somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

A+ স্যার আপনার অনুভূতি কি?- চুন্নি সাহা !!!

২৬ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এই সোনার বাংলায় এখন কোন জিনিসটা সবচেয়ে সস্তা বলতে পারেন? অনাকাঙ্খিত আর কাঙ্খিত এই দুই ভাগে যদি ভাগ করি তাহলে সবচেয়ে সস্তা বা সহজলভ্য জিনিসের অথবা সুবিধার যে তালিকা হবে তা এমন হতে পারে -

এক-
অনাকাঙ্খিতঃ অনেকেই অনাকাঙ্খিত অনেক কিছু যেমন, নদীতে লাশ, দেশে গুম, পুলিশের ঘুষ, রাস্তায় নর্দমা, ট্রাফিক জ্যাম, ফুটপাত দখল, ফল ও মাছে ফরমালিন, ভেজাল ঔষধ, জমি দখল, রাস্তা দখল, ভাঙ্গা বাস, মিটারে না যাওয়া সিএনজি, ব্যাটারী চালিত ইজি বাইক, মন্ত্রীদের মুখের ফুলঝুড়ি ইত্যাদির কথা বলবেন।X((

দুই-
কাঙ্খিতঃ কিন্তু কাঙ্খিত কোন কিছুর কথা যদি বলেন তাহলে গালে কিছুক্ষন হাত দিয়েই বলে দেবেন A+. এসএসসি আর এইচএসসি তে A+ । আমরা আমাদের সন্তানদের সর্বোচ্চ ভাল ও আকাঙ্খিত যে স্থানটিতে দেখতে চাই তাই আমরা পাচ্ছি যা এখন অনেক সহজে, সাচ্ছন্দ্যে এবং ভরপুর।B-)

দুঃখিত, আমি এইখানে কাউকে খাটো করছি না। যারা কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েছে তাদের কষ্টতে বিন্দু মাত্র খাদ নেই কিন্তু যে শিক্ষা ব্যবস্থাপকেরা পরীক্ষা নিচ্ছে তারা কি উদ্দেশ্যে আর কেনো এইরকম যথেচ্ছা রেসাল্ট পাবলিশ করে কি হাসিল করতে চাইছে সেটাই বিবেচ্য। সদ্য এসএসসি পাস করা এক ছাত্রকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তুমি A+ পেয়েছ, তোমার অনুভুতি কি? সে অবশ্যই আবেগে আপ্লুত হবে এবং অনেককে ধন্যবাদ জানাবে, তার সাথে যারা খারাপ করেছে তাদের সহমর্মিতা দেখাবে। এইটাই কাম্য আর এইটাই শিষ্টাচার আমাদের বাংলাদেশী ছেলেপুলেদের। কিন্তু সেই সাথে তাদের যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, চারপাশে এত ভুরি ভুরি A+, এর ব্যপারে তোমার অনুভুতি কি? একটু ভুরু কুচকে সে বলতেও পারে, যতসব যাচ্ছেতাই স্টুডেন্টরাও A+ পেয়েছে, তাদের সাথে আমার পার্থক্য রইল না।:-*

এত কথার একটাই উদ্দেশ্য যেখানে শুনলাম ২০০১ সালে A+ ছিল ৭১ জন, সেখানে এই বছর A+ এর সংখ্যা ১৪২০০০ + (প্রায় অর্ধলক্ষ)। এ কি করে সম্ভব? এতদুর কিভাবে পৌছায়? কি যাদু মন্ত্র করা হয়েছে যে দেশের অধিকাংশই ১নং ছাত্র-ছাত্রীতে পরিনত হচ্ছে? উন্নত দেশের তারাও চায়না এতো শিক্ষা আর ভালত্বের আধিক্য কারন তারা জানে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করবে এইটা যেমন একটা দেশের জন্য কাম্য বা জরুরী না, তেমনি অনেকেই পলিট্যাকনিক অথবা কারিগরী লাইনে নিজেদের গড়ে তুলবে, সেটাও প্রয়োজন। আমাদের ক্ষুদ্র দেশের ক্ষুদ্র চিন্তায় আমরা কেন পারছি না এই চরম বাস্তবতাকে মেনে নিতে। আজকে তিতা, কালকে মিঠা ভাল কিন্তু আজকের মিঠা যদি আমার পুরো আগামীকালকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয় তখন তো দোষ দেবার লোক খুজে পাওয়া যাবে না। যাই হোক এই বিষয়ে অনেকে অনেকের মতবাদ দেবেন, অনেক মতাদর্শের লোক-ও পাওয়া যাবে। কিন্তু চিন্তার বিষয় এদের স্থান সঙ্কুলানের সময় এই সরকার কি ক্ষমতায় থাকবে তাদের চটা চটা কথা আর উন্নয়নের জোয়ার নিয়ে? তখন অন্য কেউ থাকলে তারা তৎকালীন সরকারের দোষ দিয়ে চুপটি মেরে থাকবে আর এই সরকার-ই যদি থাকে তাহলে তারা হয়ত আরো বড় কোন ইন্সিডেন্ট ঘটিয়ে তাদের কীর্তি কলাপে রাখ ঢাক দিয়ে দিবে। এইভাবেই চলছে, আরো চলবে।X(

