আমার একটা 'নদী' ছিল ...
২৬ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:১০
খুব নিরাশ হয়ে আই.ই.আর ভবনের বারান্দায় এসে দাঁড়াই। বাইরের দিকে তাকাতেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। সন্ধ্যা থেকে ঝরতে থাকা বৃষ্টির এখনো থামার কোনো নাম গন্ধ নেই। অথচ আমাকে যেতে হবে নীলক্ষেতে। রাত বাজে ৯টা। বেশি দেরিও করা যাবে না। স্ক্রিপ্টটার ফটোকপি করে এখনই রফিককে ফেরত দিতে হবে। ধ্যাত্তরি ...
হইচই শুনে আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাই। রিহার্সালের পরের 'খানিক আড্ডা' শেষ করে ছেলেমেয়েরা বেরিয়ে আসছে। রফিক আমার কাছে আসে।
- কি ব্যাপার। তুমি এখনো যাওনি?
- কিভাবে যাব? যা বৃষ্টি। কোনো রিক্সাও তো পাচ্ছি না।
- নীলক্ষেত যেতে রিক্সা লাগে নাকি? চল আমিও যাই।
আমি সোডিয়াম লাইটের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির তোপ বোঝার চেষ্টা করি। বৃষ্টির ধারাগুলো সোনালী হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে নেশা হয়ে যায়। সোনালী নেশা। আমি শার্টের একটা বোতাম খুলে কলারটা মাথায় তুলে দিই। রফিককে বলি, চল যাই।
রফিক দু'পা এগোতেই থেমে যায়। কেউ যেন ডাকছে তাকে। আমি কলারসহ ঘাড়টা ঘুরিয়ে দেখি নদী দ্রুতপায়ে ছুটে আসছে। আমি তাকিয়ে থাকি। আমার ভয় ধরে। বৃষ্টির পানিতে সিঁড়িটা পিচ্ছিল হয়ে আছে। নদীর পা পিছলে যেতে পারে। আমার সারা শরীর টানটান হয়ে যায়। অজানা আশংকায় আমি প্রস্তুত হই। ঘাড়ের রগগুলো টানটান হয়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে কলারের মধ্যে হঠাতই গরম অনুভব করি। অথচ আমাকে সম্পূর্ণ অবাক করে নদী সাবলীলভাবে রফিকের সামনে এসে দাঁড়ায়।
- নীলক্ষেত যাচ্ছ নিশ্চয়ই। আমার জন্যও স্ক্রিপ্টের ফটোকপি নিয়ে এসো। নদী দ্রুত কথাগুলো বলে। হাঁপায়।
আমার শিরা-ধমনী স্থির হয়ে আসে। সংকুচিত দু'চোখ পুরোপুরি মেলে আমি নদীর দিকে তাকাই। বৃষ্টির ফোঁটা সুযোগ ছাড়েনি, নদীর চোখ-মুখ-ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছে। আমি তাকিয়ে দেখি নদী এখন অনেক সুস্থির। রফিকের সঙ্গে হাত নাড়িয়ে কথা বলছে। আমি কলারটা উঠিয়ে নীলক্ষেতের পথে উঠে পড়ি ...
... ঘটনাটি আজ থেকে ১১/১২ বছর আগে। নদীকে প্রথম কোথায় দেখেছি, ভাবতে গেলে এই ঘটনাটাই আমার প্রথম মনে পড়ে। সেই নদী বনানীর চারতলা বিল্ডিংয়ে প্রতিদিন অফিস করে। থিয়েটার তো কবেই ছেড়েছে। ফোন করলে নদী কলকলিয়ে উঠে, জানো? পুরো অফিসটা আমিই সামলাই। বস তো প্রায়ই দেশে থাকে না।
আমি ফোনের ওইপ্রান্তে হাসি। নদীকে নিয়ে আমি কখনো এতোটা আশাবাদী ছিলাম না। পুরো অফিস সামলানোর মতো দক্ষতা আমি ওর মাঝে কখনোই দেখিনি। কেমনে দেখি, নাম তো নদী ... শুধু বয়ে যাবে। সামলাতে হবে কেন ওকে ? এই যে আমি ভেসে গিয়েছিলাম, কই আমাকে তো কখনো সামলায়নি ... এসব কথা মনেই পড়েনি ওর ...
... অফিসের পাশাপাশি নদী এখন তার ছেলে সামলায়, স্বামী সামলায়, শ্বশুর-শাশুড়ি সামলায়। আর বিদেশ-বিভুঁইয়ে বিভ্রান্ত আমি খোঁজ রাখি না, নদী কিভাবে তার মন সামলায় ...
বি.দ্র. : লেখাটি 'অনন্তমৈথুন' এর প্রতি উতসর্গীকৃত। সম্ভব হলে চালিয়ে যাব ...
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): প্প্ব্যপ্প্ব্বপ্প্ম : প্প্ম্বপ্প্ম্ম ;
মুশফিক বলেছেন:
মন প্রীত হল। পরেরটার আশায় বুকে বালুর চর বাধঁলাম
মুশফিক বলেছেন:
আচ্ছা স্বপ্নজীবন নাটকের পরে আর কোন নাটক পাইনি আপনার। ব্যাপারটা কি? নাটকটা বেশি জোস হইছিল
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
ধন্যবাদ। অফিসের অন্যান্য ব্যস্ততায় স্ক্রিপ্ট লেখা হয় না। আর এখানে নাটক বানানোর অনেক হ্যাপা। তবে ইচ্ছে আছে।
চাঁদের শহরে বলেছেন:
আমার একটা চঁাদ িছলো ।
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
হুমম.. 'নদী' রা খুব সহজেই অতীত হয়ে যায় ..
