বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শরীকদলগুলোর সংসদ সদস্যরা সংসদে যাচ্ছেন না। প্রায় প্রতিদিনই এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হচ্ছে। আমরা সাধারণ জনগণ তা পড়ছি দেখছি। কিন্তু কিছুই বলতে পারছি না। তারা সংসদে যাবে কী যাবে না এটা তাদের বিষয়। এমনটা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। আমাদেরও ভাবতে হবে। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। জনগন তাদের ভোট দিয়েছে সংসদে গিয়ে কথা বলার জন্য। জনগণের ব্যাপারে আইন তৈরির জন্য তাদের ভালমন্দ দেখভাল করার জন্য তারা সংসদে যাবেন আলোচনা করবেন বিতর্ক করবেন। টেবিল চাপড়ে দাবি আদায় করবেন। কিন্তু তারা তা করছেন না। আমরা এতে হতাশ হতে পারি, আর কিছু নয়?
নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা নানান প্রতিশ্রুতি দেন। এই করে দেব সেই করে দেব। আর তাদের কথায় আমরাও ভুলে গিয়ে ভোট দেই। কারণ আমাদের আছে গভীর আস্থা। তারা তাদের কথা রাখবেন। কিন্তু কখনও তেমনটা না হলেও আমরা বারবার ভোট দেই। কারণ আমরা জনগণ আমাদের ভোট দেয়া ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই।
এবার চারদলীয় জোট সংসদে যাচ্ছে না সংসদের সামনের সাড়ির আসন না পাওয়ায়। আসন মানে শত শত নয় মাত্র একটি আসন চায় তারা। কিন্তু আমার কথা হলো মাত্র এই একটি আসনের জন্য যদি তারা দিনের পর দিন সংসদে না গিয়ে থাকতে পারে তাহলে তারা কেমন সাংসদ। তারা সংসদে যাবেন না কিন্তু সংসদের বারান্দায় গিয়ে সাংবাদিকদের বলবেন আসন না পেলে আমরা যাব না আমাদের ইচ্ছের প্রতি সরকার সুবিচার করছে না, আমরা যেতেই চাই কিন্তু আসন তো পাচ্ছি না..... .... ..., এই কথাগুলো শুনতে শুনতে আমাদের কানঝালাপালা চোখ ছানাবড়া। শুধু আসনের জন্যই তারা সংসদে যাচ্ছে না এটা বোধ হয় আর বিশ্বাস করা ঠিক হচ্ছে না। তাহলে কী কী কারণ থাকতে পারে।
আমার মতে (আপনি বিশ্বাস নাও করতে পারেন) কারণগুলো হচ্ছে
১. আসলে তারা সংসদেই যেতে চায় না কারণ ছাড়াই।
২. সংসদে গিয়ে হয়তো তাদের বলার মত কোন কথা নেই।
৩. আগেরবারের কথা চিন্তা করে হয়তো খারাপ লাগে যে, এই আমরা কী এতই নগন্য।
৪. তাদের কোন মতামতের কোন দাম হয়তো পাবে না তাই।
৫. যাদের সংসদে গিয়ে কথা বলার সামান্যতম হলেও যোগ্যতা আছে তারা তো নির্বাচনে পাশই করতে পারেনি, তাই কথা বলার মত হয়তো লোকও নেই।
৬. সংসদে না গিয়েও নিয়মিত ভাতা পাবার ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই সেই কারণেও বোধ হয় তারা ভাবছেন সংসদে গিয়ে আর কী হবে ভাতা তো আসবেই।
৭.সংসদ সরাসরি সম্প্রচারের সময় বিটিভি হয়তো তাদের দেখায় না তাই
এমন আরো নানান কারণ থাকতে পারে.........
