somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ বিবাহ বার্ষিকী

১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্পঃ বিবাহ বার্ষিকী


ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তৈরী হচ্ছিল স্বাতী। মুখে মৃদু স্বরে গুন গুন করে গান গাইছিল। আজ কলেজে ভাইবা বোর্ডে থাকতে হবে তাকে। ন’টা থেকে ভাইবা শুরু হবে। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম থাকে তাই হাতে সময় নিয়ে বের হতে হবে। ঘড়িতে তখন প্রায় সোয়া সাতটা। পরণে পেটিকোট আর ব্লাউজ। শাড়ীটা তখনো পরা হয়নি। একবার ঘাড় ফিরিয়ে দেখে নিল বিছানার দিকে। রজত তখনো ঘুমাচ্ছে। ওর গাড়ী আসতে দেরী আছে। দিব্বি আটটা সোয়া আটটা পর্যন্ত ঘুমাতে পারে। রজতের রাত জাগার অভ্যাস। কখনোই একটা/দুইটার আগে ঘুমায়না। তবুও ঠিক সময়মতো উঠে পড়ে। শাড়ীর কুচিটা ঠিক করার জন্য একটু ঝুঁকতেই পেছন থেকে রজত জড়িয়ে ধরলো স্বাতীকে।

: ওমা! তুমি কখন উঠলে! আমিতো দেখলাম দিব্বি ঘুমোচ্ছো।
: উঠেছি অনেক আগেই। দেখছিলাম তুমি রেডী হচ্ছো। বাই দ্যা ওয়ে- হ্যাপি এ্যানিভার্সারি।

: বাব্বাহ্! মনে আছে দেখছি। হ্যপি এ্যানিভার্সারি টু।
: আমার মন কি অতো ভুলো নাকি? সবকিছুই মনে থাকে। হয়তো প্রকাশটা তেমন জোড়ালো নয়। মেনি মেনি থ্যাঙ্কস্।
: সেম টু য়্যু।

: এতো সকাল সকাল কলেজ যাচ্ছো যে! ক্লাশ আছে নাকি?
: নাহ্। ক্লাশ নেই। তবে ছেলেদের ভাইবা আছে। হেড হয়ে এই এক জ্বালা! সবকিছুতে সবার আগে আমাকেই থাকতে হয়। ছুটির দিনগুলোতেও রক্ষা নেই। কোন না কোন ডিউটি দিয়ে রাখবে। আর টীচারগুলোও হয়েছে তেমন। সব পয়সার ধান্দা। জানে ডিউটি থাকলেই টাকা পাবে।

; তুমি না গেলেই পারো।
: এখানেইতো যত জ্বালা! হেড হয়েছি বলেই কিছু হলেই প্রিন্সিপাল হেডদের খুঁজবে। যেন মাথা কিনে নিয়েছে। সরাসরি কিছু বলবেনা, তবে ভাবসাবে বুঝিয়ে দেবে যা বুঝানোর।

: যাই হোক তুমি রেডি হও, আমিও হচ্ছি।
: এই শোন, নীচে গার্ডদের কাউকে বলে একটা সিএনজি ডেকে আনতে। আমি এখুনি নামবো।

রজত ইন্টারকমে গার্ডদের একজনকে সি্এনজি ডাকতে বলে বাথরুমে ঢুকে গেলো। কিছুক্ষণ পর ইন্টারকম বেজে উঠলো। গার্ড জানালো সিএনজি পাওয়া গেছে। স্বাতী হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেল।

একটু পর আবারো ইন্টারকম বেজে উঠলো। কাজের ছেলেটা রজতকে খবর দিল নীচে অফিসের গাড়ী অপেক্ষা করছে। ততক্ষণে রজতের নাস্তা খাওয়া শেষ। চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে দরজার দিকে হাঁটা দিল। যাবার সময় দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো আটটা চল্লিশ। ন’টায় অফিস। রাস্তায় অস্বস্তিকর ট্যাফিক জ্যাম। যেতে প্রায় এক ঘন্টা লেগে যাবে। প্রতিদিনের মতো আজকেও লেট হবে। কিছু করার নেই। ঢাকার যা ট্রাফিক অবস্থা তাতে কোনকিছু ঘড়ির কাঁটা ধরে হবার নয়। রজত সরকারি অফিসের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা। অফিসের কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয়না বলেই ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও দেরী করে অফিস পৌঁছানো গা সওয়া হয়ে গেছে।


