রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে!

২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:০৪

শেয়ারঃ
0 6 0

স্বপ্ন আর রূপকথার কাঠামো নাকি একই! এমনই দাবি করেন মনোবিশ্লষকদের একাংশ। "স্বপ্ন হলো আত্মীকৃত রূপকথা, রূপকথা হলো সামাজিকীকৃত স্বপ্ন"! উভয়েই বীজানু আকারে থাকে আমাদের বাসনা আর আশঙ্কা, নৈরাশ্য আর আশাবাদ। প্রায় প্রতিটি রূপকথার এক একটি গোপন-মানে আছে, গোপন-উদ্দেশ্য আছে; বেশিরভাগ সময়েই তা আমাদের গোপন-মনে চিরগোপনে কাজ করে যায়।
একটা খুব পরিচিত উদাহরণ দেই: ব্যাঙরাজকুমারের গল্পটা:

রাজকন্যা তার সোনার বলটা নিয়ে প্রতিদিনের মতই খেলছিল। কোনদিনই কিছু হয়নি, আজই সে একটু আনমনা হয়েছে, অম্নি বলটা গড়িয়ে চলে গেল ঝর্ণার ভেতর, তারপর হারিয়েই গেল। রাজকন্যা কত যে খুঁজল বলটাকে!
বল হারিয়ে রাজকন্যার খুব মন খারাপ। কাঁদল সে অনেকক্ষণ। এমন সময় কুয়ো থেকে উঠে এল এক কদাকার ব্যাঙ। বল্লে, আমি তোমার বলটা এনে দিতে পারি, একট শর্তে। আমাকে চুমু খেতে হবে।
হারানো বলটাকে ফিরে পেতে রাজকন্যা যে কোন শর্তেই রাজি। ব্যাঙটাও ডুব দিয়ে এনে দিল সোনার বলটা।
: হুম, এবার চুমু খাও! ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে দিল ব্যাঙটা।
হাহ্। রাজকন্যা বলটা নিয়ে সোজা প্রাসাদের নিরাপদ গণ্ডীতে চলে এল। পেছনে পরে থাকল কদাকার ব্যাঙ।
রাজকন্যা তো চলে এল, কিন্তু কিছুতেই তার শান্তি নেই। খেতে বসেছে, খাবার বাসনে কোত্থেকে লাফিয়ে উঠল ব্যাঙটা, বলে: চুমু খাও, চুমু খাও! বই খুলে বসেছে, বইয়ের পাতায় ব্যাঙটা ড্যাবডেবিয়ে চেয়ে আছে, বলে: চুমু খাও, চুমু খাও! মুখ ধুতে যাচ্ছে: ব্যাঙটা বলে: হুম, চুমু খাও! ঘুমুতে যাচ্ছে, সেখানেই ঐ ব্যাঙ, বলে; ওয়াদা রাখো, চুমু খাও।
চুমু খেলেই যদি এই জ্বালাতন থেকে মুক্তি মেলে, এই ভেবে শেষে বাধ্য হয়েই রাজকন্যা তাকে চুমু খেল, আর, ওমা একি, ব্যাঙটা অম্নি দিব্যি এক রাজপুত্রে পরিণত হল। আসলে, কি জানো, একটা দুষ্টু জাদুকর রাজপুত্রকে ব্যাঙ বানিয়ে রেখিছিল!

এই তো ছেলে ভুলানো সরল রূপকথা। জোসেফ ক্যাম্পবেল (তার আর একটা দারুণ সাক্ষাৎকারের বই বাংলায় অনুদিত হয়েছে কিঞ্চিৎ অসম্পাদিত ভাবে, মিথের শক্তি নামে, প্রকাশক বাংলা একাডেমী) কিন্তু তার দ্য হিরো উইথ আ থাউজেন্ড ফেসেস বইয়ে এই গল্পটারই দিব্যি অন্য অর্থ খুঁজেছেন। (দূরের পাখি, হোলসেল, ট্রানজিস্টর এবং ইত্যাকার বিজ্ঞানী-প্রকৌশলী গং না বুঝতে পারলে মাফ কইরা দিয়েন, অবিজ্ঞানীরা বরং এটা সহজে বুঝবে)। তিনি দেখিয়েছেন এই গল্পটা আদতে একটা বালিকার নারী হয়ে ওঠার পর্বের নানান বাঁক, প্রতিকূলতা এবং শেষতঃ চূড়ান্ত রুপান্তরের কাহিনী।
যেমন, রাজকন্যা প্রতিদিনই তো বল নিয়ে খেলত, ঐ দিনই কেন তার বল হারানো? ওটা আসলে তার আনমনা হবার শুরু। বল সোনার হোক, ছেলেমানুষী কাল কাটাবার সময় তার পার হওয়া শুরু হয়েছে। ছোঁয়াছুয়ি খেলাটা যেমন যতই পছন্দের হোক, একটা বয়েসে হঠাৎ করেই আর তা ভাল্লাগে না, আবার একবারেই তার থেকে মনও উঠে যায় না। তাই তখনও খেলাটা চলে, সোনার বলটাকেই তখনোও সবচে' দামী বলে মনে হয়, কিন্তু আসলে ততটা নজর নেই, মন সরে যাচ্ছে... তাই একদিন বলটা হারিয়েই যায়।

এসময়েই দেখা দিল কদাকার ব্যাঙ। কদাকার এবং ব্যাঙ, কারণ সে অপরিচিত জগতের বাসিন্দা (রাজকুমারী তখনো্ জানে না, মানতেও চায় না, তাকেও অচিরেই ওই জগতের বাসিন্দা হতে হবে, সব বালক বালিকারাই যেমন ভাবে আমি কখনো বিয়ে করবো না!)। সেই ব্যাঙ তাকে হারানো বলটা ফেরত দেবার বিনিময়ে চুমু খেতে বলে, চুমুটা আসলে নতুন জগতে তার অভিষেকের আহবান! আর বল ফিরিয়ে দেয়াটা আসলে আশ্বাস, আমি তোমাকে বুঝব। তোমার শৈশবের সুখ আর নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন থাকবে।
কিন্তু ওটা তো ব্যাঙ! রাজকন্যা তাই ওয়াদার খেলাফ করে। (ওয়াদা টা আসলে ব্যাঙকে করা হয়নি, এটা রুপান্তরশীল রাজকন্যার নিজের মনেই উঁকি দেয়া নতুনের আহবান।)কিন্তু নতুন যখন একবার উঁকি দিয়েছে, সে তো ক্রমাগতই পিছু নিয়ে চলবে, - তাইতো খাবার বাসনে, বইয়ের পাতায়, স্নানের সময় সর্বদা সে অস্থির করে তুলছে। এই অস্থিরতার মাঝে ঘটনার দু'টি দিকই প্রকাশিত, একদিকে তার মনের মাঝে ব্যাঙ ক্রমশঃ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে; অন্যদিকে তাকে মেনে নেয়া যাচ্ছে না, কারণ ... কারণ সে তো কদাকার ব্যাঙ; কদাকার, কেননা অপরিচিত জগতের।

তারপর একসময় প্রতিরোধের দেয়াল ভেঙে পড়ে, কদাকার জেনেও রাজকুমারী তাকে চুমু খায়, আসলে এটা মনের অস্থিরতা থেকে নিষ্কৃতি পাবার জন্যই কিছুটা, ভাবে এটুকুই তো!

কিন্তু একবার যখন বাধ ভেঙে যায়, তখন কি আর জলস্রোত আটকে থাকে? বানের তোড়ের মতই সবকিছু তখন লণ্ডভণ্ড... আর রাজকুমারী আবিষ্কার করে: আরে এ তো ব্যাঙ নয়, দিব্যি এক রাজপুত্র।

তাহলে জাদুকর আর তার দুষ্ট জাদুটা কি? কেন, উল্টে দেখতে শিখুন না। বাপ-মা-সমাজ মেয়েটাকে এতদিন ধরে যে শিক্ষা দিয়ে আসছে, তাই তো ছেলেটার গায়ে একটা কদাকার ব্যাঙের আস্তরণ পড়িয়ে দিয়েছে, রাজকন্যাও তাই তাকে ব্যাঙ বলেই চিনতে পেরেছে! যেই মেয়েটার মন থেকে বাপ-মার শিক্ষা ভেসে গেল... অম্নি দেখার চোখটাও গেল পাল্টে।

ও রে রে! এই রুপকথায় তাহলে বাপ-মাকে দুষ্টু জাদুকরও বলা হয়েছে! শুধু এই রুপকথায় না কিন্তু, ক্যাম্পবেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী আরব্যরজনীর প্রায়সব দৈত্য, যারা রাজকন্যাকে সোনার কাঠি রুপোর কাঠি বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে, আর একবার জাগিয়ে খাইয়ে-দাইয়ে দেখে যায়, তারাও আসলে দৈত্যরূপী বাপ-মাই!

