somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ঐতিহ্যের ধারক-বাহকঃ ঢাকা নিউ মার্কেট

০৩ রা এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঐতিহ্যের ধারক-বাহকঃ ঢাকা নিউ মার্কেট

কথায় আছে ঢাকার গৃহিণীরা চুলের ক্লিপ কিনতেও নিউমার্কেটে ছোটেন। আধুনিক নগর সভ্যতায় কেনাকাটার গুরুত্ব যেভাবে বেড়েছে সে হারে বেড়েছে মার্কেটের গুরুত্ব। একথা আজ নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, রাজধানীর কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দই হচ্ছে নিউমার্কেট এবং তৎসংলগ্ন গাউছিয়া মার্কেট।যদিও এখন ঢাকা শহর মানেই মার্কেটের শহর। পাড়া মহল্লা সর্বত্রই এখন বিশাল বিশাল শপিং কম্পলেক্স।এমনতরো অজস্র শপিং কম্পলেক্স থাকা সত্যেও ঢাকা নিউ মার্কেটের আবেদন এতোটুকু কমেনি!

নিউমার্কেটের নানা দিকের ওপর আলোকপাত করার আগে চলুন জেনে নেয়া যাক এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ ১৯৫২ সালে ৩৫ একর জায়গা নিয়ে এ মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এর পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৫৪ সালে। বিকিকিনির জন্য নিউমার্কেটকে বলা যায় এ-ওয়ান। অবশ্য রাজধানীতে আয়েশী অবকাশ কাটাতে ঘুরে ঘুরে প্রশস্ত চত্বরে শপিং করার বেশ কিছু মার্কেট এবং এ সমস্ত শপিং মলে ক্রেতাসাধারণ আকর্ষণীয় সেবা পেলেও নিউমার্কেট তার আকর্ষণ ঠিকই বজায় রেখেছে। ত্রিকোণী কেন্দ্রভূমি নিউমার্কেটের সরকারী ভাবে বরাদ্ধ ৪৪০টি দোকানে আপনি এমন কিছু নেই যা পাবেন না। অভিজাত বেনারসী শাড়ি থেকে শুরু করে শাটিং-স্যুটিং, অলংকার, লেদার আইটেম, বই-পুস্তক, ফটো স্টুডিও, রেস্টুরেন্ট-সবকিছুই পাচ্ছেন কেন্দ্রে অবস্থিত পার্কের চারপাশে। ৫০ এবং ৬০ এর দশকে ঢাকার নিউমার্কেট শপিং এবং চমৎকার সময় কাটাবার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা ছিল। ঢাকা রক্ষণশীল শহর হলেও উঠতি যুবকদের বান্ধবী নিয়ে ঘোরার জন্য নিউমার্কেট ছিল নিরাপদ স্থান। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা একে অপরকে কিছু গিফট করতে সান্ধ্য ভ্রমণটা নিউমার্কেটেই সেরে থাকে।

আশির দশকে নিউমার্কেটের উত্তর মুখে গড়ে ওঠে ক্রোকারিজ সামগ্রীর জন্য নিউ সুপার মার্কেট, কিচেন সামগ্রীর জন্য বনলতা মার্কেট, বিবিধ জিনিসের জন্য চন্দ্রিমা মার্কেট এবং ডি ব্লকে গড়ে ওঠে গ্রোসারিজ মার্কেট। মসজিদের পাশে মনোরম পার্ক এবং নতুনভাবে বরাদ্ধ দেয়া ৬২টি দোকান দ্রব্যসামগ্রীর পসরা খুলে বসেছে।অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এর অনেক পরিবর্তন-বিবর্তন এবং অন্তর্ভুক্তি ঘটলেও নিউমার্কেট সকলের কাছে এখনোর “নিউ”। সময়ের প্রয়োজন মেটাতে নিউমার্কেট তার পরিধি বাড়িয়েছে, সাথে সাথে প্রাচ্য সভ্যতা ও ঐতিহ্যের ধারক নিউমার্কেট মানুষের চাহিদার কথাও ভোলেনি। গ্রোসারি থেকে শুরু করে বই-পুস্তক, ম্যাগাজিন, জুয়েলারি, চশমা, লোকাল এবং ওয়েস্টার্ন ক্রোকারিজ এবং গৃহসজ্জার যাবতীয় সামগ্রী অর্থাৎ আপনার সম্ভাব্য সব প্রয়োজন মেটাতে নিউমার্কেট সদা প্রস্তুত। গৃহিণীরা অনেকেই জানে নিউমার্কেটের কোন দোকানে তার কাঙিক্ষত দ্রব্যটি মিলবে। ছাত্র থেকে শুরু করে পিতা-মাতারা তাদের প্রয়োজনীয় স্টেশনারী গুডসের সবটাই পেয়ে যায় নিউমার্কেটে।

