somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

তথাকথিত ‘স্যার’দের নির্লজ্জতাঃ

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘স্যার’দের নির্লজ্জতাঃ

ঢাকা শহর জুড়েই নয়, সকল মফস্বল শহরেও মহান শিক্ষক অ্যারিস্টোটল, সক্রেটিস, প্লেটোর পুনরুত্থান যেন! ভাব খানা এমন যেনো-অগণিত ভক্ত শিষ্য জানান দিচ্ছে তাঁদের সেই মহাউত্থানের কথা। নগরীর আনাচে-কানাচে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে ‘স্যার’ শব্দযোগে তাঁদের নাম। আপামর নগরবাসী তা স্বচক্ষে দেখবে আর সে খবর ছড়িয়ে দেবে বিশ্বময়। এমনই ভাবটা তাঁদের। অথচ ঐ প্রচারণার কাজটা "স্যার"দের নিজেদেরই করা। যেমন-" জি পি এ -৫ পাবার নিশ্চয়তা দিয়ে বাদল স্যার" এখানে পড়ান/ "মান্নান স্যার"-এখানে পড়ান/"ফারুক স্যার"-এখানে পড়ান/" জি পি এ -৫ পাবার নিশ্চয়তা দিয়ে পরিমল স্যার" ইংলিশ পড়ান...ইত্যাদি ইত্যাদি।

শিক্ষকতা শুধু পেশাই নয়, মহান ব্রতও বটে। সময়ের বিবর্তনে এখন শিক্ষকতা সব থেকে সফল ব্যবসা। শিক্ষকরাই এখন দক্ষ এবং যোগ্য ব্যবসায়ী! দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া বিরাজমান এসব শিক্ষক নামধারীর বিরুদ্ধে কিছুই কি করার নেই? দিনের পর দিন শিক্ষকতা নামের এ মহান পেশাটিকে কীভাবেই না কলুষিত করছেন তাঁরা? শিক্ষক ব্যক্তিত্ববান হবেন। ব্যক্তিত্ব আসে মেধা থেকে। সেমতে কোনো মেধাবী মানুষের/শিক্ষক এর পক্ষে কি নিজ নামের পাশে নিজেই ‘স্যার’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে দিব্যি নিরুৎকণ্ঠ থাকা সম্ভব? শুধু পোস্টার-ব্যানারে কেন? কম্পিউটার কম্পোজে নিজে বই তৈরি করে প্রতি পৃষ্ঠায় 'স্যার' শব্দযোগে নিজ নামের ছাপ দিয়ে শিক্ষক নামধারী তাঁর প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের কাছে দেদারসে বিক্রি করেন সে বই। এহেন কার্য্যক্রম শুধু নিন্দনীয় নয়, হতবুদ্ধিকরও বটে। শিক্ষকের ভিজিটিং কার্ডের কোনায় "A-৫ শিওর" লেখা থাকার কী এমন যৌক্তিকতা থাকতে পারে তা কোনোমতেই বোধগম্য নয়।

কিছুদিন পুর্বে ঢাকা কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর ডঃ সিরাজুদ্দীন স্যারের সাথে কথা হচ্ছিল। স্যার খুব হতাশ হয়ে বলেছিলেন-"ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীদের পড়া লেখা এখন সম্পুর্ণ ভাবেই নীল ক্ষেত,গ্রীণ রোড, ধানমন্ডি, জিগাতলা কেন্দ্রীক কোচিং সেন্টার এবং তথা কথিত আলোচ্য "স্যার" কেন্দ্রীক হয়ে পরেছে"। আমার বড় ছেলেটা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করেছে এবং ছোট ছেলেটি এবছর কলেজে ভর্তি হয়েছে। একজন অবিভাবক হিসেবে আমি ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে সম্পুর্ণ একমত।

দুটো দল রয়েছে এসব শিক্ষক নামধারী প্রবঞ্চকদের। একদল নাম লিখিয়েছেন নামী-দামী স্কুল-কলেজের খাতায়; অন্যদল তথাকথিত কোচিং সেন্টারে। এদের কিছু ফিরিস্তি না দিলেই নয়। নামী-দামী স্কুল-কলেজে কর্মরত থাকলেও শ্রেণী পাঠদান সূত্রে এদের অনেকেরই বিশেষ কোনো নামধাম নেই। দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে অর্থ-সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। কর্তব্যে অবহেলার দায়ে চাকরিও খুইয়েছেন কেউ কেউ। ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি, ইংরেজি, গণিতের মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীকে সার্বক্ষণিক চর্চায় থেকেই ভালো ফলাফল করতে হয়। অথচ অভিভাবকদের অসচেতনতায় এরা তথাকথিত কোর্স সিস্টেমের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে তিন মাসের মধ্যে কোর্স শেষ করে দেন। যা নিতান্তই শুভঙ্করের ফাঁকি। কাজের কাজ হয় না কিছু্‌ই, শুধু মনোহারী কিছু কাগজপত্র হস্তগত আর শিক্ষক নামধারীর অন্যায্য তল্পি ভারী করা ছাড়া। ব্যর্থতার মাশুলটুকু শেষ পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ আর প্রবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবককেই গুনতে হয়।

ওদিকে তথাকথিত কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত আছেন তাঁদের অনেকের কথাই কী আর বলবো? ব্যবসায়িক কূট-কৌশল হিসেবে লুপ্তপ্রায় কো-এডুকেশন ব্যবস্থাকে যেন রীতিমত টেনে তোলার প্রচেষ্টায় নেমেছেন তাঁদের অনেকে। তাঁরা আবার ‘স্যার’ সম্বোধনে তুষ্ট নন। বিশেষ ভাব জমাতে শিক্ষার্থীদেরকে দিয়ে ‘ভাইয়া’ সম্বোধন করানোর কালচার চালু করছেন তাঁরা। অনেকেরই আচরণ-পোশাক-পরিচ্ছদ রোমিও সুলভ। সমাজের কী আর থাকে শিক্ষক যখন "রোমিও" হন? যদি মানুষ গড়া না গড়ার প্রশ্ন ওঠে তবে এদের ভূমিকার কী মূল্যায়ন দাঁড়ায়- সমাজকে আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন তা উপলব্ধি করতেই হবে। এত যে অবক্ষয় চারদিকে, এত যে ভাঙন-অশুভের অশনিসংকেত; কে ধরবে হাল, তাতে কে হবেন পথপ্রদর্শক?
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ ভোর ৬:৪৬
৪৩টি মন্তব্য ৪৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×