somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্টারনেটের ফোরাম থেকে ট্রাফিক পাবার ৯টি পদ্ধতি

২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইন্টারনেটে ফোরাম এখন একটি খুব সাধারন পরিচিত শব্দতে পরিনত হয়েছে। খুব সাধারন ভাষায়, ফোরামে একটি নিদির্ষ্ট বিষয়ে এর সদস্যগণ আলোচনা করতে পারেন। আমাদের একেকজনের চাহিদা একেক ধরনের আর এই হাজারো চাহিদাকে পূরণ করতে ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার ফোরাম। ফুটবলপ্রেমীদের ফোরাম থেকে শুরু করে ঘোড়াপ্রেমীদের ফোরাম, বাংলাদেশের আইটি নিয়ে ফোরাম থেকে হিব্রু ভাষাভাষীদের ফোরাম রয়েছে ইন্টারনেটে।

ফোরামের প্রতি সদস্যই কম বেশি স্বশিক্ষিত কিংবা স্বল্প কিংবা কম খরচে বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে জানতেই ফোরামগুলোতে যোগ দিয়েছে। ফোরামে যেমন অভিজ্ঞ সদস্য রয়েছে, তেমনি একেবারই অ-আ-ক-খ থেকে শুরু করা সদস্যও রয়েছে। একারনে ফোরামে মনের ভাব প্রকাশ করতে লাইনের পর লাইন লিখতে হয় না, বরং দু’তিন লাইনেই মনের ভাব প্রকাশ করা যায়। আর তাই ফোরামে জ্ঞান অর্জনটাও সহজ হয়ে যায়। নিজ ওয়েবসাইটে ট্রাফিক পাওয়ার জন্য ফোরামগুলো চমৎকার উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এজন্য কিছু পদ্ধতি / উপায় / কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজনীয়:

১. নিজ প্রোফাইল গড়ে তুলুন
যেকোন ফোরামে যোগ দেবার পূর্বে দেখে নিন ফোরামটি আপনার কাংখিত বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যর্পূণ কিনা? নতুবা ফোরামে যোগ দেয়াটার পুরো উদ্দেশ্যটার বৃথা হয়ে যাবে। ধরুন আপনার ওয়েবসাইট / ব্যবসা হল ঘোড়া নিয়ে, তাই খুঁজে খুঁজে ঘোড়া বিষয়ক ফোরামে যোগ দিন। ফ্যাশনের ওয়েবসাইটে ঘোড়া নিয়ে আলোচনার কোনো মানেই হয় না।

সাইনআপের সময় যতদূর সম্ভব বেশি তথ্য দিতে চেষ্টা করুন। এতে করে আগ্রহী সদস্যরা আপনার প্র্রোফাইল দেখে আপনার সম্বন্ধে জানতে পারবে। প্রোফাইলে অনেক সময় ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেবার সুবিধা থাকে, ওটা কখনও অগ্রাহ্য করবেন না। এবার About Me এর ঘরেও নিজ সম্বন্ধে যত বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব তথ্য সরবরাহ করুন। আর যদি সিগনেচার এর সুবিধা থাকে, তো কথাই নেই। অর্থপূর্ন Anchor Text এর সাথে ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিন।

Avatars একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। সুন্দর এবং রুচিপূর্ণ Avatars আপনার প্রোফাইলকে আর্কষনীয় করে তুলবে এবং সদস্যরা আপনার সম্বন্ধে আগ্রহী হবে।


২. নিয়ম কানুন পড়ুন এবং মেনে চলুন
প্রতি ফোরামেই কিছু নিয়ম থাকে যেগুলো মেনে চলা একান্ত প্রয়োজনীয় এবং ফোরামগুলো এই নিয়মের বিপরীতে হীতে বিপরীত হতে পারে, কর্তৃপক্ষ আপনার একাউন্ট বাতিলও করে দিতে পারে। তাই সাইন আপের সাথে সাথে একবারের জন্যে হলেও নিয়মগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন এবং নিয়ম মেনে চলুন।


