নগর সভ্যতায় আবদ্ধ শিশুঃ
চার দেয়ালের শক্ত বেষ্টনীতে কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মাঝে বেড়ে ওঠা শিশুদের আজকের জগতটা বড়ই নিরস, নিষ্ঠুর। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ঘরের শিশুদের দৈনন্দিন রুটিন দেখলে অবাক হতে হয়। স্কুল, বাসা, টিচার, টেলিভিশন, কম্পিউটার আর মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের সাথে কোনো শিশু পার্কে যাওয়া; কিংবা হোটেল রেস্টুরেন্টে খাওয়া। তবে এই বাইরে যাওয়া আর বাইরে খাবার সুযোগটিও সব শিশুর কপালে জোটে না। শিশু-চিত্তের বিনোদনের জন্য একটি নগরে যেসব বিধিব্যবস্থা থাকা দরকার তা কি ঢাকা মহানগরীতে আছে? মহানগরীতে পরিবারের সাথে বসবাসরত বিশাল সংখ্যক শিশুর জন্য ঢাকা শহরে পার্কের সংখ্যা হাতে গোণা ক'টি। শাহবাগে সরকারীভাবে গড়া "জিয়া শিশু পার্ক"টার অবস্থাও তো সঙ্গীন(বর্তমান সরকার হীন উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে "জিয়া শিশু পার্ক" সংকুচিত করে সেখানে "ইন্দিরা মঞ্চ" এবং "বংগবন্ধু স্মৃতি স্তম্ভ" নির্মান করবে)। এখানকার রাইডগুলো পুরোনো হয়ে গেছে। কোনোটা তো এতোটাই পুরোনো যে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর শ্যামলীতে শিশুমেলা, গুলশানে ওয়ান্ডারল্যান্ড, সায়েদাবাদে আর একটি ওয়ান্ডারল্যান্ড বেসরকারীভাবে গড়ে উঠলেও এসব শিশু পার্কে প্রবেশমূল্য ও রাইডের মূল্য এতোটা বেশী যে, সব পরিবারের পক্ষে এসব স্থানে শিশুদের নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর তাছাড়া এ পার্কগুলো থেকে যাদের বাসস্থান দূরে তাদের যাতায়াতেও খসে বেশ কিছু টাকা।
ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় যে কি পরিমাণ বেড়ে গেছে, তা বোধকরি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ব্যয়কে সামাল দিয়ে শিশুদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের বোঝাটাও অনেক পরিবার এখন আর টানতে পারে না। কিন্তু যদি বাসার সামনে একটা খোলা মাঠ থাকতো, আর সেখানে শিশুরা ছুটোছুটি, খেলাধুলা করতে পারতো তবে তারা পেতো একটা স্বাভাবিক গতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

