somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের লাশ বহনকারী এম্বুলেন্সে জুতা ও গোবর নিক্ষেপ: যৌক্তিকতা এবং খাঁটি তৈলের ব্যবহার

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রসঙ্গঃ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের লাশ বহনকারী এম্বুলেন্সে জুতা ও গোবর নিক্ষেপ: যৌক্তিকতা এবং খাঁটি তৈলের ব্যবহার

টিভিতে দেখলাম বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের লাশ বহনকারী এম্বুলেন্সে কিছু লোক জুতা ও গোবর নিক্ষেপ করছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা নিঃসন্দেহে জাতির এক কলঙ্কজনক ইতিহাস। যেকোন হত্যাকান্ডেরই শাস্তি হওয়া উচিৎ মৃত্যূদন্ড এবং তাই হওয়াতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমরা সবাই চেয়েছি, জাতি চেয়েছে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হোক। তা হয়েছে এবং সেই সাথে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধী তার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি পেয়েছে। কিন্তু লাশ বহনকারী এম্বুলেন্সে জুতা কিংবা গোবর নিক্ষেপ করাটা একটু বাড়াবাড়ি এবং তা নিয়ে আহ্লাদিত হওয়াটা রাজনৈতিক অপরিপক্কতার বহিঃপ্রকাশ। আগামী নির্বাচনের সময় এই জুতা/গোবর নিক্ষেপ নিয়েই কথা উঠবে, জনপ্রিয়তা কমার ঝুঁকি রয়েছে। লাশ আসলে একটি জড়পদার্থ এবং আমরা যারা ইসলামের অনুসারী তারা জানি লাশের সাথে আমাদের কি রকম ব্যবহার করা উচিৎ। মৃত ব্যক্তির ভাল গুণ গুলোর কথা আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে ইসলামে (অবশ্য যদি ইসলাম মানি)। ইসলাম আমাদেরকে ধৈর্যধারণ করতে উপদেশ দেয়, সীমা লংঘন করাকে নয়।

আমরা আজও রাজাকারদের বিচার করতে পারি নাই, বরং রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছি, যাদের গঠনতন্ত্রে বাংলাদেশের স্বীকৃতিই ছিল না (২ বছর আগের কথা, এখন জানি না)। অধিকন্তু, এই খুনিদের বেশিরভাগই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। আমরা এটাও জানি যে, মুক্তিযূদ্ধের সময় মারা গেলে এঁরা পেতেন শহীদের সম্মান। বরং রাজনৈতিক অবিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে, তড়িঘড়ি করে আইন করা হয়েছে যে, তাঁরা যেন রাষ্ট্রীয় সম্মান না পান। এতে আওয়ামী লীগ বা হাসিনার কি এমন রাজনৈতিক ফায়দা অনুমেয় নয়। তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করলে বরং আওয়ামী লীগেরই রাজনৈতিক বিজয় হত বলে আমার ধারণা। জাতি বুঝত, আওয়ামী লীগ তার বখে যাওয়া সন্তানের বিচার করেছে। এখন জনগণ বুঝবে হাসিনা এক প্রতিহিংসাপরায়ন নারী এবং প্রতিহিংসাবসতঃ পিতার খুনের প্রতিশোধ নিয়েছেন। (অবশ্য কেউ যদি আমার পরিবারের কাউকে খুন করেন তাকে আমি "অন দ্য স্পট" খুন করব, কিন্তু আমার মানসিকতা আর ব্যপ্তি রাজনৈতিক নেতাদের মত নয়। আমার গন্ডি আমার পরিবার আর রাজনীতিকের গন্ডি পুরো দেশ)। আমাদের রাজনীতিবিদগণ (বিএনপি/আওয়ামী লীগ/জাপা/জামাত সবাই) আসলেই যে প্রফেশনাল রাজনীতিবিদ নন তা এইসব হীন আচরণ থেকেই বুঝা যায়। রাজনীতি বলতে আসলে উত্তরাধিকার থেকে পাওয়া একভাগ ছেঁড়া ত্যানা, যার ব্যবহার হতে পারে শুধু কফ-কাশি মোছার মত ছোট কাজে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার যে এঁরা কবে শিখবে আল্লাহ্‌ই জানেন।

যারা তাদের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের লাশ বহনকারী এম্বুলেন্সে জুতা ও গোবর নিক্ষেপ করছেন, অনেকেই তাদের এই কাজকে বাড়াবাড়ি বলে আখ্যা দিচ্ছেন আবার কেউ কেউ বলছেন ইহা বাড়াবাড়ি নয়। তবে আমার মনে হয় ইহা বাড়াবাড়ি নয়, বরং জুতা/গোবর ছুঁড়ে মারা মানে শেখ হাসিনাকে খাঁটি তেলে অবগাহন করানো। শেখ হাসিনাকে খুশি করার এটাই মোক্ষম সময়। কারণ, কর্মসংস্থানের অভাবের এই দেশে চাই চাকুরী, দরকার টেন্ডার, দরকার চাঁদা এবং এতদমহানকর্মে চাই নিরাপত্তা, চাই পৃষ্ঠপোষকতা। যা আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা বুঝতে পারবে না, যা শেখ মুজিব বুঝতে পারেন নাই। শেখ মুজিব যেমন চামচাগুলোকে ভেবেছেন শুভাকাংক্ষী, ভেবেছেন তাঁকে পেয়ার-কারনেওয়ালা। তারা আসলে তা নয়, বাঙ্গালীরা বড়ই স্বার্থপর, বড়ই বিশ্বাসঘাতক। যাই হোক, যারা এই জুতা/গোবর নিক্ষেপকে বাড়াবাড়ি বলতে নারাজ তারাও হাসিনার চারপাশের তৈল খনি, ধান্দাবাজ। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের ভাল চাইলে কোন সূস্থ মস্তিস্কের মানুষ এইরকম হীন কাজের সমর্থন করতে পারতেন না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি এইসব ধান্দাবাজদের বুঝতে শিখুন, এদের উদ্দেশ্য ধরতে শিখুন, খাঁটি তৈলে ভাসবেন না, লাই দেবেন না, লাই দিলে মাথায় উঠে প্রস্রাব করবে। এঁরা আপনার বাবার মাথায় উঠে একই কাজই করেছিল, যার দূর্গন্ধ এই জাতিকে ৩৮ বছর ধরে সইতে হয়েছে। আপনাদের রাজনৈতিক অবিচক্ষণতা এবং এই ধান্দাবাজদের জন্যই আমরা কালে কালে শেখ মুজিবের মত মহান নেতাকে বারবার হারাব।

ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০৩
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×