কম বয়েসে ক্যাম্পবেলের এই দা হিরো উইথ আ থাউজেন্ড ফেসেস পড়ার পর থেকে রূপকথা নিয়ে নুতন করে না ভেবে উপায় ছিল না কোন। ছেলেবেলা থেকে এখনতক পড়া সকল রূপকথার মাঝেই নিত্য নতুন মানে আবিষ্কার করাটা একটা নেশা হয়ে গেল। তারই কিছু মনিমুক্তা এই লেখায় ছড়াতে চাই। (শুধু একটা রূপকথা নিয়ে ক্যাম্পবেল পড়ার আগেই আরেক রকম ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সেটা এই নিকের 'মালিক' নিজের এখতিয়ারভুক্ত করে রেখেছে, খারেজির সাথে ভাগাভাগি করতে রাজি না সে, বলে: ব্যাটা, তোর এত বড় সাহস! তখন তোর তো জন্মই হয়নি রে!)। কাজেই আমার পছন্দের বাকি ক'টা গল্প নিয়েই আজকের আড্ডা চলুক।

হুম, এই তো রুপনজেল। রুপনজেলকে যে ডাইনীটা আটকে রেখেছিল একটা দূর মিনারের একদম ওপরে, সে তো রুপনজেলকে রীতিমতো ভালবাসত। বাইরের কেউ যেন তার কাছে ঘেষতে না পারে, তাই তার একমাত্র দুঃশ্চিন্তা। আর রাজপুত্র কি করল? একা নিঃসঙ্গ দুঃখী রুপনজেলের কাছে সে পৌছল তার চুল বেয়ে মিনারের চূড়ায় উঠে! কিশোর প্রেমের সেই দুঃসাধ্য কসরৎ। ডাইনী দিল রুপনজেলের চুল কেটে; চুল এখানে যোগাযোগের মাধ্যম। বাসার টেলিফোন লক করে, স্কুলের পথে পাহারাদার ভাই পাঠিয়ে বাপ-মা যোগাযোগের উপায় ছিন্ন করতেই চায় বৈকি। তারপর এমনকি রুপনজেলের হল মরুভূমিতে নির্বাসন। কিন্তু যা হবার তা তো হবেই, রাজপুত্র আর রুপনজেল তো পরস্পরকে ভুলতে পারবেই না। তাই শেষপর্যন্ত মিলন হল তাদের, অনেককাঠখড় পুড়িয়ে। ডাইনিটা যে মা-বাবা, তাতে কি আর সন্দেহ আছে? কিন্তু রুপনজেলের স্নেহময় মা-বাবা কখন ডাইনিতে রুপান্তরিত হলেন? তখন, যখন রুপনজেল বড় হল, তাকে আড়াল করার, একাকী করার প্রয়োজন পড়ল। ব্যাঙরাজকুমার যদি রাজকন্যার নিজের মনের দ্বন্দ্বের প্রতিফলন হয়, রুপনজেল তবে সমাজের বাধার রূপক।

আবার, রুপনজেল আর ব্যাঙ রাজকুমার যদি হয় বালিকার নারীতে রূপান্তরিত হবার এবং দয়িত খুঁজে পাবার গল্প, স্নোকুইন তবে বালকের তরুণে রূপান্তরের রূপক। এত নির্মম এবং হৃদয় বিদারক রূপকথা খুব কমই আছে, আমি ছোটবেলায় যখন পড়তাম, মনে হত ছেলেটার চোখের ঠুলিটা সরিয়ে দিই, তু্ই তো নিজের দোষেই আটকা পড়েছিস স্নোকুইনের ফাঁদে।

কাহিনীটা ভয়ানক জটিল, মনোবিশ্নেষণ শিক্ষার জন্য খনি বিশেষ। গল্পটাতে এত ভাঁজ আছে, এবং প্রতিটিরই এমন তাৎপর্যপূর্ণ সব অর্থ আছে যে, সংক্ষেপে বলতে গেলে এর কিছুই থাকে না। তাও যদ্দূর পারা যায় বলি:
জেরডা আর কাই। দারুণ বন্ধু, খেলার সাথী। একসাথে দাদীমার গল্প শোনে, ফুলগাছে পানি দেয়। দাদীমাই একদিন বললেন স্নোকুইনের কথা। সে এক শীতল নারী। যার দিকে তাকায়, তারই মরম জমে যায়, সে হয়ে পরে তার দাস। তবে কেউ যদি নিষ্পাপ হয়, তবে তাকে কিন্তু স্নো কুইন দাস বানাতে পারবে না।
কাই অচিরেই স্নোকুইনের দেখা পেল। কিন্তু সে তখনও নিষ্পাপ (বালক!) বলে স্নোকুইনকে এড়াতে পাড়ল। তারপরই ঘটল এক দুর্ঘটনা। ট্রল নামের শয়তান তার জাদুর আয়না দিয়ে শয়তান-শিষ্যদের শেখাচ্ছিল, হঠাৎই তা অসাবধানে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পৃথিবীতে পড়ল। কারও চোখে যদি এর এক টুকরো বেধে, তো দুনিয়াটাকে সে আরেক রকম দেখবে। যা কিছু ছিল ভাল, তাই ঠেকবে মন্দ। আর বুকে যদি গাঁথে তো কথাই নেই, সে নিজেই হয়ে পরবে শীতল আর নিষ্ঠুর। অচিরেই এই রকম দুটো টুকরো গেঁথে যায় কাই এর চোখ আর বুকে (পাঠকদের অনেকেরই কি সপ্তম শ্রেণী নাগাদ নিজের কথা মনে পড়ছে!)।
শিগগীরই কাই জেরডার সব কিছু নিয়ে ঠাট্টা করা শুরু করে, তার গোলাপ চারা নিয়ে করে উপহাস। জেরডা দারুণ আঘাত পায়, তবু সব সহ্য করেও সে কাইকে পছন্দ করে। কিন্তু জাদুর কাঁচের প্রতিক্রিয়ায় (পড়ুন গোঁফ ওঠার বয়েসে) কাইয়ের কি আর দাদীমার রূপকথা শুনতে ভাল লাগে? না গোলাপ গাছ আর ছেলেমানুষী খেলাধূলা পোষায়? অচিরেই সে এতদূর নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে (তার বড় হবার নিশ্চিত প্রমাণও এটাই) সে জেরডার সাথে খেলা ফেলে সেইবারের শীতে রাস্তায় ছেলেদের সাথে স্কেটিং করতে চলে যায়! জেরডা একা কাঁদে।

রাস্তায ছেলেদের সাথে খেলার সময়ই এবার আবার স্নোকুইন দেখা দেয় কাইকে (হুম্, পাড়ার আপুমনিরা)। কিন্তু কাই যেহেতু আর নিষ্পাপ নেই, সে এবার ধরা খায়। স্নোকুইন তাকে আটকে ফেলে তার ফাঁদে, স্লেজে তুলে অপহরণ করে নিয়ে চলে যায় তার তুষারদেশে, ল্যাপল্যান্ডও পেরিয়ে একেবারে উত্তরের রাজ্যে। স্নোকুইন তাকে ভালবাসে না মোটেই, কেবল তাকে নিয়ে খেলে, তাকে একটা কুহকের মাঝে আটকে রাখে। এখানে চাইলেই আপনি অর্থ সম্প্রসারণ বা বিচ্যুতি ঘটতে পারেন: তার চাইতে বড় মেয়েটা হয়তো তাকে অল্পবিস্তর/পুরোটা ভালইবাসে... হয়তো তাকে কারণে/অকারণে উস্কানিও দেয়.... কিন্তু আটকা পরে থাকাটা কিন্তু কাই এর নিজেরই সিদ্ধান্ত, কেননা মোহটাতো তার নিজেরই। তার চাইতে অভিজ্ঞতায় ঢের এগিয়ে থাকা, মায়াবী অথচ কুহকী এই নারীকে সে কিভাবে বুঝে উঠবে, ঝুঝে উঠবে? ফলে একদিকে সে নিজের মোহ ত্যাগ করতে পারে না বলে সেই ফাঁদে আটকা পড়ে থাকে, অন্যদিকে তাকে বুঝতে পারেনা বলে নিজেও গুম হয়ে থাকে, নিরানন্দ হয়ে থাকে, আত্মগত হয়ে থাকে, বরফশীতল হয়ে থাকে। এরই ফলে সে এত দূরে সরে যায় জেরডা থেকে যে, এরই নাম সুদূরদেশে হারিয়ে যাওয়া।

এইগল্পটা কিন্তু কাই এর বড় হয়ে ওঠার একচেটিয়া গল্প নয়। জেরডারও নিজস্ব একটা বিকাশের কাহিনী এতে আছে। সে কাইকে উদ্ধার করতে রওনা দেয় অজানায়, প্রথমেই পড়ে এক ডাইনীর হাতে (আবারও ডাইনী, এবং এও মাতৃসুলভ!), সেই ডাইনী তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে কাই এর স্মৃতি দূর করিয়ে দেয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভুললে তো চলবে না, জেরডা তো খুকী নেই আর, সেও নারী হয়ে উঠছে। তাই গোলাপ দেখে তার হঠাতই কাই এর কথা মনে পড়ে, সে কাঁদে, ভাবে কাইকে সে কি করে ভুলে ছিল এতদিন! ডাইনীর কাছ থেকে পালায় সে, কত রকম অভিজ্ঞতা, কত রাজপুত্র, রাজকন্যা, দাঁড়কাক, দাঁড়কাকিনী, ডাকাতদল, রক্তারক্তি, ডাকাত সর্দারের খুনে ডাকু মেয়ে, তার উপহার দেয়া বল্গা হরিন- এদের সকলের সহায়তায় সে একদিন পৌছে যায় ল্যাপল্যান্ডে!