আজ রজত আর স্বাতীর জীবনের একটা বিশেষ দিন। ২৫তম বিবাহ বার্ষিকী। বিয়ের প্রথম কয়েক বছর ওরা বেশ ঘটা করে বিবাহ বার্ষিকী পালন করলেও বিগত অনেকগুলো বছর তেমন করে এই দিনটি উদযাপন করা হয়নি। তাদের দুই ছেলে এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। অনেকবার তারা নিজেরাই কেক কেটে বাবা-মায়ের সাথে এই দিনটা উদযাপন করতো। আজকের এই দিনটির কথা ছেলেদের মনে আছে কিনা রজত জানেনা। হয়তো বিয়ের পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষেই রজত আজ একটু বেশী নস্টালজিক। অফিস ছুটির শেষে গাড়ীতে বসে রজত তার অতীত দিনগুলোর কথা ভাবছিল। আজ চার বছরের বেশী সময় ধরে স্বাতীকে রজত তেমন করে কাছে পায়না। স্বাতীর মায়ের যথেষ্ট বয়স হয়েছে। প্রায় নব্বইয়ের কাছাকাছি। শারীরিক ও মানসিকভাবে এখন তিনি অসুস্থ। ছেলে ও ছেলের বউয়ের উপর রাগ করে ঢাকায় মেয়েদের কাছে আছেন। আজ প্রায় দশ বছর হলো তিনি ঢাকাতে। ওনার ছয় মেয়ে ঢাকাতেই থাকেন। স্বাতী ছাড়া সবার নিজেদের বাড়ী। বড় দুই মেয়ের বাসায় কখনো তিনি থাকেন না। মন চাইলে বেড়াতে যেতেন। স্বাতী বোনদের মধ্যে চার নম্বর। বিগত ছয় বছর পালা করে চার মেয়ের বাসায় দুই/তিন মাস করে তিনি থাকতেন।

এরপর উনি যখন একটু বেশী অসুস্থ হলেন তখন স্বাতীর পরের বোন ও বোনের স্বামী ডাক্তার হবার সুবাদে সেখানেই থাকা শুরু করেন। তিনি সেখানে অনেকটা নিরাপদ ভাবতেন। একসময় সেই ডাক্তার বোন নিজেই অসুস্থ হলো। সময়মতো ক্যান্সার ধরা পরায় চিকিৎসা করে এখন অনেকটাই সুস্থ। সেই বোনের দুই ছেলে কানাডায় পড়ছে আর ছোট মেয়েটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে। স্বাতীর একমাত্র ভাই রাজশাহী থেকে এসে মাঝে মাঝে মাকে দেখে যায়। কখনো নিয়ে যাবার কথা বলেনা।

স্বাতীর মা যথেষ্ট বিত্তশালী মহিলা। অগাধ সম্পত্তির মালিক। স্বামী মারা যাবার পর সেই সম্পত্তি ছেলে একাই ভোগ করছে। স্বাতীর বাবা মারা যাবার দীর্ঘকাল পরেও বাবার সম্পত্তি থেকে বোনদের অংশ সবটকু ভাগ করে দেয়নি সেই ভাই। মায়ের নামে নিজস্ব যে সম্পতি তা বিক্রির টাকা ও ব্যাংকে জমানো টাকায় তাঁর ভালই চলে যাচ্ছে। বাকী জীবন শুয়ে বসে খেলেও তা শেষ হবেনা। তাই তাঁর থাকা খাওয়ার কোন অভাব নেই। গত দুই বছর যাবৎ ডাক্তার মেয়ের বাসায় স্বাতীর মায়ের কোন অসুবিধা হচ্ছিল না। হবার কথাও নয়। কারণ তাঁর চিকিৎসা ও আনুসঙ্গিক যাবতীয় খরচ সবই তিনি নিজে বহন করেন। কিন্তু আসল অসুবিধাটা হচ্ছিল স্বাতীর। সপ্তাহের চার/পাঁচ রাত তাকে মায়ের কাছে যেয়ে থাকতে হতো। তেমন কোন ট্রেইনড্ আয়াও পাওয়া যাচ্ছিল না। দু’একজন যা’ও পাওয়া যাচ্ছিল মা তাদের উপর রীতিমতো বিরক্ত। তাই স্বাতীকেই রাতে বনানী থেকে গুলশান আবার সকাল হলেই তাড়াহুড়ো করে কলেজে দৌঁড়াতে হতো। দিনে কলেজ রাতে মায়ের সেবা, কষ্ট হলেও স্বাতী মুখ বুঁজে করে হচ্ছিল। সপ্তাহের কোন কোন রাতে ছোট বোনটা এসে থাকতো। সে নিজেও ব্যাংকে চাকরি করে আর বাড়ী দূরে হবার কারণে ইচ্ছে থাকলেও বেশী আসতে পারতোনা।