৩. সর্তকতার সাথে শুরু করুন
ফোরামের মূল ভিত্তিই হলো জ্ঞানের আদান প্রদান এবং যোগাযোগ। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়, অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বিনা মূল্যের দানের অভিজ্ঞতা নবীনদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। এর জন্য পয়সা দিতে হয় না ঠিকই, তবে খেয়াল রাখতে হবে তারা তাদের অমূল্য সময় এবং মেধা দিয়ে ফোরামকে সচল রেখেছেন। তাই যোগ দিয়েই হুটহাট করে প্রশ্ন করা শুরু করবেন না কিংবা মূল্যহীন কোনো বক্তব্য দেবেন না। ধীরে সুস্থে দেখুন কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যথাসম্ভব চলমান আলোচনায় অংশ নিন। অত:পর ফোরামে একটু পরিচিত হয়ে গেলেই কেবল নতুন আলোচনা শুরু করুন, তাতে অন্য সদস্যরাও আপনার আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী হবে। প্রতিটি ফোরামেই সদস্যদের সর্বমোট পোষ্ট সংখ্যা দেখতে পাওয়া যায়, যেসব সদস্যদের পোষ্ট সংখ্যা যত বেশি – অন্য সদস্যরা তাদের মেনে চলতে চেষ্টা করে।


৪. অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চেষ্টা করুন
ফোরামে নিস্বার্থভাবে অভিজ্ঞতা শেয়ারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনি যদি কোনো বিষয়ে পটু হন, তবে অন্য কেউ সেই বিষয়ে জানতে চাইলে যথাসম্ভব তাকে সাহায্য করুন। এতে করে কেবল সেই সদস্যই আপনার প্রতি আগ্রহী হবে না বরং অন্য যেসব সদস্য উক্ত আলোচনাটি দেখবে কিংবা অংশগ্রহন করবে, তারাও আপনার প্রতি আগ্রহী হবে এবং আপনার ওয়েবসাইট ভ্রমন করে দেখবে। যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি মন্তব্য করতে চেষ্টা করুন। এতে করে প্রথম দিকে থাকার কারনে আপনার মন্তব্য সবার নজরে আসবে।


৫. মূল্যহীন মন্তব্য থেকে দূরে থাকুন
সবারই সময়ের মূল্য আছে, তাই কেউই মূল্যহীন মন্তব্য দেখতে পছন্দ করে না। তাই ‘thank you’, ‘thanks for sharing’ টাইপের মন্তব্য থেকে দূরে থাকুন। আবার ইতিমধ্যেই পোষ্ট হওয়া মন্তব্য আবার কপি করে পোষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। বক্তব্যের স্বপক্ষে আর বিপক্ষে – যেই পক্ষেই হউন না কেন, যথাযথ যুক্তিসম্মত বক্তব্য রাখুন। এতে আপনার এবং আপনার ওয়েবসাইটের জ্ঞানের গভীরতা প্রকাশ পাবে।


৬. আমি, আমি, আমি – থেকে বিরত থাকুন
ফোরামে বার বার নিজ কিংবা নিজের ওয়েবসাইট কিংবা নিজের পন্যের বিজ্ঞাপন থেকে বিরত থাকুন। এতে পাঠকগণ বিরক্ত হয়। অনেক ফোরামেই এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এথেকে দূরে থাকুন আর যদি নিষিদ্ধ নাও হয় তবে সরাসরি ফোরামে আলোচনা না করে ফোরামে কেবল আলোচনার সূত্রপাত করুন আর সাধারন লিংকের মাধ্যমে পাঠককে আপনার ব্লগে/ওয়েবসাইটে নিয়ে আসুন। অত:পর সেখানে এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করুন। এতে করে ট্রাফিক পাবার সাথে সাথে এফিলিয়েট লিংক সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে।


৭. আলোচনায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন
আমি কোনো বিষয়ে জানেন না, কিংবা অন্যস্বল্প জানেন – আরোও বিস্তারিত জানতে চান। এর মানে এই না যে যেনতেনভাবে প্রশ্ন করে বসবেন কিংবা মন্তব্য দেবেন। প্রশ্ন করতে হলে যতদূর সম্ভব বিস্তারিত জানিয়েই অন্যের সাহায্য প্রার্থনা করুন কিংবা মার্জিত ভাষায় মন্তব্য করুন। এতে করে অন্য সদস্যরা যেমন আপনাকে গুরুত্বের সাথে নেবে তেমনি আপনার প্রশ্নকেও যতদূর সম্ভব সমাধানে চেষ্টা করবে।

