somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ই-ফ্রেন্ড

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় মাস দুয়েক পর শাহানা বুক হাউজের মামুনের সাথে দেখা করতে গেল শাহিদ, যদিই বা তিশা কিংবা মিমি নামের সেই রহস্যময়ী নারী কিংবা যুবতী তার দেয়া তরুণ কণ্ঠ নিয়ে গিয়ে থাকে, সেজন্য। তরুণ কণ্ঠটি মিমির হাতে পৌঁছলে সে নিশ্চয়ই শাহিদের সাথে যোগাযোগ করবার জন্য অস্থির হয়ে উঠবে। ওখানে সম্পাদকীয় দফতরে প্রধান সম্পাদকের নামটি দেয়া আছে আবিদ করিম, মিমি যদি খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে তাহলে দেখবে আবিদ করিম নামটার নিচে একটা ফোন নম্বর দেয়া আছে, তার নিচে আরো একটা মোবাইল নম্বর লেখা আছে- ০১৭১৫০২৯৫০৩, মিমিকে এই মোবাইলে ফোন করতে বলেছিল সে। মিমির সন্দেহ হবে, কে এই আবিদ করিম লোকটা? সে-ই কি রনি নয়? ওই ফোন নম্বরটি থেকেই কি এতোদিন ধরে কেউ একজন তার সাথে কথা বলছে না? তারপর ভিতরে সুন্দর ভাঁজ করা কাগজটা খুলবে, ঝলমলে অক্ষরের একটা নিদারুণ করুণ কবিতা তার সামনে প্রতিভাত হবে। কবিতা সে ভালোবাসে না, তারপরও রুদ্ধ নিঃশ্বাসে সে এটি পড়বে, কারণ এটি তাকে নিয়ে লেখা, পড়তে পড়তে কবির প্রতি এক প্রচণ্ড আকর্ষণবোধ জন্ম নেবে তার মনের ভেতর। কে এই কবি? নিশ্চয়ই রনি ওরফে আবিদ করিম নামের এ লোকটা, কিংবা টগবগে যুবকটা। এভাবেই হয়তো নতুন করে পরিচয়ের একটা সূত্র পাওয়া যাবে। তাতে যে ঠিক কতোখানি লাভ হবে তা-ও শাহিদের মাথায় পুরোপুরি ঢুকছে না।
তবে তরুণ কণ্ঠ এখনো মিমির হাতে গিয়ে পৌঁছে নি এ ব্যাপারে সে কিছুটা নিশ্চিত। পত্রিকা নিয়ে আসার জন্য যে মেয়ের এতোখানি আগ্রহ থাকবে, সে অবশ্যই ওটি নিজের কাছে নিয়ে আসার পর শাহিদকে ফোন করবেই - তাকে নিয়ে লেখা একটা কবিতার জন্য মুগ্ধ প্রতিক্রিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য।
শাহিদের ধারণাই সত্যি, মিমি তরুণ কণ্ঠ নেয় নি। তার বুকের আবেগ এখন আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে - যদিও তার মনের মধ্যে এখনো একটা সূক্ষ্ম আশা জেগে আছে যে একদিন মিমি এসে মামুনের কাছে তরুণ কণ্ঠ চাইবে, শাহিদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেবে, অতঃপর তাদের ঝিমিয়ে যাওয়া পরিচয় ও পরিণয় নতুন মাত্রা পাবে। প্রেম গাঢ়তর হবে। তবে সে মনে মনে এ কথাটি শোনার জন্য প্রস্তুতই ছিল যে কেউ তরুণ কণ্ঠের খোঁজ করে নি।

মামুনের কাছ থেকে সে তরুণ কণ্ঠের খামটা ফেরত চাইল না। পড়ে থাক - যুগ যুগ ধরে এখানেই পড়ে থাক, সে নিজ হাতে এগুলো আর কক্ষণোই স্পর্শ করবে না। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও না।

নীলক্ষেতের মোড় থেকে খুব অলস পায়ে ভার্সিটি এলাকার দিকে হাঁটতে থাকে শাহিদ। বাম দিকে হোটেলের সারি, ডানদিকে খোলা রাস্তায় বইয়ের স্তুপ। রঙিন কপোতীরা ভিড় করে দাঁড়িয়ে প্রিয় বইয়ের সন্ধান করে। শাহিদ অপরাপর সময়ে এ পথে হাঁটতো, আর দণ্ডায়মান ললনাদেরকে এক নজর দেখে চোখের তৃষ্ণা মেটাতো। আজ তার কাছে সব কিছুই পানসে, বিস্বাদময় মনে হয়। সোজা সামনের দিকে মাথা নিচু করে সে হাঁটছে। অন্য কোনো দিকে চোখ নেই, মন নেই।
'ক' বইটা আছে?
