somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক 'কবি'র কাণ্ড : ডাকাতি, নাকি চুরি, নাকি নকল, নাকি মেধার বিস্ফোরণ! (রিপোস্ট)

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দয়া করে আপনারা এখানে দেয়া কবিতাটা পড়ুন, আর আমার এখানে ব্লগিত কবিতাগুচ্ছ পড়ুন। তারপর এই 'মেধাবী' কবির প্রতিভার মূল্যায়ন করুন।

আমি তাঁকে একটা মেইল করেছিলাম, কিন্তু তিনি উত্তর দেননি। মেইলটা এখানে তুলে দিলাম নিচে।

.......................................

কোনো বিশেষ কারণে আপনার ব্লগ পড়া বাদ দিয়েছিলাম। আজ প্রথম পাতায় আপনার কবিতার প্রথম চার লাইন পড়তে গিয়ে হঠাত এক জায়গায় চোখ আটকে যায়..........অদ্ভুত অন্বেষায়...রাত ছুটে চলে সমুদ্র মন্থনে........... এ হলো অতি মৌলিক গাঁথুনি, যা সামহয়ারে গতকাল প্রকাশিত আমার এক কবিতার একটা পঙক্তি থেকে তোলা। তারপর ভেতরে ঢুকি আপনার ব্লগের.............সুতীব্র অভিমানে, বুকের ভেতর বাজছে যখন অগ্নিবীণা, তীব্র খরার আগুন, এই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, ইত্যাদি........ আপনি যদি কবি হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানেন রচনার মৌলিকত্ব ও উপমা প্রয়োগের মৌলিকত্ব একজন কবির কবিত্বের বড় গুণ, যা কবিগণ সব সময়ই অর্জন করার জন্য প্রাণান্ত থাকেন।

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা একটা ফান পোয়েম বোধ হয়, যা আপনি বিভিন্ন কবির কবিতাংশ জুড়ে দিয়ে লিখে ফেলেছেন। কিন্তু পাঠকের প্রতিক্রিয়ায় আপনার এ সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য না থাকায় এবং আমার মন্তব্যটি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ায় সন্দেহ দৃঢ় হলো।

সামুতে আপনি আফরোজ জাহান। আপনাকে সিনিয়র লেখক মনে করে খুব শ্রদ্ধা করি। এ কবিতাটা লিখে আপনি যা করেছেন আর কেউ না জানুন, অন্তত আপনি জানেন আর আমি জানি।

তাই কবিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনার এই ককটেল কবিতাটা চিরতরে মুছে ফেলুন, আর এ কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। সত্যি কথা, ওটা কবিতা হয় নি।

ধন্যবাদ। আর আজকের শুভেচ্ছা নিন।

আফরোজের 'কবিতা'টা দেখুন এখানে।

************************************************

আমার অন্য যুগের সখা


নিঝুম অনন্ত নক্ষত্রের রাতে এই পৃথিবী ঘুমে অচেতন
অদ্ভুত অন্বেষায় নিশির ডাকে রাত ছুটে চলে সমুদ্র মন্থনে,
চন্দ্রালোকিত পৃথিবী ভেসে যায় কোমল জ্যোছনার বন্যায়
নবীন যৌবনময় প্রাণে আনন্দে বিভোর হৃদয় বীণার তানে।

সহসা মন প্রজাপতি চঞ্চল ডানা মেলে
সন্ধ্যামালতীর রাঙা রসে আমার ওষ্ঠ রাঙাই
দুটি পলাশ গুজে নেই খোঁপার ভাঁজে
লজ্জা রাঙানো আভায় রাঙাই শরীর
রঙেরা সব স্নান করে নেয় মনের রঙে
নিলাম্বরী শাড়ির ভাঁজে জ্যোছনা লুকাই
আশন্কাতে বুকের আঁচল কাঁপল যেন প্রবল ঝড়ে।

আমি নীল আকাশে এক খন্ড সাদাটে মেঘ হয়ে
ভেসে ভেসে উড়ে যাই অজানায় খুঁজে ফিরি তোমায়
অবশেষে মায়াবিনী অভিসারিকার বেশে পৌঁছি তোমার দেশে
হঠাৎ তোমার আঙিনায় অভিসারিকার মনের স্পন্দন লাগে
ফুলেরা হেসে ঢলে পড়ে , কলিরা ব্যস্ত হয় ফুটবে বলে
স্বাগত জানায় হাসনাহেনা বকুল মালতি অপরাজিতা
কোকিল অক্লান্ত গাইছে মনভাঙ্গা গান
বিমুগ্ধ নয়নে দেখি নক্ষত্রের প্রখর স্ফুলিঙ্গের মতো উজ্জ্বল মুখ
যেন সপ্তর্ষির একটি তারা তুমি, আমারি স্বপ্নে বিভোর তোমার মন
তুমি সৌম্যকান্তি সুঠাম পুরুষ যেন ঘুমিয়ে কোন দেবদূত
পৃথিবীর সব রূপ যেন তোমার মায়াময় মুখখানিতে।

