ভিক্ষুকদেরও সংগঠন আছে
২য় পর্বের লিংকঃ Click This Link
মহানগরীতে ভিক্ষুকদেরও রয়েছে একাধিক সংগঠন। ভিক্ষার জন্য প্রতিটি ভিক্ষুকের আলাদা আলাদা এলাকা ভাগ করা আছে। ভিক্ষার এরিয়া ভাগ করে থাকেন ভিক্ষুক নেতারা। কে কবে কখন কোন এলাকায় ভিক্ষা করতে যাবে তাও নির্ধারণ করা থাকে। পুরো ঢাকা শহরটি কয়েকটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনের জন্য একজন নেতা নির্ধারণ করা হয়। এই নেতা আবার প্রতিটি এলাকা বা মহল্লার জন্য নির্ধারণ করেন একাধিক উপনেতা। ভিক্ষুক নেতা হুমায়ন কবীর জানান, ভিক্ষুকদের মূল নেতৃত্ব আসে ফকিরাপুল এলাকা থেকে। আবদুর রহমান নামে এক ট্রাভেল এজেন্সির মালিক বর্তমানে ভিক্ষুক সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমিতির বিধান অনুযায়ী আয় অনুসারে প্রতি জন ভিক্ষুককে সমিতি ফান্ডে জমা দিতে হয় ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। সমিতির কর্মকর্তারা নিজ খরচে অনেক ভিক্ষুক পোষেন। খোরাকির বাবদ ৫০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে বাকিটা নিয়ে নেন।
ভিক্ষুকদের আইনি জটিলতা সমাধান করতে ঢাকা জর্জকোর্টে নিবারণ বালা নামের এক উকিল নির্ধারণ করা আছে। সমিতি প্রতি মাসে তাকে ৩০০০ টাকা ভাতা প্রদান করে। বিনিময়ে নিবারণ বালা সকল মামলা মোকদ্দমা তদারকি করে থাকেন। সমিতির রেজিষ্ট্রিশন ফি জন প্রতি ৫০০ টাকা এবং সমিতির সদস্য ছাড়া কোন নতুন ভিক্ষুক রাস্তায় নামতে দেয়া হয় না। যে সব ভিক্ষুক সুদৃশ্য লেমিনেটেড আই ডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ভিক্ষা করে-তাদের আই ডি কার্ড বাবদ তিন কিস্তিতে দিতে হয় ২০০০ টাকা। যারা সমিতির সদস্য নয় তাদের নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় চাঁদা কালেকশনের জন্য রয়েছে একাধিক তোলা বাহিনী’। এই চাঁদার একটা অংশ পেয়ে থাকেন স্থানীয় ট্রাফিক ও টহল পুলিশ এবং এলাকার কিছু মাস্তান। তবে সব মাস্তান ভিক্ষার টাকায় ভাগ বসায় না বলে জানান হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, শখের বশে কেউ এই অভিশপ্ত পেশায় আসে না। তারপরও প্রতিদিন নতুন নতুন মুখ যোগ হচ্ছে এই পেশায়।
ভিক্ষুক থেকে কোটিপতি হুমায়ুন কবীর জানান, ঢাকার শেখেরটেকে বাদশা মিয়া ও মোহাম্মদপুরের রহিম বেপারীর ঘাট এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর আলাদা আলাদাভাবে ৫ তলা বাড়ি রয়েছে। বাদশা মিয়া ভিক্ষুক জগতে ফকির চান নামে পরিচিত হলেও সমাজে তিনি বাদশা মিয়া। বর্তমানে উভয়েই কোটি পতি। এদের বিরুদ্ধে ভিক্ষা বৃত্তিতে বল প্রয়োগের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করার অভিযোগ আছে। রহিম বেপারী ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিলেও বাদশা মিয়া পুরনো পেশা ত্যাগ করতে পারেনি। বর্তমানে সে ভিক্ষুকদের মহাজনের দায়িত্ব পালন করে থাকে। নতুন পঙ্গু ভিক্ষুকদের গাড়িসহ একজন সাহায্যকারী দেয়। অন্ধদের দেয় সাদা ছড়ি। ময়লা-ছেঁড়া কাপড় অর্থাৎ ভিক্ষার পোশাক ও সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। নতুন অন্ধ ভিক্ষুক ভর্তি ফি তিনশ’ টাকা। ভিক্ষা শেষে পোশাক জমা দিয়ে অনেকেই স্বাভাবিক পোশাকে ঘরে ফিরে। সব মিলিয়ে বাদশা মিয়ার ভিক্ষুক সংখ্যা ৩ শতাধিক বলে জানান হুমায়ন কবীর। প্রতিটি ভিক্ষুকের জমা ৩০ থেকে ৫০ টাকা। ভিক্ষুকদের এডভ্যান্সও নেয়ার সুবিধা আছে। তবে শর্ত মোতাবেক তা প্রতিদিনের আয় থেকে সহনীয় পর্যায়ে কেটে নেয়া হয়। বাদশা মিয়া এবং রহিম বেপারীর চলাচলের জন্য রয়েছে ২টি প্রাইভেট কার। তারা টাকার বিনিমেয় শহরের মিছিল, মিটিংয়ে লোকও সরবরাহ করে। এছাড়া ভিক্ষার আড়ালে মাদক পাচারের ঘটনাও স্বীকার করেন তিনি। ভিক্ষা করে প্রতি বছর জমি কিনেন এমন লোকও তার জানা আছে। আবার খাবারের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে এমন লোকের অভাব নেই এ ঢাকা শহরে। হুমায়ন কবীর দুঃখ করে বলেন, কিছু প্রতারকদের কারণে প্রকৃত অসহায় ভিক্ষুকরা বা সাহায্য প্রার্থীরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। বাড়ছে দুঃখ দুর্দশা।
(এই পর্বে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ভিক্ষা বৃত্তি'র উপড় একটি সন্ধানী রিপোর্ট থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

