সূত্র: বাচ্চাকালে গরুর রচনা কি মুখস্ত লিখতেন?
আমরা বয়সে বড় হলেই মনে করি যে বাচ্চাকালের শিখানো প্রতিটি বিদ্যাই বুঝি অকেজো হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে তার উল্টোটি। বাচ্চাকালে বেত হাতে শিক্ষকদের শিখানো প্রতিটি বিষয়ই একে একে আমাদের কাজে লেগে যায়।
বিশ্বাস হয় না?
গরুর রচনার কথাই ধরুন। চার পেয়ে গরুকে দিয়ে ক্লাশ ২/৩ থেকে শুরু করে ৭/৮ পর্যন্ত রচনা লিখতে হতো। বেচারা গরু নিয়েও জানে না যে তাকে নিয়ে পরীক্ষায় খাতায় আমরা কত টানাটানি করি। কিন্তু বড় হয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের খাতিরে ওই গরু রচনাকে নিয়েই হাসি ঠাট্টাতে মেতে উঠি।

কিন্তু ওটার শিক্ষা কি ছিল… জানেন?
শিক্ষকেরা আমাদের মধ্যে একটি ছোট্ট বিষয় নিয়ে লিখাবার ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখতে চাইতেন। ঠিক একই বিষয়টিই ঘটে ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে। পাঠকেরা আপনার শিক্ষক আর আপনি ছাত্র। আপনি আপনার পছন্দমতো বিষয়ে লিখবেন আর পাঠকেরা আপনার লেখার মানের মূল্যায়ণ করবে। ভাল লিখলে পুরষ্কারস্বরুপ তারা বারবার আপনার ওয়েবসাইটে আসবে আর নকল (কাট-কপি-পেষ্ট) করলে একে বারে ফেল, তারা আর আপনার ওয়েবসাইটে ফেরত আসবে না।
আর কিছু শিক্ষা কি মনে পড়ে?
এক
কখনও কখনও বলতেন, ব্যাটা গরুর রচনাও লিখতে পারিস না। যা আগে গরু দেখে আয়। অর্থাৎ যা লিখবেন নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা কিংবা জ্ঞান থেকে লিখুন। আকাশ থেকে ধরে এনে গরুর তিনটি কানের কথা না বলে চোখে দেখুন গরুর কয়টা কান, তারপর লিখুন।
দুই
আমরা কোনোমতে একটা রচনা লিখেই তাদের কাছে যেতাম check করাতে। এটা অনেকটা ব্লগের রিভিউ করার মতোন। অনেকেই আমাকে বলেন, অনুগ্রহ করে আমার ওয়েবসাইটটা পরীক্ষা করে বলুন তো এতে কি সমস্যা। অর্থাৎ তারা একটা রচনা লিখেছেন ঠিকই, কিন্তু নিজের লেখার উপর ভরসা পাচ্ছেন না। তার অভিজ্ঞজনের পরামর্শ চাচ্ছেন। আর বারবার রিভিউয়ের ফলে একটি ওয়েবসাইট পরিপূর্ণতা পেতে পারে।

তিন
গরুর রচনাতে নয়, তবে অনেক রচনাতেই শিক্ষকরা উচ্চশ্রেনীর বই থেকে উক্তি তুলে দিতে তাগিদ দিতেন। বলতেন পুরো অধ্যায়টি পড়বি, তারপর গুরুত্বপূর্ণ দুয়েকটা লাইন রচনার মধ্যে তুলে দিবি। ব্লগিংয়ের ব্যাপারে এটাই আমাদের করা উচিত। নিজেদের লেখাকে আরোও তথ্যসমৃদ্ধ করতে বিখ্যাত ব্লগারদের লেখা পড়ে সঠিকভাবে উৎস উল্লেখ করে তাদের লেখা টীকাটিপ্পনী আকারে নিজেদের লেখায় যুক্ত করা। এতে নিজেদেরকে ছোট করা হয় না, বরং নিজেদের জ্ঞানের পরিধি এবং লেখার পেছনে পরিশ্রমকে যর্থার্থতা সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়।
চার
ক্যাডেট কলেজে বায়োলজী ম্যাডাম, শামশাদ বেগম পরীক্ষার খাতায় ছবি দিলে বেশি মার্ক দিতেন। মনে আছে, ব্যাকটেরির উপকারিতা প্রশ্নে একটা মাটির হাড়ি একেঁ তার উপর লিখে দিয়েছিলাম ‘দই’। হাস্যকর তাই না? ব্যাকটেরির উত্তরে মাটির হাড়ি অপ্রাসঙ্গিক হতে পারে, কিন্তু ব্লগে প্রাসঙ্গিক ছবি দিলে পাঠক পড়ার সাথে সাথে ছবি দেখে বিষয়টি সম্বন্ধে আরও বেশি জানতে পারে। ইংরেজি লাইনটি কথা নিশ্চয়ই মনে আছে – a picture is worth a thousand words.
