somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাকার নেশায় কষ্ট স্বীকার

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি প্রশ্ন করি মানুষের জীবনে সব থেকে বড় নেশা কি? উত্তর একটাই, আর তা হল টাকার নেশা। আর এই নেশার টানে মানুষ শুধু ছুটছে আর ছুটছে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই, এই নেশার টানে অফিসের কাজে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলাম প্রাইমারী শেয়ারের দরখাস্ত জমা দিতে। সকাল দশটায় দৈনিক বাংলা মোড়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে এসেই চক্ষু হয়ে গেল ছানা বড়া ! দুইশ গজের বিরাট লাইন ! তার উপর দুইটি ব্যাংক ও ঢাকা ইনস্যুরেন্স মিলিয়ে মোট তিনটি আইপিওর জমা তারিখ একই। সুতরাং নেশাখোর মানুষগুলো টাকার নেশায় দাড়িয়ে আছে সেই সকাল থেকে।
কি আর করা দাড়িয়ে গেলাম লাইনে। এক ঘন্টা হয়ে গেল এক চুলও সামনে এগোতে পারলাম না। খোঁজ নিয়ে জানলাম ক্যাশে সবাই মহিলা। লাইনে নানান জনের নানান কথা, কেউবা বলছে নিকম্মাগুলোকে এখানে বসিয়েছে কেন? কেউবা বলছে, হ...ওরা থাকবে রান্নাঘরের কাজে। কেউবা বলছে চেহারার জোরে চাকরি পেয়েছে তা না হলে রাস্তা ঘাটে ঠেলা খেতে হতো। এমনই কথার মালা কানে বাড়ি খাচ্ছিল যতক্ষন লাইনে দাড়িয়ে ছিলাম। দেখতে দেখতে একটা বেজে গেল। সামনে এবং পেছনের অপরিচিত ভাইয়ের সাথে এই তিন ঘন্টায় বেশ খাতির জমে উঠল। অতিরিক্ত খাতিরের কারনে সুযোগটা নিয়ে নিলাম। ভাই একটু লক্ষ্য রাখেন আমি এই যাব আর আসব।
ঠিক আছে যান। দুজনের সম্মতি পেয়ে চলে গেলাম নিজের কাজ সারতে।
দুইটার সময় এসে একবার ঘুরে গেলাম লাইনের তেমন একটা অগ্রগতি হয়নি। যুহরের নামাজ পড়ে এসে দেখলাম লাইন কিছুটা এলোমেলো। সেই ফাঁকে কোথা থেকে এক চান্সু প্লেয়ার আমার জায়গা দখল করে দাড়িয়ে আছে। ভাবলাম আমার দু'একজন পিছনে হবে হয়তো। জিজ্ঞেসা করতে উত্তর এলো সে এখানেই ছিল। তর্ক না করে দাড়িয়ে রইলাম কারন তখনও আমার সামনের ও পিছনের ভাইকে দেখছি না। কিছু ক্ষন পর তারা এল এবং দেখা গেল চান্সু ভাইকে কেউই চিনে না। অগত্যা তাকে সবার পিছনে যেতে হল। তিনটা বেজে গেল লাইনের মাথায় যেতে এখনো ১৫জন বাকি।
হঠাৎ চোখ পড়ল একটা মেয়ের দিকে। মাশাআল্লাহ বেশ সুন্দর চেহারা তাতে কোন সন্দেহ নাই। সেও এসেছে আইপিও জমা দিতে, এত বড় লাইন দেখে সে সুযোগ খুঁজছে কেমনে চান্সে কাম করা যায়;
মৃদু হেসে আমার পাঁচজন সামনের এক ভাইকে রিকোয়েষ্ট করছে "ভাই আমার দুইটা একটু জমা দিয়ে দিবেন?"
ভাইজান সামনে পিছনে তাকিয়ে অন্যদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছে,
কিছুটা ইতস্তোতা হয়ে ম্যান ম্যান করে.............আপা...পিছনের ...ও...না.....রা.......আবার কি........বলবে।
একজন বলেই বসল মেয়ে মানুষ এতক্ষন লাইনে দাঁড়াবে? নিয়ে নেন ভাই। বলতে দেরী আছেতো নিতে সে মোটেও দেরী করল না।
ভাবলাম কি ভাগ্যবতী ! সেই সকাল দশটা থেকে ৩টা অব্দি দাড়িয়ে পায়ের গোছা মোটা হয়ে গেছে আর উনি কি সুন্দর ট্যাং ট্যাং করে এসে সবার আগে জমা দিয়ে গেল !
কি আর করা প্রতিবাদ করতে গেলে মেয়েটা আমাকে খল নায়ক ভাববে তাই চুপ করে রইলাম। যে ভাইকে লাইনের পিছনে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম সে একটু কটুক্তি করেই বলল "মেয়েদের দেখলে মাথা ঠিক থাকে না, ওদের সাত খুন মাপ"।

এরই মধ্যে উপকারী ভাইজান বেশ খাতির জমিয়ে ফেলেছে। হেসে হেসে খোঁজ খবর নিতে শুরু করল- কি করেন, কোথায় পড়েন, নাম কি, বাসা কোথায় ইত্যাদি ইত্যাদি। সুন্দরি সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে ঠিক বোঝা গেল না। নায়ক সাহেব হয়তো মনে মনে ভাবছেন আহা যদি লাইনটা আরো একটু পিছনে হত!!!! তাহলে আরো বেশী সময় কথা বলা যেত;

পৌনে চারটায় কাউন্টারে পৌঁছাতে সক্ষম হলাম। সুন্দরীকে দেখলাম জমা হওয়ার সাথে সাথে ছেলেটার দিকে মৃদু হেসে তীর বেগে চলে গেল। ছেলেটা ওর পিছন দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষন। হয়তো মনে মনে ভাবছে আহ্ এই মেয়েকে যদি ফুসলাইয়া ফাসলাইয়া প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ করবার পারতাম !

টাকার নেশায় এ কষ্ট কোন কষ্টই না যদি না একটা লেগে যায়। তবে দোয়া করি ঐ চান্সু মেয়েটার ভাগ্যে যেন একটাও না লাগে। জানি ও নায়কের কথা আড়াই কদম হাটার পরই ভুলে গেছে। আর বলা যায় এটাই মেয়েদের ধর্ম।

(পূনঃ প্রচার)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:২০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×