somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতি কৌতূহল ভালো নয়(একটি শিশুতোষ গল্প )

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাকিব মামা বলল, অতি কৌতূহল ভলো নয়। অতি কৌতূহলের ফলও ভালো হয়না।
আমরা বললাম, কেন? এ ব্যাপারে গল্পের ঝুলিতে কিছু গল্প রয়েছে নাকি? শুনি তাহলে।
রাকিব মামার গল্পের ঝুলি কখনো খালি হয় না। অতি কৌতূহল বিষয়ক একটা গল্প ঝুলিতে রয়েছে দেখতে পাচ্ছি, তবে গল্পটা ঝুলিতে ঢুকে পড়েছে কিভাবে সেটা কিন্তু বলতে পারব না।
শোন তবে, এই আতি কৌতূহল দেখাতে গিয়ে একবার এক শীতের রাতে আমাকে দশ মাইল হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল।
রাহাত বলল, কেন? তখনো সাইকেল আবিষ্কার হয়নি? নাকি, চালাতে জানতে না?
মামা বলল, অত অধৈর্য্য হচ্ছিস কেন? আরে গল্পটা তো ঐ সাইকেল নিয়েই। এই যা, আগে ভাগেই বলে ফেলেছি। এতে কিন্তু গল্পের স্বাদ কমে যাবে।
তো যা বলছিলাম। বলে মামা একটু ডান ও বাম দিক দেখে নিল। এর অর্থ এখনো চা কিন্তু আসে নি। এটা বুঝতে পেরেই আমি ভেতরে চলে গেলাম।
অনেক সময় শোনা গল্পগুলোও মামা আবার নতুন করে শোনায়। কখনো এর গল্প ওর গল্পও নিজের বলে চালিয়ে দেয়। যাই হোক, গল্পগুলো শুনতে ভালই লাগে।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে মামা বলল, ফিরছিলাম তালপুকুর থেকে। ওখানে আপুর বাড়ি থেকে বেরোতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। শীতের রাত, রাস্তা প্রায় নির্জন। তাই বেশ জোরেই সাইকেল চালাচ্ছিলাম। মাঝে মিরপুর বলে একটা গ্রাম আছে। সেই গ্রামের এক ধারে বড় একটা ফুটবল মাঠ রয়েছে। মাঠটা বেশ সমতল ও বড়। আমারা অনেকবার এই মাঠে খেলা করে গেছি। এই মাঠের ধার ঘেঁষে রাস্তা। সেই রাস্তায় যেতে যেতে দেখি মাঠের একটা গোলপোষ্টের মাথায় কে একজন পা ঝুলিয়ে বসে রয়েছে। অল্প কুয়াশাও ছিল, তাই লোকটাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। সাইকেলের
গতি কমিয়ে একটু দূরে সাইকেলটা একটা গাছে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালাম। তারপর একটু করে এগিয়ে যেতে লাগলাম গোলপোষ্টের কাছে। ঐ যে কৌতূহল! আমাকে কৌতূহলে পেয়ে বসে। দিব্যি কাগজ-পেন নিয়ে লেখা-পড়া করছে। এ পাগল ছাড়া হয়না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পাগলের পাগলামী দেখার কোন মানে হয় না।
হঠাৎ লোকটা বলে উঠল, যা ভাবছেন তা কিন্তু নয় স্যার। মুড়ির সঙ্গে মুড়কিকে গুলিয়ে ফেলবেন না যেন। এ হছে সাধনা। শীতের রাত্রে গোলপোস্টে না উঠলে এ সাধনা পূর্ণ হয় না। আপনি তো স্যার তালপুকুর থেকে ফিরছেন? ঠিক কি না।
এরপর আর লোকটাকে পাগল বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া ও জানলই বা কি করে যে আমি তালপুকুর থেকে ফিরছি।
আমার কৌতূহল আরো এক ধাপ বেড়ে গেল।
আমি বললাম, সাধনাটা কি জানতে পারি ?
ও এবার বলল, এক মিনিট। এক মিনিট পরেই জানতে পারবেন। এই খাতায় লিখে দিচ্ছি। তবে মাটিতে দাঁড়িয়ে এটা পড়া যাবে না স্যার। হালকা চাঁদের আলো ও কুয়াশা মিলেমিশে যে পরিবেশ তৈরী হয় এটা সেখানেই পড়তে হবে। তাই কষ্ট করে গোলপোষ্টের মাথায় উঠে আসতে হবে।
কৌতুহল মেটাতে আমি রাজি হয়ে গেলাম। লোকটা গোলপোষ্ট ধরে সোজা নীচে নেমে এল। উঠুন স্যার, একটু কষ্ট হবে। বাহঃ, এই তো উঠতে পারছেন। উপরে পাইপের উপর খাতাটা ঝোলানো আছে। পড়ে চক্ষু সার্থক করুন।
চক্ষু সার্থক করাই বটে! খাতায় লেখা আছে, "আপনি এটা পড়ুন, আমি ততক্ষনে আপনার সাইকেলেটা নিয়ে একটু হাওয়া খেয়ে আসি। আর হ্যাঁ, অতি কৌতূহল ভালো নয়, এটা এবার বুঝলেন তো?"

