somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ঢাকা শহরে চাই উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাঃ

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা শহরে চাই উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাঃ

বহুদিন পর একটু ভাল বৃষ্টি হল। ঢাকা শহরের চাইতে এ বৃষ্টি গ্রামে হলে ভাল হতো। রোয়া ধান লাগানো শুরু করতে পারত কৃষকগণ। সময়মত রোয়া লাগাতে পারলে গত ইরির লোকসান কিছুটা পুষিয়ে যেত। কিন্তু বৃষ্টি মানুষের হাতে নেই। প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। যাকে আমরা নিয়তি বলতে পারি। এই নিয়তিকেও মানুষ অনেক ক্ষেত্রে জয় করে নিয়েছে এবং একের পর এক বিজ্ঞান মানব কল্যাণে অবদান রাখছে; নিয়তিকে পরাস্ত করছে একটু একটু করে। বন্যা এলো বাঁধ ভেঙ্গে গেল। সবাই চুপচাপ। বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়াই যে স্বাভাবিক। বর্ষাকালে বৃষ্টি হয় না, হয় না- হঠাৎ রাত্রে ভারী বৃষ্টি হলো। রাস্তা-ঘাট, দোকান-পাট পানিতে সয়লাব হলো। সবাই চুপচাপ, অনেকেই অফিস-আদালতে যেতে পারলেন না ছুটির আমেজে বাসায় বসে রইলেন। ভাবখানা এই যে কী আর করা। আবার একদিন হয়তো হাইরাইজ বিল্ডিংগুলো হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়তে থাকবে। বহু প্রাণহানি ঘটবে। সবাই তখন নিয়তি ভেবে হা হুতাশ করবে হয়তো। আমরা কিছু পাবলিক ঐ হা হুতাশের দলে নেই।

মাত্র ঘন্টা খানেক বৃস্টিতে এখন মতিঝিল অফিস পাড়া রাস্তায় নৌকা চলাচলের উপযোগী হয়েছে! পানি বন্দী হয়ে এই লেখা লিখছি! আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই পাবলিক মানি খরচ করে ঢাকা শহরে ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। এখন পানি জমে থাকবে কেন? এটা একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ, সব কিছুর হিসাব নিকাশ করেই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন করে তবে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তাতে পানি কাটবে না কেন? অনুরূপ বাঁধ যখন নির্মাণ করলামই তখন তা ভেঙ্গে যাবে কেন? একই কথা হাইরাইজ বিল্ডিং (যদিও এখনও ভেঙ্গে পড়ে নাই, পড়তে কতক্ষণ!) এর বেলায় প্রযোজ্য। এসব ইঞ্জিনিয়ারিং কাজগুলো করলামই যখন তখন অকার্যকর কেন হবে? কার দোষে? এটা বের করা কী খুবই কঠিন? কেউ কী আছেন জনস্বার্থ বিষয়ক এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন!

আমাদের নিকট প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, তাইওয়ানে অনেকেই শহরের ভিতর দিয়ে অপ্রশস্ত খাল প্রবাহিত হতে দেখেছেন। একবার স্মৃতিভ্রম হয়ে হোটেলের ঠিকানা হারিয়ে ছিল আমাদের এক বাংলাদেশী। ব্যাংকক শহরে তিনি হঠাৎ খালটি পেয়ে যান। পরে খালের ধার দিয়ে যেতে যেতে শেষতক হোটেলটি পেয়েছিলেন। এ গল্প সেই ভ্রমণকারী অনেকের কাছে অনেক দিনই বলেছেন। আমরা কতিপয় মানুষ দিনেরপর দিন ঢাকা শহরের ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে কিছু কিছু লেখা লেখি করছি। কেউ কেউ অনেক সেমিনার সিম্পোজিয়াম করেছেন ঢাকা শহরের পুকুর, নালা, খাল ভরাট না করতে। ছেলে বেলায় দেখেছি-বর্তমানে মাননীয় হাইকোর্টের বিচারপতিদের বাসভবন যেখানে নির্মিত হয়েছে সেখানে একটি মস্তবড় পুকুর ছিল। সেটা ভরাট না করতেও তখন অনেক সিনিয়র ঢাকাবাসী বলেছিলেন। বুদ্ধিজীবী মহল দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও দায়িত্বশীল কেউ শুনেছেন বলে মনে হয় না। মাত্র ২৫-৩০ বছরের মধ্যেই তাদের সেই কথা হুবহু ফলে যাবে বলে আমরা কেউ বিশ্বাস করিনি। এখনও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যাদের কার্যক্রম, সুনাম মানুষ পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে। এদের একটি হল বুয়েট। আপনারা এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসে দয়া করে পরামর্শ দিন। সরকার তথা দেশবাসীর কী করণীয়!

চোখ রাঙানি দিলে কোনো কোনো মানুষ ভয় পায়। কাউকে খারাপ কিছু বলেও ফেরানো যায় না। গরুকে আবার মানুষের মত কথা বলে খুব একটা কাজ হয় না। পান্টি দিয়ে পিটাতে হয়। একই ব্যবস্থা আবার ঘোড়ার বেলায় খাটে না। ঘোড়াকে চালাতে চাবুক মারতে হয়। হাতিকে চালাতে চাবুকেও কাজ হয় না। লোহার শুলপি দিয়ে হাতিকে গুতা মারতে হয় -তবেই না হাতি বুঝে তাকে কিছু একটা বলা হচ্ছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মানবদের কী দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয় বুঝতে পারছি না! আত্মাহুতি দেয়া লাগবে কিনা?
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৩
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×