তাই আপাত সুখ থেকে আমরা চরম সুখ নেয়ার চেষ্টা করি এবং আমাদের পলিটিক্যাল জীবিত, মৃত এবং আগতদের এই A+ সম্বন্ধে অনুভুতি জানার চেষ্টা করি। আবারো বলে রাখি কাউকে কষ্ট দেয়া আমার উদ্দ্যেশ্য নয়। ফরমালিন দেয়া খাবার খেতে খেতে মজাও কেমন যেনো বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাই ওই বিষাক্ত অনুভুতি জানার প্রয়াসে মুন্নি সাহার থুক্কু চুন্নি সাহার মূর্তমানে যে অনুভুতি অনুভুত হল তা নিম্নরুপ- :P


জয় বাংলা: আমারে লজ্জার পরীক্ষায় A+ দিয়া দিলা? :-*

জয় বঙ্গবন্ধুঃ ওরা বলে, আমার স্বপ্ন ছিল A+ এবং 3G কিন্তু আমার তো মনে নাই? :-*

জয় হাসিনা: আমার এতগুলা ডক্টরেট (Dr.) ডিগ্রী, A+ এ দেশ ভর্তি না করলে পাবলিকেরে ভবিষ্যতে থার্ড ডিগ্রী কেমনে দিমু? X(

জয় জয়: আমার কাছে তথ্য আছে A+ is A+, আমিও A+ পেয়েছিলাম, আমার কাজের বুয়া সেও A+ পেয়েছিল,......। B-)

জয় শিক্ষামন্ত্রী: আপনেরা বাড়াবাড়ি করলে আপনেগরে মেট্রিক পরীক্ষায় বসায়া দিমু। :((

জয় শামীম ওসমান: এই কাজটা র‍্যাবের কারো হতে পারে, আমি আমার A+ নিয়ে এখন শঙ্কিত। :-/

জয় হাইব্রীডঃ বিএনপি A+ দেখে আজ ঈর্ষান্বিত............:-*

জয় ইনুঃ PM এর পা ধোয়া পানি খেলে আমিও A+ পেতাম......। :D

জয় মিনুঃ আমিও ঝানতাম এথো এথো A+ খাম্য নয়, লেকিন ঝনগনের আশা আখাঙ্খা আমাধিগকে উফলব্ধি খরতে হোবে। ;)

জয় মায়াঃ আমার জামাতাও A+ পাইছিল, A+ পাওয়া কি তাইলে দোষের? :((

জয় কামরুলঃ আমি আগেই বলেছিলাম ওরা এই উন্নতি সহ্য করবে না। যত চক্রান্তই হোক A+ বন্ধ রাখা যাবে না। :-/

জয় A+ : আমি আর কি কমু, বেবাক তো হেরাই কয়। আমি কি এতই সস্তা হয়ে গেলাম?? /:)

জয় পাবলিক টয়লেটঃ আগে এইখানে হাগু আর হিসু পাইতাম, এখন A+ ও পাই ।:P
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:১৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০১

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

'র'-এর গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎপরবর্তী পরিচালিত কয়েক ধরনের স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিবরণ দেয়া প্রয়োজন । ১৯৬৮ সালে 'র' গঠিত হয়েছিল মূলত বৈদেশিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×