somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

বদলে যাচ্ছে উল্লাসের ধরন!

১৬ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বদলে যাচ্ছে উল্লাসের ধরন!

একটা সময় ছিল যখন তরুণরা অভিভাবকদের সামনে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করতে চাইতো না। যতটুকু প্রকাশ করতো-তার মধ্যে জড়ানো থাকতো কিছুটা লজ্জা, কিছুটা ভয় মেশানো উচ্ছাস। বেশী দিনের কথা নয়-এইতো ষাট-সত্তর দশকের কথা। ঐ সময় আমাদের কিশোর-তরুণ-যুবাদের বিনোদনের, আনন্দ-ফুর্তি করার যথেস্ট সীমাবদ্ধতাছিল। তারমধ্যেও আমরা যতটুকু উচ্ছাস-উল্লাস করার সুযোগ পেতাম-তাছিল নিতান্তই সাদামাটা, তবে স্নেহ-মমতা আর আন্তরিকতায় ভরা। যেমন আমরা ক্লাশে ভাল রেজাল্ট করে বাসায় ফিরে মা-বাবা, বড় ভাই-বোনদের, স্কুলের শিক্ষকদের(যাদের তেমন সম্মানীত স্বজন আছেন)সালাম করাটাই ছিল প্রধান। তারপর যাদের যেমন সাধ্য তেমন করে প্রতিবেশীদের মিস্টি মুখ করানো কিম্বা মিলাদ পড়ানোটাই ছিল প্রধান বাহ্যিক উতসব। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাহ্যিক কিছু রূপ বদল করেছে। রূপ বদল করেছে তাদের ভাষার ব্যবহার, রূপ বদল করেছে আনন্দ প্রকাশের ভঙ্গি, রূপ বদল করেছে দুঃখে সমবেদনা জানাবার প্রক্রিয়া।

উদাহরণটা আমি আমার পরিবার থেকেই দিতে চাই। আমার ছোট ছেলে প্রাথমিক বৃত্তি পেয়ে আমাকে, ওর মাকে সালাম করেছিল। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায়ও কৃতিত্ব দেখিয়ে এসে আমাদের জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করেছিল। চলতি বছর ছেলেটি এস এস সি পরীক্ষায় গোল্ডেন জি পি এ পেয়ে আমাকে এক হাত তুলে "গিভ মী হাই-ফাইভ" বলে হাতের পাঞ্জা মেলালো! আমি এবং পরিবারের অন্য দুই সদস্যও ওর সাথে হাত উচিয়ে "হাই ফাইভ" বলেছি......(সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও আধুনিক হয়েছি!)। সম্ভবত পরিবর্তনের এই দোলাচালে তরুণরা এখন দুলছে প্রবলভাবে। "প্রক্রিয়ার" এই স্বাভাবিক "ক্রিয়ায়" তারুণ্যের কাছে উল্লাসের ধরন বদলে গেছে।

পরিস্থিতি যেমন বদলে গেছে তেমনি বদলে গেছে তারুণ্যের উল্লাস প্রকাশের ভাষা। নিজেদের জাগতিক অঙ্গভঙ্গিও বদলে গেছে তারুণ্যের। ফুল প্যান্টের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। হাতে গল্প উপন্যাসের যায়গায় স্থান করে নিয়েছে-ইন্টারনেট, গীটার-শুধু তাই নয় বদলে গেছে স্টাইলের রং। নিজেরাই এখন প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করে নিচ্ছেন। সম্ভবত পরিবর্তনের এই প্রতিক্রিয়ায় তারুণ্যের কাছে অনেক বেশি নিজেদেরকে পজেটিভ মনে হচ্ছে। কিন্তু অগ্রজ প্রজন্মের কাছে অনেক সময়ই এগুলো বিবেচিত হচ্ছে ক্ষয়িষ্ণু সময়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।

সভ্যতার এই সময়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে তরুণদের নিজেদের অবস্থান আবারো যাচাই বাছাই করতে হবে। অগ্রজ প্রজন্মের কাছে নিজেদের ইতিবাচক রূপ তুলে ধরতে হবে। পোশাকের বহিরাবরণ নয় বরং নিজের সভ্যতা আর রুচিশীলতার প্রকাশ ঘটাতে হবে। অগ্রজ প্রজন্মের কাছে নিজের আচরণকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন তারা তার মাঝে রুচীশীলতা আর শ্রদ্ধার উপকরণ খুঁজে পান। আর নিজেদের প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সহিষ্ণু আচরণ প্রদর্শন করতে হবে যেন কেউ এই প্রজন্মটিকে বখে যাওয়া মন্তব্য না করতে পারেন। আমাদের শ্রদ্ধা আর ভক্তির কথা তাদের কাছে বিনীতভাবে উপস্থাপন করতে হবে। তবেই জয় হবে তারুণ্যের।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ৮:২৬
৩৫টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×