সুতীব্র অভিমানে
বুকে আমার জ্বলছে ভীষণ রুদ্র খরার আগুন,
নিয়ে রুদ্ধশ্বাস ভালোবাসা নিবিড় সঙ্গোপনে
আমি পুড়ছি অনন্তকাল তোমার প্রেমের আগুনে
একান্ত নিজের মত করে পেতে চেয়েছি তোমায়
আমি যুগ-যুগান্তর ধরে খুঁজে ফিরছি তোমায় যেন
একবুক শুন্যতা নিয়ে যেমন তৃষ্ণার্ত পথীক
চায় শুধু এক আঁজলা জল।

তুমি শরতে নদীর তীরে ফুটে থাকা কাশফুল
স্বচ্ছ সরোবর ফুটে থাকা অপরূপ শতদল
নাকি শীতের সকালে ঘাসের ডগার শিশির বিন্দু?
মোহিনী স্পর্শেও যে ঝরে যায় অকাতরে,
মহীরুহ তুমি তপ্ত দুপুরে পথিককে দাও ছায়া
প্রচন্ড খরায় উত্তপ্ত ভূমিপৃষ্ঠে এক পশলা বারিধারা।

পরিজাতের রেণু এল দখিনা বাতাসে ভেসে কিসের আমন্ত্রনে
ভেঙ্গে ফেলে সব লাজ বসি তোমার শয্যাপাশে
কেশমাঝে অঙ্গুলি সঞ্চারী জাগাই তোমায়
যেকথা হয়নি বলা এজীবনে শুধাই নয়নে নয়নে নীরব ভাষায়
বুঝবে না কী রক্তক্ষরণ এই হৃদয়ের মাঝে
বুকের ভিতর বাজছে এখন অগ্নিবীণা,

দেখনা চেয়ে আমায় তুমি চিনতে পার কিনা।

এখন পাশাপাশি বসে দু'জন কথা হারা,
টুপ করে কি পড়ল খসে সন্ধ্যা তারা
পারিজাতের পাপড়ি ছিড়ে টিপ পরালে
ভালবাসার মোহনমায়ায় ঘোর লাগালে
দিলে আমায় বাসন্তী রঙের ভালবাসা
ছোট্ট জীবনের এক টুকরো আনন্দ
তুমি আমার বসন্ত, শারদ শিশির, রক্তপদ্ম
আমি হাসলাম বললাম আমি পারিজাত নেব
তোমাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই আমার মন মন্দিরে।

দখিনা বাতাস হঠাৎ গেল স্তব্ধ হয়ে
পাতারা নি:শব্দে পেতে রইল কান
ফুলেরা সুরভী ছড়ালো ভুললাম যত অভিমান
আধো আলো আঁধারে অভিসারের ক্ষন ফুরালো
ভূ -লুন্ঠিত জলে ভেজা অভিসারিকার আঁচলে সময় জড়ালো
সকলে স্বাক্ষী তোমার আমার বিমূর্ত প্রহরের।
তোমার স্বপ্নে এসেছিলাম আমি তোমার স্বপনপ্রিয়া
স্বর্ণালী সকালে ঘুম ভেঙ্গে চেয়ে দেখবে আমি অন্তর্হিতা।




************************
আমার কবিতাগুলোও দেখুন
************************


এক ঝাঁক গ্যালাক্সি
বৃক্ষবীথি ধরে ধরে ধাবমান দ্রুত। অদ্ভুত অন্বেষায়
রাত ছুটে চলে সমুদ্র মন্থনে।

তুমি? একফালি ব্যবচ্ছেদ মহাশূন্যতায়।



আমার প্রেম পাওয়া হয়ে গেছে,
এবার তবে
যেতে পারিস যথাতথা, মহোতসবে।
সবই তুই দিস, শুধু যত্ন করে
আমার জন্য রাখিস তোর মনটা ধরে।


তোমার কাছে চাইনি কিছুই, মণি-মুক্তো-হেম
জীবন ভরে চেয়েছিলাম এক টুকরো প্রেম।


তুমি ঠিকই জানো, আমি সবই জেনে গেছি
মনের কথাটি তবুও ঘুরিয়ে বলো;
কেন তুমি শুধু মন নিয়ে খেলা করো?
কেন তুমি এতো লুকোচুরি খেলা খেলো?