এই ক্ষেত্র আমরা জনগন কী কোন ভূমিকা নিতে পারি?। তার আগে বলি গত নির্বাচনের আগের ঘটনা নিশ্চয় সবার মনে আছে। সেই যে দুই নেত্রীর বৈঠকের বিষয়টা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বৈঠকের চেষ্টা করা হলো, ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করলেন, পত্রিকাওয়লারা করলো এমনকি আইনজীবীরাও চেষ্টায় ছেদ ঘটান নি। ব্যারিস্টার রফিকউল হক সাহেব তো এই কাজ করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে উঠেছিলন। কিন্তু কারও কোন চেষ্টাই বোধ হয় সফল হয়নি।(হয়েছিল কী?) তখন চেষ্টা করতে হয়েছে দুই নেত্রীকে এক বৈঠকে বসাতে নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনার জন্য। এখন তো আর তত কষ্ট করতে হবে না। এখন এক নেত্রী। তাকে বোঝাতে সবাই আবার একটু উঠে পড়ে লাগলেই তো তিনি সংসদে যাবেন। কিন্তু চেষ্টাটা করা হচ্ছে না কেন। কেবল মাত্র স্পীকাররাই বলছেন আসুন আলোচনা করি। ব্যবসায়ী উকিল মোক্তার পত্রিকার সম্পাদক তারা কোথায় একটু বলুন না-ম্যাডাম সংসদে আসেন তো লোকজন নিয়ে, কথা বলেন দেশের স্বার্থে...।
এবার বলি আমরা কী করতে পারি। আমরা জনগন হয়তো এখনই কিছু করতে পারবো না কিন্তু আমাদেরও করার সময় আছে। যা করা খুব কঠিন নয় আমাদের জন্য তা হলো_
১. এখনই চিনে রাখা কারা সংসদে যায় না( সরকার দলীয় সাংসদসহ কারণ সরকারদলীয় অনেক সংসদ সদস্যও সংসদে অনুপস্থিত থাকে, এব্যাপারে আরও পরে লিখছি)
২. নির্বাচনের আগে ভোট চাইতে আসলে সংসদে না যাবার কারণ জানতে চেয়ে আমরা তাদের লজ্জা দিতে পারে (যদি লজ্জাবোধ তত দিনে সত্যিই থাকে)
৩. নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাবেন জনসমক্ষে লিখিত প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিতে পারি।
৪. এই মুহুর্তে যা করনীয়
ক. আপনারা সংসদে না গেলে চাল-ডাল-তেল-নুন-মরিচ আপনাদের কাছে বিক্রি করবো না
খ. রাস্তায় চলাচলের সময় সাইড দেব না।
গ. কোন অনুষ্ঠানে অতিথি করে দাওয়াত দেব না
ঘ. সামাজিকভাবে বয়কট করবো
ঙ. আপনারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী বলে সোনার মেডেল দিতে পারে সংসদের সামনে অনুষ্ঠান করে। যা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এর কোনটাই হয়তো আমাদের পক্ষে করা খুব সহজ নয়। কারণ আমরা নির্বাচনের আগে যখন ভাবি না কে সন্ত্রাসী আর কে ভাল মানুষ দলীয় প্রতীক দেখে ভোট দেই সেক্ষেত্রে আর প্রতিশ্রুতি চাইব কী ভাবে। আর অন্যগুলো তা মজা করার জন্য বলা( লজ্জা দেবার জন্য নয় কারণ তাদের লজ্জা নেই বোধ হয়)
কিন্তু সরকার কী কিছুই করতে পারে না? মাত্র একটা আসনই তো দিয়ে দিলে কী এমন ক্ষতি হয়। বরং লাভের পাল্লাই তো ভারী। কী কী লাভ হবে-
০ বিরোধী দলের সামনে তাদের বিগত সময়ের সমালোচনা করে প্রতিশোধ নিতে পারবেন যেমন তারা আগে করেছে।
০ আপনাদের কথার বিরোধীতা করার লোক পাবেন ফলে তর্কটা একদম জমিয়ে করতে পারবেন
০ আপনারা কতটা মহৎ তার প্রমান রাখতে পারেন
