বাসার পাশেই খিলগাঁও তালতলা সিটি সুপার মার্কেট। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে আমাদের মিলন মেলা ছিল এই তালতলা মার্কেট। সেই ছোটবেলা থেকেই যা আমাদের প্রিয় স্হান। হান্নান মামার চটপটি, রাজ্জাক ভাইয়ের চা, মোল্লার দোকানের মিস্টি পান ( লোকমুখে শুনি এখন নাকি সে ফলের ব্যবসা করে ) যা ছিল আমাদের সবার প্রিয়। আমরা কয়েক বন্ধু মিলে একটা সংগঠন ও তৈরী করেছিলাম এই মার্কেট কে কেন্দ্র করে। নাম ছিল "সৃস্টি"। ২১ শে ফেব্রুয়ারী তে সারা রাত জেগে মার্কেটের সামনের রাস্তায় আল্পনা আঁকা, দেয়াল লিখন, পরদিন এই মার্কেটের বারান্দাতেই এলাকার শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সে এক ব্যপক আয়োজন ছিল।আবার বন্যার্তদের জন্য সাহায্য সংগ্রহ এবং তা তদের মাঝে বিতরন। বিজয় দিবস উপলক্ষে দাবা ও কেরাম প্রতিযোগিতা।তার পর প্রতি শীতেই দলবেঁধে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। এমন করেই গিয়েছিলাম সেন্টমার্টিন জীবনে প্রথম বার। এমনি নানান কর্মকান্ডে জমজমাট থাকতাম। তবে বরাবরের মতোই অন্তর্দন্দের কারনে ১ বছরের মাথায় সংগঠন টি কর্পুরের মতোই উবে যায়।
আসলে যা বলছিলাম, আমাদের সকল কিছুই এই মার্কেট কে ঘিরে আবর্তিত হতো। একদিন ঢাকার বাইরে থাকলে মনে হতো কতদিন আড্ডায় যাওয়া হয় না। আশে-পাশে কয়েকটি স্কুল-কলেজ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের আনাগোনা সবসময়ই থাকতো। এলাকার নানান বয়সের পোলাপানে সবসমই গিজ গিজ করতো মার্কেটের গোলচত্তর। মাঝে মাঝে যে দু একটা অপৃতিকর ঘটনা ঘটতো না এমন নয়। তবে যা ছিল সবসমই অনাকাংখিত।
আজকে জীবিকার তাগিদে কে কোথায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নিজেও জানি না। মজনু, রাসেল,মোজাম্মেল, কবির,ইকবাল, জুয়েল , আনকমন(রাসেল), নয়ন, মন্জু ওরা এখনও ঢাকাতে। শাহিন বৌ বাচ্চা নিয়ে চাঁদপুরে, লিটন সৌদি, হিরু পড়ে আছে ইটালি, আরেফিন শেষ বার শুনেছিলাম দুবাই ( এখন কোথায় জানি না ), নাজমুল আছে শেয়ার ব্যবসা নিয়ে মেতে। এমনি ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছি আজ আমরা। তাই মাঝে মাঝে মনে পড়ে মান্না দার সেই বিখ্যাত গান টা " কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই.......।"
স্রষ্টার কাছে শুধু একটাই মিনতি যে যেখানে যে অবস্হাতেই থাকুক না কেন যেন ভাল থাকে। এই শুভ কামনা রইল সকলের প্রতিও।
এখনও কফিহাউস .............।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৯:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



