উর্বর জলবায়ু, বিশাল অশিক্ষিত জনসংখ্যা, সামাজিক দৈন্যতা, অনিশ্চিত জীবন ব্যবস্থা ইত্যাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শূয়াড় চাষ নিশ্চিতভাবেই একটি বিশাল সম্ভাবনা । আশ্চর্য উর্বর ও অনুকুল এরকম একটি পরিবেশে এখনও কেন শূয়ার চাষ সর্বগ্রহনীয় হয়ে ওঠেনি সে এক বিশাল ভাবনার ব্যাপার ।
অবশ্য প্রচ্ছন্নভাবে, সরকারের উদাসিনতা, প্রশাসনিক দূর্বলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপে ব্যাক্তি পর্যায়ে শূয়াড় চাষকে শুধু মাত্র উপেক্ষাই করা হয়নি বরঞ্চ একে দমিয়ে রাখা হয়েছে । সরকারের এরকম বর্বরোচিত সব বাধা এবং অসহযোগিতা পেরিয়ে আমাদের দেশে শূয়াড় চাষ মোটেও উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিতে পারবেনা ।
অথচ রপ্তানি যোগ্য এই শূয়াড় শিল্পের রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য দেশ সমূহে বিশাল বাজার । এবং এক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় খামার গুলোর উপর ট্যাক্স-ভ্যাট বসিয়ে সরকার তার ঘাটতি বাজেটের বিশাল অংশ পূরণে সক্ষম হতে পারবে ।
তবে আশার ব্যাপার হচ্ছে আমরা থেমে নেই, দৃশ্যমান সরকারের এই বৈমাত্রেয় আচরন সত্বেও (এবং একাংশ অদৃশ্যমান সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়) শূয়াড় চাষ একশ্রেনির মানুষের কাছে দিনকে দিন ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে চলেছে । এবং সফল ভাবেই তারা দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সহ অপরাপর দেশগুলোতে রপ্তানিও করে আসছে ।
.
.
.
চলুন ঘুরে আসি,
আমাদের দেশের এপর্যন্ত সবথেকে সফল শূয়াড়ের খামার ...
বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামী থেকেঃ
... তাদের খামারি, খামার এবং খামার পরিচালনার কিছু দৃশ্য
আমাদের গর্ব, দেশ বিদেশের অহংকার, এই শূয়াড়ের খামারটির আমাদের দেশের স্বাধীনতারও আগে এবং অত্যন্ত সফল এই খামারটি গন্ডগোলের বছর ১৯৭১ সালে তাদের উৎপাদন, প্রজনন এবং বাজার চাহিদা ব্যাপক ঈর্ষনীয় সাফল্যে পৃথিবীতে উদাহরন হয়ে আছে ।
... ১৯৭১ সালে এই শূয়াড়ের খামারের প্রজনন চেম্বারের দৃশ্য
অবশ্য পরবর্তিতে বাজারের ব্যাপক চাহিদা সাপেক্ষে, নতুনভাবে এদের একটি স্বতন্ত্র প্রজনন শাখা খোলা হয়
.
.
.
এর পরপরই আমাদের দেশে আরেকটি জননন্দিত শূয়াড়ের খামার হচ্ছে জে এম বিঃ
অতন্ত কম সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই খামার প্রমান করে, শূয়াড় হয়েও শূয়ারের খামার দেয়া যায়, এবং তা সাধারন শূয়াড়ের খামার থেকে প্রজনন এবং উৎপাদনে কয়েকগুন বেশি কার্যকর । জনশ্রুতি আছে এই শূয়াড়ের খামারের প্রথম পোনা শূয়াড়গুলো সুদুর আফগান থেকে আনা হয় । তাই তাদের প্রজনন ক্ষমতা এদেশের উর্বর মাদ্রাসাভুমিতে কয়েক গুন বেশি বৃদ্ধি পায় ।
অবশ্য পরিতাপের বিষয় যে, উৎপাদনের মাত্রাজ্ঞান না থাকায় এবং আফগানী দুম্বাগমনে কনডমাদি ব্যাবহার না করায় এই খামারের আদি শূয়াড়গুলি শাহাদাৎ বরন করেন ।
তবে আশার ব্যাপার, পরবর্তি সময়ের তাদেরই ঔরশজাত খামারীরা একটু সচেতন এবং সাবধানে চাষাবাদ অব্যাহত রেখেছেন ।
.