দুই বছর এভাবেই কাটলো। স্বাতীর জন্য ব্যাপারটা যেমন কষ্টের ছিল রজতের জন্যেও তেমনই কষ্টকর। সংসারের অনেককিছুই উপেক্ষিত থেকে যেত। ছেলেরাও মায়ের কষ্ট দেখে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতো। কিন্তু কিছুতেই সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না। মানবিক কারণে এই কষ্টটুকু স্বতীকে মেনে নিতে হচ্ছিল। একসময় স্বাতী নিজেই হাঁপিয়ে উঠলো। সে তার বোনদের কাছে প্রস্তাব রাখলো মা তার বাসাতেই থাকুক। প্রায় রাতেই বনানী-গুলশান যাতায়াত তার জন্য বেশ কষ্টকর। স্বাতীর বড় দু’বোন হাউস-ওয়াইফ হওয়া সত্ত্বেও মায়ের এতোটুকু দায়িত্ব নিতে অপারগ। বরং মায়ের সম্পত্তি কবে সম্পূর্ণ ভাগাভাগি হবে সেই খোঁজটা ঠিকই নিত। এছাড়া মায়ের এতো খরচ কোথা থেকে আসছে মায়ের আর কত টাকা আছে সেটাও জিজ্ঞেস করতো। ছোট চার বোন তাদের এই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যেত। একদিন স্বাতী ও রজত মাকে ডাক্তার বোনের বাসা থেকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসে। মা স্বাতীর বাসায় চলে আসার পর স্বাতীর ছোট বোন সপ্তাহে দুই রাত এসে মায়ের কাছে থাকে। বাকি সব রাতে স্বাতীকেই মায়ের কাছে থাকতে হয়।


এসব কথা ভাবতে ভাবতেই বাড়ি ফিরছিল রজত। হঠাৎ ড্রাইভারকে বললো শাহবাগ হয়ে যেতে। রজত শাহবাগ থেকে পছন্দের বেশ কিছু ফুল কিনে বাসায় ফিরলো। বাসাটা সরকারি। বিশাল বড়। চাকরি জীবনের সুবিধা বলতে এই বাসাটাই। চাকরি শেষ হলে ছেড়ে যেতে হবে। একথা ভাবতেই রজতের মনটা আনমনা হয়ে ওঠে। ঢাকা শহরে এখনো নিজের থাকার মতো একটুকরো জায়গা নেই। কবে সেই জায়গা হবে তা’ও জানেনা। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই লিফটে উঠতে পাশের ফ্লাটের ভাবীর সাথে দেখা। কুশল বিনিময় হতেই ভাবী রজতকে জিজ্ঞেস করলেন- ভাই, আজ কি কোন স্পেশাল ডে? রজত হেসে জবাব দিলো, জ্বী। ইতিমধ্যে লিফট নির্দ্দিষ্ট ফ্লোরে এসে থামলো। ভাবী নেমে গেলেন। রজত লিফট থেকে বের হয়ে ফুলের তোড়াটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো তারপর কলিং বেল টিপলো। বাসার কাজের ছেলেটা এসে দরজা খুলে দিল। রজত ফুলের তোড়াটা নিয়ে সোজা বেডরুমে ঢুকে গেল। স্বাতী তখন বেডরুমে ছিলনা। রজত কাজের ছেলেটাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো, খালাম্মা কোথায়? ছেলেটি জবাব দিল নানু’র ঘরে। রজত স্বাতীকে ডেকে দিতে বললো। একটু পরেই স্বাতী এসে বেডরুমে ঢুকলো। রজতকে দেখেই স্বাতী জিজ্ঞেস করলো-

