করে উঠলো। শিল্পপতির তিন নবর তরুনী বৌটি শেরী-কুকিকে কি যেনো বললো। সাথে সাথে কুকুরদ্বয় লাফ মেরে আমার আমার কোলে উঠে বসলো আদর পাবার আশায়! আমিও লাফ দিয়ে উঠে পড়লাম এবং বললাম-"ভাবী, কুত্তা সরান, আমি কুত্তা সয্য করতে পারিনা"!
ভাবী মন খারাপ করে বললেন-"ভাই, আপনি শেরী-কুকিদের কুত্তা বলায় আমি খুব কস্ট পেয়েছি" বলেই কেঁদে দিলেন! আমি বিব্রত হলাম। আমার শিল্প পতি বন্ধুটি আমাকে জানিয়েছিলেন-ঐ ঘটনার জন্য ভাবী তাঁর সাথে অনেক দিন কথা বলেনি, খাবার খায়নি পর্যন্ত!
আশা করছি-তোমার বর্ণীত স্থানে এক দিন সকালে/ বিকেলে গিয়ে দেখব পাখিদের।
এবার আমার কথা বলি। আমি ঢাকার বাইরে আছি বেশ ভালো আছি। আমার বাচ্চারা বুলবুলি, টিয়া, চড়ুই, ঘুঘু শালিক গুইশালিক ফিঙ্গে আর কত বলব সব পাখি চেনে তারা গাছ চেনে খুব সহজেই বলে দেয় এটা আকাশ মনি, দেবদারু, কড়ই, শিল কড়ই, শিশু, রেইনট্রি থেকে আলু গাছ , মটরশুঁটি গাছ মোট্মূতী শোব গাছ। অনেক কিছুই আছে যা আকি ও আমার বাচ্চারা একসাথেই চিনছি। আমার ভালো লাগে আমার বাচ্চাদের শৈশব আমি চুরি করি নি। এইটুকু বাচ্চাকে পড়া শেখানো গান, নাচ, ছবি আঁকা শেখানোর জন্য যন্ত্র তৈরীর প্রতিযোগিতায় আমি নামি নি।
এত কথা বলার কারন দেখা যায় সবার মধ্যে একটা মনোভাব দেখা যায় যে ঢাকায় থাকতেই হবে। কি যানি কেন?
যাই হোক ভাইয়া কি থেকে কি বললাম। আপনার পোস্টটা খুব চিন্তার বিষয়।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: আপু, ঢাকায় থাকার বিষয়ে তোমার কথার সাথে আমি একমত।
আমার খুব ইচ্ছে করে গ্রামে থাকতে। কিন্তু আমার উপার্জনের যাকিছু স্টাব্লিশমেন্ট তা ঢাকা-নরসিংদি কেন্দ্রীক। আমার উপার্জনের সাথে জড়িয়ে আছে কয়েক হাজার পরিবারের উপার্জন......... আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। ইচ্ছে থাকা সত্বেও পারছিনা পার্মানেনটলী ঢাকা ছেরে যেতে। তারপরো আমার একান্ত ইচ্ছা গ্রামে চলে যাবো। সন্তানদ্বয় স্বাবলম্বী হলেই আমি ঢাকা ছাড়বো। সেই চিন্তা সফল করতে তেমন কিছু কাজ ইতোমধ্যেই করেছি। আমার জন্য দোয়া করো। শুভ কামনায়।
কালপুরুষ বলেছেন:
ভাল লিখেছেন। আপনার ঢাকা বিষয়ক পোস্টগুলো আমার কাজে আসবে। এই পোস্টটাও বেশ তথ্যবহুল। ঢাকা শহরের বিনোদন ব্যবস্থা অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়ছে। শুভ কামনা রইলো। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বাদসা ভাই। অসুস্থ্যতার জন্য আমি অফিস করতে পারছিনা। বাসায় বসে বসে ব্লগের জন্য কিছু কিছু লিখছি............। আপনাদের ভালো লাগলেই খুশী হই এবং আপনাদের প্রশংসায় আরো বেশী বেশী লিখতে উতসাহি হই!
সেজুঁতি বড়ূয়া বলেছেন:
আপনার লেখাগুলো সব জীবন থেকে নেয়া!
লেখক বলেছেন: হয়ত কোন কিছুই আমাদের প্রত্যাহিক জীবনের বাইরে নয় বলে...............
লেখক বলেছেন: কতিপয় ভাগ্যবান ছাড়া তুমি আমরা সবাই মাইঙ্কার প্যাঁচে পড়েছি ভাই।
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
ঢাকা আমার কাছে ক্রমেই নানা বিড়ম্বনার শহরে পরিনত হচ্ছে। মাঝে মাঝে দেশের বাইরে চলে যেতে ইচ্ছে করে। পরক্ষণেই চিন্তা করি এটাতো আমারই দেশ, পালিয়ে গেলে কি সব সমস্যার সমাধান হবে?
লেখক বলেছেন: ঢাকা আসলেই এখন সুস্থ্য ভাবে বসবাসের জন্য নয়। তারপরো ঢাকাই আমাদের থাকতে হবে। কারন এখানেই জীবন জীবিকার জন্য কিছু করার সুযোগ আছে। পালিয়ে কোথায় যাবো? এই জন্ম ভুমি ছেড়ে কোথাও যেতে মন চায়না বলেই ইউরোপ-আমেরিকাতে অনেক ভালো সুযোগ থাকা সত্বে ফিরে এসেছি আমার প্রিয় ঢাকা শহরে!
লেখক বলেছেন: "যে দেশে ন্যায় বিচার নাই-সে দেশে কাকও থাকেনা"-এমন একটা প্রবাদ শুনেছিলাম!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















লেখক এই পোস্টে কোন মন্তব্য গ্রহণ করবেন না