সেখানে এক বুড়ি তাকে আরেক সইয়ের খবর দেয়, সে নাকি মন্ত্র জানে। মাছের শুটকির গায়ে লেখা তার পত্র নিয়ে জেরডা সইয়ের কাছেও পৌছে যায়। তারপর! ওই সই নানান পুঁথি টুথি উল্টে বলে: মন্ত্র লাগবে না, তোমার সারল্যই সবচ' বড় মন্ত্র।

পাঠক, এই খানটাতেই একটা গুরুতর পুরুষতান্ত্রিক ইঙ্গিত আছে, 'জেরডা সরল' বলার সাথে সাথে আমাদের মনে পরে সে কম বয়েসীও বটে। আরও আছে, সে শীতল নয়, সে অভিজ্ঞ নয়, ফলে প্রথাগত ভাবনায় প্রেম করার জন্য সকল দিয়ে উপযুক্ত ও কাম্য। এবং তুষাররানীও নিজের এই দুর্বলতাটা জানে বলেই হয়তো শীতল।

তারপর জেরডা দ্রুত পৌছে যায় স্নোকুইনের অনুপস্থিতিতে (অনুপস্থিতি গূরুত্বপূর্ণ, আপনার মনে একজনের অনুপস্থিতির সুযোগেই আরেকজন অনুপ্রবেশ করে) কাইয়ের কাছে। সেখানে জমাট বাধা অন্তর নিয়ে হতভম্ব কাই বসে আছে তুষাররানীর প্রহেলিকার সমাধান করতে। জেরডাকে সে চিনতেই পারে না শুরুতে। কিন্তু জেরডার চোখের পানিতে তার চোখ আর বুক থেকে সেই ট্রলদের কাঁচের টুকরো সরে যায়। তারপর তারা চুমো খায়, নাচতে থাকে... কাইয়ের বরফজমাঅন্তরটাও গলে যেতে থাকে, আর তার সাথে গলে যেতে থাকে তুষাররানীর সাম্রাজ্য। তাদের নাচের ছন্দে অক্ষরগুলো নিজেরাও নাচতে থাকে... অদ্ভুত একটা ধাক্কা, পাঠক এইখানে রাখা আছে। অক্ষরগুলো নাচতে নাচতে নিজেরাই একটা শব্দ তৈরি করে, আর সেটাই তুষাররানীর ধাঁধার সমাধান-

- অনন্ত।

হ্যা, অনন্ত। জেরডা আর কাই এর পুনর্মিলন এর এই রূপকথায় আর একটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি: জেরডা যাকে পেল, সে হয়তো আরেক কাই। কাই যার হাতে তুষাররানীর কবল থেকে মুক্ত হলো, সে হয়তো আরেক জেরডা। এ বিষয়টা দরকারী এজন্য যে, যা হারানো হয়েছে, তারই প্রতিলিপি মানুষ খোঁজে বটে, কিন্তু তাই কি পায়? পাঠককে তাই নায়ক-নায়িকাদের নির্বিশেষে গুনতে/চিনতে শিখতে হবে, সকল বালক-ই তা কাই, সকল বালিকা-ই তাই জেরডা।

আরও একটা বিষয়, প্রথম যে ব্যাঙটি অসময়ে ঝর্নায় উঁকি দিয়েছিল, সেই যে রাজকন্যার ছোঁয়ায় রাজপুত্রে পরিনত হবে এমন কোন কথা নেই। বহু ব্যাঙ রাজকন্যার স্মৃতিতে ব্যাঙ হিসেবেই রয়ে যাবে। (অলি বারবার ফিরে আসে, অলি বারবার ফিরে যায়... তবে তো ফুল বিকাশে!)। তাই যে ঢেউয়ে বাধ ভেঙে পড়েছে, নির্দিষ্ট সেই ঢেউয়ের কৃতিত্ব সামান্যই, গূরুত্বপূর্ণ হল ঢেউয়ের পর ঢেউয়ের আঘাতে বাধের ভেঙে পরা।

চূড়ান্ত প্রমাণটা কি, যে এটা তাদের বড় হবার গল্প? জানি না, কিন্তু একটা প্রকল্প হাজির করা যায়: জেরডা আর কাই হয়তো গোলাপ গাছে আগের মতই পানি দেবে, কিন্তু দাদীর রূপকথা কি আর শুনবে! তারা কৈশোরের অভিযান শেষ করে এসেছে, এখন তো তারা নিজেরাই এক একজন গল্পের চরিত্র।
পাপশূন্যতা (শৈশব)--- অভিজ্ঞতা (অভিযান) ---পাপশূন্যতা(পূর্ণবয়স)'র যে চক্র তারা শেষ করে এসেছে, তারপর তারা আর কখনোই তো শিশুর বয়েসে ফেরত যায়নি। তাইতো তুষাররাণীর ধাঁধার সমাধান হলো: অনন্ত। অনন্তকাল ধরেই রূপকথার এই চক্র পুনরাবর্তিত হতে থাকবে।



বিশেষ দ্রষ্টব্য: রূপকথা নিয়ে এই পোস্টটা ব্লগে তোলার অনতিকালের মধ্যে কম্পুজী স্থায়ীভাবে মুর্ছা গেছেন। তার এই রোগ ইদানীং দেখা দিলেও পূর্বে অল্পপড়েই সাড়া-শব্দ দিতেন। তাকে হাসপাতাল পাঠান হয়েছে।
ভেবেছিলাম আজ দ্বিতীয় পর্বটি লিখে ফেলব, আপাতত সেটি আর হচ্ছে না। তিনি সুস্থ্ হয়ে বাড়ি না আসা পর্যন্ত বিদায়



পরের অংশের জন্য দেখুন
পুরান আর রূপকথা নিয়ে আরও কিছু কথা...
Click This Link

 

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০০৯ রাত ১:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:১৩
নুশেরা বলেছেন: একটুখানি পড়েই রাগে গরগর করে উঠলাম (নিজের ওপরেই। রূপকথা কতটুকু শিশুতোষ এ নিয়ে একটা হাবিজাবি শুরু করেছিলাম, শেষ করা হয়নি)। তারপরও একটানে শেষ পর্যন্ত পড়ে গেলাম অসাধারণ মুগ্ধতা নিয়ে। খুব, খুব, খুব ভাল লাগল। প্রিয় পোস্ট হিসেবে যোগ করছি বার বার পড়ব বলে।
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:২৫

লেখক বলেছেন: দ্রুত শেষ করে ফেলুন আপনার লেখাটি।

জানা থাকলে আমি লেখার সাহসই করতাম না!

২. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:১৬
অলস ছেলে বলেছেন: রুপকথার কথা পড়তে পড়তে চোখব্যাথা শুরু হয়েছে। সফল হৌক। কত্তকিছু শিখলাম। আমার কেন জানি ছোটবেলা থেকেই রুপকথা পড়তে ভালো লাগে না। এখন মনে হচ্ছে, লাগা দরকার আছিলো।
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:২৫

লেখক বলেছেন: হ, রে ভাই।

রুপকথা অতি কাজের জিনিস।

৩. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩৪
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: দুর্দান্ত ... দুর্ধষ (এই উপমাটা মনে হয় ঠি হয় নাই :| )... প্রিয়তে নিয়ে রাখছি .... যেন ফাঁকি না দিতে পারেন... পরের পর্বগুলো দিন :)
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: সব্যসাচী, ফাঁকি কি কেউ সাধে দেয়!

৪. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৪৭
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অসাধারণের উপর চরমের উপর দারুণ।
এমনি আসছিলাম।
কখন যে মনযোগটা এভাবে টেনে নিল ধরতেই পারিনি।
দারুণের উপর দারুণ।

প্রিয়তে নিলাম।
ভাল লাগল খুব।
গত কয়েকদিনে সামুতে ভাল পোস্ট খুব কমই চোখে পড়েছে।
এই পোস্টটা বোধহয় সামুর সাময়িক বন্ধ্যাত্ব কিছুটা হলেও ঘোচাঁল।
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৫৯
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: বেশ ভালো বিশ্লেষন

তবে যে যেভাবে চিন্তা করে আরকি..

বাচ্চাদের কে এত কমপ্লেক্সিটি দেয়ার দরকার কি।

সহজ ভাবলে সহজ ;
কঠিন ভাবলে কঠিন;

এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের কথায় ধরা যাক।

অনেক আবোল তাবোল জিনিষ নিয়েই তো রুপকথা।
মেট্রিক্সে ডাইরেক্টরা এটার কি ভিন্ন ব্যবহারই করলেন।

অনেক এলিস পড়ে শুধুই মজা পেতে পারে।
আবার কেউ কেউ এটাকে মুভিতে নিয়ে যেতে পারে।

দুইটাই গ্রহনযোগ্য ।

রুপকথা বাচ্চাদের জন্যই থাকুক।
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৫

লেখক বলেছেন: রূপকথা বাচ্চাদেরই থাকুক।

বড়রা মনোবিশ্লেষণ শিখুক।

৬. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:২৩
বৃত্তবন্দী বলেছেন: অন্যরাও এভাবে ভাবে দেখে বিস্মিত হলাম...
খুবই ঝরঝরে লিখেছেন বস...
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২০

লেখক বলেছেন: বেশ, রাইতে জানায়েন।

৯. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩২
জাতেমাতাল বলেছেন: খারেজির এই লিখাটা মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। চমৎকার পরিনত মনস্ক বিশ্লেষন। সামহোয়্যারে এত সমৃদ্ধ লিখা খুব বেশি পড়া হয় নাই। খুব ভাল লিখেছেন...
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তালে ঠিক।

১০. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯
শিবলী রহমান বলেছেন: তার চাইতে অভিজ্ঞতায় ঢের এগিয়ে থাকা, মায়াবী অথচ কুহকী এই নারীকে সে কিভাবে বুঝে উঠবে, ঝুঝে উঠবে?

