ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর থেকেই রসায়ন বিভাগের প্রতি একধরনের পরোক্ষ ঈর্ষা অনুভব করতাম।রসায়ন বিভাগের বন্ধুরা ক্লাস নিয়ে যতটা আলোচনা করে, তার চেয়েও বেশি আলোচনা করে তাদের ল্যাব ক্লাস নিয়ে।কত ধরনের কেমিক্যল নিয়ে যে এরা কাজ করে তার ইয়াত্তা নেই।কত দামি দামি রি-এজেণ্ট নিয়ে এর রি-একশেন এর গতি হ্রাস বৃদ্ধি করে।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইউনিভার্সিটি কর্তপক্ষ কিভাবে তাদের এত কিছু প্রোভাইড করে তা নিয়ে এক সময় ভাবতাম।পরে জানতে পারলাম জাপান সরকার ঢাকা ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের প্রধান পৃষ্টপোষক।সেই ১৯৮১ সাল থেকে তারা এই বিভাগটিকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে নিরলসভাবে।সেই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ঢাকা ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগ পৃথিবীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারত অনায়াসে।
জাপানি সরকারের সহযোগিতায় প্রাপ্ত High Performance Liquid Chromatography(HPLC) এবং Atomic Absorption Spectroscopy(AAS) এবং Sweden Upsala University -র সহযোগিতায় প্রাপ্ত Gas Chromatography Mass Spectroscopy (GCMS)(এটি এ যাবত কালের Compound Detection Related সর্বাধুনিক প্রযুক্তি) নামের কোটি টাকার এইসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কোন Element কে খুব সহজেই disintegrate করা যায়।সারা পৃথিবীতে যখন গুড়ো দুধ এ মেলামাইন এর উপস্থিতি নিয়ে ঝড় বইছে তখন বাংলাদেশ এর বাজারে বিদ্যমান দুধ-এ কি পরিমান মেলামাইন আছে তা বের করার দায়িত্ব পায় ঢাকা ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগ। অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরও করা হয় সঠিকভাব।অথচ "যা কিছু ভাল,তার সাথে প্রথম আলো" খ্যত পত্রিকাটি কি জঘন্য খেলাটাই দেখাল!!
প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্টান এর প্রথম স্বার্থই তার ব্যবসা,যেখানে অন্য কোণ রকম মানবতার স্থান নেই। তা যুগ যুগ ধরে প্রমান হয়ে আসছে ,আবারো হ্ল। "প্রথম আলো" গ্রুপ এর গুড়ো দুধ এর ব্যবসা থাকতে পারে,তাই বলে সাড়া দেশের শিশুদের প্রতি তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? ব্যবসা করাই তাদের কাছে সব কিছু? রসায়ন বিভাগ আজ সত্য উন্মোচন তাদের চক্ষুশুল।রসায়ন বিভাগের আসারতা প্রমানে প্রথম আলো-র হীণ চেষ্টা কে নিন্দা জানাই ঘৃ্নাভরে।
ম্যডাম যখন প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সব কিছু খোলাসা করল, তাদের মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার উপযুক্ত জবাব দিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করল,সারাদেশের সকল পত্রিকা যখন হেডলাইন বানাল, তখন "প্রথম আলো" তে এই ধরনের কোন খবর নাই। খবর আছে "সরকার মেলামাইন এর উপস্থিতি নির্ণয় করার জন্য ৮ টি গুড়ো দুধের নমুনা বিদেশে প্রেরণ করছে"
ধিক!! এই ধরনের অপসাংবাদিকতাকে,যেখানে ব্যবসাই হয় মুললক্ষ্য,সত্য যেখানে পদদলিত,মানবতা যেখানে ভুলুন্ঠিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

