যদি প্রশ্ন করি মানুষের জীবনে সব থেকে বড় নেশা কি? উত্তর একটাই, আর তা হল টাকার নেশা। আর এই নেশার টানে মানুষ শুধু ছুটছে আর ছুটছে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই, এই নেশার টানে অফিসের কাজে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলাম প্রাইমারী শেয়ারের দরখাস্ত জমা দিতে। সকাল দশটায় দৈনিক বাংলা মোড়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে এসেই চক্ষু হয়ে গেল ছানা বড়া ! দুইশ গজের বিরাট লাইন ! তার উপর দুইটি ব্যাংক ও ঢাকা ইনস্যুরেন্স মিলিয়ে মোট তিনটি আইপিওর জমা তারিখ একই। সুতরাং নেশাখোর মানুষগুলো টাকার নেশায় দাড়িয়ে আছে সেই সকাল থেকে।
কি আর করা দাড়িয়ে গেলাম লাইনে। এক ঘন্টা হয়ে গেল এক চুলও সামনে এগোতে পারলাম না। খোঁজ নিয়ে জানলাম ক্যাশে সবাই মহিলা। লাইনে নানান জনের নানান কথা, কেউবা বলছে নিকম্মাগুলোকে এখানে বসিয়েছে কেন? কেউবা বলছে, হ...ওরা থাকবে রান্নাঘরের কাজে। কেউবা বলছে চেহারার জোরে চাকরি পেয়েছে তা না হলে রাস্তা ঘাটে ঠেলা খেতে হতো। এমনই কথার মালা কানে বাড়ি খাচ্ছিল যতক্ষন লাইনে দাড়িয়ে ছিলাম। দেখতে দেখতে একটা বেজে গেল। সামনে এবং পেছনের অপরিচিত ভাইয়ের সাথে এই তিন ঘন্টায় বেশ খাতির জমে উঠল। অতিরিক্ত খাতিরের কারনে সুযোগটা নিয়ে নিলাম। ভাই একটু লক্ষ্য রাখেন আমি এই যাব আর আসব।
ঠিক আছে যান। দুজনের সম্মতি পেয়ে চলে গেলাম নিজের কাজ সারতে।
দুইটার সময় এসে একবার ঘুরে গেলাম লাইনের তেমন একটা অগ্রগতি হয়নি। যুহরের নামাজ পড়ে এসে দেখলাম লাইন কিছুটা এলোমেলো। সেই ফাঁকে কোথা থেকে এক চান্সু প্লেয়ার আমার জায়গা দখল করে দাড়িয়ে আছে। ভাবলাম আমার দু'একজন পিছনে হবে হয়তো। জিজ্ঞেসা করতে উত্তর এলো সে এখানেই ছিল। তর্ক না করে দাড়িয়ে রইলাম কারন তখনও আমার সামনের ও পিছনের ভাইকে দেখছি না। কিছু ক্ষন পর তারা এল এবং দেখা গেল চান্সু ভাইকে কেউই চিনে না। অগত্যা তাকে সবার পিছনে যেতে হল। তিনটা বেজে গেল লাইনের মাথায় যেতে এখনো ১৫জন বাকি।
হঠাৎ চোখ পড়ল একটা মেয়ের দিকে। মাশাআল্লাহ বেশ সুন্দর চেহারা তাতে কোন সন্দেহ নাই। সেও এসেছে আইপিও জমা দিতে, এত বড় লাইন দেখে সে সুযোগ খুঁজছে কেমনে চান্সে কাম করা যায়;
মৃদু হেসে আমার পাঁচজন সামনের এক ভাইকে রিকোয়েষ্ট করছে "ভাই আমার দুইটা একটু জমা দিয়ে দিবেন?"
ভাইজান সামনে পিছনে তাকিয়ে অন্যদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছে,
কিছুটা ইতস্তোতা হয়ে ম্যান ম্যান করে.............আপা...পিছনের ...ও...না.....রা.......আবার কি........বলবে।
একজন বলেই বসল মেয়ে মানুষ এতক্ষন লাইনে দাঁড়াবে? নিয়ে নেন ভাই। বলতে দেরী আছেতো নিতে সে মোটেও দেরী করল না।
ভাবলাম কি ভাগ্যবতী ! সেই সকাল দশটা থেকে ৩টা অব্দি দাড়িয়ে পায়ের গোছা মোটা হয়ে গেছে আর উনি কি সুন্দর ট্যাং ট্যাং করে এসে সবার আগে জমা দিয়ে গেল !
কি আর করা প্রতিবাদ করতে গেলে মেয়েটা আমাকে খল নায়ক ভাববে তাই চুপ করে রইলাম। যে ভাইকে লাইনের পিছনে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম সে একটু কটুক্তি করেই বলল "মেয়েদের দেখলে মাথা ঠিক থাকে না, ওদের সাত খুন মাপ"।
এরই মধ্যে উপকারী ভাইজান বেশ খাতির জমিয়ে ফেলেছে। হেসে হেসে খোঁজ খবর নিতে শুরু করল- কি করেন, কোথায় পড়েন, নাম কি, বাসা কোথায় ইত্যাদি ইত্যাদি। সুন্দরি সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে ঠিক বোঝা গেল না। নায়ক সাহেব হয়তো মনে মনে ভাবছেন আহা যদি লাইনটা আরো একটু পিছনে হত!!!! তাহলে আরো বেশী সময় কথা বলা যেত;
পৌনে চারটায় কাউন্টারে পৌঁছাতে সক্ষম হলাম। সুন্দরীকে দেখলাম জমা হওয়ার সাথে সাথে ছেলেটার দিকে মৃদু হেসে তীর বেগে চলে গেল। ছেলেটা ওর পিছন দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষন। হয়তো মনে মনে ভাবছে আহ্ এই মেয়েকে যদি ফুসলাইয়া ফাসলাইয়া প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ করবার পারতাম !
টাকার নেশায় এ কষ্ট কোন কষ্টই না যদি না একটা লেগে যায়। তবে দোয়া করি ঐ চান্সু মেয়েটার ভাগ্যে যেন একটাও না লাগে। জানি ও নায়কের কথা আড়াই কদম হাটার পরই ভুলে গেছে। আর বলা যায় এটাই মেয়েদের ধর্ম।
(পূনঃ প্রচার)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