অসাধারন মামা, অসাধারন।
অনেকদিন পর এত বড় কোন পোস্ট এক টানে পড়লাম...
প্রিয়তে..............
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাগিনা।

ভাইগা ভাতিজাগো দোয়াই চাচা-মামাদের পাথেয়।

১১. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:২৮
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: সম্পূর্ণ নতুন একটা দৃষ্টিকোণ থেকে রূপকথাকে দেখালেন আপনি। অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে। এই লেখাটিকে শুধু অসাধারণ, আসামান্য- এইসব শব্দ দিয়ে মূল্যায়িত করা যাবে না। এই বিষয়ে আমার যাবতীয় পড়াশোনার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখা এটি।

----------------------------
একটা প্রশ্ন করি- এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ। 'খারেজি' নিকের আড়ালের মানুষটি কি ব্যক্তিগত জীবনে আমার চেনা কেউ?
-------------------------------------

রূপকথা-লোককথা নিয়ে আমার নিজেরও কিছু চিন্তা আছে। এগুলোর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলাম একসময়, মনোবিশ্লেষণের চেষ্টা করিনি। এক্ষেত্রে আপনি বোধহয় ইউনিক একটা কাজ করলেন। যাহোক আমার চিন্তাটা আপনার সঙ্গে শেয়ার করা যায় বোধহয়। আশা করি সেটি এই লেখার জন্য অপ্রাসঙ্গিক হবে না :

লোককাহিনী, লোককথা, রূপকথা- এসবই শুনতে ভালো লাগে, পড়তে ভালো লাগে, বলতেও ভালো লাগে। শ্রেণী-পেশা-বয়স নির্বিশেষে এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যিনি এগুলো পছন্দ করেন না। বিশুদ্ধ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে রূপকথার তাই একটি গুরুত্ব আছে। কিন্তু এটিই এর একমাত্র গুরুত্ব নয়, নানা কারণেই এগুলো আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে হাজির হয়। এর একটি হলো - লোকজীবনের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটে এসব কাহিনী ও গল্পে। যে কোনো দেশের লোককাহিনী আসলে ওই দেশের লোকজীবন রচিত আকাঙ্ক্ষার গল্প। একথা সবাই জানেন যে, এসব রচনার কোনো সুনির্দিষ্ট রচয়িতা নেই। দারিদ্রক্লিষ্ট, সংকট ও সমস্যাবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত যে জনগোষ্ঠি তাদেরই মুখে মুখে রচিত হয় এসব গল্প, আর লোকমুখে যুগের পর যুগ ধরে তা প্রবাহিত হতে থাকে। এই প্রবাহমানতাই জনজীবনের কাছে এসব গল্পের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে। আবার কোনো সুনির্দিষ্ট রচয়িতা নেই বলে এগুলো সামাজিক সম্পত্তি হিসেবেই বিবেচিত হয়। নাগরিক সাহিত্য-পরিমণ্ডলে যেমন সাহিত্যের ওপর লেখকের স্বত্ত্ব থাকে, তাই এগুলো তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি, অন্য কারো অধিকার নেই এসব রচনার পরিমার্জনের- কিন্তু লোককাহিনীর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি উল্টো। মানুষের মুখ থেকে মুখে ঘুরে ফেরার সময় অনিবার্যভাবেই এ কাহিনীগুলোর রূপ পাল্টায়, পরিবর্ধন ঘটে, পরিমার্জনও- কখনো সময়ের প্রয়োজনে একই গল্পের মধ্যে নতুন বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি ঘটে- এবং যেহেতু এগুলো সামাজিক সম্পত্তি, এসব পরিবর্তনে তাই কারো কোনো আপত্তি থাকে না, থাকলেও খাটে না। কিন্তু কেনই বা এসব গল্প এতো দীর্ঘকাল ধরে জনজীবনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় বা টিকে থাকে? এর একটি কারণ- আগেই বলেছি- এগুলোর মধ্যে দিয়ে লোকজীবনের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটে। নিজেদের সমস্যা-সংকট থেকে সহসা যাদের মুক্তি মেলেনা, এসব গল্পের মধ্যে দিয়ে তারা এক ধরনের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। লোককাহিনীর জগত এক অর্থে জনগণের ফ্যান্টাসির জগত। এখানে অহরহ দেখা মেলে দৈত্য-দানবের, ভূত-পরীর, রাজপুত্র-রাজকন্যাদের। এসব দৈত্যরা আবার নিজেদের প্রায় অসীম শক্তিমত্তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তার কাছে পরাজিত হয়, পরীরা হয় সহযোগিতাপ্রবণ আর রাজপুত্ররা প্রায় সাধারণ মানুষের মতোই সমস্যা-সংকটে জর্জরিত, এসব সংকট উত্তরণে সাধারণ মানুষদের নানারকম সহযোগিতা তাদের প্রয়োজন হয়। বলাইবাহুল্য, যারা এসব গল্পের রচয়িতা- এ আসলে তাদের আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ, আর প্রায় সমাধানহীন সমস্যা-সংকটগুলোর সমাধান তারা করে এসব ফ্যান্টাসির মাধ্যমে। কিন্তু এ ছাড়াও লোকসংস্কৃতির নানা উপাদানের- লোককথা, লোকছড়া, গান, প্রবাদ, প্রবচন, ধাঁধা ইত্যাদি- আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যও থাকে। এসবকিছুর মধ্যে এর রচয়িতারা পরবর্তী প্রজন্মসমূহের জন্য রেখে যান নানারকম প্রয়োজনীয় ও শিক্ষনীয় উপাদান। সমাজে প্রচলিত নানরকম সংস্কার-বিশ্বাস-মূল্যবোধ-নীতিবোধ-ঔচিত্যবোধ ইত্যাদি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হয় এসবের মাধ্যমে। এই অর্থে লোকসাহিত্য শিক্ষকের ভূমিকাও পালন করে। মনে রাখা দরকার- এগুলোর জন্ম এমন এক সমাজে যেখানে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষনীয় কোনোকিছূ রেখে যাবার আধুনিক কোনো পথই তাদের জন্য খোলা ছিলো না। শুধু তাই নয়, লোকসাহিত্য থেকে যে কেউ অন্তত আরো দুটো বিষয় খুঁজে নিতে পারেন- গণমানুষের কল্পনা প্রতিভা ও তাদের দার্শনিকতা। যে অসামান্য কল্পনা প্রতিভা দিয়ে রূপকথাগুলো রচিত, তা সম্ভবত একজন আধুনিকতম লেখকেরও থাকে না। অন্যদিকে জীবন ও জগত সম্বন্ধে নান দার্শনিক উপলব্ধির প্রকাশও ঘটে এসবকিছুতে। কিন্তু লোকসংস্কৃতির এতোসব ভূমিকা খুঁজে দেখেন নাগরিক ও শিক্ষিত জনগণ। যারা এসব রচনা করেন, উপভোগ করেন- তারা যদি বলেন, নিছক আনন্দের জন্যই এসব কিছুর সৃষ্টি, তাহলে সেটাই সম্ভবত এসব রচনা সম্বন্ধে সবচেয়ে সঠিক কথা। যে জীবন দারিদ্র, দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রনা, সমস্যা ও সংকটে পূর্ণ, যে জীবন পরিবর্তনহীন, প্রায় স্থবির, যে জীবনে আনন্দের বহুবিধ আধুনিক উপকরণ ছড়ানো নেই- সে জীবনে লোকসংস্কৃতির এসব উপাদানের ভূমিকা যদি হয় নিছক আনন্দ দান, তাহলে বলতেই হয়, লোকসাহিত্য মহান- কারণ একটি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে সে আনন্দ দিতে পারে, অন্য কোনোকিছুই যা পারে না।
----------------------------
দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য দুঃখিত। আপনার অসাধারণ লেখাটিই আমাকে এমন অপকর্ম করতে প্ররোচিত করেছে। দোষ আপনার-- আমার নয়!

------------------------------
প্রিয়তে নেয়ার কথা না বললেও বুঝে নেবেন, আপনি প্রিয়তেই আছেন। আর হ্যাঁ, আমার তরফ থেকে আপনার সঙ্গে ঝগড়াঝাটির অবসান ঘোষণা করা হৈল! :)
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১৪

লেখক বলেছেন: মনে হয় না আপনার সাথে আমার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছে... আমি ব্যাপক ঘরকুনো, বের হই না সাধারণত। শুধু ঢাকার বাইরে যাবার সুযোগ পেলে আলাদা কথা... বাসায় ভাইগ্না-ভাস্তিদের দেখা শোনা করি।
আবার বেরুলে সহজে গৃহে ফিরি না। যদ্দিন পারি বাইরে কাটাই। ফলে 'খ্যাতিমান' চক্রে ওঠাবসা কম।

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১৮

লেখক বলেছেন: মনে হয় না, আমি যেমন ঘরকুনো, ঢাকার বাইরে যাওয়া ছাড়া সহজে ঘর থেকে বেরুই না আমি।

তবে ব্যক্তিগতভাবে না হলেও আপনাকে পত্রিকা সূত্রে চিনি (খ্যাতিমানদের আবার ব্যক্তিগত কী?

