দেখে আসুন সুন্দরবনের মধু সংগ্রহঃ
মৌয়াল। শব্দটি অনেকের কাছেই পরিচিত। সুন্দরবনে যারা মধু সংগ্রহ করে থাকে তাদেরকে মৌয়াল বলে। মধু সংগ্রহই এদের পেশা। গ্রীস্মের শুরু থেকে মৌমাছিরা বিভিন্ন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ শুরু করে এবং বাইন, পশুর, গেওয়া, কাঁকড়া ও সুন্দরী সহ অন্যান্য গাছে মৌচাক তৈরি করে।
এই মধু সংগ্রহ কিন্তু দারুণ উত্তেজনাকর একটা অভিজ্ঞতা। মধু সংগ্রহের প্রধান উৎস হলো সুন্দরবনের পশ্চিমাঞ্চলের "বুড়ি গোয়ালীনি রেঞ্জ"।
মধু সংগ্রহকারী বা মৌয়ালরা বছরে মাত্র তিন মাসই মধু সংগ্রহ অভিযানে বের হয়। মধু সংগ্রহের যাত্রা শুরু হয় কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে। যাত্রার শুরুতে একটি প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রার্থনা শেষে প্রতিটি মৌয়ালদের হাতে বেঁধে দেয়া হয় লাল কাপড়। তাদের বিশ্বাস এ কাপড় বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে। ফরেস্ট অফিসারের গুলি ছোঁড়ার মধ্যে দিয়ে মধু সংগ্রহের ঘোষনা দেন।
এরপর সেই দল চলে মধু সংগ্রহে। আপনিও সে দলের অংশ হয়ে চলুন।
মধু সংগ্রহের দলে সাধারনত সাত থেকে তেরজন মৌয়াল থাকে। যাদের একজন নেতা থাকে। নেতাকে মৌয়ালরা "বহড়দাড়" বলে। বহড়দাড় মধু সংগ্রহের স্থান নির্ধারন করেন। নৌকায় একজনকে রেখে বাকি মৌয়ালদেরকে নিয়ে দা, ধামা হাতে করে মধু সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে প্রবেশ করে। আর এভাবেই মধু সংগ্রহের যাত্রা শুরু হয়।
নেতা এবং অভিজ্ঞ মৌয়ালরা বাতাসের গতি ও মৌমাছির উপস্থিতি ইত্যাদি লক্ষ্য করে মৌচাকের অবস্থান খুঁজে বের করেন। যদি চার মিটার উচ্চতায় মৌমাছি উড়তে বা গাছের পাতায় মৌমাছির মল দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে আশেপাশেই মৌচাক রয়েছে। মৌচাক সাধারনত চার মিটার উচ্চতায় থাকে। তবে দুইমিটার উচ্চতায়ও মৌচাক দেখা যায়। সেজন্য তাদের কাঁদা কাঁকড়, শ্বাসমূল, ঝোপঝাড় সাবধানে পেরোতে হয়। যাক আর না বলি বাকিটা বরং গিয়েই দেখে আসুন।
ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যটকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করে থাকে। নিজ চোখে দেখতে পাবেন মৌয়ালদের মধু সংগ্রহের প্রতিটি পদক্ষেপ। যারা মৌয়ালদের মধু সংগ্রহ দেখতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন বিভিন্ন টুরিজম প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে। তারা সুন্দরবন দেখার জন্য বিভিন্ন রকম প্যাকেজ নির্ধারন করে থাকে। যে কেউ সেই প্যাকেজ ভ্রমণে গিয়ে দেখে আসতে পারেন সুন্দরবনের মৌয়ালদের জীবনযাপন। ৬ রাত ৫ দিনের এ প্যাকেজের খরচ ৫ হাজার টাকা, বিদেশিদের জন্যে ৬ হাজার টাকা। ব্যাক্তি কিম্বা দলগত উদ্দ্যোগেও যেতে পারেন সুন্দর বন দেখতে। ঢাকা থেকে বাসে করে খুলনা। তারপর লঞ্চে চেপে পশ্চিম সুন্দরবনের নানা জায়গায় ঘুরে দেখবেন মধু সংগ্রহ এবং সুন্দরবনের নানান সুন্দর দৃশ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ১১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


