ব্লগে প্রথম লিখছি, কি লিখব ঠিক ভেবে পাচ্ছি না। একটা মজার ঘটনা দিয়ে শুরু করা যাক। মানুষের নৈতিক চরিত্র কোথায় নেমে গেছে তা ঢাকা এলে অনেকটা বোঝা যায়। গ্রামের পরিবেশও অতটা সুবিধা জনক নয়। তারপরও এই যান্ত্রিক জীবনের থেকে অনেক ভাল।
চারিদিকে চোরের এত উপদ্রব যে ঘর ফাঁকা রেখে মার্কেটে গেলে ইয়া নফসি, ইয়া নফসি পড়তে হয়। ফিরে এসে যে দেখবনা ঘর তালা ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছে তার কোন গ্যারান্টি নাই।
বস্তির শহর ঢাকা। ওপেন সেক্স মার্কেট এই বস্তিখানা। কার কয়টা বাচ্চা এবং এদের বাবা যে কে তাহা অনেক মাতাই জানেন না। এসব বাচ্চা বড় হলে ব্যগ একটা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় ডাষ্টবিনে। নাম হয় টোকাই।
যেখানে যা পায় চুরি করে, ঘরের জানালা খোলা পেলে কাপড় টেনে নিয়ে যায়। দরজার লক চুরি করে হেরোইন খায় গাঁঞ্জা খায়। আমরা ওদের হেরোইঞ্চি বলে সম্বধন করি।
চুরি করতে করতে এরা এত নিচে নেমে গেছে যে, বারান্দা থেকে আন্ডার ওয়্যারটাও চুরি করে নিয়ে যায়।
ঠিক এমনই একটা ঘটনা; ছেলের পেট খারাপ, গেলাম ইসলামী হাসপাতাল। ডাঃ হারুনুর রশীদ একজন ভাল শিশু বিশেষজ্ঞ। কয়েকটা মেডিসিন লিখে দিলেন সংগে ষ্টুল টেষ্ট। সাত সকালে আমার সহধর্মীনি ছেলের পায়খানা ধরে একটা কাঁচের বোতলে ঢুকিয়ে রেখেছে। দিনটি ছিল শুক্রবার তাই ভাবলাম জুমার নামাজ পড়েই ইসলামি হাসপাতালের শাজাহানপুর ব্রাঞ্চে দিয়ে আসব। পায়খানা ভর্তি ওপেন শিশিতো আর হাতে করে মসজিদে নেওয়া যায় না, তাই আমার মিসেসকে বললাম একটা প্যাকেটের মধ্যে দিয়ে দিতে যেন বাহির থেকে ঠিক না পাওয়া যায়। সে মোতাবেক ভাল প্যাকেট খুঁজেও পাওয়া গেল না। অবশেষে একটা মাউসের প্যাকেট পাওয়া গেল।
আচ্ছা এর ভিতরই দাও, বলে প্যাকেটটা নিয়ে খিলগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পতিমধ্যে নামাজের জন্য সময় হয়ে গেল তাই মসজিদের ঢোকার গেটের কাছে একপাশে প্যাকেটটা রেখে নামাজের উদ্দেশ্যে গেলাম। যথারীতি নামাজ শেষ করে নীচে নেমে আমার চোখ বড় হয়ে গেল। প্যাকেটটি যে হিরোইঞ্চিদের দৃষ্টি কাড়বে তাহা বুঝিতে পারি নাই।
জানি ওরা অমূল্য ধন পেয়েছে তাই খুলতে দেরি করবে না।
ভেবে ভীষন হাসি পাচ্ছে যখন নাক লাগিয়ে শুকে দেখবে শিশির ভিতর কি আছে, তখন ওদের উচিত শাস্তি হবে।
ছেলের মাকে আবার কষ্ট করতে হবে এটাই দুঃখ !
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