আর একতরফা যুদ্ধবিরতি হয়, যুদ্ধাবসান হয় না। ঝগড়াঝাটিও তো একপ্রকার যুদ্ধই।

আপনি কি সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াকে নিয়ে আমার লেখাটা পড়েছেন? ওটার মূল্য এর চেয়ে অনেক বেশি।

১২. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৩১
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি-- কম্পিউটারের অসুখ-বিসুখের কথা বলে ফাঁকিবাজির চেষ্টা করার জন্য আপনাকে একখানি বিয়োগচিহ্ন প্রদান করা হৈল! ;)
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১৯

লেখক বলেছেন: আয়হায়, আপ্নে তো আমার দ্বিতীয় কিস্তি মাইরা দিছেন।
অহন এইডা কাটপেস্ট কইরা ছাইড়া দেই।

১৩. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:০৫
ফারহান দাউদ বলেছেন: ব্যাপক,ব্যাপক। আরো একবার পড়তে হবে।
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, দাউদ।
প্রশংসার চেয়ে মিষ্টি আর কিছু নেই।

১৪. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৩২
অদ্রোহ বলেছেন: রীতিমত অদ্ভূত সুন্দর বিশ্লেষণ,রুপকথার এই ফিলোসফিক্যাল দিকটা আসলেই অভিনব।
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ অদ্রোহ, প্রশংসার চেয়ে ভাল আর কিছু নেই।

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২২

লেখক বলেছেন: শয়তানও যাকে অদ্ভুত বলেছে, তার অদ্ভুত না হয়ে উপায় আছে!

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, তনুজা। প্রশংসা আসলেই ভাল লাগে।

১৭. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:৫২
কিশোরবালক বলেছেন: ভাল পোস্ট............

ভাল লিখেছেন, তার থেকেও ভাল হয়েছে বর্ণনার ভঙ্গি।

প্লাস...........
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২৩

লেখক বলেছেন: অনেক, অনেক ধন্যবাদ। বালক না কিশোর? দুটো একসাথে?

১৮. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৩:৫১
কঁাকন বলেছেন: অসাধারন

প্রিয়তে পাঠানো হোলো
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২৬

লেখক বলেছেন: আসলেই কাঁকন, প্রিয় হবার মত লেখাইব বটে।
(খুক, খুক)

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২৭

লেখক বলেছেন: রিসাত মিয়া, পুরা একটা বাইক্য কও।

বাকি হগলে তো কইল।

২০. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:১২
তনুজা বলেছেন: ১৯৯৫ সালের কম্পিউটার ঠিক হয়েছে?
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২৫

লেখক বলেছেন: ঐটা এখনও ঠিক আছে।

বিশ্বাস করেন।

গান শোনা যায়, মুভি দেখা যায়। কম্পোজ করা যায়।

আমার পুরনো লেখাগুলো তো ঐ টাতে।

নতুনটা (মানে আমার নিজেরটা) বরং ঘাপলা করে বেশি।

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫১

লেখক বলেছেন: আমারও কি আছে?

২২. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫০
শাওন৩৫০৪ বলেছেন: ইয়াল্লা................রুপকথার তো বাংগী ফাটাইয়া ফালাইছেন!!

লেখা খুব ভালো হইছে, কিন্তু দূ:খ দিছেন........আমার এখোনো রুপকথা পড়তে ভালো লাগে..........এখন থেইকা তো কিরাম জানি লাগবো;);)
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫২

লেখক বলেছেন: আরো ভাল লাগার কথা।
আমার তো তাই লাগে।

২৩. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫১
পারভেজ বলেছেন: ভয়ংকররকম আগ্রহ নিয়ে পড়লাম।
তবে পাঠককে কিছুটা বায়াস্‌ড করে দেয়; চিন্তাকে একমুখী করিয়ে।
বিষয়বৈচিত্রের কারণে খুবই মজা পেলাম পড়তে।
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫৬

লেখক বলেছেন: আহা তেমন কেউ যদি আসত আমাকে বায়াসড্ করে,
আমি তো বায়াসড্‌ই হতে চাই!... নিৎসে।


চিন্তা যাতে একমত হয়েছে, তাতে বায়াসড্ হতে কোন সমস্যা নাই।
আমি বহু বিষয়ে হৃদয় দিয়ে দিয়েছি, যতক্ষণ আমার মগজও ওর সাথে আছে।

বায়াসড্ হওয়া যাবে না... এটা মানবজাতির আধুনিকতম কুসংস্কার, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের একটা পাশ্বপ্রতিক্রিয়া।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে ক্ষতি নেই... যদি এই সাইডএফেক্টগুলো দূর করা যেতো।

২৪. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৫৩
তনুজা বলেছেন: আপনার একটা নতুন ________
আপনাদের কত আছে



রাজধানীর লোকজনদের আসলে ----ব্যাপারই আলাদা
:( :(
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:০২

লেখক বলেছেন: ভাইজান, খামাখা খোঁচাইয়েন না।


আগেরটা আমার বাপের, জানেন অফিস থেকে ঋণে কেনা। ওইটার মনিটর একবার ঝামেলা করছিল... একটু স্লো হইলেও এখনও ঠিকাছে।

বাপের সাথে ম্যালা দিন কথা বন্ধ, আর ওই একটাতেই পরিবারের সবাই (আমাদের বিরাট গুষ্টি) থাকে বইলা আমাকে নতুন একটা নিতে হ্ইছে... নিয়মিত ব্যারাম হয়, কেননা এইটা সস্তাতম।


কম্পুজী আমার জীবীকা, চাষার যেমন বলদ। আমি বাসাতেই থাকি।
চাষা যেমন বলদের ডাক্তার না, আমিও কম্পুর হার্ডওয়ার কিছু বুঝি না।


রাজধানীর মাঝে আমরা এট্টু গরিব কিসিমের।

সস্তা পণ্য নিয়া একটা পোস্ট আসতেছে, কিন্তু আপ্নার যে হাড়কিপ্টার মত প্রশংসা করেন, এইটা আমার নিকের মালিক দিতে চাইতেছে না।

২৫. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:০৮
তনুজা বলেছেন: এই যে নিকের বাহক

কামাল ভাইয়ের কমেন্ট কিন্তু মনে আছে

উনার উত্তর আবারও ঘুরাইছেন । যাক!
বাড়ি বসে লেখেন, বই খুলে তিন লাইন পড়েন, সারাদিন 'নিকের মালিক নিকের মালিক '

রহস্যের ডিপো হয়ে বসে থাকেন? তা থাকেন


আর কত প্রশংসা লাগে আপনার ?
লোকজন তো আপনাকে প্রিয়তে তুলে রেখে দিছে


আমরাও তো লিখতে চাই , চোখের পরে মানুষের এইসব কমেন্ট কাঁহাতক সহ্য হয়


হুমম না হয় পড়ালেখা একটু কম করছি, তাই বলে ইতিহাস আপনার, রাজনীতি আপনার, ইকোনোমিক্স আপনার আবার পপুলারিটি বলে নাকি কি একটা আছে -----------ওটাতো আপনার রেজিস্ট্রি করা


এরপর থেকে মাইনাস কপালে নাচছে বলে দিলাম


এখন যাই , ঘুমানোর সময় হল
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:১৫

লেখক বলেছেন: শুভরাত্রি। তবে ভারতীয়দের গরু বলি দেয়া নিয়ে আপনার কমেন্টা খুব অসম্পূর্ণ হয়েছে।

২৬. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:১৬
পারভেজ বলেছেন: বায়াস্‌ড বলতে যেটা বলতে চেয়েছিলাম- লেখাটা পাঠককে একটা এখমুখী চিন্তার দিকে নিয়ে যায়; লেখক যা দেখাতে চেয়েছেন সেই কেন্দ্র থেকে বিচ্যুতির কোন সুযোগ বাক্যে ও শব্দগুলিতে নেই। এটা অবশ্যই একটা সাফল্য ও স্টাইলও।
আর আরেকটা কথাও মনে হয়েছিল- স্বপ্নের অসীমতাকে এখানে সামাজিক বিশ্লেষণ দিয়ে আটকে ফেলা হচ্ছে; তাই "রূপকথা হলো সামাজিকীকৃত স্বপ্ন" একথাটায় স্বপ্নের গন্ডি অনেক ছোট হয়ে পড়ে।
হয়তো সামাজিকৃত স্বপ্নের কাঠামো ভাঙার জন্যই রূপকথাগুলি মানুষের কল্পনায় এসেছিল।
আর মনোবিশ্লেষকদের কথাবার্তা আমার আপদেই পছন্দ হয় না :|
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:২১

লেখক বলেছেন: না, রূপকথা আর সমাজের স্বপ্নের কাঠামোর মিলটা বরং অনেক বেশি প্রপার।


যদিও একটা ব্যক্তিগত, অল্প সময়েই দেখা হয়ে যায়, অন্যটা গঠিত হয় যুগযুগান্ত ধরে। কিন্তু তাদের গঠনকাঠামোর মিলটা অদ্ভুত।

এতে স্বপ্নের গণ্ডি ছোট হয় না, বরং স্বপ্ন উৎস খুজে পায়। সংস্কৃতিগতভাবে আলাদা জাতির/ মানুষের স্বপ্নের ভিন্নতাও একই বিষয়কে সমর্থন করে।


মনোবিশ্লষকদের আমিও পছ্ন্দ করি না। কি করব বলে, ওদের উদ্ধৃতি দিলে লুকে দাম দেয়, আমার কতা কে পোঁছে?