হঠাৎ শাহিদ চমকে দাঁড়ায়। ঠিক তার এক কদম পেছনে ডানপাশের বইয়ের দোকানটার সামনে দাঁড়িয়ে যে মেয়েটি 'ক' চাইল, সেটি তার বহুদিনের পরিচিত কণ্ঠস্বর - সে মিমি।
ঘুরে দাঁড়িয়ে সে মিমির কাছাকাছি চলে আসে। এটা কি বসন্তকাল? মিমি একটা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরেছে। তার চুলগুলো বাঁধা। শাড়ির রঙের মতো তার ঘাড়খানি কাঁচা হলুদ বাটার মতো ফুটে আছে।
মিমির প্রায় কানের কাছে গিয়ে শাহিদ খুব নরম স্বরে বলে ওঠে, এক্সকিউজ মি! মিমি চকিতে ফিরে তাকায় ও মুখোমুখি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সমস্ত বিস্ময় ও আনন্দ দুজনের চোখে মুখে বিজলির মতো ঝিলিক দিয়ে ওঠে।
শাম্মী! শাহিদের কণ্ঠস্বরে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের উচ্ছ্বাস।
শাহিদ! তুই এখানে! আবেগে শাম্মীর মুখে কথা সরে না।
দুজনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বললো। তারপর ঢুকলো পাশের এক হোটেলে। সেই কতো বছর আগের কথা, এক স্কুলে পড়েছে। শাহিদ এরপর গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে এলো, কিন্তু শাম্মী কোথায় লেখাপড়া করেছে তা সে জানে না। স্কুলে পড়ার সময় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মতোই এদের মধ্যে অতি সাধারণ কথাবার্তা হতো। কিন্তু এতোদিন পর হঠাৎ দেখা হওয়ায় মনে হচ্ছে যেন কতোদিন ধরে এদের মধ্যে বিশেষ হৃদ্যতা ছিল, আজ তা প্রবল আবেগে প্রকাশ পেয়ে গেছে।
শাহিদ কৌতুক করে বলে, তুই যে কতো সুন্দর হয়েছিস তা কি তুই জানিস?
যাহ্‌! শাম্মী কৃত্রিম ভর্ৎসনা করে বলে, আমি আবার সুন্দর হতে যাবো কেন? আমি হলাম হাঁড়ির মতো কালো। বলেই মিষ্টি করে হাসতে থাকে শাম্মী। সেই হাসির ছটায় ওর সর্বাঙ্গ খলখল করতে থাকে। শাহিদের মনও ব্যাকুল হয়ে ওঠে- সেই কণ্ঠস্বর, মিমির মতো ঠিক সেরকম করে শাম্মী বলে, 'আমি হলাম হাঁড়ির মতো কালো।' মেয়েদের কণ্ঠস্বরে এমন অদ্ভুত মিল হয় কী করে? শাহিদ আশ্চর্য হয়ে ভাবে।
তোর কথা বল্‌, শুনি। শাম্মী বলে।
আমি আর কী বলবো, তোকে দেখে দেখেই আমি পাগল হচ্ছি। তুই কথা বল, আমি শুনি আর তোকে প্রাণ ভরে দেখি।
ইশ্‌! শাম্মীর চোখে মুখে মিষ্টি হাসির ঝিলিক। সে বলে, আমার জীবনটা ধন্য হয়ে গেল রে।
তার চেয়েও বেশি ধন্য হলাম আমি, তোর মতো একটা অসাধারণ সুন্দরীর সাথে দ্বিতীয় জীবনে দেখা হলো বলে।
খুব চাপা মারছিস কিন্তু।
চাপা মারবো কেন? তুই যে একটা জ্বলন্ত আগুন এটা কে না বলবে?
