ফেলে দেওয়া মাল, কেউ নেই ধারে কাছে, বাতাস এলে উড়ে সব তালগোল,এখনই ঠিক সময়,লুঠ তো করতেই হবে। হা হা হা...

পুকুর পাড়ে কে রে?
০৫ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৮
এখনও তুমি দোল খেল হাজরাতে, এটা ঠিক মেট্রোরেল হবে গড়িয়া অবধি, তুলিতে এখন চন্দ্রবিন্দু। কিন্তু আমার চোরা মফস্বল পুকুর ডোবা শিং মাছের মত জেগে ছিল।পিনাকী ঠাকুরের কবিতা এল বরষার মত, একগাদা আমার ট্রেন, স্কুল ও শহরতলি। আমাদের মেট্রো সেক্সের আগে খেলনা খেলার দিন। মাটির উঠোনে পিড়ি পেতে চুল কাটা, ছাতা হারাই নিয়মিত, আমাদের কুড়িয়ে আনা শিউলি ও বকুল ফুল। দুটোর মধ্যে কি ফারাক জান?পিনাকী জানে, বিন্দু বিন্দু শিশিরে সকাল ও বিকালবেলায় তুলে আনা।চিরসবুজ কল্কে ফলের মত ফ্রক আর দিদিদের সাথে মফস্বলের ছাদ, বেলফুলের টব, দরজায় মাধবিলতা বা টিকোমা, তখনও তো কালপুরুষ পড়িনি, পড়তে পড়তে ভাইকিং-এর সাথে শান্তিনিকেতন, কেয়ার ঝোঁপ, ভদকায় ফুটে থাকা পদ্ম। আর ওই মেঘ দেখা, আমি চিনছি চিলেকোঠা, বহুপরে শুনব,চিত্রকর আর আমি কতদিন আগে হয়ে উঠেছি চিল।
কাদামাটি কত প্রিয় ছিল তখন। কাঁচা নর্দমায় বানানো সেতুতে ছিলাম, আমের আঁটি থেকে আমার মত এক শিশু বেরিয়ে আসত তার মেরুন পাতা নিয়ে। আমি ছিলাম নদীর পাড় বরাবর দৌড়গুলোতে সবার পেছনে পড়ে। ফলত কাটা ঘুড়ি পড়ত নদীর জলে। জাম আর বকফুলের নরম ডাল বরাবরই ভেঙ্গে পড়ত, আমি নীচ থেকে দেখি, জামরুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। পড়তে বসলেই লোডশেডিং, একমাত্র গল্পের বই পড়ার মত মিটমিটে আলো।আর তারজালি ভেঙ্গে পড়ল, মাকড়সারা কোথায় গেল? বর্ষার পিপড়ে মত সজনের গাছে শুয়ো পোকা, কাঁচ পোকার টিপ,পতঙ্গজগতে রবিন্দ্রনাথ লিখে দিচ্ছেন 'সে', কাগজের নৌকারা চলে গেল শিলাইদহে।
আমি শৈশবেই আটকে রইলাম। সাঁতার কাটতে কাটতে হাঁফ ধরে, গঙ্গায় জল এত কম মাটিতে পা ঠেকে কিম্বা আমি লম্বায় একটু বড় হয়েছি। আশোকাদের বাড়ির জানালায় এসে একটু থমকাই, রাত দশটায় কি করে ও? সাইকেলে মাটিতে পা দিয়ে দাঁড়াতে পারি। কতদুর দেখা যায় ওই জানালায়, কেবল অশোকাকে ন্য়। নেপু পটাদের বাড়ি ফুলে ফুলে ডেকে গেছে অশোকাকে একবার নিয়ে যেতে চাই,চিত্তবাবুর কাছে পড়তে গিয়ে আর কতটুকু সময় পাওয়া যায়? না, এবার পরীক্ষায় সব থেকে বেশি পেতে হবে।
কলকাতা আস্তে আস্তে গিলে খেল আমায়। নদীতে সত্যি সত্যি জল কমে গেল।সেখানে জেলা স্তরে ভিলিবল খেলা হলেও আমার আগ্রহ ছিল, চুপচাপ কেটে যেত বিকেল। লণ্চঘাটে সন্ধ্যা নামলে একে একে ফিরে আসে ইলিশের নৌকো, সুমন এলেন আর পাল্টে গেল মেঘমালার রং,দশ ফুট বাই দশ ফুটে রাত্রি কাটে নিমেশে। আমি ছবি আঁকি, লিখি আর সকাল হলে মিশে যাই কলকাতার ভিড়ে। কার্তিকের ভাসানে কফিতে মুখ পোড়ে শৈশব প্রিয়ার সিথির সিঁদুরে।আমার মফস্বল আমার থাকে আর সব পর হয়ে যায়।
পিনাকীর লেখা পড়তে গিয়েই বিপত্তি,পুনর্লিখিত হয়ে যায় আমার অন্যজীবন, নদীতে ততদিনে চর পড়তে শুরু করেছে, প্রেমের জ্বরে পলি, আমি দোল খেলি হাজরাতে, উঠে বসি মাঝরাতে, চন্দ্রবিন্দুর গান শুনে ভাবি স্কন্ধকাটার ভীড়ে আমি এক টুনটুনি পাখি। সাদা কাগজ শুকনো চামড়ার মত পড়ে থাকে আর পুকুর ভর্তি কচুরি পানা, আমি ঢিল ছুড়িনি কত দিন, টের পাই!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পিনাকী ঠাকুরের কবিতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
সুমেরু বলেছেন:
না এই কি কিসু হইসে। এক নম্বরও রেটিং নাই। দেখেন চোখ মেলে দেখেন..
অ্যালন বলেছেন:
হা হা হা..আরে বলেন না..ছবিটা কোন জায়গার..সুন্দর হইছে..
ছবিটা কি মোহাম্মদপুর এ..?..
সুমেরু বলেছেন:
না বস। চন্দনগরের। আপনে কইলে অবিশ্যি অন্য জায়গাতে আমি রাজি। আমি আপনের পাংখা না?
সুমেরু বলেছেন:
ভয় পাচ্ছি।
সুমেরু বলেছেন:
তবুও।
কৌশিক বলেছেন:
সুমেরু, সন্ধ্যায়, নাকি রাইতে নাকি ঘোরে নাকি ভোরে, নাকি মদে কি হবে আজ ফ্রি তো!
সুমেরু বলেছেন:
কি হবে তা আমি বলব ক্যামনে?


















ভাই খালি আমারেই বল্লেন..দেখেনতো কি সুন্দর লিখসেন..
ভালো করে দেখেন..