somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন বিধিনিষেধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিপাকে ফেলবে

১৩ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্টুডেন্ট ভিসার ওপর আরোপিত নতুন বিধিনিষেধগুলো ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর মারাত্মক রকমের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে বলে এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। হায়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (হেপি)নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঐ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; যেখানে বলা হয়েছে যে, সরকারের নতুন পদক্ষেপের ফলে ব্রিটেনে পড়তে ইচ্ছুক বিদেশি ছাত্রদের সংখ্যা দারুণভাবে কমে যাবে এবং দেশটির বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ড আয় কমে আসবে।

তারা সোজা সাপ্টা ভাষায় জানিয়েছে যে, এসব পরিকল্পনার প্রতি নজর দিলে মনে হয় যেন ভিসার অপব্যবহার রোধ করার চাইতে ছাত্র আগমন কমানোই এর উদ্দেশ্য। অথচ ইতোপূর্বে সরকার বলেছিল যে, মেধাবী ও দক্ষ বিদেশি শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্যে গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নেয়া পরিকল্পনায় ডিগ্রি লেভেলের নিচে অধ্যয়নরত বিদেশি ছাত্রদের সংখ্যা কমানো, ছাত্রদের ভাষাগত দক্ষতার শর্ত বৃদ্ধি এবং তাদের কাজের সুযোগ কমানো ও পরিবারকে ব্রিটেনে নিয়ে আসবার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং তাদের নজরদারির ক্ষেত্রেও পরিকল্পনায় বিশেষ কড়াকড়ি আরোপের কথা বলা হয়েছে।
পরিকল্পনার ওপর সমালোচনা করে প্রফেসর এডওয়ার্ড এ্যাকটন তার প্রতিবেদনে বলেছেন, বিদেশি ছাত্ররা ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বছরে ৫ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখে। স্থানীয় ছাত্রদের তুলনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের খরচ অনেক বেশি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সরকার যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ছাত্র বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। সেটি করা যদি সম্ভবপর হত, তাহলে ব্রিটেনের শিক্ষাব্যবস্থার সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো ছড়িয়ে পড়ত নিঃসন্দেহে। বর্তমানে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যে হতাশাজনক হবে বলে তিনি মত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ডিগ্রি লেভেলের নিচের বিদেশি ছাত্রদের সংখ্যা কমানোর ফলে বছরে ১ বিলিয়ন পাউন্ড আয় কমবে এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছাত্রদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে আসবে।
তিনি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের একটা বড় অংশ তথাকথিত ‘প্রি-ইউনিভার্সিটি পাথওয়ে কোর্স’ গ্রহণ করছে যা তাদেরকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্টাডির জন্যে প্রস্তুত করছে।


প্রফেসর এ্যাক্টন বলেন, ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৪০ শতাংশেরও বেশি ছাত্র এখানে এসেছে ‘প্রি-ইউনিভার্সিটি পাথওয়ে কোর্স’ করবার জন্যে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এসব কোর্সের ৭০ শতাংশ ছাত্রঅন্তর্ভুক্তি নতুন আরোপিত ভাষাগত শর্তের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রতিবেদনটির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মি. এ্যাক্টন দাবি করেছেন যে, ভিসাসংক্রান্ত এসব পদক্ষেপ ব্রিটেনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ডেমিয়ান গ্রিন বলেছিলেন, বিদেশি মেধাবী ছাত্ররা ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিদেশি ছাত্রদের কারা ব্রিটেনে আসতে পারবে এবং কতদিনে এখানে অবস্থান করতে পারবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত বিধান থাকা দরকার।
তিনি আরো বলেছিলেন, বর্তমান গৃহীত পদক্ষেপের পেছনে আমাদের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান পদ্ধতির অপব্যবহার রোধ করা; বিশেষ করে তাদের জন্যে যারা নিম্নস্তরে এবং ফারদার এডুকেশনের প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হতে আসে।
তবে সাথে সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউকের জন্যে যেসব ছাত্রের সর্বোচ্চ অবদান রাখবার সক্ষমতা আছে সেসব মেধাবী এবং দক্ষ ছাতদের আমাদের দেশে আমরা স্বাগতম জানাই।
এদিকে ইউকের মাইগ্রেশনওয়াচ এর চেয়ারম্যান স্যার এন্ড্রু গ্রিন বলেছেন, প্রফেসর এ্যাক্টনের প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানগত দিক সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার কলেজগুলোতে ভুয়া ছাত্র আনয়ন বন্ধ করতে সরকারের এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
‘মেধাবী ও দক্ষ’ ছাত্রদের জন্যে ব্রিটেনের দুয়ার উন্মুক্ত বলে তিনি জানিয়েছেন।
সুত্রঃ http://www.ukbdnews.com
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×