ঢাকা শহরে চাই উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাঃ
বহুদিন পর একটু ভাল বৃষ্টি হল। ঢাকা শহরের চাইতে এ বৃষ্টি গ্রামে হলে ভাল হতো। রোয়া ধান লাগানো শুরু করতে পারত কৃষকগণ। সময়মত রোয়া লাগাতে পারলে গত ইরির লোকসান কিছুটা পুষিয়ে যেত। কিন্তু বৃষ্টি মানুষের হাতে নেই। প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। যাকে আমরা নিয়তি বলতে পারি। এই নিয়তিকেও মানুষ অনেক ক্ষেত্রে জয় করে নিয়েছে এবং একের পর এক বিজ্ঞান মানব কল্যাণে অবদান রাখছে; নিয়তিকে পরাস্ত করছে একটু একটু করে। বন্যা এলো বাঁধ ভেঙ্গে গেল। সবাই চুপচাপ। বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়াই যে স্বাভাবিক। বর্ষাকালে বৃষ্টি হয় না, হয় না- হঠাৎ রাত্রে ভারী বৃষ্টি হলো। রাস্তা-ঘাট, দোকান-পাট পানিতে সয়লাব হলো। সবাই চুপচাপ, অনেকেই অফিস-আদালতে যেতে পারলেন না ছুটির আমেজে বাসায় বসে রইলেন। ভাবখানা এই যে কী আর করা। আবার একদিন হয়তো হাইরাইজ বিল্ডিংগুলো হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়তে থাকবে। বহু প্রাণহানি ঘটবে। সবাই তখন নিয়তি ভেবে হা হুতাশ করবে হয়তো। আমরা কিছু পাবলিক ঐ হা হুতাশের দলে নেই।
মাত্র ঘন্টা খানেক বৃস্টিতে এখন মতিঝিল অফিস পাড়া রাস্তায় নৌকা চলাচলের উপযোগী হয়েছে! পানি বন্দী হয়ে এই লেখা লিখছি! আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই পাবলিক মানি খরচ করে ঢাকা শহরে ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। এখন পানি জমে থাকবে কেন? এটা একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ, সব কিছুর হিসাব নিকাশ করেই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন করে তবে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তাতে পানি কাটবে না কেন? অনুরূপ বাঁধ যখন নির্মাণ করলামই তখন তা ভেঙ্গে যাবে কেন? একই কথা হাইরাইজ বিল্ডিং (যদিও এখনও ভেঙ্গে পড়ে নাই, পড়তে কতক্ষণ!) এর বেলায় প্রযোজ্য। এসব ইঞ্জিনিয়ারিং কাজগুলো করলামই যখন তখন অকার্যকর কেন হবে? কার দোষে? এটা বের করা কী খুবই কঠিন? কেউ কী আছেন জনস্বার্থ বিষয়ক এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন!
আমাদের নিকট প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, তাইওয়ানে অনেকেই শহরের ভিতর দিয়ে অপ্রশস্ত খাল প্রবাহিত হতে দেখেছেন। একবার স্মৃতিভ্রম হয়ে হোটেলের ঠিকানা হারিয়ে ছিল আমাদের এক বাংলাদেশী। ব্যাংকক শহরে তিনি হঠাৎ খালটি পেয়ে যান। পরে খালের ধার দিয়ে যেতে যেতে শেষতক হোটেলটি পেয়েছিলেন। এ গল্প সেই ভ্রমণকারী অনেকের কাছে অনেক দিনই বলেছেন। আমরা কতিপয় মানুষ দিনেরপর দিন ঢাকা শহরের ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে কিছু কিছু লেখা লেখি করছি। কেউ কেউ অনেক সেমিনার সিম্পোজিয়াম করেছেন ঢাকা শহরের পুকুর, নালা, খাল ভরাট না করতে। ছেলে বেলায় দেখেছি-বর্তমানে মাননীয় হাইকোর্টের বিচারপতিদের বাসভবন যেখানে নির্মিত হয়েছে সেখানে একটি মস্তবড় পুকুর ছিল। সেটা ভরাট না করতেও তখন অনেক সিনিয়র ঢাকাবাসী বলেছিলেন। বুদ্ধিজীবী মহল দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও দায়িত্বশীল কেউ শুনেছেন বলে মনে হয় না। মাত্র ২৫-৩০ বছরের মধ্যেই তাদের সেই কথা হুবহু ফলে যাবে বলে আমরা কেউ বিশ্বাস করিনি। এখনও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যাদের কার্যক্রম, সুনাম মানুষ পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে। এদের একটি হল বুয়েট। আপনারা এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসে দয়া করে পরামর্শ দিন। সরকার তথা দেশবাসীর কী করণীয়!
চোখ রাঙানি দিলে কোনো কোনো মানুষ ভয় পায়। কাউকে খারাপ কিছু বলেও ফেরানো যায় না। গরুকে আবার মানুষের মত কথা বলে খুব একটা কাজ হয় না। পান্টি দিয়ে পিটাতে হয়। একই ব্যবস্থা আবার ঘোড়ার বেলায় খাটে না। ঘোড়াকে চালাতে চাবুক মারতে হয়। হাতিকে চালাতে চাবুকেও কাজ হয় না। লোহার শুলপি দিয়ে হাতিকে গুতা মারতে হয় -তবেই না হাতি বুঝে তাকে কিছু একটা বলা হচ্ছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মানবদের কী দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয় বুঝতে পারছি না! আত্মাহুতি দেয়া লাগবে কিনা?
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