: তুমি কখন এলে?
: এইতো একটু আগেই। হ্যাপি এ্যানিভার্সারি এগেইন।
এই বলে রজত ফুলের তোড়াটা স্বাতীর দিকে এগিয়ে দিল। মুচকি হেসে বললো-
: এই নিন ম্যাডাম, এগুলো আপনার জন্য।
: ওয়াও! সো নাইস অফ য্যু। থ্যঙ্কস্ এ লট।
: য়্যু আর ওয়েলকাম। অফিসের শাড়ীটা বদলাওনি দেখছি। ভালই লাগছে। সকালে ভাল করে খেয়াল করিনি। আচ্ছা, আবির অঞ্জন কি বাসায়? ওদেরকে তো দেখলামনা।
: ওরা একটু বাইরে গেছে। এক্ষুণি এসে পরবে। আমি একটু মা’র ঘরে যাচ্ছি। মা, নাস্তা খেতে চাচ্ছেনা।
: একটু থাকো। সারাদিনতো বাইরেই ছিলে।
: এখন একটু মা’র কাছে যাই। রাতে ঊর্মি এসে থাকবে। তখন যা বলার বলো।


ডিনারের ঠিক আগে আগে দুই ছেলে বাসায় ফিরলো। হাতে একটা সাদা বাক্স। রজত স্বাতী দুজনেই বুঝে নিল ওটা একটা কেকের বাক্স। রজতের শ্যালিকা ঊর্মি আজ রাতে আসতে পারবেনা তাই দুজনকে উইশ করে ড্রাইভারকে দিয়ে একটা স্পেশাল ডিশ করে পাঠিয়েছে। দুই ছেলে ইতিমধ্যে চাইনীজ রেস্টুরেন্ট থেকে থাই স্যুপ, ফ্রাইড রাইস, সিজলিং প্রণ, চিকেন গ্রেভী ও চিকেন চৌমেন আনিয়েছে। রজত বুঝে নিল স্বাতী নিজেই ছেলেদের হাতে টাকা দিয়েছে এসব আনার জন্য। স্বাতী নিজে বাসায় কিছু করতে পারবেনা জেনেই হয়তো এই ব্যবস্থা। রজত আর স্বাতী দুজনেকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে ছোট ছেলে কেকের বাক্স খুললো। বড় ছেলে একটা ছুরি রজতের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, দুজনে মিলে কেকটা কাটো। কেকের উপরে পিংক কালারে লেখা “হ্যাপি টোয়েন্টি ফিফথ্ এ্যানাভার্সারি টু আব্বু-আম্মু”। স্বাতীর চোখে মুখে লজ্জা ভাব। এতো বড় বড় দুটো ছেলের সামনে বিবাহ বার্ষিকী পালন করতে লজ্জা হচ্ছিল। বড় ছেলে তখন ছবি তোলায় ব্যস্ত। দুই ছেলে এসে একে একে স্বাতী ও রজতের মুখে কেকের টুকরো তুলে দিল। পাল্টাপাল্টি রজত ও স্বাতী মিলে দুই ছেলের মুখে দুই টুকরো কেক তুলে দিল। এক ফাঁকে স্বাতী এক টুকরো কেক হাতে নিয়ে মায়ের ঘরে চলে গেল। রজতও সাথে গেল। মায়ের কাছে দুজনেই দোয়া চাইলো। স্বাতী রজতকে বললো, আজ আমাদের ম্যারিজ ডে’র যাবতীয় খরচ মা দিয়েছেন। আমি কত বারণ করলাম কিছুতেই শুনলেন না। মা কি বললেন জানো? বললেন, রজত’ইতো আমার ছেলে। আমার ছেলের জন্য আমি একটু কিছু করতে পারবোনা? স্বাতী ও রজত মায়ের ঘর থেকে বের হয়ে এলো। এই খুশীর দিনেও দু’জনের চোখ ছলছল করে উঠলো। ছেলেরা ডাইনিং টেবিলে ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সবাই মিলে একসাথে ডিনারে বসলো।


