সকালে একটি জাতীয় দৈনিক এর সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র পড়ছিলাম।এ ধরনের ক্রোড়পত্র গুলোতে সাধারনত রাশিফল,সেলিব্রেটি গসিপ,আরো নান আব্্জনা দিয়ে ভরা থাকে,পড়ার মত,শিখার মত তেমন কিছু থাকে না বললেই চলে।কিন্তু আজ একটি খবর খুব নজড় কাড়ল,অনেকেই হয়ত এর মাঝেই পড়ে ফেলেছেন।তাও সবার দৃষ্টি আ্ক ্ষন করার জন্য লিখা।
আমরা সবাই কম বেশি রোজা রাখি।অন্তত চেষ্টা করি।কিন্তু রোজা রাখার পর আমরা সেহেরি অ ইফতার এ যে পরিমান খাবার খাই তাতে,রোজা রাখার উদেশ্য কতটুকু সফল হয় সেটা নিয়ে আমার মত হয়ত অনেকের ই সন্দেহ আছে।বস্তুত সিয়াম সাধনা,সংযম প্রদ্শন এর চাইতে ঈদ এবং ঈদ পরবর্তী পরিকল্পনা আমাদের ব্যাস্ত রাখে।উপরন্তু,রঙ্গীন ও উচ্চভিলাসি শপিং মল গুলাতে ,হাল ফ্যাশন এবং বাহারি রকমের জামা কাপড় কিনাতেই ব্যাস্ত থাকি।মাস কয়েক আগে একটি পত্রিকায় পড়েছিলাম,বাংলাদেশ এ নাকি কোটিপতির সংখা ১লাখ ছারিয়ে গেছে।য়ামাদের মত একটা গরিব দেশের জন্য সংখাটা বেশি বৈকি কম না। তাদের বিলাসিতার মোহ পুরনের জন্যে সিয়াম সাধনাও আজকাল একটা সামাজিক ক্রীড়াকলাপে পরিনত হয়েছে।কিন্তু এর মাঝেও কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়।যাই হোক এত কথা বলার কারন,ধণীক শ্রেনিকে তিরস্কার করা নয়,দেশ ও সমাজের প্রতি তাদের ক্্তব্যের কথা সরন করিয়ে দেয়া মাত্র।
সৈয়দ হাছান ওয়ারিছ,একজন কুয়েত প্রবাসি বাংলাদেশি,প্রতি রোজার মাস খানেক আগে দেশে চলে আসেন এবং নিজের তদারকিতে প্রতিদিন অন্তত হাজ়ার খানেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষেরর ইফতার ও সেহেরির ব্যা্বস্থা করেন।এটা শুধু এই বছর না,প্রতি বছর ই করেন।এত মানুষ কে খাওয়ানোর জন্য ১৫,১৬ জন বাবুরচি এবং লোকবল আছে।তিনি নিজে গরিব দুঃখিদের সাথে সেহেরি ও ইফতার করতে সামিল হন। সেহেরি ও ইগতার এ পালা করে মুরগি,গরু,মাস,সব্জি ডিম দেয়া হয়।
সংবাদ পত্রটির ভাষ্যমতে,পত্রিকায় হাসান সাহবের কথা প্রচারের কথা বলা হলে তিনি বলেন,প্রচারের জন্য তিনি গরিবের সেবা করেন না।তিনি আরও বলেন,যারা গরিব দুঃখিদের সেবা করতে চায় তাদের উৎসাহ দিতে হয় না,ভাল কাজ করার ইচ্ছটা একান্তই নিজের,বলে কয়ে কাউকে মানবতা শেখান কঠিন।
যে দেশে লাখের উপর কোটিপতি আছে(তাও সরকারি হিসাব মতে,বেনামি কোটিপতির সংখাটা আরো বেশীই হবার কথা)সে দেশে মানুষ সেহেরি ও ইফতার করতে পারে না,বেপারটা একটু অদ্ভূত ই লাগে।শ্রেষ্ঠ ২ জন ধনী বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট ঠিক করেছন তাদের সম্পদের অ্ধেক গরিব দুঃখিদের দান করে দিবেন।বাংলাদেশের ১ লাখ কোটিপতি যদি তাদের টাকা থেকে এই রোজার মাস এ ১ লাখ টাকা খরচ করে গরিব দুঃখিদের ইফতার,সেহেরি ও ঈদের জামার বেবস্থা করেন,তাহলে তাদের সম্পদ খুব কমে যাবে না।সামাজিক কীট হয়ে,গরিবের রক্ত চুষে যে টাকার পাহাড় বানানোর নিকৃ্ষট খেলায় আমরা মত্ত,তা থেকে কি সিয়াম সাধনার মাসেও আমরা কি বের হতে পারি না? ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে সৈয়দ হাছান ওয়ারেছের মত ১ লাখ বাংলাদেশি কি নেই?যারা দুস্থ মানুষ গুলোর সেবায় এগিয়ে আসতে পারে।আমাদের মানসিক পঙ্গুতা,হীনমন্যতা থেকে মুক্তির কি এটাই কি শ্রেষ্ঠ সময় নয়?প্রচারের জন্যে নয়,সৈয়দ হাসান ওয়ারেছের মত,নিজের সত্তার আকুতি থেকেই কি আমাদের আপামর জনসাধারন কে সাহােয্যর হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত নয়?নাকি এখনও আমাদের বলে কয়ে মানবতা শেখানোর বাকি রয়ে গেছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




