প্রথম প্রেমপত্র
প্রথমে এক বোতল মিথাইল অ্যালকোহলের শুভেচ্ছা রইলো। প্রিয়া, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার এই ভালোবাসা P=mf এর মতই সত্য।
তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা স্প্রিং নিক্তিতে মাপা সম্ভব নয়। প্রথম যেদিন তোমাকে দেখি সেদিন থেকে আমার হৃদয়ের প্রেমের ট্রানসফর্মার তোমার A.C তড়িৎ প্রবাহের জন্য অপেক্ষা করে আছে। তোমাকে একদিন না দেখলে আমার হৃদয় লিফ্ট পাম্পের মত উঠানামা করে ও বন্ধ হয়ে যায় মনের গিয়ার চাকা। আর যখন তোমাকে দেখতে পাই তখন হিলিয়াম গ্যাসের মত হালকা মনে হয় নিজেকে।
ওগো আমার মনের টলুইন, ওগো আমার ক্লোরোফর্ম, ওগো আমার ফানেল তুমি কি আমার হৃদয়ের বুদবুদ শুনতে পাওনা? তুমি কি আমার নাট্রোগ্লিসারিনের মতো ভালোবাসা বুঝতে পারোনা? তবে কেনো নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মত আচরণ করো? ওগো আমার অক্সিজেন টিউব, কার্বন মনোক্সাইড ভরা এই পৃথিবীতে তোমার প্রেমের বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিয়ে আমাকে বাঁচাও।
এসো আমরা আমাদের হৃদয়ের জারন বিজারন ঘটিয়ে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হই। দুজনে মিলে সংবর্তিত বর্তনীতে পরিবর্তিত হই। আমাদের প্রেমের জেনারেটরও কোনদিন সিলিকন টিউবে নষ্ট হবেনা। কোনদিন যদি আমাদের প্রেমে মরিচা ধরে তবে আমার হয়ে তুমি গ্যালভানাইজিং করিয়ে নিও।
ইতি //
নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে প্রত্যেক ক্রিয়ার সামনে সমান ও বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু এ চিঠির যেন কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না হয়।
---
চিঠিটি পড়া শেষ করে ভাঁজ করে দেখতে পেলাম ওর এক ভাঁজে লেখা “মালিকের অনুমতি ছাড়া চিঠি খোলা নিষিদ্ধ”।
চিঠির খামের বাইরের কিছু কথাঃ
চিঠিটির প্রেরক আমার কাজিন যার সাথে আমার বয়সের সামান্য কিছু ব্যবধান থাকলেও আমরা সহপাঠী ও খুব ভালো বন্ধু পরস্পরের। ওর বিয়ের আগে থেকে প্রতি মাসে কোন উপলক্ষ অথবা কোন উপলক্ষ ছাড়া তো চিঠি আদান-প্রদান হতোই। সেই স্কুল লাইফ হতে শুরু হয়ে একেবারে ওর বিয়ে পর্যন্ত চলেছে। বিয়ের পরে মুঠোফোনের খুচরো বার্তা আর কথোপকথন জায়গা করে নিলো চিঠির। যদিও উপহার পাঠানো বন্ধ হয়নি পরস্পরের এখনও। শুধু সেই লাল-নীল বেগুনী বা বর্নীল ডিজাইনের খামে পাঠানো চিঠির আবেদন ফুরিয়েছে।
চিঠির আবেদন ফুরোলে কি হবে, ওর বা আমার দু’জনেরই চিঠির বাক্সে জমা রয়েছে পুরানা চিঠিগুলোর প্রত্যেকটা। আমারটা রয়েছে আমার কাছে- আমি যখন যেখানে থাকি তখন কিছু প্রিয় চিঠি রয়ে যায় আমার সাথে, প্রিয় ডায়রীর খাঁজে আমার কাজের অনুসংগ হয়ে। আর, ওর চিঠির বাক্স রয়ে গেছে ওর বাবার বাড়িতে, যখনই একটু ফুরসত মেলে বাবার বাড়িতে যাবার, তখন সে ঘ্রাণ নিতে পারে প্রিয় চিঠির। আর বাকি সময়টায় মুঠোফোন তো রয়েছেই। ওর-আমার দৈনন্দিন কাজকর্ম, হাসি-কান্না-সুখ-দুখানুভূতির প্রতিটি আবাহনে মুঠোবার্তার আদান-প্রদান চলছেই চলছেই... ...
এই লেখার ধারাবাহিকতায় আমার পাওয়া সমস্ত ভালোবাসার চিঠিই এখানে স্থান পাবে।
(চলবে... )
----
উৎসর্গঃ আমার প্রিয় সেই বন্ধু, আপু ও সহপাঠী সহ বাকি সব স্কুল-কলেজ জীবনের চিঠিবন্ধুকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