তোমার কাছে কী চাই, তুমি জানো কি?
প্রেম এবং বাতসল্য- এ দুটোই।


তোকে সেই কবে থেকে চিনি,
তুই এক আগুন, পুরুষবিদ্বেষিনী।
তারপর কেন খুন হলি সেই
নরের হাতেই?

যেদিন তুই খুন হলি
সেদিনই আমি মরে গেছি।
কেন এমন করলি ভুল
সর্বনাশী লালকেশী?


কখনো মনে হয় ভালোবাসি
আবার মনে হয় বাসি না।
বলো তো তোমার অবস্থা ঠিক
আমার মতোই হয় কিনা?


আঁসুর অনলে ক্ষয় হয়ে গেল ঘুমহারা দুটি আঁখি
তোর সে কবিকে কেমন করিয়া গিয়েছিস ভুলে, পাখি?
তোর সে কবিকে আর কি এখন তেমনটি মনে পড়ে
পড়তো যেমন রাতদুপুরের ঝুমবৃষ্টি ও ঝড়ে?
ঝুমবৃষ্টিতে ভিজে ভিজে তুই কতদিন খুঁজেছিলি,
কতদিন তুই খুন করেছিলি দুপুরের নিরিবিলি;
এইসব স্মৃতি মনে পড়ে আর চোখ ফেটে আসে জল,
তোর সে কবিকে কেমন করিয়া ভুলে যআবি তুই, বল?


কথা দিয়ে তুই কথা রাখবি না, মনে হয়নি তা একটিবারও
সবখানি ভুল ভেঙে দিয়ে সখি সত্যিই তুই কথা রাখলি না!
তুই কি ভেবেছিস তোর কোনও কথা সত্যি মানিব এমনি আরও?
আর কি তা হয় বুকের ভিতর বাজছে যখন অগ্নিবীণা!

১০
পৃথিবীর সব রূপ তোর মুখখানিতে
তাই আর কোনও রূপ পারিল না টানিতে।

১১
বয়স আমার দুই-কুড়ি এক, তোরই সমান সমান
এমন মধুর বয়সকালে মন হলো তোর পাষান!
তোর যে বুকে জ্বলছে ভীষণ রুদ্র খরার আগুন
তোর কবিকে বল পাষাণী করলি কেন খুন?

১২
ভুলে যাবি তুই? যা না
যুগ যুগ পর একদা হঠাr
পাতাল ফুঁরিয়া জাগিয়া আবার
অতর্কিতে তোর বুকে দিব হানা।
তারপর তোর কলজে খাবো,
তখন করবি কী তুই-
সহসা আবার পালাই যদি ছাড়িয়া বিশ্ব-বিভূঁই?

১৩
যা তুই তবে হারামজাদী, খেলার মাঠেই যা
তোর লাগি ক্যান অশ্রু দিব শুধুই খামোখা?

১৪
আমার কবিতার ভাষা করাতের মতো যদি হতো
তোর বুকের অন্তর্গত করে দিতাম এক লক্ষ ক্ষত।

১৫
আমার সকাশে তোমার সহজ আত্মসমর্পণ
তোমার প্রেমকে করেছে ধূসর-ম্রিয়মান-নিষ্প্রভ।
তোমার প্রেমের জন্য আমার সংগ্রাম আমরণ
আজই দিয়ে দিলে? কিসের জন্য আর তবে বেঁচে রবো?

১৬
এতোদিন তুই শূন্যতা ছিলি, অস্তিত্ববিহীন
আমার কবিসত্তায় এখন তুই-ই নিত্যদিন।
তুই-ই ধ্রুব, তুই-ই সত্য, আমার ত্রিকাল তুই
তসবিদানায় তোর নাম জপি, তোর নামখানি ছুঁই।

১৭
আমি তোর কৃষ্ণ পাগল, তুই পাগলিনী রাধা
জন্ম-মৃত্যু-ত্রিকাল পড়েছি বিষম প্রেমেতে বাঁধা।

১৮
তোর রক্তের নিউক্লিয়াসে বেঁধেছি আমার বাসা; তাহলে প্রমীলা বল,
বাঁচবি কেমন করে আমাকে ছাড়া?

১৯
নিমাইচন্দ্র সন্ন্যাসে যায়, তখন
গৃহেতে বধূ অঘোরে ঘুমায়। তুইও কি অভাগী
তেমনই ঘুমালি, হায়!

