বদলে যাচ্ছে উল্লাসের ধরন!
একটা সময় ছিল যখন তরুণরা অভিভাবকদের সামনে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করতে চাইতো না। যতটুকু প্রকাশ করতো-তার মধ্যে জড়ানো থাকতো কিছুটা লজ্জা, কিছুটা ভয় মেশানো উচ্ছাস। বেশী দিনের কথা নয়-এইতো ষাট-সত্তর দশকের কথা। ঐ সময় আমাদের কিশোর-তরুণ-যুবাদের বিনোদনের, আনন্দ-ফুর্তি করার যথেস্ট সীমাবদ্ধতাছিল। তারমধ্যেও আমরা যতটুকু উচ্ছাস-উল্লাস করার সুযোগ পেতাম-তাছিল নিতান্তই সাদামাটা, তবে স্নেহ-মমতা আর আন্তরিকতায় ভরা। যেমন আমরা ক্লাশে ভাল রেজাল্ট করে বাসায় ফিরে মা-বাবা, বড় ভাই-বোনদের, স্কুলের শিক্ষকদের(যাদের তেমন সম্মানীত স্বজন আছেন)সালাম করাটাই ছিল প্রধান। তারপর যাদের যেমন সাধ্য তেমন করে প্রতিবেশীদের মিস্টি মুখ করানো কিম্বা মিলাদ পড়ানোটাই ছিল প্রধান বাহ্যিক উতসব। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাহ্যিক কিছু রূপ বদল করেছে। রূপ বদল করেছে তাদের ভাষার ব্যবহার, রূপ বদল করেছে আনন্দ প্রকাশের ভঙ্গি, রূপ বদল করেছে দুঃখে সমবেদনা জানাবার প্রক্রিয়া।
উদাহরণটা আমি আমার পরিবার থেকেই দিতে চাই। আমার ছোট ছেলে প্রাথমিক বৃত্তি পেয়ে আমাকে, ওর মাকে সালাম করেছিল। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায়ও কৃতিত্ব দেখিয়ে এসে আমাদের জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করেছিল। চলতি বছর ছেলেটি এস এস সি পরীক্ষায় গোল্ডেন জি পি এ পেয়ে আমাকে এক হাত তুলে "গিভ মী হাই-ফাইভ" বলে হাতের পাঞ্জা মেলালো! আমি এবং পরিবারের অন্য দুই সদস্যও ওর সাথে হাত উচিয়ে "হাই ফাইভ" বলেছি......(সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও আধুনিক হয়েছি!)। সম্ভবত পরিবর্তনের এই দোলাচালে তরুণরা এখন দুলছে প্রবলভাবে। "প্রক্রিয়ার" এই স্বাভাবিক "ক্রিয়ায়" তারুণ্যের কাছে উল্লাসের ধরন বদলে গেছে।
পরিস্থিতি যেমন বদলে গেছে তেমনি বদলে গেছে তারুণ্যের উল্লাস প্রকাশের ভাষা। নিজেদের জাগতিক অঙ্গভঙ্গিও বদলে গেছে তারুণ্যের। ফুল প্যান্টের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। হাতে গল্প উপন্যাসের যায়গায় স্থান করে নিয়েছে-ইন্টারনেট, গীটার-শুধু তাই নয় বদলে গেছে স্টাইলের রং। নিজেরাই এখন প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করে নিচ্ছেন। সম্ভবত পরিবর্তনের এই প্রতিক্রিয়ায় তারুণ্যের কাছে অনেক বেশি নিজেদেরকে পজেটিভ মনে হচ্ছে। কিন্তু অগ্রজ প্রজন্মের কাছে অনেক সময়ই এগুলো বিবেচিত হচ্ছে ক্ষয়িষ্ণু সময়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।
সভ্যতার এই সময়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে তরুণদের নিজেদের অবস্থান আবারো যাচাই বাছাই করতে হবে। অগ্রজ প্রজন্মের কাছে নিজেদের ইতিবাচক রূপ তুলে ধরতে হবে। পোশাকের বহিরাবরণ নয় বরং নিজের সভ্যতা আর রুচিশীলতার প্রকাশ ঘটাতে হবে। অগ্রজ প্রজন্মের কাছে নিজের আচরণকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন তারা তার মাঝে রুচীশীলতা আর শ্রদ্ধার উপকরণ খুঁজে পান। আর নিজেদের প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সহিষ্ণু আচরণ প্রদর্শন করতে হবে যেন কেউ এই প্রজন্মটিকে বখে যাওয়া মন্তব্য না করতে পারেন। আমাদের শ্রদ্ধা আর ভক্তির কথা তাদের কাছে বিনীতভাবে উপস্থাপন করতে হবে। তবেই জয় হবে তারুণ্যের।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ৮:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



