[[ ক্ষুদ্র বিষয়ের সমালোচনা করাটা ঠিক কিনা সেই সন্দেহেও ছিলাম। কিন্তু আজ এ বিষয়ে এক প্রিয় বন্ধুর সাথে কথা বলতে গিয়ে আমার মত পাল্টেছি। (বলব যখন সব মন খুলে বলব।)]]
১.
"তারে জমীন পার" নামে এক দারুন হিন্দী ছবি দেখেছিলাম। কিছুদিন আগে। ছবির মূল চরিত্র এক শিশু, যার জন্মগত এক প্রতিবন্ধিতা আছে।তার সুপ্ত প্রতিভা ওই অক্ষমতার নিগড়ে বন্দী হয়ে পাখা মেলার সুযোগ পায়নি। কিন্তু সমাজ পরিবার তার কাছে চায় রেজাল্ট, মার্কস, ভাল ভাল পুরস্কার। এ কারণে সবকিছুতেই সে হয়ে পড়ে পিছিয়ে থাকাদের একজন। এখানকার অবস্থা ঠিক তেমনি।
(রিলেটেড:
ডিসলেক্সিয়া, Taare Zameen Par ও বিজ্ঞান মানসিকতা
সুপ্ত অক্ষমতা: শিশু ও আমরা - ২ )
২.
যেকোন প্রস্তাবনায় এমন কিছু কথা থাকে, যা ওই পুরো বিষয়ের দর্শন, সার সংক্ষেপ ও মোটিভকে লালন করে। কবির চৌধুরী শিক্ষানীতি ২০০৯ (আমি মজা করে জাফর ইকবাল শিক্ষানীতি বলি ) প্রস্তাবনায়, আরও সঠিক ভাবে বললে, উদ্দেশ্য বর্ণণায় বলা হয়েছে,
পৃথিবীতে ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ কথাটা বিজ্ঞানীর কল্পনা নয়, অতি নির্মম, কঠিন, বাস্তব সত্য বটে। আর এই পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেবল টিকে থাকা বা কোনোমতে আত্মরক্ষাই নয়; বরং দৃঢ় পদক্ষেপে উন্নত শিরে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষা ও দক্ষতায় বলীয়ান, শক্ত মেরুদণ্ডের অধিকারী হতে হবে
এই সহজসরল বহুল ব্যবহৃত কথাখানি যদি আমাদের ক্রীড়া বা প্রশাসনিক লেভেলের কোন বিষয়ে বলা হতো তবে আমি সহ সব্বাই মাথা নেড়ে সায় জানাতাম।
প্রথমবার পড়ে এক্ষেত্রে আমিও কিন্তু মাথা নাড়া শুরু করেছিলাম।
৩.
শিক্ষার মূল দর্শন কি হওয়া উচিত?
ইসলামের শিক্ষা দর্শন- আত্মিক ও জৈবিক চাহিদার সর্বোত্তম পরিচর্যার মাধ্যমে মানবতার সর্বোচ্চ উন্নয়ন সাধন। (মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে এ উদ্দেশ্যটা বিবেচনায় আনা হোক।) তাছাড়া, এটাই হ’ল বিশ্ব মানবতার শিক্ষা দর্শন।
এখানে কোন প্রতিযোগিতার মনোভাব নেই। শিক্ষা হলো জ্ঞানার্জন ও এর প্রয়োগের জন্য। "কে বেশী পারে না পারে" এ প্রশ্ন কর্মজীবনের জন্য জমা রাখাই শ্রেয়। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবনায়, কোমলমতি শিশু দেরকে এই 'ওপেন সোর্স' দর্শন থেকে, ঠিক উল্টা নয় বরং সমকোণে চালিয়ে দেবার পরিকল্পনা আছে।
ছাত্রছাত্রীরা যে যার মত শিখবে। স্কুল কেবল পারে তাকে প্রভাবিত করতে। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো যে হারে প্রতিযোগিতা মূলক হয়ে পড়ছে, তাতে বাংলাদেশ থেকে কিছু 'ডিজিটাল রোবট' ছাড়া আইন্সটাইন, সত্যেন বের হবার দ্বার ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে। শিক্ষানীতির এখনকারটা, এই কুটা মাছের কড়াইয়ে তেল ঢেলে দেবার মত কাজ করবে।
৪.
আবার 'তারে জমীন পার'-এ আসি। ঈশান এর অবস্থা হল দুই করাতের মাঝখানে। সে না পারে পড়তে। না পারে তার বাপকে বোঝাতে।
তার পিতা চায় ছেলে প্রথম হবে, নাম করবে। কিন্তু তিনি বুঝতে চাননা, প্রতিযোগিতাই সব নয়। পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু আছে যা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়না।
প্রতিযোগিতা করে কভু ভিঞ্জি হউয়া যায়না, হউয়া যায়না রবি নজরুল।অমর হওয়া যায়না।
"আর যদি এতই প্রতিযোগীতায় জিততে হয়, তো ঘোড়া পয়দা করলেই পারতেন, মানুষ কেন জন্মালেন?"
ঈশানের পিতার প্রতি তার টিচারের এই উক্তি আজ এই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও খাটে।
৫.
বিভিন্ন ভাবে এখানে বিভিন্ন নামে দেশের শিশুদের মাঝে প্রতিযোগীতা করানোই যেন উদ্দেশ্য।
-শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে ব্যহত করতে(জোর করে) ললিত শিক্ষা কে বাধ্যতামূলক করা হবে।
-অন্যদিকে, তত্ত্বীয় শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করে কর্মমুখী শিক্ষা এনে রহিত করা হবে ক্রিয়েটিভিটি।
- ধর্মশিক্ষায় সকল ধর্ম শিখানোর নামে, ঐশী বাণীকে গল্প কবিতার স্তরে নামিয়ে আনা হবে।
- প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তনের যথেষ্টা রসদ না থাকায়, শিশুদের ও তাদের গার্ডিয়ানদের ইংলিশ মিডিয়াম মুখী করা হবে।
- ব্যক্তিগত দানের সিস্টেম এনে রাজনীতির ক্ষেত্র করা হবে একে
- আর সর্ব্বোপরি, "সেক্যুলার, গণমুখী, সুলভ, সুষম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে" একটি স্বাপ্নিক অবাস্তব কল্পনা দেশের মানুষকে বিভোর করবে।
৬.
এতকিছু চিন্তা করা আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের হয়তো অনুচিত। হয়তো ভুল । তবুও স্বাভাবিক চোখের রূপকল্পে আমার মনে এই চিত্রই ফুটে উঠে।
ইস্কুলগুলা তাহলে গোয়ালঘর হয়ে যাক। গ্যরেজ করলেও ক্ষতি নাই।
( ডঃ জাফর এর নাম দিয়েছিলাম, কিন্তু লেখাটা আসলেই ওদিক যায়নি। নামটা তাই চ্যণ্জ করে দিলুম।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



