somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

রাজধানীতে ভিক্ষুকঃ (তৃতীয় পর্ব)

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভিক্ষুকদেরও সংগঠন আছে

২য় পর্বের লিংকঃ Click This Link

মহানগরীতে ভিক্ষুকদেরও রয়েছে একাধিক সংগঠন। ভিক্ষার জন্য প্রতিটি ভিক্ষুকের আলাদা আলাদা এলাকা ভাগ করা আছে। ভিক্ষার এরিয়া ভাগ করে থাকেন ভিক্ষুক নেতারা। কে কবে কখন কোন এলাকায় ভিক্ষা করতে যাবে তাও নির্ধারণ করা থাকে। পুরো ঢাকা শহরটি কয়েকটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনের জন্য একজন নেতা নির্ধারণ করা হয়। এই নেতা আবার প্রতিটি এলাকা বা মহল্লার জন্য নির্ধারণ করেন একাধিক উপনেতা। ভিক্ষুক নেতা হুমায়ন কবীর জানান, ভিক্ষুকদের মূল নেতৃত্ব আসে ফকিরাপুল এলাকা থেকে। আবদুর রহমান নামে এক ট্রাভেল এজেন্সির মালিক বর্তমানে ভিক্ষুক সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমিতির বিধান অনুযায়ী আয় অনুসারে প্রতি জন ভিক্ষুককে সমিতি ফান্ডে জমা দিতে হয় ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। সমিতির কর্মকর্তারা নিজ খরচে অনেক ভিক্ষুক পোষেন। খোরাকির বাবদ ৫০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে বাকিটা নিয়ে নেন।

ভিক্ষুকদের আইনি জটিলতা সমাধান করতে ঢাকা জর্জকোর্টে নিবারণ বালা নামের এক উকিল নির্ধারণ করা আছে। সমিতি প্রতি মাসে তাকে ৩০০০ টাকা ভাতা প্রদান করে। বিনিময়ে নিবারণ বালা সকল মামলা মোকদ্দমা তদারকি করে থাকেন। সমিতির রেজিষ্ট্রিশন ফি জন প্রতি ৫০০ টাকা এবং সমিতির সদস্য ছাড়া কোন নতুন ভিক্ষুক রাস্তায় নামতে দেয়া হয় না। যে সব ভিক্ষুক সুদৃশ্য লেমিনেটেড আই ডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ভিক্ষা করে-তাদের আই ডি কার্ড বাবদ তিন কিস্তিতে দিতে হয় ২০০০ টাকা। যারা সমিতির সদস্য নয় তাদের নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় চাঁদা কালেকশনের জন্য রয়েছে একাধিক তোলা বাহিনী’। এই চাঁদার একটা অংশ পেয়ে থাকেন স্থানীয় ট্রাফিক ও টহল পুলিশ এবং এলাকার কিছু মাস্তান। তবে সব মাস্তান ভিক্ষার টাকায় ভাগ বসায় না বলে জানান হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, শখের বশে কেউ এই অভিশপ্ত পেশায় আসে না। তারপরও প্রতিদিন নতুন নতুন মুখ যোগ হচ্ছে এই পেশায়।

ভিক্ষুক থেকে কোটিপতি হুমায়ুন কবীর জানান, ঢাকার শেখেরটেকে বাদশা মিয়া ও মোহাম্মদপুরের রহিম বেপারীর ঘাট এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর আলাদা আলাদাভাবে ৫ তলা বাড়ি রয়েছে। বাদশা মিয়া ভিক্ষুক জগতে ফকির চান নামে পরিচিত হলেও সমাজে তিনি বাদশা মিয়া। বর্তমানে উভয়েই কোটি পতি। এদের বিরুদ্ধে ভিক্ষা বৃত্তিতে বল প্রয়োগের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করার অভিযোগ আছে। রহিম বেপারী ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিলেও বাদশা মিয়া পুরনো পেশা ত্যাগ করতে পারেনি। বর্তমানে সে ভিক্ষুকদের মহাজনের দায়িত্ব পালন করে থাকে। নতুন পঙ্গু ভিক্ষুকদের গাড়িসহ একজন সাহায্যকারী দেয়। অন্ধদের দেয় সাদা ছড়ি। ময়লা-ছেঁড়া কাপড় অর্থাৎ ভিক্ষার পোশাক ও সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। নতুন অন্ধ ভিক্ষুক ভর্তি ফি তিনশ’ টাকা। ভিক্ষা শেষে পোশাক জমা দিয়ে অনেকেই স্বাভাবিক পোশাকে ঘরে ফিরে। সব মিলিয়ে বাদশা মিয়ার ভিক্ষুক সংখ্যা ৩ শতাধিক বলে জানান হুমায়ন কবীর। প্রতিটি ভিক্ষুকের জমা ৩০ থেকে ৫০ টাকা। ভিক্ষুকদের এডভ্যান্সও নেয়ার সুবিধা আছে। তবে শর্ত মোতাবেক তা প্রতিদিনের আয় থেকে সহনীয় পর্যায়ে কেটে নেয়া হয়। বাদশা মিয়া এবং রহিম বেপারীর চলাচলের জন্য রয়েছে ২টি প্রাইভেট কার। তারা টাকার বিনিমেয় শহরের মিছিল, মিটিংয়ে লোকও সরবরাহ করে। এছাড়া ভিক্ষার আড়ালে মাদক পাচারের ঘটনাও স্বীকার করেন তিনি। ভিক্ষা করে প্রতি বছর জমি কিনেন এমন লোকও তার জানা আছে। আবার খাবারের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে এমন লোকের অভাব নেই এ ঢাকা শহরে। হুমায়ন কবীর দুঃখ করে বলেন, কিছু প্রতারকদের কারণে প্রকৃত অসহায় ভিক্ষুকরা বা সাহায্য প্রার্থীরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। বাড়ছে দুঃখ দুর্দশা।

(এই পর্বে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ভিক্ষা বৃত্তি'র উপড় একটি সন্ধানী রিপোর্ট থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ ভোর ৬:৫১
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×