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
চাঁদের শহরে @ লিখুন না আপনার সেই চাঁদকে নিয়ে। জানতে ইচ্ছে করছে আপনার চাঁদ কেমন ছিল ?
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
ধারাবাহিক লেখা আমার আসে না। তারপরও চেষ্টা করব।
সুমি বলেছেন:
৫/৫
দ্রোহী বলেছেন:
ধুর মিয়া, এইটা কি কন? গাছে তুলে মই কেড়ে ন্যান কেন?
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
এইটা মনে হয় শেষ করতে পারব। সিদ্ধান্ত নিছি লেখালেখিটা একটু সিরিয়াসলি করব। আমি আমার জীবনের কথা লিখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। তা দিয়েই শুরু করব। তবে সমস্যা হলো, আমার জীবনের কথা অন্যের ভালো লাগবে না। তাই ভেবে আবার শংকিত হই।
অমিত আহমেদ বলেছেন:
সব গল্পই কারো না কারো জীবনের কথা... পরের পর্ব ছাড়েন তাড়াতাড়ি।
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
আগামীকাল বা তার পরেরদিন আরেক কিস্তি দিব।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
প্রথম কিস্তি বেশ ভালো...এই ছাগলসর্বস্ব দুনিয়ায় রেকারিং খিস্তিগুলোর চেয়ে।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
...আই মিন টু সে, কানে ঢালা সীসের বিষে বিষিয়ে যাওয়া বুক, তোমার লেখা পড়ে এতক্ষণে জুড়োলো।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন:
সুন্দর ... ভাল্লাগছে ...
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
অমুকে তার আগে বিড়ি খাওয়া ছাড়তে হবে।
সাধারন বলেছেন:
অসাধারণ
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাইকে।
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
রাজ্জাক ভাই @ আর লিখব কিনা কে জানে।
আ স ম মাসুম বলেছেন:
ভাইসাব বাকি খান তাড়াতাড়ি দেইন...
বৃষ্টি পড়ে বলেছেন:
ভাল লাগছে পড়ে
রাগ ইমন বলেছেন:
এইটা আরো না লিখলে নিশাত আপাকে বলে মাইর !
ত্রিভুজ বলেছেন:
৫
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
আগে নিশাত আপারে পড়াও। তারপর দেখো কি কমেন্ট করে
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
আরে ত্রিভুজ ভাই যে। যারপরনাই ধন্য হলাম এই প্রথম আমার ব্লগে আপনি কমেন্ট করলেন।
বন্ধনহীন বলেছেন:
খুব ভালো লেগেছে। পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি।
রাশেদ বলেছেন:
৫
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
হাই বস - ভালো আছো?
রাশেদ বলেছেন:
প্প্বপ্প্বেক্ষপ্প্বক্ষ! প্প্বঙ্প্প্বম প্প্বঙ্প্প্ব্ত্র প্প্বষপ্প্ব্যপ্প্ম েপ্প্ব্রপ্প্ম্নপ্প্ম.ে....................
রাশেদ বলেছেন:
ইশশ! কত কি মনে পড়ে......
লাল দরজা বলেছেন:
রাশু এই লেখাটারে যদি ঠেলা না দিত আমার পড়ার ভাগ্যই হইত না, ভাগ্যিস রাশু ছিল। 
এই লেখাটা পড়ছি আর অটেকমেটিক মনের আবহ সংগীত বাইজা উঠল,
আমার একটা নদী ছিল জানল নাতো কেউ...
ভাইডি অলৌকিক হাসান লেখাটা মনে রেখাপাত করেছে ধন্যবাদ।
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
এসব পুরানো কাসুন্দি ঘাইটা বাইরা করতাছে রাশু। যাইহোক আপনাগো ভালো লাগতাছে শুইন্যা আমি লজ্জা পাইতাছি।
রাশেদ বলেছেন:
হি হি! কি আর করবেন! লজ্জায় লালটু হইয়া বইসা থাকেন! হা হা!
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
থ্যাঙ্কু রাশেদ। আপনার মতো পাঠক পেলে লেখার উৎসাহ বেড়ে যায়।
রাশেদ বলেছেন:
লেখেন লেখেন।
পড়ার জন্য আমরা আছি। 
দেবযানি, রাধিকা, শ্বাশতি এদের খবর থাকলে আরো কিছু দেন।

হায় হায়! নদীর পোস্টে এদের নাম নেয়াটা ঠিক হয় নাই! (আম্মাআআ)
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
আরো নাম ওইপাড়ায় গেলে পাইবেন।
রাশেদ বলেছেন:
হা হা! হোকে।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
@অলৌকিক হাসান - এই লেখাটি পড়ে আমি আপনার ফ্যান হলাম .... কিভাবে লিখেন এরকম করে !! ড়াষুকেও ধন্যবাদ কয়লার পরিত্যাক্ত খনি ঘাটার জন্য ,, তাই তো হিরেটা চোখে পড়লো !!
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
ব্যক্তিগত এবং আদর্শিক একটা নীতিমালার অবস্থান থেকে এই পাড়ায় আমি অনেক কিছুই লিখি না। তারপরও আপনারা কাসুন্দি ঘেঁটে পড়ছেন এবং যে সম্মান দিলেন তাতে আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।


