ডিনার শেষ হতে হতে রাত দশটা বেজে গেল। ডিনারে বসার আগেই এক ফাঁকে মাকে খাইয়ে দিয়েছে স্বাতী। মা একা একা বিছানা থেকে উঠতে পারেনা বলে সার্বক্ষণিক একজন বুয়া আছে। বুয়ার কাজ হলো মায়ের কাছে থাকে আর মাঝে মধ্যে ডায়াপার বদল দেয়া। মায়ের বিছানা-চাদর পরিস্কার করা। দিনের বেলা স্বাতীর অবর্তমানে ডাক্তার বোন এসে মা’র কাছে থাকে। রাতে কোনরকম অঘটন যাতে না ঘটে সেজন্যে স্বাতীকে মায়ের কাছে থাকতে হয়। সপ্তাহের দু’রাত সব ছোট বোন এসে মায়ের কাছে থাকে। স্বাতীর জন্য এই দুটো রাত একান্তই বিশ্রামের। আজ স্বাতীর ছোটবোন ঊর্মির মায়ের কাছে থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাসায় ওর মেয়ের জ্বর তাই আজ রাতে আসতে পারছেনা। স্বাতীকেই আজ রাতে মায়ের কাছে থাকতে হচ্ছে।

রাত বারোটা বেজে দশ। স্বাতী এখন মায়ের ঘরে। সারাদিন কলেজের ধকল তার উপর মায়ের সেবা। হয়তো খুব ক্লান্ত। রজত বসে আছে কম্পিউটারের সামনে। ফেসবুকের স্ট্যাটাসে আজ রজতের বিবাহ বার্ষিকীর কথা উল্লেখ আছে। পরিচিত বন্ধুবান্ধব সবাই যার যার মতো উইশ করছে। কি কি খাওয়া হলো, কেক কেমন ছিল, কে কাকে কি গিফট দিল, কে কাকে কিভাবে উইশ করলো। নুতন করে বাসররাত সাজানো হলো কিনা এমনটাও বলেছে অনেকে। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন আর মন্তব্য। রজতের ভালই লাগছিল সেগুলো পড়তে আর জবাব দিতে। রজত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো, রাত প্রায় এক’টা বাজে। আজ নিয়ে পর পর চার রাত স্বাতী মায়ের কাছে। অনেক সময় মায়ের ঘুম আসেনা। অনর্গল কথা বলতে থাকে। রাতের বেশীর ভাগ সময় স্বাতীকে জেগে থাকতে হয়। কোন রাতেই ভালভাবে ঘুম হয়না। আবার মা’কে একা রেখে আসতেও পারেনা। কাউকে পাশে না দেখলেই ভয়ে চীৎকার শুরু করে দেন। এভাবেই কেটে যাচ্ছে রাতের পর রাত। সকালে স্বাতীর চোখের দিকে তাকালেই রজত বুঝতে পারে কতটা ধকল গেছে। রজতের মায়া হয়। স্বাতীর জন্য কষ্ট হয়। নিজেও কষ্ট পায়। কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। রজত পিসি অফ করবে কিনা ভাবে। নাকি আর কিছুক্ষণ কি অপেক্ষা করবে স্বাতীর জন্য! স্বাতী হয়তো ভীষণ ক্লান্ত। হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। ফেসবুকের লেখাগুলো ওকে পড়াতে পারলে মন্দ হতোনা। এক সময় রজতের চোখেও ঘুম নেমে আসে। বেডরুমে ঢুকে দেখে বিছানায় মশারি টাঙ্গানো। স্বাতী কোন ফাঁকে এসে মশারিটা টানিয়ে দিয়ে গেছে রজত একটুও টের পায়নি। রজত ভাবে- ভালবাসা প্রকাশের কিছু নয়, সবই অনুভবের।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৩৪
৩০টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×