.
.
এর মাঝে, গত বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালের সবথেকে আলোচিত শূয়াড়ের খামার হচ্ছে আল বাইয়্যিনাত নামক একটি আন্ডারগ্রাউন্ড শূয়াড়ের খামার । সুদীর্ঘ সময় মাটির তলায় থাকলেও মেরুদন্ডহীন (এবং মেলদন্ডহীন ) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারা লাইম লাইটে চলে আসে ।
... আল-বাইয়্যিনাত খামারের হৃষ্টপুষ্ট শূয়াড় দের দেখা যাচ্ছে মার্কেটিং করতে
.
.
.
এবার আসা যাক, দেশের সবথেকে ভালো ও উন্নত জাতের শূয়াড়ের খামার হিযবুত তাহরীর এর দিকে চোখ ফেরাইঃ
অবশ্য এদের ব্যাপারে আমার একটি পুরানো রিপোর্ট করা শেষ হয়েছে, আগ্রহীরা দেখে আসতে পারেন ।
বোধশূণ্য, আলার ঘরের দুলা, সুযোগের অভাবে চরিত্রবান, সারাজীবন দুনিয়াদারীর খোজখবর রাখেনি, বিড়িসিগারেট খায়না ; দেখতে নাদুস নুদুস, ইয়ো ইয়ো, চেহারায় মাক্ষন মাক্ষন ভাব এই টাইপের পোনা শূয়াড় দিয়া সম্পুর্ন ব্রিটিশ পদ্ধতিতে ফিলিস্তিনি তত্বাবধানে পরিচালিত এই খামারটি বাংলাদেশে শূয়াড় শিল্পে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে । বিদেশের শূয়াড় বাজারে এই নুরানি চেহারার শূয়াড়দের ব্যাপক চাহিদা ।
আর তত্বাবধানে যেহেতু ব্রিটেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শীয়া, ফিলিস্তিন বিশেষজ্ঞরা আছেন, তাই কঠোর ভাবেই এর মান নিয়ন্ত্রন করা হয়।
- + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + -
.
.
.
.
.
আপনিও হতে পারেন এরকম একটি শূয়াড়ের খামারের গর্বিত মালিকঃ
- আপনার সামনে, আশে পাশে প্রচুর ইসলামী লেবাসয়ালা ব্যাংক পাবেন যারা এরকম শূয়াড়ের খামারের জন্য বিশাল অংকের লোন বিশেষ সুবিধায় দিয়ে থাকে,
- আপনার আশে পাশেই পোনা সংগ্রহের অনেক উৎস খুজে পাবেন । বাংলাদেশের হাটে মাঠে ঘাটে অজস্র পোনা অলরেডি অর্ধেক প্রস্তুত হয়ে বসে আছে ।
- জায়গা সংকুলানের চিন্তা করবেন না । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে একটু খুজলে পাবেন এরকম কিছু মাদ্রাসা আছে যাতে আপনার সুবিধার জন্য তারা পোনা গুলোকে অর্ধেক তৈরীই রেখেছে । শুধু আপনার ব্যাঙ্কের ঋনটুকুর অপেক্ষায় তারা বসে আছে ।
.
.
.
আগ্রহী ঊদ্যোক্তারা উৎসাহ দিলে, শূয়াড় চাষের পরবর্তি ধাপ গুলো নিয়ে পরবর্তিতে আরও আলোচনা করা যাবে ।
- + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + - + -
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৯ ভোর ৪:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