২০
হারিয়ে গেলে
হন্যে হয়ে
আমাকে তুই
খুঁজবিই
এ বিশ্বাসে
যখন তখন
গহীন জলে
ডুব দিই।
কষ্ট দিলে
কষ্ট পাবি
তাই তোকে দিই
কষ্ট
তোর প্রেমেতে
সন্ন্যাসী, তাই
তোর প্রেমেতেই
ভ্রষ্ট।

২১
তুই কি আমার নীল উচাটন পাখি?
বুকের ভিতর তোর বেঁধেছিস বাসা
অন্য কোথাও শান্তি যদি পাবি
এই বুকে তুই কেন করিস
নিত্য যাওয়া-আসা?

বুকের ভিতর বাঁধলি বাসা কেন
পাখি আমার হারিয়ে যাবি যদি?
অন্য কোথাও শান্তি যদি পাবি
আমার কেন করলি দু চোখ নদী?

২২
স্ত্রীরূপে করেছো সংসারী, প্রেমিকারূপে কবি
সংসার আর প্রেমের মাঝারে তুমি মনোজ্ঞ ছবি।

২৩
এখনও মনে হয়, সুতীব্র অভিমানে তুই
মেঝের উপর আছড়ে ফেলিস মুঠোফোন, আর আমি সবেগে ছুটে এসে
নীরবে পেছনে দাঁড়াই, সন্তর্পণে ঘাড়খানি তোর ছুঁই।
অমনি সচকিত ঘুরে
একফালি হাসি ঝেড়ে আহ্লাদে ছিটকে যাস দূরে।
এখনও মনে হয়, একদিন সোনালি প্রত্যূষে
নিবিড় দাঁড়িয়ে আছি চৌমাথার ধারে
আর হাসনাহেনার মতো সুগন্ধি ছড়ানো তোর হাসিমুখ
ভেসে আসে আবছা আঁধারে।

মাঝে মাঝে ভ্রম হয়, মনে হয় আজও আছে সবকিছু ঠিকঠাক,
অবিকল সেদিনের মতো
তারপর দেখি হায়, তুই নেই, আছে শুধু তোর দেয়া একবুক ক্ষত।


২৪
আগাছা ঠেলে যতই বনের গভীরে যাবি
ততই পক্ব-পুষ্ট ফল ও বৃক্ষ পাবি।
বুঝলে তবে ভিতরে যা
দেখে শুনে কী খাবি খা।

২৫
তুই যে বড় বলিস, কৈশোরেরও কাল হতে
আমায় ধরে আছিস মনে, তাহলে প্রমীলা চল্, আমরা ফিরে যাই
বিশ বছর আগেকার প্রথম যৌবনে।
আমি তো ছিলাম অভাগা 'যতিশংকর' এক, এমন কেউ নয়
তোর চোখে পড়বার মতো;
তুই কি জানিস, একটানা কতদিন কাটিয়ে দিতিস
একবারও না তাকিয়ে আমার পানে। আমার ছিল না কেউ
দেখবার অন্তরের সেই রক্তাক্ত ক্ষত।

কখনও সহজ চোখে, কখনও বিরক্তিতে
কখনও তোরই প্রয়োজনে,
কখনও অভ্যাসবশত, কখনও ভুলে-ভাটে অতর্কিতে
তোর চোখের আলো এসে পড়তো আমার নয়নে-
অমনি রুদ্ধশ্বাস ভালোবাসা ছুটতো ফিনকি দিয়ে অন্তর্প্রস্রবণে,
নিবিড় সঙ্গোপনে। তা তুই জানতিস না কিছুই। প্রমীলা, আজ তবে চল্
আমরা ফিরে যাই বিশ বছর আগেকার প্রথম যৌবনে
অমোঘ প্রেমের বৃন্দাবনে।

২৬
আকাশের এপার হতে ওপার যেত ছেয়ে
তোর নামে যে কবিতা লিখেছি তার বর্ণমালা দিয়ে।
তুই বললি, হাহ্, চাই ভস্ম কীসব লিখেছিস!

