somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানা যায় যৌনপল্লীতে বেশীর ভাগ মেয়ে আসে প্রতারিত এবং বিক্রি হয়ে।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৫:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লী এবং দৌলতদিয়া ঘাটের যৌনপল্লীর নানা বয়সের পঞ্চাশজন মায়ের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে মেয়ে বা ছেলে যাই হোক এখানে সন্তান ধারন-ই বলা যায় অনাকাঙ্খিত। মেয়ে সন্তান তবু মেনে নেয়া হলে ছেলে সন্তান চায় না কেউই। যৌনপল্লীতে ছেলে সন্তানকে একধরনের ঝামেলা মনে করে যৌনকর্মীরা। দেখা গেছে এটাই বেশীর ভাগের মনোভাব ব্যাতিক্রম ও আছে। কেউ কেউ আবার মনে করে তাদের শেষ জীবনের ভরসা হিসেবে একটি ছেলের দরকার।
জানা যায় যৌনপল্লীতে বেশীর ভাগ মেয়ে আসে প্রতারিত এবং বিক্রি হয়ে। বাড়িয়ালা বা সর্দারনী নামে পরিচিত বয়স্ক যৌনকমীরা প্রতারিত হয়ে আসা মেয়েদেরকে চড়াদামে কিনে নেয় তাদের দিয়ে ব্যাবসা করানোর জন্য। তাদের দেহ ব্যাবসার টাকা নেয় সর্দারনী ।বিনিময়ে তারা পায় খাবার পেষাক এবং প্রসাধনী। প্রতিটি সর্দারনীর অধীনে থাকে বেশ কিছু যৌনকর্মী। তাদের নিয়ন্ত্রন থাকা যৌনকর্মীরা গর্ভবর্তী হলে গড়ে প্রায় দেড় বছর তাদের আয় থেকে বঞ্চিত হয় সর্দারনীরা। কোন যৌনকর্মী গর্ভবতী হলে তাকে জোর করে এ্যাবোরশন করানো হয়। আলাপকালে জানা যায় পল্লীর কোন কোন যৌনকর্মীকে তিন চার বার ও এ্যাবোরশন করানো হয়েছে। বিশিষ্ট গাইনী চিকিৎসক ডা. দিলরুবা জেবা বলেছেন কোন মেয়ের ফাষ্ট ইস্যু এ্যাবোরশন করানো হলে তার সন্তান ধারনের ক্ষমতা ঝুকির মধ্যে চলে আসে। এর চেয়ে বেশী এ্যাবোরশন হলে সাধারনত সন্তান ধারনা ক্ষমতা আর থাকে না। সে কারনে দেখা যায় বেশীর ভাগ যৌনকর্মীই নিঃসন্তান। তারপরও দেখা গেছে যৌনপল্লী গুলোতে জন্ম নেয়া ছেলে এবং মেয়ে উভয় আছে।
এক যৌনকর্মী নেত্রী প্রতিবেদককে বলেছেন, সচেতন ভাবে এখানে কেউ সন্তান নেয় না। অনেক সময় দেখা যায় কোন মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে তাকে এ্যাবোরশন করাতে গেলে জীবনের ঝুকি আছে সে ক্ষেত্র গুলোতে আনিচ্ছায় অনেকটা বাধ্য হয়ে সন্তান ধারন করতে হয়। আবার দুইএকজন ইচ্ছে করেও সন্তান নেয়। তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। তবে বেশীর ভাগের ক্ষেত্রে সন্তান ধারন ক্ষমতা আর থাকে না,তারা ইচ্ছে করলেও সন্তান নিতে পারে না।
অল্প বয়েসী মায়েদের সন্তানের বেলায় দেখা যায় তার সর্দারনী বা বিত্তশালী কোন যৌনকর্মী তার সন্তানকে কিনে নিয়ে লালন পালন করে তাদের নিজেদের সন্তান হিসেবে।
জানা যায় কোন যৌনকর্মী পল্লীতে বেশী দিন থাকলে তাদের অনেকেরই বাবু থাকে। বাবু মানে অলিখিত এক ধরনের স্বামী। আবার অনেকে লিখিত ভাবে বিয়েও করে। কোন কোন সময় জন্ম নেয়া সন্তানটি বাবুদের ঔরসজাত। আবার অনেক সময় নয় ।কিন্ত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের ক্ষেত্রে বাবুদের নাম ব্যাবহার করা হয়।
সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এক বছর বয়েস থেকেই যৌনকর্মীদের সন্তানেরা পল্লীর বাইরে লালনপালন হয়ে থাকে। যৌনপল্লীর আশপাশের এলাকা গুলোতে বেশ কিছু দরিদ্র পরিবার আছে অর্থের বিনিময়ে এরা যৌনকমীদের সন্তানদেরকে লালর পালন করে। যে সকল যৌনকমীদের বিত্তের জোর বেশী তারা তাদের সন্তানদেরকে ওই সকল পরিবারে রেখে পড়াশোনা করায় যাদের সে সামর্থ নেই তারা শিশু একটু বড় হলে পল্লীর ভেতরে তাদের কাছে নিয়ে আসে। এখানে ছেলেরাও মায়ের কাছে থাকে। মায়ের কাছে খদ্দের আসলে ছেলেকে হয়তো পাশের কোন ঘরে রেখে মা খদ্দের সামাল দেন। ছেলে সন্তানরা সাধারনত লজ্জাবোধ জন্ম নেবার পর মায়ের কাছে আর বেশী থাকে না দিন রাতের অধিকাংশ সময় পল্লীর আশপাশের এলাকায় চায়ের দোকান,খাবার হোটেল বা এমন ধরনের জায়গা গুলোতে আড্ডা দিয়ে সময় কাটায়, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়, গভীর রাতে গিয়ে মায়ের ঘরে ঘুমায়। দেখা যায় যৌনপল্লী এলাকা গুলো ঘিরে গড়ে উঠে এক অপরাধ জগৎ। দেহ ব্যাবসার কাচাঁ টাকার দিকে নজর থাকে এলাকার সন্ত্রাসী মাস্তানদের ।সে কারনে সন্ত্রাসীদের নিয়মিত আনাগোনা দেখা যায় যৌনপল্লী এলকায়। আপরাধ জগতের লোকাদের আনাগোনা বেশী বলে অপরাধ সংক্রান্ত প্রায় সকল উপকরনই এখানে সহজলভ্য। মদ.গাঁজা থেকে শুরু করে নেশার সব কিছুই যৌনপল্লী এলাকায় পাওয়া যায়। যৌনকমীদের বেশীর ভাগ ছেলে সন্তানেরা প্রায় শিশুকাল থেকে অপরাধ জগতের লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করে বেড়ে ওঠার কারনে এরাও জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতে। দেখা যায় এদের বেশীর ভাগই জীবিকার জন্য শেষ পর্যন্ত মদ.গাঁজা সহ নেশা দ্রব্য বিক্রিকে বেছে নেয় আবার কেউ হয় সন্ত্রাসী। দৌলত দিয়া যৌনপল্লীর এক বয়স্ক যৌনকর্মী প্রতিবেদকে বলেছেন, আগের দিনে যৌনকর্মীদের সন্তানেরা কখনো যৌনপল্লীর মেয়েদের সঙ্গে সম্পার্ক রাখতো না কিন্ত এখন আর সে রকম নেই এখন যৌনকর্মীদের ছেলেরা যৌনকর্মীদের বাবু হয়ে পল্লীতেই বসবাস করে।” সরজমিন ফরিদপুর রথখোলা যৌন পল্লী এবং দৌলতদিয়া ঘাট যৌনপল্লী ঘুরে দেখা গেছে বেশ ক’জন যৌনকমীর ছেলে পল্লীর ভেতরেই অন্য যৌনকর্মীর বাবু হয়ে সেখানেই বসবাস করছে। এমন ঘটনা ও আছে একই ঘরের এক কক্ষে মা থাকছে তার বাবুকে নিয়ে অন্য কক্ষে ছেলে থাকে অন্য যৌনকর্মীর বাবু হয়ে। ফরিদপুর রাথখোলা যৌনপল্লীতে এখন সবচে বড় বাড়ির মালিক একজন যৌনকর্মীর ছেলে। যৌনকমীদের কাছে তার ভাড়া দেয়া বাড়ি থেকে প্রতিদিন আয় হয় ১২ হাজার টাকা। যৌনকমীদের ছেলেদের মধ্যে যারা বৈধ বা অবৈধ যে পথেই হোক অগাধ সম্পাত্তির মালিক হয়েছে এদের দেখা গেছে অন্য কোন শহরে ভিন্ন পরিচয়ে বসবাস করে তাদের সন্তানদেরকে পড়াশোনা করাচ্ছে। ফরিদপুর সহ আরো তিনটি শহরে ভিন্ন পরিচয়ে শান্তিতে সংসার করছে চরজন।তারা রথখোলা যৌন কর্মীদের সন্তান। তাদের স্ত্রীরা তাদের পরিচয় জানার পরও ভালো আছেন তারা।
এই সম্পর্কিত খবর সমূহ

* যৌন কর্মীর জীবন নিয়ে বাচঁতে হচ্ছে এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী এবং কন্যাকে
* জাতীয় পার্টি কি জোটছাড়া হচ্ছে?
* সংসদে মতিয়া চৌধুরীর সন্দেহ ও প্রশ্ন
* ছড়ানো হচ্ছে কালো টাকা
* প্রধানমন্ত্রীর পর এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরও জাল
* ৫০ লাখ নারী নিখোঁজ
* কুষ্টিয়ার বীরাঙ্গনা রহিমা এখন যৌনপল্লীর মাসি,মেয়ে যৌনকর্মী।
* ১৪ পাইলট ভাড়া
* গবেষণার ফল আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের
* সংসদে তোপের মুখে প্রতিমন্ত্রী
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×