somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

মানুষ ও মানবিক মূল্যবোধঃ

০৫ ই জুলাই, ২০১১ রাত ৮:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ ও মানবিক মূল্যবোধঃ

প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর তারুণ্য দেখলে কার না ভালো লাগে। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ই হচ্ছে যৌবন। যে দেশ যে জাতির যৌবন ঝলমলে তার ভবিষ্যৎ ততই উজ্জ্বল। আমরা জন্মেছি উন্নয়নশীল নামের দরিদ্র দেশে। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সমাজ। লাগেনি আধুনিকায়নের হাওয়া, ছিল না প্রযুক্তি আর বিলাসের অবাধ উপকরণ। তারপরও আমাদের শৈশব-কৈশোর- যৌবন কেটেছে উত্থান-পতনের অনাবিল আনন্দে। চেতনা ও আদর্শবোধ যে কথার কথা নয়, সেগুলোর ধার যে পরীক্ষিত তাও দেখেছি আমরা। একদিকে স্বদেশ পাবার আকুলতা অন্যদিকে বৈরী শাসন। স্বাধীন দেশেও কত বিপর্যয়, কত অঘটন তবু উচ্ছলতায় ছেদ পড়েনি। মানবিক ও নৈতিক দীপ্তিতে তারুণ্য হয়েছিল আশার প্রতীক।

জীবন খুব সুন্দর। এই সুন্দর জীবন মানুষ একবারই পায় উপভোগ করার জন্য। কিন্তু এ দেশে এ সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা এ জীবনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, যারা নিজেরাও ভালো থাকে না, নিজের জীবনটাকে ধ্বংস করে সেইসঙ্গে অন্যজনকেও নষ্ট করে। ভালো কিছুর মধ্যে থেকেও যারা বিষাক্ত কীটে পরিণত হয়, যে কীট শুধু বিষ ছড়াতে পারে। যার ফলে প্রতিদিনই আমরা পড়ছি, জানতে পারছি-মানবিক মুল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ভয়াবহ সংবাদ। গত কয়েকদিন যাবত দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ভিকারুন্নেসা স্কুলের কয়েকজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটিয়েছে ঐ স্কুলেরই সশিক্ষক নামধারী কয়েকজন নরপশু!অন্যদিকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গামী কিছু ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কীভাবে বজায় রাখছে এবং কীভাবে নৃশংসভাবে ছাত্র খুন করছে!এমন নসংশতা শুধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরমধ্যেই থেকে নেই, কোমলমতি স্কুল ছাত্রদের মধ্যেও লক্ষ করা যাচ্ছে! যাদের হাতে খাতা-কলম, বই থাকার কথা তারা কথায় কথায় অস্ত্র তুলে নিচ্ছে।

স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় এদেশের তরুণ সমাজ ও ছাত্ররা যখন দেশকে বাঁচাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছিল সেই ইতিহাস আজও আমাদের জাতীয় গর্বের বিষয়।সত্যিই অবাক হতে হয়, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ের তরুণ সমাজের মানবিক মূল্যবোধ ও আজকের তরুণ সমাজের মানবিক মূল্যবোধের পার্থক্য দেখে।মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে আজ ইভটিজিং-এর কারণে ঘটছে আত্মহত্যা ও হত্যার ঘটনা। এই সমাজে অ্যাসিড সন্ত্রাস, যৌতুক, ধর্ষণ, অপহরণ ঘটে চলেছে নির্বিঘ্নে। দু-এক দিন এসব ঘটনা নিয়ে মাতামাতি চলে। তারপর আবার নতুন কোনো ঘটনার জন্ম হয়। এর শেষ কোথায় কে জানে?

দিন দিন যেভাবে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে তাতে করে ভবিষ্যতে এদেশের মানুষের ওপর কী ধরনের বিপর্যয় ঘটবে তা বলা কঠিন এবং তা চিন্তা করলেও আতঙ্কিত হতে হয়! যে রোগগুলো এ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে তা আমরা জানি। এর প্রতিকারের জন্য যে ওষুধ দরকার তাও বোধহয় আমাদের অজানা নয়। শুধু আমাদের মধ্যে সেই সুদক্ষ ডাক্তার নেই, যিনি এটার সঠিক মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করে এই রোগগুলোকে নির্মুল করতে পারেন। যতোই দিন যাচ্ছে সমাজের কিছু মানুষ যেন আরো বেশি অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর যার প্রভাব পড়ছে গোটা দেশবাসীর ওপর। তাই সময় এসেছে আমাদের সামাজিক, নাগরিক ও জাতীয় জীবনে মানবিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে তোলার, আত্মসচেতন করে তোলার। মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও চেতনার মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার। আর এটাই পারে ব্যক্তি থেকে,পরিবার থেকে,সমাজ থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে সমস্ত সহিংসতা দূর করতে। এজন্য সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।এবিষয়ে অন্যান্য মিডিয়ারমতো ভার্সুয়াল মিডিয়াও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ ভোর ৬:৪১
৩৯টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×