somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্ প্রতিবাদ- ৩

২২ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবুকে নিয়ে আর পারি না! বাইরে কোথাও বেড়াতে যেতে হলেই আগে তাকে বাথরুমে যেতে হবে।

তার চাচাও এমনটা ছিল। নিজের বিয়ের বরযাত্রী যাবে। গাড়ি বেশ কিছুদূর এগিয়ে গেছে। হঠাৎ তার মনে হল বাথরুম করা হয়নি। শুনে মেজাজ গরম হল। জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোর কি বাথরুম পেয়েছে?’
‘জ্বি না ভাইয়া।’
‘তবে কেন বাথরুম করতে ফিরে যেতে হবে?’ আমার প্রশ্ন।
‘ভাইয়া, এটা আমার অভ্যাস।’
‘আজ থেকে তোর অভ্যাসটা পাল্টে ফ্যাল। তোর এ বিদঘুটে অভ্যাস জানতে পেলে, তোর বউ তো তোকে পাগল ভাববে।’ বুঝানোর চেষ্টা করলাম। তবু তার এক কথা, ফিরে যেতে হবে বাসায়। অগত্যা সেদিন বাসায় ফিরে যেতে হয়েছিল।

বাবুকে ডাকলাম। ‘বাবু, তাড়াতাড়ি করো। তোমার মা বাসায় পৌছার আগেই বেরুতে হবে।’
‘মা আসলে কি সমস্যা বাবা?’ বাথরুম থেকেই তার প্রশ্ন।
‘তোমাকে তবে আর প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যেতে দেবেন না, বাবা। তাড়াতাড়ি করো।’ ব্যাখ্যা করলাম তাকে।
‘কেন যেতে দেবেন না, বাবা?’
‘কারণ তোমার মা প্রধানমন্ত্রীর দলকে পছন্দ করেন না।’
‘কাকে পছন্দ করেন তবে?
‘উফ! বেশি কথা না বলে বের হও তাড়াতাড়ি।’
‘না। আগে আমাকে বলো, তারপর বেরুব।’
এই হচ্ছে আমাদের বাবু! কোন প্রশ্ন একবার মাথায় ঢুকলে সেটার উত্তর জানতেই হবে।
‘তোমার আম্মু খালেদা জিয়ার দলকে পছন্দ করেন। ওকে বাবা। আর কোনো প্রশ্ন না। যেতে চাইলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসো।’
‘আসছি বাবা।’