যেদিন চলে যাব তোর অকিঞ্চিr অবহেলা আর
উপেক্ষার দিন শেষে, এসব অকবিতা আর চিঠির
কথাগুলো সাজিয়ে কিছুটা কবিতা করে দিস,
আমার যাবার পরের কোনও এক উrসবে।

২৭
এখানে ওখানে পিছলে পড়ার কত হয় উপক্রম
তখনই তোমায় মনে পড়ে আর ভুল হয় উপশম।
অন্তরে তুমি বিরাজ করো হে, ওহে অন্তরতর
আমায় তুমিই নিখাদ করেছ, করেছ শুদ্ধতর।
কোনওদিন যদি এমনটি হয়- হয়েছি স্খলিত
ভাববো পেয়েছি অভিসম্পাত, শুভাশিস পাইনি তো।

২৮
'তুই আজকাল বড্ড অসতী পাঠক হয়ে গেছিস-'
'উহহু হলো না- পাঠিকা।'
'পারিস তো শুধু এই অর্থহীন যতো তর্ক। আমি জানি না
তবু তোর সাথে কেন এখনও রেখেছি সম্পর্ক।'
'আমি কি চেয়েছি? ছেড়ে দে তুই। আর করিস না
যখন তখন ডিস্টার্ব।'
'তাই-ই হবে। ডায়েরিগুলো আজই শ্রেডারে দিয়ে দিব।
তোর নামে লেখা বই, উত্সর্গপত্রগুলো- যা যা আমার
গল্প-উপন্যাস
আছে তোর কাছে, পুড়িয়ে ফেলিস সব; এসব জঞ্জাল রেখে কী লাভ?'

২৯
ভোরের কুয়াশায় ট্রেনে চাপতে প্রমীলার সে কী ভয় :
যদি বা অলক্ষণে একটা নিদারুণ কিছু হয়!
তাহলেও ইমরান, তুই প্রমীলাকে ফোন করে বলে দিস
আমাকে শীঘ্রই ফিরতে হবে, সকালেই।
আমি যদ্দূর জানি, কুয়াশায় দিগ্দর্শনে বিঘ্ন ঘটে না ট্রেনের
তাই দুর্ঘটনারও এতটুকু সম্ভাবনা নেই।
যদিবা দৈবাr টাঙ্গাইলের বাস দুর্ঘটনার মত ট্রেন দুর্ঘটনায়
একটা লাশ আমি হয়ে যাই
তাহলে ইমরান, তুই সব দেখে রাখিস, তোকেই সব
ভুবন দিয়ে দিলাম- আমার সব পাওয়া হয়ে গেছে,
অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা আর নাই।

৩০
কেন তুই মেয়ে দশ গেরামের হলি ঝাড়া সুন্দরী?
আমি পুড়ি তোর প্রেমের আগুনে, লোকে বলে প্রেমে মরি।

৩১
শয়নে স্বপনে ঘুমে জাগরণে
সখী তোর কথা কেন মনে পড়ে?

৩২
হৃদয় উজাড় করে তোকে ভালোবেসেছিলাম
বন্ধুরে তুই এই কি দিলি দাম?
তোর তো দারুণ কাটছে সময় আড্ডা কিংবা কাজে
বুঝবি না কী রক্তক্ষরণ এই হৃদয়ের মাঝে।

৩৩
ভালোবাসার সংগা নেই কোনও
ভালোবাসা এক গভীরতম আবেগ এবং অতি তা সাময়িক
সাময়িক শুধু নয় তোর আর আমার প্রেম প্ল্যাটুনিক।

৩৪
তুমি হবে নব ইতিহাস সারা দেশ জুড়ে তুলে ঝড়
আকাশে উড়াতে রইলো আমার দু-এক টুকরো খড়।

৩৫
একদিন তুই আকাশ ছুঁয়ে মাটির পানে দেখবি না আর চেয়ে
নির্বোধ এক অ-কবিকে অতোদূর হতে চিনবি না তুই মেয়ে।

৩৬
পথের দুরন্ত বালক ঘরে ফিরে সন্ধ্যা হলে
মায়ের চিরকেলে আঁচলের তলে।
আমি এক অশান্ত ঘুড়ি
বিশাল আকাশ জুড়ে মত্ত নাচানাচি, দিগ্বিদিক ওড়াউড়ি।
যখনই মাটির পানে তাকাই
দেখি ঘুড়ির সুদীর্ঘ সুতো আর নাটাই
ঠিক তোমার করতলে:
আত্মপ্রসাদে দুষ্টুমির হাসি
হাসছো মিটিমিটি। অদ্ভুত অন্তরঙ্গ খেলা এ তোমার।
চিরকাল বিজয়িনী তুমি, তোমার সকাশে আমি পদানত বারবার।

৩৭
ঝর্ণা,
আপনি শূন্য দিন, এমনকি মাইনাস, এমনকি কিছুই না দিন
আপনি পড়েছেন, তাতেই ধন্য, সারাজীবনের ঋণ।



সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫৫
১৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×