সরকার দায়িত্ব না নিলেও কী বিরোধী দল হিসেবে তাদের কোন অধিকার নেই। বিরোধীদল যে সকল বিষয় বিবেচনা করে সংসদে যেতে পারেন-
ঃ তাদের তো বলাই হয় বিরোধী দল। সরকারের বিরোধ করার জন্য সংসদে যেতে পারে
ঃ জনগনের প্রতি মানে ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারেন
ঃ শপথ পালনের জন্য যেতে পারেন
ঃ পরবর্তীতে ভোট চাইতে যাতে লজ্জা না পেতে হয় সেজন্য যেতে পারেন
ঃ স্পীকার বা সরকারীদলের কথা পছন্দ না হওয়ায় ওয়াক-থু স্যরি ওয়াক আউট করার জন্য যেতে পারেন।
ঃ আমাদের কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এটা বলার জন্য যেতে পারেন
ঃ সুযোগ দেয়া হোক এটা বলার জন্য যেতে পারেন।
ঃ রাগ করে সংসদের পেছনের সারিতে বসে স্পীকারকে বিব্রত করার জন্য যেতে পারেন।
এরকম হাজার হাজার কারণে বিরোধীদল সংসদে যেতে পারেন। তবে যে কথাটি বলাই হয়নি সেটা হলো আপনাদের জনগণ ভোট দিয়েছে সংসদে কথা বলার জন্য একটা আসন দেয়া হচ্ছে না বলে সংসদ বর্জন করার জন্য নয়। বর্জন করার আরো অনেক বিষয় আছে সেগুলো বর্জন করুন। (যেমন বদ-অভ্যাস মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া, দখল করা চাঁদাবাজী করা অনেকই কিছুই)
এবার বলি সরকারি সাংসদদের কথা। তারা কেন সংসদে যান না। তাদের ক্ষেত্র উল্লিখিত কোন কারণই প্রযোজন্য নয়। তাদের জন্য কি প্রযোজন্য তারা নিজেরাও বোধ হয় জানেন না। জানলে লজ্জা পেয়েও বোধ হয় সংসদে যেতেন।
অনকে লিখলাম। আশা করি আমার এই লেখা যদি বিরোধীদলীয় কোন সাংসদ/তাদের আত্মীয়/পরিচিত জন বা তাদের কেউ পড়েন তাহলে হয়তো কাজে আসবে।
তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে বলব সংসদে যাওয়া উচিত ছিল তাদের,
১। তাদের অনেক নবীন সদস্য আছেন। যাদের প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্বেও সংসদে যেতে পারছেনা। এই বছর তারা নিয়মিত গেলে অনেক কিছু শিখতে পারত।
২। শুনা যায় ওনারা ও নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় আছে। এখনো উপনেতা বানাতে পারেননি। এম কে আনোয়ার,মওদুদ,সাকা জমির উদ্দিন কে পাশে বসবে তা নিয়ে ও আছে মত বিরুধ।
৩।সামনের সারির আসন বড় না দেশ বড় না দল বড়? উনাদের মুখে শুনি ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়,দলের চেয়ে দেশ বড়, দেশ বাঁচা ও মানুষ বাচাও এখন উনারা বাড়ি বাচা ও এবং সামনের সারির আসন বাড়াও আনন্দোলনে ব্যাস্ত।
৪,আমি এখন সরকারী দলে থাকলে একটা কাজ করতাম সব গুলো আসন তাদের দিয়ে দিতাম, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সীট সহ, তারপর ও যদি তাদের খায়েশ মিটত।
৫, বুঝা উচিত তাদের দেশের জনগন চায়নি সামনের সারিতে বেশী করে। ভাল কাজ করে গেলে হ্য়ত ভবিষ্যতে বসতে ও পারবে।
বি.দ্র. লেখাটি আমার নয়। প্রকৃত লেখকের কাছে অনুমতি নিয়েই এখানে পোস্ট করলাম। আমার প্রিয় ব্লগের বন্ধুদের জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