যা ভেবেছিলাম তাই হল। বের হওয়ার আগেই শীলা উপস্থিত। এখন সে তো আর তবে বাবুকে আমার সাথে যেতে দিবে না।
‘কই যাও?’ আমাকে আর বাবুকে তৈরী অবস্থায় দেখে তার প্রশ্ন।
‘হাসিনার জনসভায়। তোমাকে না আজ খুব সুন্দর লাগছে!’ শীলা যাতে মূল ব্যাপারটা ধরতে না পারে তাই কথা ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা।
‘আমাকে সুন্দর লাগছে, ভাল কথা। কিন্তু বাবুকে তুমি নিয়ে যেতে পারবে না। বাবু আমার সাথে যাবে।’
‘তোমার সাথে? কোথায়?’
‘আজ পল্টনে খালেদার জনসভা। ওখানে যাব।’
শীলা ছাত্রীকালে ছাত্রদল করত। দলীয় নেতানেত্রীদের সাথে এখনো ভালই যোগাযোগ আছে তার। ছাত্রদল বা বি এন পির সাথে সে নিজে যোগাযোগ রাখুক, তাই বলে বাবুকেও বিএনপির চ্যালা বানাবে, এ আমি হতে দেব না কিছুতেই।
‘না তুমি বাবুকে বিএনপির সমর্থক বানাতে পারবে না। ওকে আমি আওয়ামীলীগের জনসভায় নিয়ে যাব।’
‘ও! ওকে তুমি আওয়ামী লীগ বানাতে চাচ্ছ, না? আমি থাকতে এ আমি কিছুতেই হতে দিব না।’
‘কেন দিবা না? কেন? তুমি কি মনে কর তোমার বি এন পি ভাল? রাজাকারদের বাঁচাতে গিয়ে দেশে কি তান্ডব চালাচ্ছে তোমার বি এন পি। তুমি তোমার ছেলেকে রাজাকার বানাতে চাও?’
‘রাজাকার? আওয়ামী লীগ কি দুধে ধোঁওয়া তুলসী পাতা? তোমাদের দলে বুঝি কোন রাজাকার নাই?’
‘রাজাকার থাক বা না থাক আমরা দেশে আমরা কোন অরাজকতা করি না। যত্তসব অরাজকদের দল।’
‘কী? আমরা অরাজকতা করি? অরাজকতা! এতোই যখন দেশপ্রেম তোমাদের নেত্রী সংলাপে বসেন না কেন? খালেদার সাথে আলোচনায় বসেন না কেন? তবেই তো আর কোন সহিংসতা হয় না দেশে।’
‘আলোচনা? তোমার নেত্রী কি আলোচনায় আসবেন মনে কর? উনি নিজেই আলোচনায় বসতে চান না। ভয় উনার, আলোচনায় বসলে তো সরকার উৎখাতের আন্দোলন করা যাবে না।’
‘জ্বি না স্যার। ভয় তোমার নেত্রী করছেন। ভাবছেন আলোচনায় বসলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে। বাবু আমার সাথে পল্টনে যাবে। তোমার সাথে না। কখ্খনো না।’
‘না, আমি কারু সাথে যাব না।’ হঠাৎ বাবুর কথায় আমাদের তর্ক থামাতে হল। দুজন একসাথে বাবুর দিকে তাকালাম। সে এতোক্ষণ মনোযোগ দিয়ে আমাদের কথা শুনছিল, এটা খেয়ালই করিনি আমরা।
জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন যাবে না বাবু। আওয়ামী লীগের জনসভায় চলো। দেখবে কত্তো মানুষ।’
‘না বাবা, খালেদার সভায় চলো। ওখানে অরো বেশি মানুষ হবে।’ আমার কথা কেড়ে নিল শীলা।
‘না, আমি কোথাও যাব না।’ বাবুর এক কথা।
আমরা অবাক হলাম।
‘কেন যাবে না বাবা?’ এবার দুজনই একসাথে প্রশ্নটা করলাম।
অনেকটা সময় নিচ্ছে দেখে বুঝলাম বেশ কঠিন কথা শুনাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।
‘বাবা, তুমি কোন দল সাপোর্ট কর?’ আমাকে প্রশ্ন করল সে।
বললাম, ‘কেন বাবা, আওয়ামী লীগ। এটা ছাড়া তো আর কাউকে সাপোর্ট করা যায় না এ দেশে।’ শেষের কথাটা আমি বাবুর মাকে শুনানোর জন্যই বললাম।
‘মা, তুমি?' বাবু শীলার দিকে তাকালো।
‘ অবশ্যই বি এন পি, বাবা। কেন হঠাৎ এ প্রশ্ন বাবু?’
বাবু আমাদের দিকে একে একে তাকাল। তারপর শুরু করল, ‘তোমরা দুজন দুটো দলকে সাপোর্ট কর। তবু তোমরা এক সাথে থাক?’
‘হ্যা বাবা। দশ বছর ধরে আমরা এক সাথে আছি?’ বাবুকে জানালাম।
‘কিন্তু খালেদা - হাসিনা কেন একসাথে মাত্র একটা বার আলোচনায় বসেন না?
বাবুর প্রশ্নের উত্তর আমাদের কারুর জানা না থাকায় চুপ করে থাকলাম।
বাবু কিছুক্ষণ পর আবার বলল, ‘যেদিন উনারা আলোচনায় বসবেন কেবল সেদিন আমি তাদের আলোচনা দেখতে যাব।’
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×