২৭. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:২০
তনুজা বলেছেন: ধুরো মিয়া ! আবার আসছেন ক্যাচাল করতে

আমি কি আপনার মত রেফারেন্স মুখস্ত করি নাকি
সারাজীবন যা জেনে এসছি কে তার খোজ করে --প্রুফ দেখে ?

যাক আপনার কোন দ্বিমত থাকলে পরে বলেন , ডিটেইলস যা বুঝি বলব । আমি এমনিতেই একটু জড়ায় প্যাচায় কথা বলি, মানে বেশি টু দ্য পয়েন্ট বলতে পারি না আমার ধারণা


আর ইনফরমেশন গুলো সব এমন ভাবে আত্মস্থ হয়ে যায় যে, নাম তারিখ সন কিছু খেয়াল থাকে না , শুধু জিস্টটা মাথায় গেথে যায়
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:২২

লেখক বলেছেন: হুমম।
কিন্তু আরও বহু কৃষিজীবী দেশে কেন গরু খাওয়া নিষিদ্ধ হয়নি???


ব্যাখা নাই ওতে।

আমার কাছে আছে।

২৮. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:২৯
তনুজা বলেছেন: হুম তাহলে শুনে নেব

তবে ঋষিদের ব্যাপারটাও ভাবতে হবে।
যাহোক এভাবেও প্রমাণ হবে না , একটা দেশে যা হবে অন্য দেশে তা হবে না

আপনার ইনফরমেশনটা শুনব পরে ।
এগুলো ঐতিহাসিক ব্যাপার, আমরা কয়েকটা বিষয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পারি

এক বা একাধিক বিষয় থেকেই একটা ঘটনা অনুপ্রাণিত হতে পারে
কোনটাই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না


(আপনি হঠাৎ জঙ্গী হয়ে উঠলেন কেন, বিদ্বান লোক তো এরকম শিশুসুলভ অসহিষ্ণুতা দেখায় না :) )
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩১

লেখক বলেছেন: আমি রীতিমত জঙ্গী।


আর প্রশংসা, আপ্নার মত হাড়কিপ্টে দেখিনি আগে।

মায়া-দরোজার বাকি কমেন্টগুলো পইড়েন একবার, শেখেন কিছু।

প্রশংসা আমার খাদ্য।

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩২

লেখক বলেছেন: ঘুমাইতে যান এইদফা।

২৯. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩৫
বাফড়া বলেছেন: খারেজী, পোস্টরে প্রিয়র লিস্টে আর তুমারে বসের লিস্টে যোগ করলাম.... আহ লাইফটা কি দারুণ জিনিস... পড়তে পড়তে নিজেরে আবিষ্কার করার সেই সময় টা মনে পইড়া গেল... আহ... দারুণ একটা সময় ছিল... সে এক দিন ছিল... সামুতে এইটারে আমার পড়া বিশাল বিশাল পোস্ট গুলার একটায় রাখুম... গুরু তুমারে একটা বিড়ি.. বিশাল মুডে আছি আইজ...

আরো থকলে ছাইড়া দেও... এইটাই হাইটাইম...
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: এইবার না এদ্দুরে আইসা ব্লগিং সার্থক অইল!!!

৩০. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩৫
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: ধুস এখানে দেখি কথা দিয়ে হাতি ঘোড়া মারা হচ্ছে... আসল জিনিস মানে পরের পর্ব কোথায় ??? :|
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪১

লেখক বলেছেন: কম্পু ঠিক হোক, প্রসূন।

লিখতেই তো পার্তাছি না।

এইডা এক দুস্তের বাসায় আসছি আমার কয়ডা ডিভিডি ফেরত নিতে... ফাঁকে ব্লগিং ...

৩১. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪০
তনুজা বলেছেন: জানি , আমি অতশত বুঝিনা তাই অত সুপারলেটিভ কমেন্ট পারি না

দু একটা সহজ লাইন দেখলে ঢেলে কমেন্ট দিই

বেশি দার্শনিকতা, কথার প্যাঁচ, বেশি তথ্য কপচানি দেখলে? ভড়কে যাই


বলেন তো জ্ঞান কি ? তথ্যে কিছু হয় না, সব কিছুর আদলে আমাদের মধ্যে গভীরতা সৃষ্টি হয় , কিছু অ্যনালজি আর কিছু উপলব্ধি

লোকজন দেখি কত টার্মস বলে , সাল তারিখ, অমুক কি বলেছে তমুক কি কেটেছে

আরে বাবা! প্রকৃতি নিজেই যেখানে শেখাচ্ছে জড়বিদ্যা আঁকড়ে রেখে কি হবে

জ্ঞানের লক্ষ্যটা কি ? দর্শন তো। কাঠামোবদ্ধ চচার মাধ্যমে আমরা নিজেদের কে দর্শনের স্তরে উন্নীত করতে চাই , তা সর্বশেষ টাগেট যদি হয় দর্শন আমরা ইনফরমেশনের ব্যাংক ডিপোজিট করে কি করব?


(মায়া দরজার কথা জানি , পড়তে পড়তে একশবার ভেংচি দিয়েছিলাম )
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: নিন্দা করলেন না প্রশংসা করলেন?

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: সাল তারিখ বা তথ্যে আমারও কিছু আসে যায় না, যতক্ষণ না সেগুলোর কোরিলেট করা হয়।


ফলে একটা সাল সালই, যতক্ষণ না ওর কোন তাৎপর্য পাওয়া যায়... ঠিকই বলেছেন। একমত।++

৩২. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:০৬
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: কম্পু কেন খারাপ হল!!!!!!! ইসসসসসসসসসসসসসসসসসসস :(
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৭

লেখক বলেছেন: এইতো ঠিক হয়া গেছে... প্রসূন।

৩৩. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৪
েজবীন বলেছেন: অনেক দারুন একটা লেখা,....

রুপকথার কত শত রুপ!! ...ভাল লাগল অনেক...:)
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, জেবীন।

কয়েকটা মোটে রূপবর্ণনা হযেছে। আরও আছে অনেক অনেক।

৩৪. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৯
শয়তান বলেছেন: কম্পুও বুঝাইতেছে যে কোন একটায় থাকতে হৈবে ;)
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৪০

লেখক বলেছেন: মহামান্য শয়তান , আরেকটু খোলাসা করেন।

কোন গুলার মাঝে কোন একটায়?

জিরাফে না ধর্মে এই রকম কিছু?

