somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা এবং মন্তব্য (পর্ব-২)

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব……

আগের পর্বে শেষ করেছিলাম এই বলে যে কোন লেখার আহরিত বা নিঃসৃত বোধই বলে দেবে সেটি কবিতা কি কবিতা নয়। কবিতার আর একটি উপমা হল চিত্রশিল্পীর বিমূর্ত ছবি।বিমূর্ত ছবি দেখে কোন নির্দিষ্ট কিছুর অবয়ব হয়ত পাওয়া যাবেনা কিন্তু রং-এর কম্বিনেশন এবং এর প্রয়োগ একটা কিছু ভাবাতে বা একটা আবেশ মনে ছড়িয়ে দিবে ওটাই ওই ছবির সার্থকতা ঠিক যেমনটি পাওয়া যায় আধুনিক কবিতা গুলোতে।

এবার আসি একটা কবিতার সাথে একজন পাঠক কি কি আচরন করতে পারেন?
১। কবিতার নামটা ভালো করে লক্ষ্য করতে পারেন এবং মাথায় রাখতে পারেন,
২। কবিতাটা একবার বা একাধিকবার পড়তে পারেন,পড়তেই থাকলেন,কেননা সাধারনত একবারে একটি কবিতা পড়ে তার মর্ম উদ্ধারের নজির খুব কমই আছে,
৩। পড়তে পড়তে শব্দের প্রয়োগ গুলো হয়ত একটু খেয়াল করলেন, শব্দগুলো কতটা সঠিক জায়গায় কতটা নিপুনতার সাথে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যাবহৃত হয়েছে তা অনুধাবন করলেন,
৪। ছন্দের মিল গুলো খেয়াল করলেন,মনে মনে একটু গুন গুন করলেন,
৫। উপমা গুলো মন দিয়ে লক্ষ্য করলেন – কতটা কাছাকাছি হয়েছে,বুঝতে পারলে দারুন মজা লাগবে এবং ওখানেই কবিতার রস পঞ্চাশ ভাগ লুকানো,
৬। কবিতার স্টাইলটা লক্ষ্য করলেন,যেমন , ধরুন কোন কোন কবিতা প্রথম কয়েকলাইন হালকা তালের ছন্দ দিয়ে, তার পর হয়ত দ্রুত তালের ছন্দ দিয়ে , তারপর হয়ত একেবারে ছন্দ ছেড়ে, গদ্য দিয়ে শেষ হয়েছে । এই স্টাইলটা বিশেষ কাজে দেবে হয়ত আবৃত্তির সময়। যেকোন কবিতা আবৃত্তি করার সময় এর সুষমা স্পষ্ট চোখে পড়ে।
৭। একেবারে ছন্দ ছাড়া কবিতা গুলো বুঝতে হলে, আবৃত্তি ( হতে পারে মনে মনে)করে করে ভাবার্থ বের করার চেষ্টা করা যেতে পারে। ব্যাবহার কৃত য্যতিঃ চিহ্ন গুলোর সঠিক ব্যাবহার করতে হবে কেননা লেখক যখন সেগুলো দিয়েছেন সেগুলো তার মনের ভাবগুলো ঠিক যেভাবে যেভাবে পড়লে ঠিক ঠাক বোঝা যাচ্ছে ঠিক সেভাবেই দিয়েছেন,
৮। কবিতাটা কোন প্রক্ষাপটে রচিত হতে পারে – এরকম একটা কল্পনা মনে নিয়া আসা, প্রক্ষাপটটা দিব্য চোখে কল্পনা করা।এক্ষেত্রে আবারও ওই উপমাগুলোকে আনতে হবে , উপমা গুলোই কবিতার প্রেক্ষাপটে পৌছানোর বড় ক্লু। এখানে বলে রাখা ভালো যে পাঠক যে প্রক্ষাপটটা ভাবছেন সেটা হুবহু লেখকের সাথে এক না ও হতে পারে!
৯। এছাড়াও লেখক অনেক সময় অনেক ছোট-খাটো ধাধার মধ্য দিয়ে কিছু বলতে চেষ্টা করেন , সেটাকে খুজে বের করা,
১০। কবিতার নাম টাকে পুরো কবিতা জুড়ে খোঁজা। নামটা কবিতার ভিতরে লেখা আকারে খুঁজে না পেলেও ভাবের সাথে অবশ্যই কোন না কোন সম্পর্ক তো রাখবেই।

আপাতত আলোচনা এখানেই সমাপ্ত করছি। এই বিষয় নিয়ে অনেক বড় কলেবরে, আরো অনেক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারত । বিশেষ করে এমন কিছু কবিতার কথা বাদ থেকে গেল যেগুলোর শব্দ সমূহ এতই কঠিন যে কবিতার ভাব ধরা মুশকিল হয়ে পড়ে।সাধারন পাঠকরা এধরনের কবিতার প্রতিই বেশি বিরক্ত হন এবং এই বিরক্তি গুলোই ছিল এই লেখাটির শানে-নুযূল। এককথায় বললে বলতে হয়, সে ঐ কবিতাগুলো শুধুমাত্র পড়ার চেষ্টাই করা যেতে পারে ,না বুঝতে পারলে মন খারাপ করে কবিতা পড়া বন্ধ করাটা ঠিক হবে না। সহজবোধ্য অথচ ভাব-গাম্ভীর্যে বাংময় অনেক কবিতাই অনেক জায়গায় চোখে পড়ে।সেগুলো পড়ে ,আসলেই মনে হয় আহা কি সুধা…! এর লেখককে জানাতে ইচ্ছা করে অন্তরিক শুভাশিষ- কোন সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে! আর এভাবেই পূর্ন হয় লেখক ও পাঠকের অন্তঃমিল।কবিতা পায় তার সার্থকতা।


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:১৫
১৯টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×