somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

হারিয়ে গেছে নৈতিকতা

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হারিয়ে গেছে নৈতিকতা

স্বাধীনতার সুফল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে "সন্ত্রাস" একটি বড় ধরনের হুমকি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেতে জনগণের আকুল মিনতি। সে অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখেই সরকার সন্ত্রাস নির্মূলে গঠন করেছেন র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন( র‌্যাব)। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিডিআর ও আনসার সমন্বয়ে র‌্যাব গঠিত হয়েছে। র‌্যাবের কার্য্যক্রমে সন্ত্রাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। ক্রসফায়ারে শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হবার বিষয়টিও কেউ গায়ে মাখেনি। কারণ একজন কুসন্তান চলে গেলে যদি কয়েক শ' নিরপরাধ মানুষ প্রাণে বেঁচে যায় তবে সেই ভালো। কিন্তু দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি সম্মান হারিয়ে র‌্যাবের কোনো কোনো সদস্য অতি লোভী হয়ে জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাস, ডাকাতি ও ছিনতাই-এ। কিন্তু তাদের তো এমন হবার কথা নয়। অপরাধ দমনে তাদের দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ক্ষমতা। তেমনি তারা যাতে অপরাধী হতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যে তাদের বেতনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরও কেন তাদের এ নৈতিক অধঃপতন?

আসলে কুৎসিত কাক যেমন ময়ূরের পেখম পরলেই ময়ূর হয়ে যায় না, তেমনি কিছু অসাধু মানুষকে যত ভালো অবস্থায় রাখা যাক না কেন পশুশক্তি তাদের পিছু নেবেই। বিমানবাহিনীর এক সার্জেন্ট সমস্ত র‌্যাববাহিনীর কষ্টার্জিত সাফল্যকে ধূলিসাৎ করে মিরপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে জনরোষে পড়েছিল আরো চার সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে। নারায়ণগঞ্জের এক লোক ছুটি কাটাতে এসে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ এনে হোটেল মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করে। দর কষাকষির এক পর্যায়ে সে আবাসিক হোটেল পলাশী থেকে নগদ দু' হাজার টাকা হোটেল মালিকের কাছ থেকে গ্রহণ করার সময় ডিবি পুলিশ তাকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে। নিজেকে সে র‌্যাব-১ সদস্য বলে সগৌরবে পরিচয় দেয়। কত বড় দুঃসাহস! বিভিন্ন সময়ে র‌্যাববাহিনীর গৌরবপূর্ণ সাফল্যের হিসাবের খাতায় কলঙ্কের কালি ছিটিয়ে দেয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তিও কিছু কম নয়। যত কিছুই বলা হোক না কেন, এক মণ দুধে এক ফোঁটা চনাই যথেষ্ট। যা হোক, কিছুদিন আগে ঘোষিত হয়েছে র‌্যাব সদস্যদের অপকর্মের বিচারের নীতিমালা। এখন থেকে অপরাধী র‌্যাব সদস্যদের সামরিক কোর্ট অথবা স্পেশাল কোর্টে বিচার করা হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত করা হবে। নিরপরাধ মানুষকে নাজেহাল বা অত্যাচার করলে সাত বছরের এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারে শিথিলতা দেখালে ১০ বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীর মতো এই কোর্ট পরিচালনা করবেন র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সত্যিকার অর্থে আমাদের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় অব্যাহত। বর্তমানে পরিস্থিতি চরম ভয়ংকর অবস্থা ধারন করেছে। রাতারাতি ধনী হওয়ার বাসনা, জীবনযাত্রার মান রক্ষায় ব্যয়বহুল পরিস্থিতি, কুশিক্ষার প্রভাব, কঠোর শাস্তির সঠিক বাস্তবায়নের অপ্রতুলতা, অপরাধ ঢেকে রাখবার বিভিন্ন সুযোগ, আইনের শিথিলতা এ ধরনের অপরাধীকে উৎসাহিত করছে বলে সাধারণের অভিমত। তাই দেশ ও জনগণের জানমালের হেফাজতকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগে আরো সঠিক ও নিপুণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। চরিত্র স্খলন হলে তার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট শাস্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচারের ব্যবস্থা দ্রুত ট্যাইবুনালে করতে হবে। আইনের স্বচ্ছতা ও সর্বক্ষেত্রে তাদের গতিবিধির মনিটরের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মানুষ তৈরি হয় পরিবারে, বিকশিত হয় সমাজে, প্রতিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রে। পরিবার থেকেই একটি শিশুসন্তানকে সৎ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবার দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউই অপরাধী হয়ে জন্মায় না। পরিবেশ পরিস্থিতি একজন মানুষকে অপরাধী করে তোলে। প্রত্যেক মানুষ গড়ার কারখানার মালিকদের এমন উদ্দেশ্য থাকতে হবে, তারা যেন একজন আদর্শবান নিঃস্বার্থ পরোপকারী সুশিক্ষিত ব্যক্তি সমাজের জন্য উপহার দিতে পারেন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব সে মানব সন্তানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তার সৎ রুজির ব্যবস্থা করা। অনিশ্চয়তায় না ভুগলে অপরাধ করার স্পৃহা কমে আসবে স্বাভাবিক নিয়মে। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই কেবল পারবে সমাজকে ঘুণে ধরা পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:৩০
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×