আমি উভয়েই আনন্দ পাই।

৩৫. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৪:৩৭
পি মুন্সী বলেছেন: আমি এমন এক সময়ে আসলাম যখন দেখি আপনি প্রশংসায় ডুবে আছেন।
আপনাকে দেয়া প্রশংসাসূচক মন্তব্য দেখে আমারও ভাল লাগছে; এজন্য যে অন্তত রূপকথার প্রতি আমাদের অনেকের "বিজ্ঞানমনস্কতা" নাস্তিক মনের কারণে রূপকথাকে অবজ্ঞায় উড়িয়ে দেবার জন্য সমাজে যে ব্যাপক ঝড় বয়ে যাচ্ছিল তাতে বোধহয় এবার একটু ভাটা পড়তে দেখছি। আপনি অন্তত এটা বুঝাতে পেরেছেন রূপকথা পড়ে যে অর্থ আমরা করি বা করেছি এর অন্য অর্থ আছে, বাইরে - রূপকার্থে।
'প্রগতিশীল', 'আধুনিক' চোখসর্বস্ব 'বিজ্ঞানমনস্ক' যে মন আমরা গড়ে তুলেছি - এটা এমনই কুয়োর ব্যাঙ যে - সাহিত্যের বা লেখার সাবজেক্ট কী তা নয়, সাহিত্যের বিষয় উপস্হাপনের ধরণের দিক থেকে যদি একে প্রকরণে ভাগ করি তবে - রূপকথা অথবা মেটাফরিক্যাল (metaphorical) বলে একটা ভাগ আছে - তা হয় আমরা জানি না নয়তো ভুলিয়ে দিয়েছি। আমার ধারণা সম্ভবত, আমাদের সমাজে 'কমিউনিষ্ট' মনের অনেক ইতিবাচক প্রভাব আছে, তা থাকা সত্ত্বেও এটা একটা নেতিবাচক প্রভাব, নগদ ক্ষতি। এজন্য ধরেন, বক আর শিয়ালের রূপকথার গল্প পড়তে গেছি। বক শিয়ালে কথোপকথন করছে। তো পড়তে গিয়ে আমাদের 'বিজ্ঞানমনস্ক' মনে বার বার প্রশ্ন আসছে বক বা শিয়ালে কী কথা বলতে পারে? আমরা গল্পের সত্যতা যাচাইয়ে বসে গেছি। বক বা শিয়ালে তো মোটেই কথা বলতে পারে না। অতএব, আমরা এই 'গাজাখুরি' গল্পের সত্যতা যাচাইয়ে এমনভাবে আটকে যাই যে এর বেশি আর কোন অর্থ-তাৎপর্য পর্যন্ত আমরা আর যেতে পারি না।
অথচ নামের দিক থেকেই যদি বিচার করেন তো দেখেন এটা রূপকথা, রূপক অর্থে লেখা কথা। রূপক মানে, যা বলছে আর যা বলতে চায় - এদুটো এক নয়। এজন্য মেটাফোর। সাধারণভাবে দেখলে বা পড়লে 'যা বলছে' কেবল তাই বুঝা যাবে, 'গাজাখুরি'ও মনে হবে। তবে বুদ্ধি খরচ করলে, করতে জানলে, সমাজে চর্চা-অভ্যাস থাকলেই কেবল 'যা বলতে চায়' তার পাঠোদ্ধার হতে পারে। আর পাঠোদ্ধার না হলে রূপকথা শব্দের নতুন মানে হয়ে দাড়াবে 'গাজাখুরি' বাচ্চা ভুলানো গল্পের বই। ইংলিশ স্কুলের গুণে আমরা অনেকে গ্রীক লেখক ঈশপের গল্প (Aesop 620-560 bc. Fables) পড়েছি বা জানি। হাতের কাছের বুদ্ধের জাতকের গল্প - এই ধরণের রূপক গল্পের উদাহরণ হলেও এর খবর অবশ্য আমরা কমই রাখি।
সাহিত্যের জায়গায় দাড়িয়ে দেখলে রূপকথা এক ধরণের রচনা যার সাধারণ বৈশিষ্ট হলো, রূপক অর্থে মেটাফরিক্যালি লেখা এক রচনা। ঐতিহাসিকভাবে দেখলে বিভিন্ন কালে বিভিন্ন সমাজে রূপকথার ছলে কথা বলা বা লেখার ঢংটা ধর্মসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বেছে নেয়া হয়েছে। রূপকথার এই জগতের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে নীতিকথামূলক (moral) গল্প; যেমন গ্রীকদের ঈশপের গল্প, যীশুর Parable বা বুদ্ধের জাতক। আপনি পোষ্টে যেগুলো ব্যবহার করেছেন, মনে হয়েছে ওগুলো মনোবিজ্ঞানের ষ্টাডি মেটারিয়াল হিসাবে সংকলিত। কথাটা বলে রাখছি এজন্য যে পাঠকের কেউ আবার যেন মনে না করেন রূপকথা মানেই তা সাইকোলজির দিক থেকে তা ব্যাখ্যার বিষয়। আমাদের ক্রমশ বড় হওয়া আর সেই সাথে চিন্তার বদলগুলোকে মনে রেখে গল্পের ছলে লেখা - আপনার লেখা পোষ্টগুলোর এটা একটা বড় বিষয়। সেই সূত্রে আপনি এবার রূপকথায় এসে পড়েছেন, কিশোর থেকে যৌবনে বড় হওয়ার গল্পে। ফলে এই রূপকথার ধরণটা সাইকোলজির দিক থেকে তা ব্যাখ্যার সাবজেক্ট অবশ্যই। হয়েও উঠেছে তাই। তার মানে হলো, এই বিশেষ ধরণের রূপকথাগুলোই কেবল সাইকোলজির সাবজেক্ট, সাধারণভাবে সব রূপকথা নয়। ছবিতে এঁকে গল্প বলা, টিনটিন, নন্টেফন্টে কমিক, ইলাশট্রেশনের হাত ঘুরে একালের কার্টুন ছবি, মিকি মাউস, কার্টুন চ্যানেল - রূপকথারই আরও আরও এক্সটেনশন। তবে ক্রমশ একটা মরাল থাকার ব্যাপারটা উঠে গিয়ে কেবল আনন্দ-বিনোদনে হাসিয়ে টাকা কামানো মুখ্য হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বাচ্চাদের বাচ্চা বয়সে কল্পনা শক্তি বাড়ানোর একটা ভাল উপায় হিসাবে বিবেচনা করেও একধরণের রূপকথা, ছবিতে এঁকে গল্প বলার একটা ধরণ চালু আছে। সোভিয়েত বিপ্লবের পরে শিক্ষা কেমন হবে সেই শিক্ষানীতি নিয়ে বিস্তর তর্কবিতর্কের হয়েছিল। স্টালিনের কঠোর কমি্উনিষ্ট যুগের শুরুর দিকেও শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন অদ্ভুত বৈপরিত্যর মানবিক লুনাচারিস্কি। লুনাচারিস্কির প্রগ্রেস পাবলিসার্স একটাই বই বাংলায় অনুবাদ হয়ে পাওয়া যেত ঢাকায়। তাঁর আমলেই বাচ্চাদের বাচ্চা বয়সে কল্পনা শক্তি বাড়ানো মন গঠনের দিক থেকে সহায়ক চিন্তা করে বিভিন্ন রূপকথার বই সরকারি ছাপাখানা থেকে বের হত। এরই কিছু রূপকথা বই আবার বাংলায় অনুবাদ হয়ে প্রগ্রেস পাবলিসার্স থেকে ঢাকায় পাওয়া যেত। আমরাও প্রগতিশীল আধুনিক মন নিয়ে এগুলো পড়েছি, বাচ্চাদের পড়িয়েছি। কিন্তু তাতে রূপকথা মানে রূপক অর্থে লেখা রচনার প্রতি আমাদের ধারণা বদলায় নাই। গাঁজাখুরি অসত্য ছেলেভুলানো গল্প হিসাবে রয়ে গেছে, বড় জোড় একটু বুদ্ধিমানেরা বুঝেছি বাচ্চাদের কল্পনাশক্তির বিকাশের জন্য এটা দরকার।

উপরের উদাহরণে আমরা দেখেছি ধর্মের বয়ানকে অনেক সময় রূপক অর্থে তা বলার বা মেটাফরিক বয়ানের একটা সম্পর্ক ছিল। বয়ান সাধারণ মানুষের কাছে নিবার জন্য গল্পের ছলে মরালের মাধ্যমে হাজির করার একটা রেওয়াজ ছিল। যদিও অনেক সময় তা উদ্দেশ্য হারিয়ে মিরাকলে বদ হজম হয়েছে। তবুও আজকাল প্রায়ই ব্লগের সুবিধায় ধর্ম নিয়ে যেসব তর্কবিতর্ক দেখি ওখানে অনেক ধরণের 'আদর্শ জীবন ব্যবস্হার' ব্যাখ্যা দেখি। এর মাঝে কাউকে কোন আয়াতের একটা মেটাফরিক ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হতে দেখি নি।

কথা অনেক লম্বা হয়ে গেছে। আমাকে মাপ করবেন। "রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে!" - আপনার শিরোনাম দেখে লোভে সামলাতে পারিনি, কথা লম্বা বলে ফেলেছি। আজ এখানেই শেষ করছি। ভাল থাকবেন।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: আশা করি আপ্নি প্রায়ই লোভ সামলাতে না পেরে এমন চমৎকার পর্যালোচনা তুলে ধরবেন।

তবে আমার ধারণা প্রায় অসংল্গনা ও অতিপ্রাকৃত বিষয়গুলো বাদ দিলে সব রুপকথাই মনোবিশ্লেষণের যোগ্য। একটাই ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, আমি যে গল্পগুলো বাছাই করেছি, এর প্রথমটার ব্যাখ্যা ক্যাম্পবেল করেছেন, বাকি গুলো স্মৃতি থেকে ব্যাখ্যা করেছি। এগুলোর বিষয় ব্যক্তিগত বিকাশ।

কিন্তু সামাজিক স্মৃতি ও বোধের গোপন ব্যাখ্যা আছে, সে রকম রুপকথাও আছে। পরের পর্বে সেগুলোই দেয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু প্রথম পর্বের সাড়ার কারণে একধরনের চাপে পড়ে গিয়েছি... যৌথচেতনার বাহন হিসেবে রুপকথার ব্যাখ্যার তেতো পোস্ট দিতে কিঞ্চিৎ ভীতি হচ্ছে।

৩৬. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:২৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: রুপকথার সেই দিন গুলোই ভাল ছিল, এখন এত অর্থ জেনে কি হবে? যাদের জন্যে রুপকথা তারা তো এসব না জেনেই পড়ে।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬

লেখক বলেছেন: ঠিক। ছোটরা এম্নি এম্নি খায়।

৩৭. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:৪৪
রিসাত বলেছেন: পৃথিবীর সব রুপকথায় একটা নিষ্পাপ ক্যারেক্টার থাকে,,,, ঐটা আমারে যেমন এট্রাক্ট করে,,, পাপীষ্ঠ লোকটাও ঠিক তাই,,,, ;) কিন্তু অন্য সবারই খালি নিষ্পাপটারেই পছন্দ হয়,,,, খুব খারাপ
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: পাপিষ্ঠ রিসাত!

