আমার ঘোরার অভ্যাস তেমন নেই। ঘরকুনো বলাই ভাল। কিন্তু পড়ার অভ্যাসের কারণে সেই ঘর থেকেই দেখি দুনিয়ার হালচাল।
অনেক বই পড়েছি। কিছু বই উত্তরাধিকার সূত্র, নিজে কিনে অল্প কিছু, বেশির ভাগই ধার করে।
পড়ার মাঝে মজা খুঁজেছি। রবীন্দ্র পড়ে রোমাঞ্চিত হয়েছি। নজরুল পড়ে উদ্দেলিত হয়েছি বহুবার। শরত পড়ে কেঁদেছি। মধু, জীবনানন্দ পড়ে কাব্য রসে বুঁদ হয়েছি।
শুধু এই একজন লেখককে কেন জানি আলাদা করে ভাল লেগে গেছে। খুব বেশী লেখেননি তিনি। কিন্তু যা লিখেছেন তাতেই সারা পৃথাবী জানা হয়ে যায়।
লেখার ঠাট ঠমক রিতীমত মুগ্ধকর। সাবলীল কিন্তু গভীর। আর রস বোধের জন্য তাকে বিশ্বরসিক বলাও কম হয়ে যায়। চাচা কাহিনী কি পঞ্চতন্ত্র, আহা কি লেখা।
দেশে বিদেশে বইটা একটানে দুবার পড়েছি। কি এক অজানা মোহে। লেখক যেখানেই গেছেন সেখানেই ঘাঁটি গেঁড়েছি। তার হাসির সাথে গড়া ছেড়ে হেসেছি। গাণের সাথে গলা মিলিয়েছি।
আব্দুর রহমানকে ছাড়ার মুহুর্তে আমিও চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি।
কি এমন লেখক! হাসাতে হাসাতে একদম পেট ফাটিয়ে দিচ্ছেন, আবার জায়গামত চোখের পানিতে নাইয়ে দিচ্ছেন।
পৃথিবীর তেমন কোন খানে নাঘুরেও গাদা গাদা জ্ঞান মাথার ভেতর ঢোকানো আসলেই অসম্ভব হতো, যদি তিনি মুজতবা না হতেন।
আমার প্রিয় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী।আমি লেখালেখিতে তোমার মত হতে চাই। আল্লাহ তোমায় জান্নাত নসীব করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