প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ এবং সহনীয় দামের প্রশ্নেও নিউমার্কেট তার অবস্থান ধরে রেখেছে। আজকের নিউমার্কেট শহরের ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। তার তোরণ এবং টাওয়ার ধ্রুপদী ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নিউমার্কেটের ছোট ছোট কর্নারেও মিলবে আপনার প্রত্যাশিত সামগ্রী। ঢাকাবাসীরা নিউমার্কেটের জন্য রীতিমত গর্ববোধ করে। প্রাচ্য এবং পাশাত্যের লেটেস্ট ফ্যাশন যদি আপনি হাতের নাগালে পেতে চান তাহলে নিশ্চিতভাবে নিউমার্কেটে চলে আসতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের প্রচুর দেশে কোয়ালিটি পোশাক-পরিচ্ছদ সরবারাহ করছে আমাদের দেশীয় পোশাক শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো। ঢাকা কলেজের বিপরীতে বা ওডিসিতেও এগুলো পেয়ে যাবেন। বাংলাদেশের প্রচুর সংখ্যক মানুষ বিশেষ করে পুরুষেরা পশ্চিমা স্টাইলের পোশাকে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই ওডিসি ফেয়ার প্রাইজ এই অভিরুচি পূরণ করছে। নিউমার্কেটের বিশাল ছাদের নিচে রয়েছে বাহারি পোশাকের বিপুল সমাহার। টি-শার্ট, ট্রাউজার, গরম কাপড়ের তো কথাই নেই। সপ্তাহ শেষের ছুটির দিনে পিক আওয়ারে যিনি নিউমার্কেটে মার্কেটিং এর প্রথম অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন তিনি বুঝতে পারবেন নিউমার্কেটের বিপুল সম্ভারের আভিজাত্য। বিশেষ করে বিপুল সম্ভারের বড় বড় স্টোরগুলোতে যদি কেনাকাটা করতে যান তাহলে ভীড়ের চাপ, কটাক্ষ বা দুই এক বার মৃদ্যু কনুইয়ের গুঁতো আপনাকে কবুল করে নিতে হবে।

পোশাক সম্ভার বিভাজনে ওডিসির রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। এক্সপোর্ট কোয়ালিটি পোশাক তা যে রং বা যে ডিজাইনের চান না কেন, তা ওডিসিতে মিলবে। ছেলে এবং মেয়েদের জিন্স এবং টিশার্ট প্রাপ্তির মনোলোভা স্থান হচ্ছে ওডিসি। গ্যাবার্ডিন এবং ট্রাউজার প্রচুর বিক্রি হয় ওডিসিতে। ফিটিং প্যান্ট, শার্ট, থ্রি কোয়ার্টার তো আছেই। খাঁচ কাটা, স্পষ্ট দাগ এবং বিচিত্র প্যাটার্নের টি শার্টের জুড়ি নেই ওডিসির। ওডিসির দ্রব্য সম্ভারের মূল্য যথেষ্ট নমনীয়, অধিক উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা ছাড়াও ওডিসির সহনীয় মূল্য মধ্যম আয়ের ব্যক্তিদেরও এর ক্রেতা সাধারণের অন্তর্ভূক্ত করেছে। শীত মৌসুমে ছেলে-মেয়েদের আকর্ষণীয় আইটেম হচ্ছে ডেনিম, জ্যাকেট, সোয়েটার এবং হাতাওয়ালা টি-শার্ট। শরীরের নানা ডিজাইনের বাহারি রংয়ের পোশাকের আকর্ষণীয় প্রাপ্তিস্থানের নাম হচ্ছে ওডিসি। বিপুল সমাহার বড় কথা নয়, এর ফেয়ার প্রাইজই ওডিসি সাধারণ ক্রেতাদের টানছে। মোটামুটি মানসম্পন্ন একটা পোশাক ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পেয়ে যাবেন।নিউমার্কেট শুধু শপিং’র জন্যই নয়, ঢাকার গর্বের সাথে নিজেকে অংশীদার করারও একটা সুযোগ।


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ রাত ৯:৩৩
৩৮টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×