আবার কোনো বিষয়ে আপনার জ্ঞান আছে আর অন্য কোনো সদস্য সেই বিষয়ে প্রশ্ন করেছে কিংবা বেফাঁস কথা বলে ফেলেছে, তার উপর চড়াও হবে না। যুক্তি দিয়ে তার প্রশ্নের উত্তর দিন, যুক্তি খন্ডন করুন। এতে আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে।


৮. ভুল করলে ক্ষমা চান
ইন্টারনেটের যুগে কিছু শেষ হয়ে যায় না। ভুল করে কোনো কথা বলে ফেললে, আত্ম উপলদ্ধি হবার সাথে সাথে ক্ষমা চান, ভুল শুধরে নিন। যুক্তিতে অংশগ্রহনের পূর্বে যাচাই করে নিন। আপনি হয়তো কোনো আলোচনাকে অবহেলা করে ভুল হওয়া সত্ত্বেও যুক্তিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু চিন্তা করে দেখছেন না যে আলোচনাটি কিন্তু চিরদিনের জন্য ইন্টারনেটে থেকে গেল। এটা ভবিষ্যতে আপনার সুনামকে ক্ষুন্ন করতে পারে।


৯. ঘৃনা, হিংসাত্মক ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন
সবাই যে আপনার যুক্তির সাথে একমত হবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। কারও সাথে তর্কে জড়ানোর আগে নিজের অবস্থান পরিস্কার করে ভেবে নিন – কারন সে যদি আপনার সম্বন্ধে শত্রুতাবশত মিথ্যা অপবাদমূলক লেখা পোষ্ট করে আর সেটা সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হয়ে যায় তবে আপনার এবং আপনার ব্রান্ডের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অহেতুক তর্কে জড়ানো থেকে দূরে থাকুন। এছাড়াও গালাগালি, ধর্মীয় অনুশাসনে আঘাত, রাজনৈতিক আক্রমন থেকে বিরত থাকুন।


আসলে ফোরাম থেকে নিজ ওয়েবসাইটে ট্রাফিক পা্ওয়ার মূল রহস্যই হলো অভিজ্ঞতার আদার প্রদানের মাধ্যমে ভক্তকূল গড়ে তোলা, নিজের একটি ব্রান্ড গড়ে তোলা। যাতে আপনার নাম উচ্চারিত হলেই সবার চোখে একটি শ্রদ্ধাভাব জেগে উঠবে, সবাই আপনার নামকে বিশ্বাস করবে, আপনার ব্রান্ডে আস্থা রাখতে পারবে।

পোষ্টটির সূত্র: ইন্টারনেটের ফোরাম থেকে ট্রাফিক পাবার ৯টি পদ্ধতি

=============================================

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এবং ইন্টারনেটে আয়ের কৌশলগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য বেশ কিছুদিন হল আমি একটি ফোরাম খুলেছি, ফোরামটি ঠিকানা সার্চ ইঞ্জিন এবং এডসেন্স ফোরাম , এখানে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করি। আপনি যদি এখনও সদস্য না হয়ে থাকেন, তবে আজই সদস্য হয়ে যান এবং আলোচনায় অংশগ্রহন করা শুরু করে দিন। আশা করি আলোচনার মাধ্যমে অনেক জটিল বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

=============================================

আপনার পক্ষে কি প্রতিদিন আমার ব্লগে আসা সম্ভব হয় না? তাহলে আপনি আমার ইমেইল নিউজলেটার সাবসক্রাইব করতে পারেন। এর মাধ্যমে আমি নতুন কোনো ব্লগ পোষ্ট করলে আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সন্ধান পেয়ে যাবেন আপনার নিজের ইমেইলের ইনবক্সে।আশা করি এই ফিচারটি বার বার আমার ব্লগে আসার পেছনে আপনার অনেকটা সময় বাঁচিয়ে দেবে।

=============================================
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৭:০২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×