পাঁচ
পরীক্ষার খাতায় মার্জিন টেনে কেবল দু-ধরনের কালির (নীল+কালো) কলম ব্যবহারের জন্য উপদেশ দেয়া হতো যাতে খাতাটি জবরজং মনে না হয়। ওয়েবসাইটেও তেমনি, অহেতুক ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের ছোট বড় ফন্ট ব্যবহার না করে, পুরো সাইট ধরে একটি নির্দিষ্ট সাইজের ফন্ট ব্যবহার করা উচিত। সেই সাথে ফন্টের রংয়েরও হেরফের করা উচিত নয়।
ছয়
সবশেষে নকল করতে মানা করতে মানা করা হতো। নিজ ছাত্রজীবনে নকল করি নাই, তা বলব না কিন্তু তখনকার নকল আর এখনকার কপি-পেষ্ট একই কথা স্মরণ করে দেয়। শিক্ষকরা বলতেন, যতই লুকাও না কেন, শিক্ষকরা জানে যে কে কত ভালো লিখতে পারে আর কোন লেখা কোনো বই কিংবা কার খাতা থেকে নকল করা হয়েছে। তেমনি পাঠকেরাও বুঝতে পারে, কোনো ওয়েবসাইটে কোন লেখা আশা করা যায়, আপনি হয়তো বালির মধ্যে মাথা ঢুঁকিয়ে ভাবছেন কেউ আপনাকে দেখছে না। আসলে কি ঘটনা তাই?
---------------------------------------------------------------------
আশা করি পোষ্টটি পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। একজন ব্লগার বলেছেন, সুন্দরভাবে লিখতে পারে না। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, কেউ তো ভাই কবি/সাহিত্যিকদের লেখা আপনার কাছ থেকে আশা করছে না, শুরু যতটুকু লিখছেন, ততটুকু নিজের মতো করে লিখুন। যাতে আপনার চেয়েও খারাপ, একেবারেই লিখতে পারে না, এমন পাঠক পড়ে মজা পায়। শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে একজন ভক্ত বলেছিলেন, আপনিই সেরা লেখক, কারন আমরা আপনার লেখা বুঝতে পারি কিন্তু বঙ্কিমের লেখা বুঝতে পারি না। তিনি বলে আমি আপনাদের জন্য লিখি আর বঙ্কিম আমাদের জন্য লিখেন।
অথার্ৎ আপনার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী লিখুন। পাঠক আমাকে এমনিতেই খুঁজে নেবে। আমি যত চেষ্টাই করি না কেন আমি নিশ্চয়ই আমার লেখা দিয়ে Matt Cutts কে সন্তুষ্ট করতে পারব না। আমার লেখা তারাই পড়বে যারা আমার চেয়ে কম কিংবা সমান জ্ঞানের অধিকারি।
তাই সংকোচ বাদ দিয়ে লেখা শুরু করুন আর প্রতিটি পোষ্ট তার আগের পোষ্টের চেয়ে আকর্ষণীয় করতে চেষ্টা করুন।
আর ব্লগিং তো আর লাইলি-মজনুর প্রেম না যে সফল না হলে আপনি প্রাণ দিতে হবে।
------------------------------------------------------------------
আপনার পক্ষে কি প্রতিদিন আমার ব্লগে আসা সম্ভব হয় না?
তাহলে আপনি আমার ইমেইল নিউজলেটার সাবসক্রাইব করতে পারেন। এর মাধ্যমে আমি নতুন কোনো ব্লগ পোষ্ট করলে আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সন্ধান পেয়ে যাবেন আপনার নিজের ইমেইলের ইনবক্সে।আশা করি এই ফিচারটি বার বার আমার ব্লগে আসার পেছনে আপনার অনেকটা সময় বাঁচিয়ে দেবে।
সর্বশেষ হিসেবমতে, ২০৪ জন পাঠক নিয়মিত ইমেইল নিউজলেটার পড়ছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

