somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বদলে যাও, বদলে দাও! -- একটি অরুচিকর গপ্পের খসড়া

১৯ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যাপক মুত্রচাপ
মতি মিয়া কি করে! বিরাট বিরাট সব মার্কেট, তার পোষাক দেইখা আর টয়লেটে ঢুকতে দেয় না।
ঐ বহুদূরে নাকি আছে একটা পাবলিক টয়লেট, দশ টাকা রিক্সা ভাড়া। সাথে টয়লেটের দুইটাকা। মোট বারো। মতি মিয়া মনে মনে পকেটের টাকা গোনে।

না, মুতটা চাইপাই রাখতে হইব। কিন্তু আর তো পারাও যায় না। মতি মিয়া এদিক ওদিক তাকিয়ে একটা ড্রেনের ওপর লুঙ্গি তুলে বসে পড়ে। অমনি তীব্র আওয়াজ: "হুই বুড়া ওঠ! মুতার আর জায়গা পাস না! কুত্তা লেলাইয়া দিমু কিন্তক। তারপর স্বগতোক্তি: শালার ছোটলোকগুলার জ্বালায়... পত্রিকায় এত লেখে তাও লজ্জা হয় না..."

মতি মিয়া পত্রিকা পড়তে জানে না, তাই লজ্জা বাড়ে দ্বিগুন। মাথাটা প্রায় মাটির সাথে মিশিয়ে ভেগে আসে সে। গর্ভযন্ত্রণা কাকে বলে তাও টের পায় এই রাজধানীতে এসে।
বড় রাস্তা ছেড়ে একটু অন্ধকার মত একটা গলি ধরে হাঁটতে থাকে। ঐখানে, ঐ-তো।
রাস্তার ধারে কয়েকটা ঠেলাগাড়ি পার্ক করা। তার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই একজন এই মাত্র কাজটা শেষ করে ফিরছে। মতিও দাঁড়িয়ে পরে। অম্নি লোডশেডিং শেষ হল! ফকফকা আলোয় আশেপাশের চৌদ্দটা জানালা দিয়ে চীৎকার: আবার দেয়ালের পাশে হারামজাদারা খাড়াইছে।

এদের অসন্তোষের ন্যায্য কারণ বোঝে বলে মতি মিয়া আরও লজ্জা পায়। নির্গতপ্রায় মুত্রকে সে তলপেট কুঁচকে আটকে ফেলে। তারপর ঘুরে পেছন ফিরতেই-
সফেদ পাঞ্জবী পড়া সুন্দর চেহারার সাদা মনের এক দম্পত্তির সাথে দেখা। তারা বললেন: চাচা, আপনারে অনকক্ষণ ফলো করতাছি। আমরা মানষের উপকার করিয়া বেড়াই, প্রথম আলোতে দেখেন নাই আমাদের কথা! চলেন, সামনেই আমাদের বাসা, সেখানেই কাজ সারেন!
মতি মিয়া আপ্লুত হয়ে পড়ে। মুহুর্তেই তারা পৌছে যান মতি মিয়া যতটা কল্পনা করতে পারে তারও চেয়ে শানশওকতওয়ালা এক বাড়িতে, বাপ্রে! মতি মিয়া শুনছিল বড়লোকদের হাগার জায়গাও নাকি এত পয়পরিস্কার যে সেই খানে তারা ভাতও খায়। ভাবতে না ভাবতেই সেই সফেদ মহিলা মতি মিয়াকে একটা মোজোর বোতল ধরায়া দিয়া বললেন: চাচা, খাইতে খাইতে মোতেন।

মতি মিয়া তারা এতক্ষণ চেপেরাখা অনল পাথড়টাকে খালাস করতে থাকে, সাথে মেজোর বোতলে দেয় হাল্কা টান। অম্নি চারদিকে হুইসেল বেজে ওঠে, তীব্র আলোয় ঘরটা ভরে যায়, আর্ত চীৎকার শোনা গেল কার। আবার কী ফাঁন্দে পড়লামা! মতি মিয়ার হৎপিণ্ডি শুদ্ধো লাফিয়ে ওঠে। খুব বিরক্ত একটা নারী কণ্ঠে গজগজ শোনা যায়: "উফ্, তুমি এই বয়েসেো একদম বদলাইলা না। দিলা তো আমার পেছনটা ভিজায়া।"
মালেকার কণ্ঠ! স্বপ্নরে ঘোর ভাঙতে ভাঙতে তার মনে হয়: আহা, মোজোর বোতলটা ওইপারে-ই ফেলে রেখে এসছে সে।
তারপরই তার মনে পড়ে, সে মোজো তো খায় না, তবে অ্যডগুলা ভালই লাগে। শালার বিজ্ঞাপনগুলা স্বপ্নেও জুইড়া বসে।

শানে নজুল: ইহা একটি অপরাধবোধাক্রান্ত স্বপ্ন। নাগরকিদের মুত্রত্যাগের যথষ্টে ব্যবস্থা না করে তাদের বদলাতে বলাটা গাড়িওয়ালাদেরই মানায়। লড়াই করে বাসে ওঠা যাত্রীর আচরণ পাল্টানোর চেয়ে অনেক জরুরি ব্যক্তগতি গাড়ির ওপর কর বৃদ্ধি করে গণপরবিহন আরামদায়ক করা।

তোমার গাড়িতে চড়ার ভাগ্য থাকলে পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হওয়া লোকদের অসংস্কৃত মনে হবে-ই হবে, তবে মাঝে মাঝে তারা স্বপ্নে হানা দিয়ে প্রতিবাদও করবে।

আর তারা বাস্তবে যেদিন দিনে দুপুরে হানা দিবে... সে আরেক গল্প।


আরেক দিনের জন্য জমা থাকুক ওই গল্পটা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১২ ভোর ৫:৩১
৩৫টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×