তুইও বলিস? শাম্মী খুব গভীরভাবে শাহিদের দিকে তাকায়।
বিশ্বাস হয় না?
আগে তো কখনো বলিস নি।
আগে কখনো বলবার সুযোগ দিয়েছিস?
সুযোগ কি কেউ কাউকে করে দেয়? এটা নিজেকেই করে নিতে হয়। হয় না? বলে আরো গাঢ়ভাবে সে শাহিদের দিকে তাকায়। সেই চাহনিতে যে আকর্ষণ, সৌন্দর্য, মমতা ও ভালোবাসা মিশে আছে তা মুহূর্তে শাহিদের বুকের গহীনে গিয়ে একটা প্রচণ্ড আঘাত হানে।
তোর কথা আগে কখনো ভাবি নি তা নয়। তবে এতোটা গভীর করে ভাবি নি এটা সত্যি। কিন্তু আমার কথা কি কেউ কখনো ভেবেছিল? শাহিদ জিজ্ঞাসা করে।
কেউ কি কখনো তা বোঝার চেষ্টা করেছিল?
আশ্চর্য, আমি কিন্তু কোনোদিন ঘুণাক্ষরেও টের পাই নি।
তোর কি একটা ঘটনার কথা মনে আছে?
কোন্‌টা?
মনে নেই, কে যেন তোর কবিতার খাতাটা দেখতে চেয়েছিল?
সত্যিই মনে নেই। কে দেখতে চেয়েছিল? তুই?
থাক।
বল্‌ না?
আরেকটা দিনের কথা বলবো?
বল্‌।
স্কুলের গাছ থেকে তোকে আম পেড়ে দিতে বলেছিলাম।
দিই নি?
প্রচুর আম পেড়েছিলি।
তো?
সেগুলো ক্লাসের সবগুলো মেয়েকে বিলিয়ে দিলি।
আর তোকেই দিই নি?
আমাকে দিলেই বা আমি নেব কেন?
কেন? নিস নি কেন?
আমি বললাম আম পাড়তে, তুই আম পাড়লিও, সবার মধ্যে সেই আম বিলিয়ে সবার মন জয় করবি, আমি তা মেনে নেব ভাবছিস?
শাম্মী, তুই বিশ্বাস কর, আমার এই মুহূর্তে আম-টাম পাড়ার কথা কিচ্ছুই মনে পড়ছে না। তবে সত্যি সত্যিই যদি আম পেড়ে থাকি তবে সব মেয়ের মন পাবার জন্য নিশ্চয়ই আমি আম বিলিয়ে দিই নি। এমন হয়তো হয়ে থাকতে পারে যে আমগুলো পেড়ে এনে মেয়েদের সামনে টেবিলের ওপর ফেলে রাখলাম, মেয়েরা কাড়াকাড়ি করে ওগুলো নিয়ে নিল।
আমার কথায় আম পেড়ে এনে আমাকে না দিয়ে তা সবার মধ্যে বিলিয়ে দিলি, আমাকে তাহলে কতোটুকু গুরুত্ব দিলি?
গুরুত্ব তো তোকেই দেয়া হলো। তা না হলে আমি আমই বা পাড়বো কেন? আমাকে দেখেছিস না মেয়েদের সামনে কতোখানি লাজুক লতার মতো মাথা নিচু করে থাকতাম?
তাই বুঝি?
তাই নয় তো কী? আমাকে কখনো মেয়েদের সাথে গল্প করতে দেখেছিস? মেয়েদের দিকে এক নাগাড়ে তাকিয়ে থাকতে দেখেছিস? অথচ অন্য ছেলেরা কতো সহজভাবে তোদের সাথে মিশতো, হাসি-ঠাট্টা করতো। আমার খুব আফসোস হতো ওভাবে পারতাম না বলে।
কিন্তু মেয়েরা তোর সম্পর্কে অন্যরকম ভাবতো।
কী ভাবতো?
ভাবতো তুই বড্ড অহংকারী।
তাই? আমাকে তুই হাসালি। কিন্তু আমার মতো নিরেট নিরহংকারী ছেলেটাকে বিনাদোষে এরূপ অহংকারী ভাববার কারণটা কী ছিল?
তুই আসলেই খুব অহংকারী ছিলি। ক্লাসের ফার্স্ট বয়, তোর মতো ব্রিলিয়ান্ট ছেলে চৌদ্দগ্রামে নেই; গল্প, কবিতা, গান লিখিস, এ্যাথলেটিক্‌সে চ্যাম্পিয়ন, বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন, এমন কী ছিল যাতে তুই নেই? তোর কাছে মনে হতে স্কুলের একটা মেয়েও তোর সমকক্ষ নয়।
শাহিদ জোরে হেসে উঠে বলে, কী অদ্ভুত কথা রে! কী আশ্চর্য!
তোর সাথে কথা বলার আগে মেয়েরা খুব ভেবে-চিন্তে নিত, কী বলতে কী বলে ফেলে। আমি সবচাইতে বেশি নার্ভাস হয়ে পড়তাম, তোর ধমক খেয়ে আবার হার্টফেইল করি কিনা।
আমি কি এতোখানিই টেরর ছিলাম?
তোর প্রতি মেয়েদের আকর্ষণের মূল কারণ ছিল এটাই।
কিন্তু মেয়েদের সাথে কেউ কখনো ধমকে কথা বলে?
তুই খুউব বলতি। একদিন টিফিনের সময় রাকা তোকে বাজার থেকে সিঙ্গারা এনে দিতে বলেছিল। সঙ্গে সঙ্গে চার-পাঁচটা ছেলে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লো, তুই কিন্তু পাত্তাই দিলি না।
শাম্মী, আমার কিন্তু এসবের এখন কিচ্ছুই মনে পড়ছে না।
তোর তো মনে না থাকারই কথা। আমাদের কারো কথা কখনো ভেবেছিস যে মনে পড়বে?
এটা কিন্তু মিলাতে পারছি না। তুই আম পাড়তে বললি, আমি আম পেড়ে দিলাম, অথচ রাকা সিঙ্গারা আনতে বললো আমি ওকে পাত্তাই দিলাম না। এটা যদি সত্যও হয়, তবু কিন্তু তোর খুশি হবারই কথা।
কেন?
অন্তত তোর কথাটি আমি শুনেছিলাম বলে।
এখন বললে কি শুনবি? বলে গাঢ় চোখে সে তাকায়। একটি হাত তার নেমে এসে টেবিলের ওপর রাখা শাহিদের এক হাতের ওপর আলতোভাবে পড়ে। শাহিদ হারিয়ে যেতে থাকে।
এবার তোর কথা বল। শাহিদ বলে।
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে হাত সরিয়ে নেয় শাম্মী। বলে, আমার কথাই তো এতোক্ষণ বললাম। এবার তোর কথা বল।
তুই এখন কোথায় থাকিস?
আমাদের বাসায়ই থাকি। দু-মাস পর কানাডা চলে যাচ্ছি।
কানাডা? কানাডা কেন?
ওখানে আমার হাজব্যান্ড থাকে।
ওওও- শাহিদের বুক থেকে ক্ষীণ একটা দীর্ঘশ্বাসের মতো বের হয়।
তুই কি এতোদিন কানাডা ছিলি? শাহিদ জিজ্ঞাসা করে।
নাহ্‌, দেশেই ছিলাম। ও অনেক আগেই কানাডার সিটিজেনশীপ পেয়ে গেছে। আমারও শীঘ্রি হয়ে যাবে।
তাহলে তো আর দেশে আসবি না। কারো কথা মনে থাকবে?
শাম্মীর মুখটা ম্লান হয়ে আসে। বলে, সবাইকে ভুলে থাকতে পারাটাই ভালো। এই যে এতোদিন পর তোর সাথে দেখা হলো, এটা না হলেই বরং ভালো ছিল রে। এখন খুব খারাপ লাগবে। খুবই খারাপ লাগবে।
খারাপ লাগবে কেন, কতো ভালো আছিস! স্বামী আছে, তোর আছে সুন্দর সংসার।
সংসার! পাঁচ বছরের বিয়ে-জীবন, সংসার কী জিনিস তাই বুঝতে পারলাম না।
তোর বাচ্চা-কাচ্চা কই?
আকাশের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে শাম্মী বলে, ওখানে।
আর দেরি করিস না।
যাহ্‌! লজ্জায় শাম্মীর মুখ রক্তিম হয়ে ওঠে।
একটু নীরবতার পর লাজরাঙা মৃদু ম্লান হাসিতে শাম্মী বলে, একটা বেবির জন্য আমার মনটা পাগল হয়ে আছে রে! বলতে বলতে ওর কণ্ঠস্বর ভারি হয়ে ওঠে। দুজনের কথা বন্ধ হয়ে যায়, কী এক নিদারুণ করুণতায় ছেয়ে যায় ওদের মন।
নীরবতা ভেঙ্গে শাহিদ বলে, তোর মোবাইল নম্বর কতো?
০১৭২০৮০৬৬৭।
আমি সেইভ করে নিচ্ছি। আমার মোবাইল নম্বর ০১৭১৫০২৯৫০৩।
একটা মিস্‌ডকল দে তো।
শাম্মীর মোবাইলে মিস্‌ডকল দেয়া হয়। শাম্মী ওর মোবাইলে শাহিদের নম্বরটা সেইভ করে রাখে।
বাসায় ফেরত আসার পর থেকেই শাহিদ ছটফট করতে থাকলো। মানুষের মন কতো বিচিত্র! কিছুক্ষণ আগেও যে-মন জুড়ে ছিল তিশা কিংবা মিমি নামের কোন এক মেয়ে, সে এখন প্রায় ভুলে যাওয়া নাম।


বিষম গভীর রাত, অন্তরে দারুণ ঝড়। যখন একান্ত অস্থির হয়ে উঠলো, ঠিক সেই সময়ে শাহিদ মোবাইলে ফোন করলো।
হ্যালো স্লামালাইকুম। একদম মিমির কণ্ঠস্বর। আবার সেই মিমির কথা মনে পড়ে যায়। শাহিদ পাগল হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে সে বলে, তুই কি ঘুমিয়েছিস, শাম্মী?
আমি ঘুমাই নি। তুই? আবেশ-জড়ানো স্বরে শাম্মী বলে।
ঘুমাস নি কেন?
আমি জানি না। শাম্মীর কণ্ঠস্বরেও অস্থিরতা।
আমি এখন কী করবো রে, শাম্মী? তোকে ছাড়া বোধ হয় আমি বাঁচবো না।
আমাকে তুই মেরে ফেলতে পারবি?
আমি তোকেই চাই। খুব গভীরভাবে চাই।
আমাকে কেন এতো পাগল করছিস, লক্ষ্মীটি? তোর কী লাভ তাতে?
আমার এই সুদীর্ঘ শুকনো জীবনে আমি কোন নারীর ঘ্রাণ পাই নি। তোর সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে মনে হচ্ছে তুই ছাড়া আমার অন্য কোন পথ নেই।
আমারও তাই মনে হচ্ছে।
শাম্মী, কী হবে তোর কানাডায় গিয়ে?
আমি জানি না। আমি কি যেতে চাই?
পারবি না তুই ওসব কানাডা-ফানাডা বাদ দিতে?
আমি তোকে চাই। আমি জানি না আমার কী হয়েছে।
তুই ওসব বাদ দে। চলে আয়।
আমি ওসব চাই না। আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না রে।
আমার বাসায় চলে আয়। আসবি?
আসবো।
কবে আসবি?
যখন আসতে বলিস।
এখন?
হুঁম, মনে মনে।
ঠিক তাই।
কবে আসবো?
কাল। ঠিক সাড়ে এগারোটায়।
শেষে তাড়িয়ে দিবি না তো?
তোকে আমার বুকের গহীনে রাখবো।
তোর মা কি আমাকে পছন্দ করবে?
তোর মা-বাবা-ভাইয়েরা কী বলবে?
আমি কিচ্ছু তোয়াক্কা করি না।

বাসার ঠিকানা বলে দিয়ে খুব ব্যাকুলভাবে রাত পার করে শাহিদ।
অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠলো সে। তার মনটা বেশ ফুরফুরে, কিন্তু দারুণ চঞ্চল। নাস্তা খেতে বসেই সে মায়ের কাছে কথাটা পাড়লো।
মা, আজ তোমাকে একটা মেয়ে দেখাবো।
প্রসন্ন কিন্তু আশ্চর্য চোখে মা তাকান। বলেন, কোন্‌ মেয়ে?
এটা একটা বিধবা মেয়ে। খুব গরীব। অসহায়। আমার ক্লাসমেট। ওর কষ্ট আমার আর ভাল্লাগে না। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।
মায়ের মুখ কালো হয়ে যায়। বলেন, তুই খুশি হয়ে যা বিয়ে করে আনবি আমি তাকে নিয়েই খুশি।
শাহিদ হেসে দিয়ে বলে, এই তো তুমি আমার মায়ের মতো কথা বললে। কিন্তু আমি তোমাকে এতোখানি হতাশ করবো না। মেয়েটা দারুণ সুন্দরী। ওর বিয়ে হয়েছিল কানাডা প্রবাসী এক ছেলের সাথে। গতকাল নীলক্ষেতে আমার সাথে দেখা, আমাকে দেখেই সে পাগল। স্বামীর সংসারে সে সুখে নেই। আজ হোক কাল হোক এই স্বামীকে সে ডিভোর্স দেবেই। এখন আমি যদি এই মেয়েকে বিয়ে না করি সে পাগল হয়ে পাবনা যাবে। তুমি এতো মুখ কালো করছো কেন, এই মেয়ে তোমার চেয়ে তিনগুণ বেশি সুন্দরী।
ছেলের কথা শুনে মায়ের মাথা ঘুরে যায়।

সচ্চরিত্র যুবক হিসাবে শাহিদের সুনাম ছিল স্কুল জীবনে। এলাকার লোকজনও এজন্য তাকে খুব স্নেহ ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতো। কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে সে অশ্লীলভাবে তাকায় নি। মা-বাবা, ভাই-ভাবী, বোনদের কাছেও সে এ কারণে গর্বের পাত্র ছিল। গ্রাম ছেড়ে শহরে আসার পরও মহল্লার সবার কাছে সে 'অতি ভালো' ছেলে, ভার্সিটিতেও শিক্ষক-সহপাঠী সবার কাছেই সে প্রিয়পাত্র ছিল। কর্মস্থলে তার সুখ্যাতির মূল কারণ তার সারল্য ও সততা। কিন্তু আজ সে যে-পথে পা বাড়াচ্ছে, এতে চিরায়ত প্রেমের কতোখানি জয় হতে পারে তা যেমন বিচার্য বিষয়, তেমনি তার চরিত্রের অতীত ইতিহাসের সাথে কোনোক্রমেই তা সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
শাহিদের মনের মধ্যে অন্যরকমের ভাবনা দোলা দিতে থাকে।
সাড়ে এগারোটা বাজতে আর মাত্র কিছুক্ষণ বাকি। শাম্মী চলে আসবে। আসুক না। সারাদিন বাসায় থাকবে, গল্প-গুজব করবে, খাওয়া-দাওয়া করবে, তারপর বাসায় ফিরে যাবে। শাহিদ ভাবে।

ঠিক সাড়ে এগারোটার সময় শাহিদের মোবাইল বেজে উঠলো।
হ্যালো শাম্মী, তুই কোথায়? খুব ঝরঝরে কণ্ঠে শাহিদ জানতে চায়।
দোস্‌, শাম্মী বলে, তোকে একটা কথা বলবো বলে রিং করলাম।
তুই কোথায়, সেটা আগে বল।
আমি আমাদের বাসায়।
হ্যাঁ, বল।
তুই ভালো আছিস তো?
হ্যাঁ আছি। তুই?
আমিও।
হ্যাঁ, তারপর?
আমি তোর বউ হলে খুব ভালো হতো রে।
খোটা দিচ্ছিস?
না, এমনিই বললাম। আচ্ছা ধর, তুই কানাডায় আছিস, তোর সাথে আমার পাঁচ বছরের দাম্পত্য।
হুম, তারপর?
তারপর তোকে ছেড়ে পালিয়ে আমিনুরকে বিয়ে করলাম।
আমিনুরটা কে?
আমিনুর আমার হাজব্যান্ডের নাম।
শাম্মী, আমরা সবাই আবেগের বশবতী। তুই যেভাবে ভাবছিস আমার মধ্যেও ঠিক অনুরূপ একটা ভাবনা এসেছে। আমার মনে হয় আমরা দুজনই আবেগকে অতিক্রম করতে পেরেছি এবং এটা আমাদের দুজনেরই দারুণ সার্থকতা। চল, আমরা মঙ্গলময় কিছু ভাবি।
আমাকে তুই বাঁচালি দোস্‌। ছেলেদের মতো তোকে দোস্‌ ডাকছি, তোর কি শুনতে খারাপ লাগছে?
খারাপ লাগবে কেন? কী যে ভালো লাগছে তুই বুঝবি না।
আমার একটা ই-মেইল এ্যাড্রেস আছে, মোবাইলে এসএমএস করে পাঠিয়ে দিব। ই-মেইলে যোগাযোগ রাখিস, কেমন?
আমি অন্য কথা ভাবছি। চল, গতকাল থেকে এ পর্যন্ত আমাদের জীবনের সময়টা আমরা ভুলে যাই, কী বলেছি, কী বলতে চেয়েছি, এটা আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে যাক। আমরা আবার আবেগাক্রান্ত না হই, সেটাই হোক।
সেটাই হোক দোস। ভালো থাকিস।
ভালো থাকিস তুইও। আল্লাহ্‌ হাফেজ।
আল্লাহ্‌ হাফেজ।

এর মাস দুয়েক পর হঠাৎ আরেকদিন বিকেলে শাম্মীর ফোন।
কী রে দোস্‌, একেবারে ঘুমিয়ে গেলি যে? শাম্মীর উৎফুল্ল কণ্ঠস্বর।
তোর কী খবর? ফ্লাইট কবে?
তোকে তো সেজন্যই ফোন করলাম। কাল রাত আটটায় যাচ্ছি।
রাত আটটায়?
হুম। হুট করে আমিনুর দেশে ফিরে এলো। এতো বউ-পাগল, তোকে কী বলবো?
তোর সৌভাগ্য।
দেখ না, এখনো আমার শরীর জড়িয়ে পড়ে আছে।
শাহিদ একটু বিব্রতবোধ করে। বলে, এয়ারপোর্টে কখন আসছিস?
দু-ঘন্টা আগে থেকে চেক-ইন শুরু হয় তো, আমরা আধঘন্টা পরেই যাবো, সাড়ে ছয়টার দিকে।

পরদিন সাড়ে পাঁচটা থেকেই শাহিদ একটা ফুলের তোড়া হাতে বিমান বন্দরের লাউঞ্জে দাঁড়িয়ে রইল। ঠিক সাড়ে ছয়টার সময় তার সামনে একটা গর্জিয়াস গাড়ি থেকে যে গর্জিয়াস মেয়েটি ঝলমলে পোশাকে বেরিয়ে এলো সে শাম্মী। একটা অত্যন্ত সুদর্শন চেহারার যুবক ওয়েস্টার্ন স্টাইলে শাম্মীর কোমরে এক হাত পেঁচিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে। নিশ্চয়ই আমিনুর।
হা...ই শাহিদ, শাহিদকে দেখেই শাম্মী খলখল করে বলে উঠলো, দোস্‌, আয় আয়, পরিচয় করিয়ে দিই।
শাহিদ একটুখানি সামনে এগিয়ে আসতেই শাম্মী ওর সঙ্গীকে দেখিয়ে বলে, এর নাম আমিনুর। তোকে কাল বলেছিলাম না? দেখ দেখ, খুব সুইট না রে আমার বরের চেহারাটা? বলতে বলতে একটা হাত উঠিয়ে সে আমিনুরের নাক মলে দেয়।
হ্যালো জেন্টলম্যান, হাউ আর ইউ? বলে আমিনুর হ্যান্ডশেকের জন্য শাহিদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।
শাহিদ হ্যান্ডশেক ও কুশল বিনিময় করে। তারপর ফুলের তোড়াটা তার হাতে তুলে দেয়। আমিনুর গভীর ধন্যবাদের সাথে তোড়াটা নিয়ে শাম্মীর হাতে দেয়।
শাহিদ জানে না কেন অকারণে তার মন খারাপ হতে থাকে। সে ভেবেছিল, আজ বিদায়ের দিনে শাম্মী একরাশ অশ্রুতে পথ ভিজিয়ে যাবে। অথচ কী প্রাণবন্ত হাসিখুশিভাবে সে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা ওকে বিদায় জানাতে এসেছেন সবার সাথেই সে অতি স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে। শাহিদের অন্তর কেন জ্বলে যাচ্ছে তা সে বুঝতে পারছে না।
ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগে আরেকবার আমিনুরকে নিয়ে শাম্মী বাইরে এলো, সেখানে শাহিদ তখনো অপেক্ষমান ছিল। সে জানতো, শাম্মী তাকে শেষ বিদায় জানাতে আসবেই। যখন সত্যি সত্যিই এলো, তখন তার চোখ দিয়ে পানি বেরুবার উপক্রম হলো।
ইয়াংম্যান, এতো মন খারাপ করতে হয়? আমিনুর বলে।
না না, মন খারাপ হবে কেন? এ কথাটি বলতে বলতে শাহিদের গলা ধরে আসে।
এতোক্ষণ এক ধ্যানে শাহিদের দিকে তাকিয়েছিল শাম্মী, হঠাৎ কী কারণে সে হেসে উঠলো। তারপর আমিনুরের ঘাড়ে মাথা নুইয়ে তার কাঁধ আলতো ভাবে জড়িয়ে ধরে অতি আহ্‌লাদিত স্বরে সে বলতে থাকলো, আহা, বেচারা খুব কষ্ট পাবে গো। জানো, ও না আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল।
বলার সঙ্গে সঙ্গেই শাম্মী ও আমিনুর এক সাথে উচ্চস্বরে হেসে ওঠে।
ইটস্‌ ওকে ম্যান, নেভার লুজ ইয়োর হার্ট। হাসি থামিয়ে শাহিদের পিঠ চাপড়ালো আমিনুর।
শাহিদের চোখ দিয়ে বাস্তবিকই পানি গড়িয়ে পড়লো। সে নিঃশব্দে শাম্মীর মুখের দিকে তাকিয়ে তার অন্তরের নিষ্ঠুরতা পরিমাপ করতে থাকলো। কেন জানি ধীরে ধীরে শাম্মীর মুখও ম্লান হয়ে আসে। সে হঠাৎ শাহিদের হাত চেপে ধরে, অস্থির গলায় বলে, তোকে আমি খুব কষ্ট দিয়েছি দোস্‌, আমি চেয়েছিলাম আমার ব্যবহারে যাতে তুই কষ্ট পেয়ে আমাকে ভুলে যাস, তা হলো না। বলেই শাম্মী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তারপর আমিনুরকে ঠেলে ভিতরে নিয়ে যায়। শাহিদ আশ্চর্য করুণ চোখে বহুক্ষণ শাম্মীর হেঁটে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে রইল; বাইরে থেকে অনেকক্ষণ ওদের দুজনকেই দেখা গেলো; অদৃশ্য হওয়ার পরও অনেকক্ষণ সে দাঁড়িয়ে রইল, যদিই বা আরেকবার শাম্মী শেষ দেখাটা দেখতে আসে।

শাম্মী আর আসে নি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×