“শেয়ার বাজারের অবস্থা ভাল না। তবুও আমি কাল রাতে শিশুর মত ঘুমিয়েছি, প্রতি ঘন্টায় জেগে উঠে কেঁদেছি।” আমার বন্ধুর বক্তব্য।
শেয়ারের দাম কমাই স্বাভাবিক। কারণ, অতিমূল্যায়িত এই শেয়ার বাজারে এখন যেই মূল্য বিরাজ করছে, তা স্বাভাবিক নয়। সাম্যাবস্থায় ফেরার জন্য শেয়ারের দাম কমা অবশ্যম্ভাবী।
হয়ত আপনি মনে করতে পারেন, আপনিতো লাভ করছেন। ঠিক আছে, কিন্তু এটা আপনি করতে পারেন স্বল্প সময়ের জন্য (শর্ট টার্ম)। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা (লং টার্ম) থাকলে, দীর্ঘদিন স্বল্প মেয়াদী (শর্ট টার্ম) পরিকল্পনা না চালানোই ভাল।
সেদিন আমার বন্ধু ফোনে আরেকজনকে পরামর্শ দিচ্ছিল, কোন শেয়ার কেনার আগে কয়েকজনের সাথে আলাপ করে নিতে। হয়ত ৪ জন বলবে এর দাম বাড়বে, ২ জন বলবে এর দাম কমবে। যেদিকে বেশি মত, সেদিকে যাওয়াই ভাল। আমি আমার স্বভাবসুলভ ভাবে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি গণতন্ত্র নাকি ব্যবসা? সে আইবিএর এমবিএ করা ঝানু। হার না মেনে বলল, কয়েকজন “এক্সপার্ট”-এর সাথে আলাপ করতে হবে। আমিও কম যাইনা। বলি, এক্সপার্ট হলেতো একজন এক্সপার্টের সাথে কথা বলাই যথেষ্ট।
শেয়ার মার্কেটে স্টক ব্রোকারদের আয়টাই সবচেয়ে নিরাপদ, সব বেচা-কেনাতেই কমিশন। আসলে শেয়ার বাজারটাই বিদঘুটে। প্রতি বারই একজন বিক্রি করে, আরেকজন কিনে, আর দুজনেই ভাবে, তারা মহাচালাক।
আমার ধারণামতে, শেয়ার বাজারে ৩ ধরণের বিনিয়োগকারী আছেঃ
১) যারা কিছু জানে না, প্রায় ১০ শতাংশ
২) যারা কিছু জানে, প্রায় ১০ শতাংশ
৩) যারা এখনো বুঝেনি যে, তারা কিছু জানে না, প্রায় ৮০ শতাংশ
শেয়ারে বিনিয়োগ জুয়ার মত নয়। শেয়ার হচ্ছে একটি কোম্পানীর অংশিদারী মালিকানা। এর ফলে শেয়ার হোল্ডাররা অতটুকু সম্পদের মালিক হন এবং ঐ অংশের মুনাফা দাবী করতে পারেন। প্রায়ই বিনিয়োগকারীরা শেয়ারকে শুধু কেনা-বেচার জিনিষ মনে করেন। ভুলে যান, এই শেয়ার তার ঐ কোম্পানীতে অংশিদারী মালিকানা নির্দেশ করে। স্টক মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা সবসময় হিসাবে ব্যস্ত থাকেন, কোম্পানী শেয়ার মালিকদের কতটুকু মুনাফা দিতে পারবে। এ কারণেই শেয়ারের দাম ওঠা-নামা করা উচিত। ব্যবসার পরিবেশ পরিবর্তনশীল, তাই কোম্পানীর ভবিষ্যৎ মুনাফাও পরিবর্তনশীল।
আমার আইবিএর এমবিএ বন্ধুটাকে যখন বলি, দেখলেন দাম কমতেছে। সে বলে, আরে এটাইতো শেয়ার কেনার সময়। যখন দাম কম থাকবে, তখনইতো কিনতে হবে। আমেরিকার ওয়ালস্ট্রীটের পুরনো একটা প্রবাদ বলি, “পড়ন্ত ছুরি ধরতে গেলে আহত হবে।” সফল বিনিয়োগ কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার ফল। খানিকটা বুঝে ভেড়ার পালের মত সামনের ভেড়াকে অনুসরণ করলেই কোটিপতি হওয়া যায়না।
আশাহত হবার কিছু নেই। আপনার শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্ট যখন বিফল হবে, শেয়ারগুলো বিক্রি করতে পারবেননা, রেখে দেন। ১০ বছর পর আবার হয়ত হুজুগে পড়ে শেয়ারের দাম বাড়বে। অতএব, আপনি লং টার্ম ইনভেস্টমেন্টে সফল।
আমি জানি, ভবিষ্যত বক্তা হিসাবে আমার ভবিষ্যত খারাপ। কারণ, কেউ তার খারাপ ভবিষ্যত শুনতে চায়না। আমি এটা জানতাম বলেই একবার আমার খুব নাম-ডাক হয়েছিল হাত দেখতে পারি বলে।
আমাদের শেয়ার বাজারটা জুয়া খেলার জায়গা হয়ে গেছে। জুয়া খেলা থেকে বের হওয়া খুব কঠিন। একবার মদন তার বাসায় জুয়া খেলছিল বন্ধুদের সাথে। এক বন্ধু টয়লেট থেকে ফিরে এসে বলল, দোস, অয়তো তোর বউরে লাগাইতাছে। মদন বলল, আচ্ছা ঠিক আছে, এই দানটাই শেষ দান, এরপর খেলা বন্ধ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

