আমার বাসায় রাতেই অনেকে চলে এলো ব্যাগ নিয়ে। পরদিন ভোরে উঠেই রওনা হলাম। বাসে গেলাম রাজবাড়ি এক বন্ধুর বাসায়। ওরা আগে আমাদের মহল্লাতেই ছিল। ওকে বলা ছিল আগেই কোথায় যাব আমরা। মেলা দিন পর দেখা..।
বিকালে ট্রেনে করে রওনা হলাম কুষ্টিয়া। সেখানে ছোটনের বাসাতেই প্রথমে থাকার ব্যবস্হা হল। পৌঁছাতে রাত হয়ে গিয়েছিল যদিও তবু তার বাসায় এতো খাবারের আয়োজন ছিল আমরা সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। খেয়েছিলাম ও প্রচুর। ওদের বাসার পাশেই ছিল রেলষ্টেশন। রাতের খাবারের পর সবাই গেলাম ইস্টিশনে চা খাওয়ার জন্য। চলে আসার সময় আরেক বিপত্তি। তখন মাত্র একটা ট্রেন এসেছে। গেটে দারোয়ান ভাই দিলেন আমাদের আটকে বিনা টিকেটের যাত্রি ভেবে। ভাগ্যিস সেই সময় ছোটনের এক বড় ভাই সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। উনি আসাতে সে যাত্রা বেঁচে গিয়েছিলাম। বাকি রাতটা পার করেছি কোন ঝামেলা ছাড়াই।
পরদিন সকালে গেলাম লালনের মেলায়। দূর দূরান্তথেকে হাজার হাজার মানুষ এসেছে মেলায়। ছোট ছোট নানান দলে ভাগ হয়ে এখানে সেখানে জটলা করছে সবাই। একজায়গায় দেখলাম গান হচ্ছে লালনের। বসে গেলাম সেখানে গান শুনতে। তন্ময় হয়ে গান শুনছিলাম আর ভাবছিলাম লেখা পড়া না জানা এই লোকটা কি করে এত কঠিন গান লেখতো? যার সুর , ছন্দ সবই তার নিজের করা। কত গানের যে কত অর্থ হতে পারে লালনের গান না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন।
তবে সাধু সাবধান। শেষ করার আগে একটা কথা বলে যেতে চাই , মেলায় নানান কিসিমের লোক আসে। এর একটা অংশ পরের সর্বনাশ কি ভাবে করা যায় সেই কাজে লিপ্ত থাকে। এদের থেকে সাবধান থকবেন কখনও গেলে। আমার এক বন্ধুর পকেট সাফা করে দিয়েছিল।
লালন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে নিচের সাহায্য নিতে পারেন।
http://en.wikipedia.org/wiki/Lalon
আর গান শুনতে চাইলে .................
http://www.ferdous.org/lalon.htm
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