এই বলে রাকিব মামা চা ও গল্প এক সঙ্গে শেষ করে উঠে দাঁড়াল। আসিরে, অন্যদিন আসবো।

(সংগৃহীত ও ঈষৎ পরিবর্তিত)

মূল লেখক
তরুণ কুমার সরখেল
পশ্চিমবঙ্গ
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইউনূস সাহেব কোথায় যান, কী করেন, বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে কতটা মেশেন, সেসব খবর সংগ্রহ করে ঢাকার পাঠানোর নির্দেশ দেয়া ছিল উচ্চ মহল থেকে

লিখেছেন পলাশ রহমান, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৩৮

ইতালির অন্যতম প্রাচীন এবং শিক্ষাবান্ধব শহর ব্লোনিয়ার সিটি সরকারের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়, জানতে চাই- মুহাম্মদ ইউনূসকে আপনারা কেন নাগরিকত্ব প্রদান করলেন? তিনি একগাল হেসে উত্তর দেন, বাংলাদেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সচেতনতামূলক লেখাঃ আমার মোবাইল ছিনতাই-এর চেষ্টা, কিছু সতর্কতা

লিখেছেন শাওন৮৪, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৫৭

গত বৃহস্পতিবার রাত এগারটার দিকে নীলক্ষেত মোড় থেকে আমার ফোন, এক ছিনতাইকারী বাস থেকে ছিনিয়ে নিল, আমার ঠিক মুহূর্তের আঠালো নজরদারিতে ফেরতও পেলাম। কিন্তু লিখছি অন্য কারণে - আমার পর্যবেক্ষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখে দুর্গন্ধ ??? কিভাবে দূর করবেন ??? আসুন জেনে নেই

লিখেছেন সেচ্ছাসেবক, ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৫৪


আমাদের অনেকেরই মুখ খুললে বা বন্ধ থাকলেও মুখ থেকে গন্ধ বের হয়। এর জন্য অনেকেরই অনেক সময় অনেকের সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অনেকের মুখের গন্ধ এমন প্রকট হয় যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুগে বাঙ্গালীর গুজবে বিশ্বাস

লিখেছেন নতুন, ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১২:৫৯

কিছুদিন পর পরেই দেশে নতুন নতুন গুজব ছড়ায়। আসেন সবাই মিলে এই সব গুজবের পোস্টমাটাম করি। আমি আমার জানা কয়েকটার বিশ্লেষন করলাম। আসুন সবাই মিলে এই গুজব গুলির যৌক্তিক দিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার উড়োজাহাজকে স্বাগতম জানিয়ে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:৫৪

স্বাগতম ব্লগার উড়োজাহাজ, ফিরে আসা উপলক্ষ্যে আবারো স্বাগতম; ফেসবুক, মেসবুক যেখানে যান না কেন, ফিরে আসতে ভুলবেন না; আমরা আছি ব্লগে, কোন ব্লগারকে কিছুদিন না দেখলে আমরা চিন্তিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. মিম আপনার সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আপনি হিরক রাজার দেশে জন্ম নিয়েছেন

লিখেছেন শেখ এম উদ্‌দীন, ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৭:০৭

ঘটনা-১:
জুন ২০১১, ডেভিড ক্যামেরুন তার ডেপুটি নিক ক্লেগ কে নিয়ে লন্ডনের গাইজ হাসপাতালে তার সরকারের স্বাস্থ্য সুবিধার উপর জনগনের আস্থা বা জনগণ কত টুকুন সন্তুষ্ট তা দেখতে যান। এমতাবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন