somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাস : একটা নভেলা

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব

শেষ পর্ব




আবার ডাকলাম। শিলা একটু চুপ থেকে আবার তার বুলি ঝাড়তে লাগলো।
আমি নিজেই ভাত বেড়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। ততক্ষণে শিলা থেমে থেমে কখনো সামান্য নিচু গলায়, কখনো উচ্চলয়ে, কখনো বা নাকি সুরে কেঁদে কেঁদে বুলি বর্ষণ করতে লাগলো।
খাওয়া দাওয়া করে শুতে গেলাম। ঘর অন্ধকার ছিল। আমি বাতি জ্বেলে দিলাম, টিভি অন করলাম।
আমাদের পাঁচ মাস বয়সী একটি মেয়ে আছে। মা-খালাদের নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখা হয়েছে নীলা।
নীলা খাটের ওপরে বিভোরে ঘুমোচ্ছিল। টিভি ছাড়ার শব্দে সে চমকে জেগে উঠলো। আমি তাকে নিয়ে খেলতে শুরু করলাম। সে আনন্দে হাত-পা ছুঁড়ে আন্দোলন করতে শুরু করে দিল।
নীলার বোধ হয় আমার সাথে খেলা করার ধৈর্য্যচ্যূতি হলো। সে কাঁদতে শুরু করে দিল। হয়তো তার খিদে লেগে গেছে বলে খেলতে ভালো লাগছে না। নীলাকে কোলে নিয়ে আদর করতে থাকলাম। কিন্তু নীলার কান্না থামে না।
ডাকলাম, শিলা। শিলা।
শিলার কোন সাড়া শব্দ নেই।
আবার ডাকলাম, শিলা। শিলা।
অকস্মাৎ শিলা উদয় হলো। দাউ দাউ করে তার চোখ জ্বলছে। উত্তেজনায় তার সর্বাঙ্গ কাঁপছে। এক থাবায় আমার কোল থেকে নীলাকে ছোঁ মেরে নিয়ে নিল এবং ততক্ষণাৎ শিলার হাত ফস্‌কে ছোট নীলামণি দড়াম করে মেঝেতে পড়ে গেল।
প্রায় তিন সপ্তাহের মত নীলাকে নিয়ে ক্লিনিকে থাকতে হলো। মেঝেতে পড়ার সময় মাথাটি আগে নিচে পড়েছিল, ডান কপালটিতে সবচাইতে বেশি চোট লাগে, ফুলে গোল চাকার মত হয়ে যায়, ডান হাতটিও মচকে যায়। আল্লাহ্‌র কাছে হাজার শোকরিয়া যে ব্রেইনের কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।
বিয়ের দিন তারিখ পিছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, আমি মানা করেছিলাম, শুভকার্য সময় মত সম্পন্ন হয়ে যাক।
যথাসময়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেলেও আমি আর শিলা বিয়ে-উৎসবে যেতে পারিনি।
তুঙ্গস্পর্শী পারিবারিক কলহ সচরাচর এরূপ দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে মিলনে গড়ায়। আমাদের বেলায়ও তাই হলো। বিয়ের দুটি দিন ব্যতীত ক্লিনিকে থাকাকালীন পুরোটা সময় আমার শাশুড়ি বাড়ি থেকে এসে আমাদের সাথে থাকলেন। কামালও নতুন বউ নিয়ে এসে কয়েকদিন থেকে গেল। আমার বাড়ি থেকে আমার মা এলেন, বাবা এলেন। আরো অনেকে এলেন। সারাও এসেছিল। আর এসেছিলেন আমার মামা ও মামী। আমি মামীর সাথে কথা বললেও মামার সাথে ঠিকমত কথা বলিনি। কেন ঠিকমত কথা বলিনি এটা বোধ হয় মামা ধরতে পারেননি। মনস্থির করেছি, যথসময়ে যথাস্থানে বিস্ফোরণ ঘটাব।
মাস খানেক পর বাড়িতে বেড়াতে গেছি, শ্বশুর বাড়িতে। এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছি। নতুন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বেড়ালাম।
আমার মামার বাসায় আমি বরাবরই বেড়াই। সেবার গেলাম না। মামার ওপর আমি ভীষণ অসন্তুষ্ট। তাঁর ওপর আমার কত শ্রদ্ধা, ভক্তি, বিশ্বাস আর উচ্চ ধারণা ছিল, তা সব এক ফুৎসারে উবে গেছে। নিজের সমুদয় ধন-সম্পত্তির বিনিময়ে তিনি মেয়ের জন্য জামাই কিনতে চান! ছি ছি ছি! মামাকে এতকাল কি ভেবেছি, আর এখন বুঝতে পারছি তিনি আসলে কতখানি ছোটলোক।
ছুটি শেষের আগের রাতে ছাদে বসে হাওয়া খাচ্ছিলাম সবাই। বিদ্যুৎ চলে গেছে বহুক্ষণ, গাছের পাতাটি পর্যন্ত নড়ে না। তারপরও ছাদের ওপর বেশ ভালোই লাগছিল। বাসার প্রায় সবাই এসে আসরে যোগ দিয়েছে; শিলা, শিলার বড় আপা ও দুলাভাই, সারা এবং কামাল খান ও তার নববধূ। কিছু পরে অবশ্য শাশুড়ি আম্মাও এসে যোগ দিলেন। নতুন বউটি বেশ মিশুক, হাসি-খুশি এবং আন্তরিক। সে ঘর থেকে দুটি খেজুর পাতার পাটি এনে লম্বা করে বিছিয়ে দিল। কয়েকটি বালিশ এনে দিল।
আকাশ ভরা তারা; চাঁদ নেই। আমরা গল্প করি, তারা-ছোটা দেখি, কিছুক্ষণ পর পর শরীরে থাপ্পড় মেরে মশা মারি।
সবাই বসে ছিল, কিন্তু আমি আর কামাল মুখোমুখী কাত হয়ে শুয়ে কথা বলছিলাম, নতুন বউ শিয়রে বসে পাখায় বাতাস করছিল।
গল্পে গল্পে বহু সময় চলে যায়। একজন দুজন করতে করতে এক সময় সবাই চলে গেল নিচে, কেবল আমি আর কামাল ছাদে রয়ে গেলাম। আমাদের গল্প যেন নতুন মাত্রা পেল। নানা বিষয়, নানা রসিকতা। শেষ হয় না। পরে আমার ~েচতন্যোদয় হলো, ঘরে নতুন বউ, একটি মুহূর্তের বিরহও তার জন্য বিষম বেদনাময়। কামালকে বলি, চল, আজকের মত গল্প শেষ করি।
বলতে বলতে আমি উঠে বসি, কামালও উঠে বসে। সামান্য নীরবতা। আমি হঠাৎ জিঞ্চাসা করি, শারমিনকে এত সাধলো, তারপরও রাজি হলে না কেন?
কামাল আশ্চর্য হয়ে বলে, শারমিনকে সাধলো এটা আপনাকে কে বললো?
আমি সব জানি।
আপনার সব জানাটা সঠিক না। শারমিনকে সাধবে কেন? শারমিন কি বেশি হয়ে গেছে? ওর কি জামাই পাওয়া যাচ্ছে না, যে আমার কাছে সাধবে?
আচ্ছা ধরলাম সাধেনি, কিন্তু একটা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল তো?
কিসের প্রস্তাব?
ফজল মামা তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেননি?
কামাল হেসে ফেলে। বলে, দুলাভাই, আমি আমার মামার দৌড় জানি তো। আর আমার খালুজানকেও চিনি।
আমি কামালের কথা কিছু বুঝতে পারি না। বলি, ফজল মামার সাথে এ ব্যাপারে তোমার কি কথা হয়েছিল, বলো তো?
সে কথা শুনে এখন আর কি করবেন?
শুধু মনের তৃপ্তির কারণেই শুনতে চাই।
আসলে মামা বলেছিলেন যে, আমি মত দিলে উনি নিজে একবার খালুজানের সাথে কথা বলে দেখবেন।
কোন্‌ বিষয়ে?
কামাল নিশ্চুপ থাকে। আমি আবার জিঞ্চাসা করি, মামা কোন্‌ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন?
কামাল বলে, আসলে দুলাভাই, শারমিনের জন্য সারাটি জীবন আমার অন্তর জ্বলবে। বলতে বলতে ওর শ্বাস ঘন হয়ে আসে।
আমি বলি, স্টুপিড, তাহলে তুমি ফজল মামার কথায় সায় দিলে না কেন?
আমি ফলাফল সবই জানি দুলাভাই।
কোন্‌ ফলাফল জানো?
কামাল আবারও নিশ্চুপ থাকে, উত্তর দেয় না। আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে বলি, কথা বলো না কেন?
কামাল বলে, দুলাভাই, আমি আপনার কাছে একটা মিথ্যা কথা বলেছি, আর কয়েকটা সত্য গোপন রেখেছি।
বলতে চাইলে বলতে পারো, আমার শুনতে অনিচ্ছা নেই।
মিথ্যা কথাটা হলো, শারমিন আমার চিঠির উত্তর দিয়েছিল। সে লিখেছিল, আমি যেন ঐ বিষয়ে তার সাথে আর কোনদিন কোন চিঠিও না লিখি, কথাও না বলি। আমার সাথে তার ভালোবাসা বা বিয়ে কোনটাই হতে পারে না। কারণ, সে আমজাদের সাথে প্রেমে পড়েছিল--দুই ভাইয়ের যদি এক মেয়ের সাথে প্রেম হয়, সেটা খুব লজ্জার ব্যাপার হয়।
এবার বলো গোপন করেছ কোন্‌ কথাটি।
মাকে বলেছিলাম, খালা আর খালুর কাছে যেতে।
আমি নড়েচড়ে বসি।
কামাল বলে, খালুজান কিছুতেই রাজি হলেন না।
তুমি আমাকে বলোনি কেন?
বলিনি, কারণ মা যেখানে হাত ধরে কান্নাকাটি করলো--আপনি হলে কি করতে পারতেন?
আমার মামার ওপর আমার অধিকার সম্পর্কে তোমাদের ঞ্চান দেখে আমার ভালোই লাগছে। কিন্তু ফজল মামার কথা মত তুমি শেষ চেষ্টা করে দেখলে না কেন?
কামাল বলে, তার চেষ্টা তো অন্য রকম। সে বলে চল্‌, আজই তোর বিয়ে হবে, তোদের আমি কোর্ট ম্যারেজ করাবো। আমি তোদের দুজনকে বাইকে চড়িয়ে কোর্টে নিয়ে যাব। তারপর দেখি শারমিনের বাবার কত ক্ষমতা।
আমি বলি, ভালো প্রস্তাব তো। এতে এ্যাডভেঞ্চারও আছে। রাজি হলে না কেন?
আমার রাজি হওয়া আর না হওয়ার মধ্যে কি আছে? শারমিনকে আপনি চিনেন না? যাকে বিয়ে করবো সেই যদি রাজি না থাকে, তবে বিয়ে হয় কিভাবে? জোর করে কারো মন পাওয়া যায় না।
মনে মনে হাসি আর মনে মনেই বলি, শারমিন তোমার খালাত বোন, আমার মামাত বোন, আমি তোমার চেয়ে তাকে কম চিনি না। তুমি ঠিক কাজটিই করেছ।
শেষে মুখ ফুটে বললাম, দুঃখ করো না। তোমার বউ দারুণ সুন্দরী। শারমিনের চেয়ে অনেক সুন্দরী।
বলা নেই কওয়া নেই বেকুবটা হঠাৎ কেঁদে ফেলে বলে কি, ও দুলাভাই--আমি দেশে আসার পর শারমিন আমার সাথে একদিনও দেখা করে নাই--ওকে আমি কতবার দেখতে চাইলাম, খবর পাঠাই, ও দেখা দেয় না। ওদের বাড়ি গেলে লুকিয়ে থাকে। আর বলে আমি নাকি একটা খচ্চর, ছোট ভাইয়ের প্রেমিকাকে আমি বিয়ে করতে পাগল হয়েছি---দুলাভাই--।
কামাল করুণ সুরে ডুকরে কাঁদতে থাকলো, আমি তার কান টেনে বললাম, শালা, কান্না থামাবে? এ কথা যদি অন্য কারো কাছে বলো, তাহলে কিন্তু কলংকের শেষ থাকবে না। মানুষ কি ভাববে, অ্যাহ্‌?
কামাল কান্না থামিয়ে চোখ মুছলো। আমি বললাম, ফজল মামার এ কথাটা তুমি অন্য কাউকে বলে ঠিক করোনি।
কিন্তু আপনি এসব কিভাবে জানলেন? আপনার তো জানার কথা না।
কেন, তুমি দুলাভাইকে এসব বলোনি?
হ্যাঁ, দুলাভাইকেই শুধু বলেছিলাম, আর আজকে আপনাকে বললাম। কিন্তু দুলাভাই সব আপনাকে বলে দিয়েছেন?
শুধু বলেনই নি, তাঁর এ কথার জন্য একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল। আমরা নীলাকে হারাতে বসেছিলাম।
কিন্তু আমি তো দুলাভাইকে হাত ধরে বলেছিলাম, যেন কথাটা আর কাউকে না বলেন।
দুলাভাই আমানতের খেয়ানত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ঘটনা ঘটেছে এক রকম, আর দুলাভাই বলেছেন সম্পূর্ণ অন্য রকম।
যা হোক, তুমি একটা কাজ করতে পারবে?
কি কাজ?
কাজটা তোমাকে অবশ্যই করতে হবে, কেবল আমার জন্য। সেটা হলো, এই যে আসল সত্যটা তোমার কাছ থেকে শুনলাম, শিলা কিন্তু এর বিন্দু বিসর্গও জানে না। সে জানে শুধু ঐ ঘটনা যা দুলাভাই শিলাকে বলেছিলেন। দুলাভাই যা বলেছিলেন তা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট, শিলাকে আমি এই জিনিসটাই শুধু বোঝাতে চাই। আমি নিজেই শিলাকে এ কথাটি বলতে পারি, কিন্তু তাতে লাভ হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু তুমি নিজে যদি ওকে বলো, তাহলে ওর অবিশ্বাস করার সুযোগ থাকবে না।
কামাল আমার কাছে জানতে চাইল দুলাভাইয়ের বানানো গল্পটি। আমি বলার পর সে আশ্চর্য হয়ে বললো, কিন্তু দুলাভাই এ রকম একটা মিথ্যা কথা বললেন কেন?
রহস্য সেখানেই।
দুলাভাই, এতে কোন রহস্য নেই। আমি তাঁর সম্পর্কে আগেও এ রকম কিছু ধারণা পেয়েছিলাম। আসলে উনি লোকটা খুব ধান্ধাবাজ। সব সময় মাথার মধ্যে মতলব নিয়ে ঘোরেন। এক জনের কথা আরেক জনের কানে লাগিয়ে, সত্যটাকে মিথ্যা বানিয়ে উনি ঝামেলা লাগান আর মজা দেখেন। মুখভরা দাঁড়ি আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে কি হবে, লোকটা একটা ইবলিশ। উনি-----
কামালকে থামিয়ে দিলাম। গীবত হচ্ছে। আমরা কেউ ফেরেস্তা না। আমাদেরও ভুল হতে পারে, তবে সর্বদা ভুল পথটাকে এড়িয়ে চলার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
আমি কামালকে আরেকটি প্রশ্ন করি, আচ্ছা, এটা কি সত্য যে শারমিনের জন্য মামার হাত ধরে আম্মা কান্নাকাটি করেছিলেন?
কামাল হাসে। বলে, আপনি জানেন না?
আমি তোমার মুখ থেকেই শুনতে চাই।
আপনি তাহলে ঠিকই শুনেছেন।
ব্যাপারটা বোধ হয় শিলা জানে না, তাই না?
কামাল চোখ কুঁচকে বলে, জানে না মানে? আপাই তো আমাকে চিঠিতে এসব লিখেছিল। তাছাড়া মা-ও আমাকে সব খুলে বলেছিল।
আমি হতবাক হয়ে যাই। এতকিছু শিলা জানে, অথচ আমাকে সে কখনো বলেনি। তদুপরি এই নিয়ে সে উল্টো আমার সাথে ঝগড়া-ঝাঁটি করে বাড়ি ঘর মাথায় তুলে নিয়েছিল। আমি ভেবেই পাই না এ জিনিসটা আমি জানতে পারলে শিলার কতখানি ক্ষতি হতে পারতো। আসলে কি কোন ক্ষতি হতো? আশ্চর্য মানুষের আত্ম-গরিমা! সত্যি শিলা আমাকে তার নিজ পক্ষ ভাবতে পারে না। তার বিশ্বাস, সে যদি আমার কাছে এসব প্রকাশ করতো তাহলে আমার কাছে সে অনেক ছোট হয়ে যেত, কেননা ওর মা আমার মামার কাছে হাত পেতে ছোট হয়েছেন। আমার মামা আমার নিজ পক্ষীয়, শিলার মা আমার স্ত্রী-পক্ষীয়া। একই পরিবারে একই ঘরে একই খাটে আমরা পরস্পর বিরোধী দুটি পক্ষ বসবাস করি!
আরো বললাম, তুমি আমার কাজটা করতে পারবে না?
কি কাজ, বলুন।
তুমি শুধু শিলাকে তোমার নিজের মুখে একান্ত নিরিবিলিভাবে বলবে যে শারমিনের জন্য হাত ধরাধরির ব্যাপারটা আমি তোমার কাছ থেকে জেনে গেছি।
কামাল হাসে। অন্ধকারে ওর শাদা দাঁতগুলো ঝলমল করে।
আমি বলি, শিলার এই সত্য কথাটিও জানা দরকার। জানা দরকার, শারমিনকে সাধার ব্যাপারে দুলাভাই শিলাকে যে কথাগুলো বলেছিলেন, ওগুলো সব বানোয়াট এবং মিথ্যা। আসলে, এ ব্যাপারে আমার মামা কোনদিনই কোন প্রস্তাব বা সম্পত্তি লিখে দেয়ার কোন লোভ দেখাননি। ফজল মামা নিজে থেকেই সেদিন রাতে তোমাকে বলেছিলেন যে তুমি রাজি থাকলে শারমিনকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে এনে কোর্ট ম্যারেজ করিয়ে দিবেন।
কামাল এক পলকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বললাম, বুঝতে পেরেছ, কি বলতে হবে?
না বুঝিনি, আবার বলুন।
স্টুপিড। তোমাকে কিছু বলতে হবে না। চল ঘরে যাই।
আমরা নিচে নামছি। কে যেন দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল। কে হতে পারে? দরজার কাছে আড়ি পেতে থাকার কে আছে এ বাসায়? আমরা কি অতি গোপণীয় কোন বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলাম?
আমার নিজস্ব বিশ্লেষণ দিয়ে তাকে চিনতে আর ভুল হলো না।




শেষ
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×