৩৮. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
শয়তান বলেছেন: আইডেন্টিটি একটাই হওয়া উচিৎ । ওয়ালের মাঝ বরাবর হাঁটা উচিৎ নয়।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: আপনি একটা প্রতীক ব্যবহার করছেন। দেয়ালের মাঝ বরাবর হাঁটা। এর মধ্য দিয়ে আপনি একটা যুদ্ধেরও ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যাতে আপনি লিপ্ত। আর আমাকে বলছনে, একটা পক্ষ বেছে নিতে। সে দিক থেকে ইস্যুজ সাদৃশ্যপূর্ণ হলে পক্ষ ঘোষণা করা উচিত এবং মাঝ দেয়াল দিয়ে হাঁটা উচিত না, আপনার এই দাবি অতি সঙ্গত।

আমিও একটা যুদ্ধে লিপ্ত। কিন্তু আমি ওয়ালের মাঝ বরার হাঁটার রুপকটা ব্যবহার করতে পারছি না, বরং আমার কাছে এটা মনে হচ্ছে ঘটনায় পৌঁছাবার আরেকটি রাস্তা- যা মানুষের প্রগতির বিরুদ্ধে নয়। এর কারণ সম্ভবত দু'জনের ইস্যুগুলোতে কিছু গড়মিল আছে বলে।

এখন আমি আপনার পক্ষে আছি বলেই আপনি আমাকে অপরপক্ষ পূর্ণরুপে ত্যাগ করতে বলছেন। আর আমি বলছি, স্যর, আমি আপনার অপরপক্ষে নেই। আমার কাণ্ডকারখানা এর বাইরের নিরীহ ব্লগারদের উদ্দেশ্য, আমি যাদের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক বোধগুলোর কাছে ক্রমাগত অ্যাপিল করতে চাই। আপ্নি কি খেয়াল করেছেন, মহামান্য, আমি ধর্মের যে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাওয়ালা পোস্টগুলোকে কিভাবে স্যাটায়ার করেছি, 'নেপোলিয়ন মুসলমান' টাইপের পোস্টগুলো বা আস্তিক-টাইমমেশিন ধরনের প্রকল্পগুলোতে আমার ভূমিকাও আপনার দেখা উচিত ছিল। কিংবা নাজিম উদ্দীনকে নিয়ে আকাশ পাগলার পোস্ট, এবং আকাশপাগলার টাইমমেশিন উদ্ভাবন নিয়ে দূরের পাখির পোস্টে আমার মন্তব্যগুলো দেখলে আমার মতাদর্শিক অবস্থান আপনার কাছে পরিষ্কার হত।

কাজেই, এভাবে আমি আমার অবস্থান ব্যক্ত করলাম। আপনার থেকে আমি খুব দূরে নেই। আমাকে ফেলে যাবেন না, আশা করি।

এভাবে, আমি

৩৯. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:১৫
খািল িপডাইেত ইচ্ছা করে বলেছেন:
লগইন করলাম ভালো লাগা জানাইতে।
আপনার লেখাটা ভালো লাগল কিন্তু কমেন্ত পইরা আমার মাথা নস্ট।
ট্যাকা দেন বিরি খামু, বিরি খাইয়া মাথা ঠিক কইরা আহি।

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: কমেন্ট মাথা নস্ট, পুস্টে তো না!
তাইলে কমেন্টেটরদের কাছ থেকে পয়সাটা বের করেন।
আর যদি আমার কমেন্টে হয়, ওটা মাফ, পোস্টের সাথে কাটাকাটি।

৪০. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:১৮
শয়তান বলেছেন: নো প্রবস মাইট। গোল তো সেইমই ;)
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মহামান্য শয়তান।

আমার হিজবুত নিয়া পুস্ট আইলে আরও চেনা মনে হইব আমারে।

৪১. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:০৫
রিসাত বলেছেন: পাপিষ্ঠ বানান ডা ভুল হইল কেমতে!/:) লইজ্জাজনক
২৭ শে মে, ২০০৯ রাত ১:৪৬

লেখক বলেছেন: খুবই লজ্জাজনক।

৪২. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১২
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: দারুন পোষ্ট। এখন আসলে ব্যস্ত। আলোচনা করতে পারলে আমারো ভাল্লাগতো। মিথ আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয়।

নিয়ে যাই। যদি সময় পাই আলোচনা করবো।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন: আপনার আলোচনার অপেক্ষায় থাকলাম।

৪৩. ০৩ রা মে, ২০০৯ বিকাল ৫:২১
বিপ্লব০০৭ বলেছেন: হ্যান্স অ্যান্ডারসনের রূপকথাগুলো আমার খুব প্রিয়। সুন্দর পোস্ট। অনেককিছু জানলাম।
০৩ রা মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৭

লেখক বলেছেন: অ্যান্ডরসনরা আসলে প্রচলিত রুপকথকেই নিজের মত করে উপস্থাপন করেছেন।
তারাও মহতজন, সন্দেহ নেই।
তবে যে জনসম্প্রদায় এগুলো নির্মাণ করেছে যুগ যুগ ধরে, তাদের যৌথ প্রয়াসকে তো একক মানুষ ছুঁতে পারবে না।

৪৪. ০৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১২:১৬
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: অসাধারণ একটা পোস্ট পড়তে অসাধারণ দেরি হলো!:(
০৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮

লেখক বলেছেন:

পুরা ব্যান হইয়া গেল তো আর পড়তে পারবেন না।

পরিস্থিতি সেইদিকে নিবার চেষ্টা আছে। ভাড়াটে লেলাইয়া দিছে, খালি ত্যক্ত করে।

৪৫. ০৮ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:১৬
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: কয়দিন গ্যাঞ্জাম হইসে আপনারে নিয়া... হাল্কার উপ্রে দেখছি। কিন্তু এই পোস্ট পইড়া রীতিমত ফ্যান হইয়া গেলাম! বুদ্ধি দেই, নিজের যেসব পোস্ট রাখতে মন চায়, ব্লগস্পটে উঠায় রাখেন, লিংক্টা এইখানে দিয়া দেন।
১৪ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:০০

লেখক বলেছেন:

হুম।

সামুতে যা লেখছি, যদি মুইছা দেয় দিল।

পাঁচ জাগা মেইনটেন করা তো বিরাট ফ্যাচং।
(কিন্তু আপনার মুদ্ধতা আমার বিরাট উপকারে আসবে...)

৪৬. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৪১
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: আরি সর্বনাস!
আপনার উপরে তো দেখি রাগ করার উপায় নাই।
ঘটনা জটিল।
১৪ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:৫৭

লেখক বলেছেন:

আমি কিন্তু আপনার ওপর যথেষ্ট-ই রাগ করেছি।
ঘটনা সরল।

৪৭. ১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:১৪
সোজা কথা বলেছেন: @খারেজি ..ভাল আছেন? অপেক্ষা করছি কখন পুরো স্বাধীনতায় ফিরে আসবেন।
১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:১৭

লেখক বলেছেন:

স্বাস্থ্যোদ্ধার কমপ্লিট।
কিন্তু নিরপদ হৈতে মনে হয় বহুতদিন লাগবে।

আপ্নি ভাল তো!

৪৮. ১৪ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:০১
জাতিষ্মর বলেছেন: খারেজীর প্রিয় পোস্ট থাইকা খারেজীর এই পোস্ট পাইলাম, আমিও প্রিয়তে রাখিলাম।

ক্যাম্পবেল সাহেবর এই ধরণের চিন্তা ভাবনা নিয়া আরো লিখেন, বিশেষ কইরা আজগুবী(!) ধর্ম কাহিনী-মিথ গুলার মাজেজা আমরা আম পাবলিক কিছু বুঝি ।

ক্যাম্পবেল সাহেবের একটা ডকু দেখছিলাম বিল ময়াড়ের সাথে সাক্ষাতকার, চিন্তা ভাবনায় বলতে গেলে আমূল পরিবর্তন আসছিলো ঐটা দেইখা । লোকটার কাছে ঋণী।

পরে আরেকটা ডকু দেখা হইছে, বিভিন্ন যায়গায় তার ক্লাশ, একসাথে বইসা গাল গপপো করার ভিডিও।
১৪ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৪৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ, বিল ময়ার্সের সাথে সাক্ষাতকারের বইটা পড়ার পর থেকেই ক্যাম্বেলের বিষয়ে আগ্রহ জন্মে ছিল।


আরও একটা লেখা আছে, রূপকথা আর পুরান নিয়ে আরও কিছু কথা..., দেখবেন আশা করি।

৪৯. ১৪ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:১৮
জাতিষ্মর বলেছেন: সবার সুবিধার্তে ডকু দুইটার ডাউনলোড(টরেন্ট) লিংক দিচ্ছি:

The Power of myth

Transformations of Myth Through Time

সবাইকে দেখার জন্য সাজেস্ট করলাম।
১৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: লিঙ্ক দুইটার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৫০. ১৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৪৩
জাতিষ্মর বলেছেন: লেখাটার একটা প্রতিক্রিয়া পোস্ট দিলাম এইখানে
১৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন: প্রতিক্রিয়া হিসাবে আদৌ হয় নাই, কিন্তু লেখা হিসাবে খুব ভালো হয়েছে আপনার কাজটি। B-)

৫১. ১৭ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০০
জাতিষ্মর বলেছেন: 'প্রতিক্রিয়া' আমি বলতে চাই নাই, বলতে চাইছিলাম এই পোস্ট পড়ার পর '
আমারো পোস্ট দিতে ইচ্ছে হইলো' টাইপ। কিন্তু ভাষায় বড় দূর্বল।

নতুন একটা কমেন্ট করছি ঐ পোস্ট টাতে। সময় হলে দেখতে পারেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৯৭৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এইপথে আলো জ্বেলে এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে, সে অনেক শতাব্দীর মনীষির কাজ.....
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই