আমার প্রিয় পোস্ট
- ৩ - হাসান মাহবুব
- আমরা খুঁজেছি যারা স্বর্গের পথ... - খারেজি
- সিরাতাল মুস্তাকিম! - খারেজি
- বাংলাদেশে 'সেক্যুলারিজম' এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস - খারেজি
- স্বর্গচ্যুত হবার প্রথম অভিজ্ঞতা - খারেজি
- চিনপন্থীরা কী চিজ! :: মাওবাদীদের নিয়া কিছু কথা - খারেজি
- গ্রাম পতনের শব্দ - খারেজি
- মানুষ কেন অন্যমনস্ক হয়... - খারেজি
- ছোট্ট আরেক রাজপুত্র... - খারেজি
- পুরান আর রূপকথা নিয়ে আরও কিছু কথা... - খারেজি
- মায়া-দরোজা - খারেজি
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
দুটো চিরকালের গল্প
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:৪৬
১.
পয়গম্বর ঈসা একদিন বসে আছেন পাহাড়ের ওপর গাছের নীচে। ফরিসী পণ্ডিতরা তাকে জ্বালাতন করার জন্য এক বেশ্যাকে নিয়ে হাজির। ফরিসীরা তাকে বললেন, ওহে মরিয়মের পুত্র, তুমি না মুসার শরিয়ত বাস্তবায়নের কথা বল! এবার তার শরিয়তে এই বেশ্যার বিচার কর।
মুসার শরিয়তে ব্যাভিচারের শাস্তি পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড।
ঈসা গাছের মাথা তুললেন না। মাটিতে আকিঁবুকিঁ করতে থাকলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ফরিসীরা আবর তাকে বলল, কি হে, চুপ মেরে আছো যে! বিচার করো! খুব তো আমাদের জ্বালাও, আমরা কেন মুসার শরিয়তের আরসব গাফিলতি দেখেও না দেখার ভান করি, এবার তোমার কছেই আমরা বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম। দ্রুত বিচার চাই।
ঈসা মাটি থেকে মুখ না তুলেই বললেন, ঠিক, ওর মৃত্যুদণ্ডই পাওনা। তোমাদের মাঝে যে সবচে' বেশি নিষ্পাপ, সেই প্রথম পাথরটা ছুড়ে মার।
ফরিসীরা এবার অনেকক্ষণ নীরব হয়ে বসে থেকে একএকে চলেগেল। সেই বেশ্যা রয়ে গেল।
ঈসা আরও অনেকক্ষণ পর মাথা তুলে তাকে বললেন, ওরা কেউ কি তোমাকে পাথর ছুড়ে মারার মত নিষ্পাপ নিজেকে মনে করেনি?
না, প্রভু।
আমি্ও নিজেকে ততটা যোগ্য মনে করি না।
প্রভু!
২.
পয়গম্বর মুহাম্মদ একবার একটা সফর সাথীদের নিয়ে শেষে ফিরছেন, তাবু গেড়েছেন একটা মরুদ্যানে।অদূরেই তাবু গেড়েছে আর এক বেদুইন নারী, তার তাবুর সামনে চুলায় আগুন জ্বলছে। হাড়িতে কিছু একটা ফুটছে, কোলে তার একটি শিশু। অনেকক্ষণ সেই আগুনের দিকে তাকিয়ে বেদুইন নারী হঠাৎ হাক ছাড়ল: তুমি কি আব্দুল্লার ব্যাটা মুহাম্মদ?
জ্বী, মুহাম্মদ হাসলেন। বেদুইনদের রুক্ষ ব্যবহারেরর সাথে নগরবাসী আরবরা খুবই পরিচিত।
তুমি নাকি নতুন এক ধর্মের কথা প্রচার কর, যেখানে প্রভু আল্লা তার সকল বান্দাকে ভালবাসেন!
জ্বী, আমি তাই বলি।
তোমার আল্লা কি আমি আমার সন্তানকে যতটা ভালবাসি, তারচেয়ে বেশি ভালবাসে? কোলের ঘুমন্ত শিশুটির দিকে ইঙ্গিত করল বেদুইন নারী।
নিশ্চয়ই, আল্লা হলেন ভালবাসার অভিভাজ্য একক। আমাদের আর সকল ভালবাসা তো খণ্ডিত। কাজেই মা হিসেবে তুমি তোমার সন্তানকে যতটা ভালবাস, আল্লা তাকে তারচেয়ে অনেক বেশি ভালবাসে।
কিন্ত ও যতই খারাপ হোক না কেন, আমি তো ওকে কিছুতেই ঐ আগুনে ফেলে দেবার কথা ভাবতে পারি না, তোমার আল্লা কি করে মানুষকে অপছন্দের কাজ করলে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তির ভয় দেখায়?
নবী কেঁদে ফেললেন। আর বললেনে, আল্লা কাউকেই আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেবেন না।
...
প্রথম গল্পটা বহু বার এম্নি এম্নি পড়ে গেছি, কখনো আলাদা করে খেয়াল করি নাই। তলস্তয়েরর রেজারেকশন পড়তে গিয়ে ওখানে " তোমাদের মাঝে যে সবচে' বেশি নিষ্পাপ, সেই প্রথম পাথরটা ছুড়ে মার" (বা কাছাকাছি কোন উদ্ধতি) পেয়েছিলাম। সেই প্রথম খেয়াল করলাম কি অদ্ভুদ শক্তিশালী একটা গল্প! খামোকা তাকে প্রেমের নবী উপাধি দেন নাই মুহাম্মদ স্বয়ং। জগতের মর্মস্থলে যাওয়ার রাস্তা শিখতে গেলে তলস্তয়ের মুরিদ না হয়ে উপায় নাই।
দ্বিতীয় গল্পটি পেয়েছিলাম বুখারী শরীফে। এমনি আরও হাজারও গল্প, মানুষের আত্মার ইতিহাসকে যা বুকে ধরে আছে, কখনোই প্রচার পায়না। হয়তো স্বার্থে মেলে না বলে।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
খারেজি বলেছেন:
গতবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এটা একবার পোস্ট করা হয়েছিল, আনাড়িপনার কারণে ড্রাফট হয়ে গিয়েছিল এটি। আজ আবার উদ্দেশ্যমূকভাবে রিপোস্ট করা হল।
লেখক বলেছেন: না বোঝার মত শান্তি আর নাই রে পাগল...ইউ আর দা মোস্ট হ্যাপি ওয়ান
ভন্ডপির বলেছেন:
কন কি ভাই! দোযখে আগুন নাই? অবশ্য ঠান্ডা হইলেও চলবে, ধরেন -৫০ সে। তয় বিশ্ববম্মান্ডের হিট ডেথ হওয়ার পর আগুন বা ঠান্ডা এত পরিমানে খোদা কই পাইবে এইটা দেখার বড় খায়েস। হজ্জ্ব করা দরকার একবার শেষ বয়সে।
লেখক বলেছেন:
দোজখ্ ই নাই, তার আবার আগুন।
মহাভারতে একটা গল্প আছে: মৃত কাউকে পৃথিবীবাসী যতদিন মহৎকাজের জন্য স্মরণ রাখে, ততক্ষণ সে স্বর্গবাস করে।
খারাপ কাজের জন্য যতক্ষণ স্মরণ রাখে, ততক্ষণ সে নরকবাসী।
পৃথিবীবাসী তাকে ভুলে গেলেই সর্বনাশ, আবার নতুন করে মাতৃগর্ভে ফেরত আসতে হবে।
তর্পন বলেছেন:
....নবী কেঁদে ফেললেন। আর বললেনে, আল্লা কাউকেই আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেবেন না।@খারেজ, জটিল গল্প। এভাবে একবারও ভেবে দেখিনি । তাই তো, যাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসে কেউ তাকে কী করে শাস্তি দেয়া হয়। মায়ের সঙ্গে তুলনা করলে পরিষ্কার হয়। কীভাবে সন্তানকে নিজের সবকিছু উজাড় করে দেয় আমৃত্যু।
এবং উপরন্তু বিশ্বব্রম্মান্ডের সবচেয়ে দয়ার শরীর যার। আমাদেরই কষ্ট হয় পশুর মৃত্যুতে। দোজখের অগ্নিকুন্ডে তার প্রিয় সৃষ্টিগুলো জ্বলবে উনি কী করে সহ্য করবেন?
অনলাইনে বোখারী শরীফ পাওয়া যায়? কোন লিংক আছে, যেখানে এই গল্পটি পেয়েছেন?
লেখক বলেছেন:
বোখারী শরীফ একটা কিইনা ফালান না, পুলাপাইন ও ডিথিওলাইজড হইব অল্পবয়েসে, আপ্নেও হাদীস কালাম কিছু শিখলেন!
অনলাইনে সব হাদীসই পাওয়া যায়, লিংক জানে অলস ছেলে।
(আর গল্পটা সামান্য এডিটেড, খারেজি ভার্সন)
তনুজা বলেছেন:
এমনি আরও হাজারও গল্প, মানুষের আত্মার ইতিহাসকে যা বুকে ধরে আছে, কখনোই প্রচার পায়না। হয়তো স্বার্থে মেলে না বলে।লেখক বলেছেন:
সেটাই তনুজা, ধর্মকে দুনিয়ার চাহিদা মেটাতে হয়েছে, তাই সে ভয়ানক নিষ্ঠুর। সমাজপতিদের প্রয়োজনে।
ধর্মকে আত্মার চাহিদাও মেটাতে হয়েছে, না হলে সে তাদের কাছে বৈধতাই পেত না যাদেরকে শাসন করাটা উদ্দেশ্য।
কিন্তু একবার ক্ষমতা পেলেই আত্মাটা ভুলে যাওয়া হয়, তলোয়ারটাই একমাত্র জোর হয়ে যায়।
ধর্ম তাই মানুষের ভাল থাকার গ্যারান্টি না মোটেই।
আট আনা বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
ভাল।কিন্তু, একটা সন্তান যদি আরেকটা সন্তানকে খুন করে তখন ???
অপছন্দের কাজ ত অনেক রকম, তাই না ????
মা ছেলেকে শাস্তি দেয় না ?
দোযখে ত মানুষ মরে না। কেউ দোযখে গেলে মনে হয় না, তাকে হত্যা করা হবে !!!!
লেখক বলেছেন: কারো ব্যক্তিগত বুঝের জন্য আমি দায়ী না।
কঁাকন বলেছেন:
এমনি আরও হাজারও গল্প, মানুষের আত্মার ইতিহাসকে যা বুকে ধরে আছে, কখনোই প্রচার পায়না। হয়তো স্বার্থে মেলে না বলে।
লেখক বলেছেন:
সাধারণ মানুষরা কিন্তু ইতিহাসের সব বড় পটপরিবর্তনে এই আত্মার ইতিহাসকে নতুন করে সামনে টেনে নিয়ে আসে।
বুদ্ধিজীবী হয়তো বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন দিয়ে পরিবর্তনকে বরণ করে, গরিব লোকে করে ইনসাফের ব্যাখ্যা দিয়ে।
অক্ষর বলেছেন:
এমনি আরও হাজারও গল্প, মানুষের আত্মার ইতিহাসকে যা বুকে ধরে আছে, কখনোই প্রচার পায়না। হয়তো স্বার্থে মেলে না বলে।
লেখক বলেছেন:
আসলেই, হাজার এবং হাজার কাহিনী।
প্রতিটাই এমন তাৎপর্যপূর্ণ, তাদের ছাড়া মানুষের আত্মার ইতিহাস সম্পূর্ণ হবে না কিছুতেই।
শয়তান বলেছেন:
উদ্দেশ্য ???
লেখক বলেছেন:
উদ্দেশ্য পরিবর্তন। আমূল।
ধর্মভীরু মানুষ রক্তপাতকে বৈধ না করলে পরিবর্তন হবে না।
তাই তাদের আত্মাকে জাগানো দরকার, ডিথিওলাইজ করা দরকার, নরকের ভীতি দূর করা দরকার, তার ইনসাফের ধারণার সাথে চিরন্তন ইনসাফের সম্পর্ক তৈরি করা দরকার।
সোজা কথা বলেছেন:
দ্বিতীয় গল্পটি কত নম্বর পাতায়? আমার কাছে মওলানা শামসুল হকের অনুবাদকৃত বোখারী শরীফটি আছে। একটি পরম দয়ার নজির অনেক ।যেমন কতল করলে, পোড়ায়ে কাউকে হত্যা করা ইসলাম নিষেধ। যেমন হজরত আলী একজন মোরতাদকে পোড়ায়ে মেরে ফেলেছিল বলে পরে এটা নিয়ে বিতর্ক হয়। হত্যা করার জন্য অন্য পন্হা রেখে পোড়ায়ে মারা যাবেনা এটা বিতর্কে আসে।

যেমন মদ্যপানের জন্যও সহজ পথে দ্রুত কম কষ্টের শাস্তি। (বোখারী)

যেমন চুরি করলে হাত কাটার বেশী কোন শাস্তি ছিল না।

"রজম" করতে রসুল নিজে অংশ নিতেন এবং জানাজায় অংশ নিয়ে শাস্তি কমাতেন।
লেখক বলেছেন: আমি এই হাদীসগুলো জানি, সোজা।
একটা বিষয় খেয়াল করেছেন, মহান আলেকজান্ডার থিবস নগরীর সবগুলো ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু তার নিষ্ঠুরতা আলোচ্য না। তার আবির্ভাব প্রাচ্য-পাশ্চাত্য সংস্কৃতির যে মহাসম্মিলন ঘটাল, তারপর পৃথিবীই পাল্টে গেল, সেটাই ইতিহাসের প্রধান ফোকাস।
কিন্তু চার্চ কিংবা মোল্লাদের নিষ্ঠুরতার আলোচনা সেক্যুলার সমাজে বেশি হয়। এর একটা প্রাকটিক্যাল কারণ আছে।
আমাদের সমাজে এমন বহু লোক আছে, যারা সমাজকে ঐ স্তরে নিয়ে যেতে চায়। কাজেই, সেটা ঠেকাবার জন্যই ঐ সমাজের এই বীভৎস প্রথাগুলো আলোচনা হওয়া দরকার। আমি নিজেও তাই করি।
মানে আমার পয়েন্ট হল এই: ধর্মকে কেউ প্রতিক্রিয়াশীল কাজে ব্যবহার করে, করতে চায় বলেই তার বিষয়ে একটা কঠোর নজরদারী দরকার আছে ইতিহাস পর্যালোচনায়। তা না হলে আমরা ঐ 'রজম'কে একটা সমাজের একটা প্রথা হিসেবেই চিনতাম। নৃতাত্ত্বিক আগ্রহের বেশি কিছু তা নিয়ে থাকতো না।
কিন্তু অন্যদিকটাকেও স্মরণ রাখা দরকার, ধর্মগুলো জয়ী হয়েছিল সমাজ সম্পর্কে মৌলিক কিছু প্রশ্ন তোলার ক্ষমতার কারণেই। সেই ধারাবাহিকতা এখনও বিজ্ঞান সমাজনীতি দর্শন বা রাজনীতি আকারে আমাদের মাঝে আছে। সাধারণ মানুষের মাঝে তা এখনও চিরন্তন ইনসাফ আকারে আছে।
সেটাকে জাগিয়ে তোলা আমাদের কাজ।
(আর শামসুল হকের অনুবাদেই প্রথম পেয়েছিলাম হাদীস টা, পৃষ্টা বলতে পারব না, স্মৃতি থেকে দিয়েছি। আপনি সন্দেহ করলে ম্যাল ফ্যাচাং পোহায়ে বের করতে হবে... দয়া করে সন্দেহ করবেন না, আপাতত 'ইমান' রাখেন আমার ওপর, সুস্থ হলে খুঁজে বের করব।
জইন বলেছেন:
সুবাহানাল্লাহ
লেখক বলেছেন: আলহামদুল্লিহাহ্।
মুহিব বলেছেন:
পড়ে ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মানবতার জয়গান, মানুষের জয়গান।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্যে।
তলস্তয়ের ভক্ত জেনে আরো আনন্দিত হলাম।
লেখক বলেছেন: আমি দস্তয়ভস্কি ঘরানার।
তলস্তয়কেও অসাধারণ লাগে।
লেখক বলেছেন: সিম্পলি গ্রেট, কারণ এটা মোস্ট সিম্পল।
একলব্যের পুনর্জন্ম বলেছেন:
স্বার্থ চর্চার জায়াগাটা তৈরি হয় সংস্কৃতি থেকেসাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে এখনো চিন্তার স্কোপটা তৈরি হওয়ার সময় হয়নি.....হবে....
ভালো লিখছেন মামা....সোজা কথা রে কিছু বাঁকা ট্রিটমেন্ট দেন
লেখক বলেছেন: সহজ সরল খারেজি রে বাঁকা কইলা তুমি!
ঠিকাছে।
লেখক বলেছেন: মহামান্য কইয়া তাইলে কি লাভ হইল আমার?
সোজা কথা বলেছেন:
@একলব্য , "ট্রিটমেন্ট" বা এ ধরণের শব্দ ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? যদি কিছু বলার থাকে নিজের মুখে বললে খুশী হব। নিজের চিন্তার উপর আস্হা রাখুন। সারাক্ষণ তো আরেক জনকে পাবেন না।@খারেজি
আপনার একটি মন্তব্য খুবই সঠিক যে..."এমনি আরও হাজারও গল্প, মানুষের আত্মার ইতিহাসকে যা বুকে ধরে আছে, কখনোই প্রচার পায়না। হয়তো স্বার্থে মেলে না বলে।"
আপনার সুচিন্তিত কমেন্টের জন্য কৃতজ্ঞ। যেটি হয়েছে ইতিহাসে বিশাল অবদান দিয়ে দোহাই দিয়ে গণহত্যাকে বা নিষ্ঠুরতাকে গ্রহণ করতে মন চায় না । এতে সমাজ পরিবর্তনের নামে হত্যা অঙ্গচ্ছেদ কে উত্সাহিত করা হয়। এতে মার্কিনীদের পারমানবিক বোমা ফেলা যুক্তিযুক্ত করার কারণ আবিস্কৃত হয়।
একজন পাকিস্হানী লোকের সঙ্গে তর্ক হচ্ছিল, ৭১ এ পাকিস্হানের ভুমিকার জন্য তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকুন। না হলে আপনাদের স্বাধীনতা আসতো না।
লেখক বলেছেন: না আমি তা করি না, সোজা। কিন্তু একটা বিষয় কি, আলেকজান্ডার এর তুলনায় মুহাম্মদ এর বিজয়ের ফলাফলগুলা মানবিকতার দিক দিয়া কি বেশি কাম্য ছিল না? ইহুদীদের ওপর চালানো একটা ঘটনা ছাড়া প্রায় সকল সময়েই তিনি যুগের সেরা মানবিক বিবেচনার্ই পক্ষ নিয়েছেন বলে আমার মনে হয়।
কিন্তু আমি বলতে চাইছিলাম এরপরও রজম নিয়া আমাদের আলোচনা করতে হয়, কেননা কেউ কেউ এটা আজও চাপাতে চায় বলে।
ফলে আমরা রজমের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রায়ই ঐ ঐতিহাসিক লোকগুলাকেও খাটো করি, যাদের ও বিষয়ে প্রায় কিছু করার ছিল না।
পাথড় ছুড়ে মারা একটা প্রাচীন আরব-ইহুদী প্রথা, মুহাম্মদ এটা অনুমোদনের আগে বেশ দ্বিধার মাঝে ছিলেন, কিন্তু কালের প্যাট্রিআর্কি তাকে এটা মানতে বাধ্য করে। এমনকি ব্যভিচারী নারীর প্রতি তীব্র ক্রোধ থাকাটাও তার যুগের পক্ষে মানানসই।
কিন্তু আমার কথা এই: আলেকজান্ডার রাজক্সমতার একটা বিস্তৃতি, সাধারণ মানুষের আকাঙ্খার পরিনামে তার সাম্রাজ্য বিস্তার হয় নাই, আপনি সেই খানে মানবিক কিছু খুঁজে পাবেন না (আমার বৈধতা দেয়ার কি আছে!), কিন্তু ধর্মান্দোলনগুলো মানুষের মুক্তির আকাঙ্খার জের, তার বিস্তৃতি। পথ ভুল, ইতিহাসও প্রস্তুত না বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রচলিত সকল নিষ্ঠুরতা থেকে বেরুতে পারনি, শত্রুদের হাতেই ক্ষমতা চলে গেছে।
কিন্তু আজকের লড়াইয়ৈও আমি ঐ মুক্তির আকাঙ্খার ধারাবাহিকতা খোজার চেষ্টা করি।
একলব্যের পুনর্জন্ম বলেছেন:
ট্রিটমেন্ট মানে "উত্তর" আর কিছু নাখারেজি একবার বলবেন ই আমার আরেকবার বলার কি দরকার ...
লেখক বলেছেন: একলব্য, ঝগড়া ঝাটি আমি দারুন ডরাই, ভুল কইরা কইরা ফেলি, পরে পস্তাই।
আর, আপনে খারেজির লগে না শুইনাই একমত শুইনা আরাম পাইলাম।
এই তো ঈমানদার সাহাবী চইলা আসছে।
সোজা কথা বলেছেন:
@একলব্যের পূনর্জন্ম, ঠিক আছে । আপনার কোন প্রশ্ন থাকলেও অসুবিধা নাই সোজা সরল "ট্রিটমেন্ট" দেবার সদিচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: হ, অজু কইরা আসেন।
সমাজ্ঞী বলেছেন:
খারেজি আপনারে আমি ভাল পাই।
লেখক বলেছেন: আপনাকে আমি যথেষ্টই ভয় পাই।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
অদ্ভূত গল্প। মানুষ কতো প্রচন্ড হতে পারে, ভালোবসায়-আবেগে। তাই না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, শুভ্র।
তবে খেয়াল রেখেন, ধর্মতত্ত্বে আটকে পড়া যাবে না।
১। আপনার সবচেয়ে বড়গুণ আপনি মানবিক। চিন্তার অলিগলিতে হাঁটতে গিয়ে কখনও বেপুথে হয়ে গেলে একমাত্র ঐ মানবিক গুণটাই আপনাকে পথের দিশা, ইঙ্গিত বাতলে দিবে। ফলে, ঐটা হারায়েন না, সযত্নে লালন করবেন।
২। পশ্চিম তার ক্রিশ্চানিটি থেকে 'মানবতার' গণতন্ত্রে পৌছাতে পেরেছিল মানুষকে ক্রুশবিদ্ধ যীশুর সাফারিং (suffering) অনুভব করিয়ে। ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যায় যা ছিল ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যীশুর মানুষের আদি পাপ থেকে শুরু করে দুনিয়ার সব পাপের বোঝা যীশুর নিজের কাঁধে তুলে নেয়া। পশ্চিম, সাফারিংয়ের এই ব্যাখ্যাটা লন্ড্রিতে পাঠিয়ে সাফসুতরা করে ইহলৌকিক রক্তমাংসের মানুষের সাফারিংয়ের মানবিক অনুভব করার দিকে ফোকাস ঘুরিয়ে দেয়। ফলে সাফারিংয়ের নতুন মানে দাড়ালো অপর মানুষের জন্য মানবিক অনুভব, পাপ যেখানে আর গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তাল সামলাতে না পেরে এই মানবিক অনুভব, 'মানবতার' গণতন্ত্র হয়ে আটকে গেছে।
৩। তার মানে আবার আমি 'মানবতার' গণতন্ত্রের পথে হাটতে বলছি না। আপনার ভাষা দিয়ে বলি, বলেছেন, "বুদ্ধিজীবী হয়তো বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন দিয়ে পরিবর্তনকে বরণ করে, গরিব লোকে করে ইনসাফের ব্যাখ্যা দিয়ে"।
আমি ইনসাফের রাষ্ট্রের পক্ষে। 'মুর্খসুর্খ' গরীর মানুষই আমার ভালো। বুদ্ধিজীবীতা এখানে বিপদজনক।
৪। আপনার 'আত্মার' পক্ষে আছি আমি। কোন 'কমিউনিষ্ট' বা 'বিজ্ঞানবাদী' এখনও প্রশ্ন তুলে নাই দেখা যাচ্ছে। তুললে আপনার পাশে দাড়াব।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনার কমেন্টের জন্য। আপনার দ্বিতীয় পয়েন্টটি আমার ভাবনা গোছাতে সাহায্য করেছে।
তবে, আমার ভয় মুর্খসুর্খ গরিব লোকেরা উত্থিত হয়েই হয়তো আবারও বুদ্ধিজীবীদের পাল্লায় পড়বে, যদি তাদেরও সংগ্রামেরও বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি চালূ না থাকে।
আর কি, আমার দেখা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক 'গরিব' ইনসাফবাদী হয়েও দারুন ইহজাগতিক। তার ধার্মিকতার সাথে আমি ইহজাগিতিকতার খুব বেশি দূরত্ব দেখি নাই। বরং আমার দেখা মধ্যবিত্ত (ব্লগেও তার ব্যাপক প্রকাশ আছে) অনেক বেশি ধর্মের দোহাই পারে, যদিও তাদের বাস্তব জীবনের সাথে ধর্মের ফারাক হাজার মাইল।
আপানাকে অনেক ধন্যবাদ, দ্বিতীয় পয়েন্টা আমি নিজেও এখন সংক্ষেপে বলতে পারব।
ব্লগে তেমন বসি না। আপনার ব্লগে আজ প্রথম আসলাম। লালন নিয়ে আমার পড়াশোনা নাই পোস্টেই বারবার বলেছি, জাস্ট গানগুলো শুনেছি, একটা বই পেয়েছি; ওটাতে তেমন তথ্য পাই নাই। আপনার সাথে আলোচনার যোগ্যতা আমার নাই। তাছাড়া এখন বহু জিনিস নিয়া ব্যস্ত আছি। আপনার সিদ্বান্তে আমিও এসেছি। তবে কমাগুলো কিভাবে বসালেন তা বুঝলাম না। গান শুনে, যেমন, 'লালন বলে না এ কথা কোরানে কয়'- এখানে কমার অস্তিত্ব বুঝিনি। যাই হোক, ভাববো। তবে গানগুলো মোটামুটি বিশ্লেষণ করে এ সিদ্বান্তে এসেছি লালন সুফি হলেও শেষপর্যন্ত সুফিবাদ আঁকড়ে ধরেননি। তাঁর চিন্তা বিবর্তিত হয়েছি। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। এখন ইতিহাস ধরতে হবে বুঝতে পারছি। যাই হোক, ধৈর্য ধরতে হবে। মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আর মন্তব্যগুলো ভূপর্যটকের পোস্টে দিলে ভালো করতেন (যিনি লালনকে সুফিবাদী পোশাক যারা পরাতে চায় তাদের তুলোধনা করেছেন তার লেখাগুলোতে)। আমরা যারা আগ্রহী তারাও অনেক কিছু শিখতে পারতাম যদি তার সাথে আলোচনাটা চলতো আপনার। ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: বিপ্লব!
আমি তো উত্তরের আশা ছেড়ে দক্ষিনমুখী হয়েছিলাম, বহু বার আপনার পোস্টে ঘুরে এসেছি।
ভূপর্যটকের পোস্ট আমি দেখিনি, এখন মনে হচ্ছে দেখতে হবে।
আমিও কিন্তু বলি না যে লালন সুফী ছিলেন, বরং এটা একটা বঙ্গীয়-ভারতীয় ধারা যা মূলতঃ কৃষিভিত্তিক সমাজের ভাবগত নির্মাণ, পরাজিত হযে প্রান্তস্থ হলেও তা টিকে গিয়েছে তার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতার গুনে। আর এই টিকে থাকার প্রয়োজনে সে বিজয়ী পক্ষের (ব্রাক্ষন্য ধর্ম, ইসলাম, বৌদ্ধ মঠকেন্দ্রিক অভিজাততন্ত্র) ইতিবাচক বহু উপাদান ও বৈশিষ্ট্য আত্মস্থ করে নিয়েছে বলেই বৈষ্ণব, সুফী ইত্যাদি মতের অনেক দিক আমরা তাদের মাঝে পাই।
দাঁড়ান, এ নিয়ে আলাদা একটা পোস্ট দেব্।
লেখক বলেছেন: মানুষ মানুষ হবে কবে?
দুটো উত্তর হতে পারে:
১. সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ!
২. মানুষ সর্বদাই তার নিজ প্রেক্ষিত অনুযায়ী মানুষই ছিল। 'মানুষ' মানুষ হয়ে ওঠার একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হয়তো।
সোজা কথা বলেছেন:
@খারেজি আমি আপনার লেখার সঙ্গে আগে পরিচিত এবং আপনার চিন্তার মানবিক চিন্তাধারাটির সমর্থক। হাদিসটি নিয়ে সন্দেহ করার কোন প্রশ্ন নেই। (সামুতে অনেক "কোরান হাদিস মুখস্তকারী" কিলবিল করছে যারা বোখারীর মত জিনিস নিয়ে ভুল কিছু পেলে ক্ষুরধার কমেন্টের ঝড় বইয়ে দেবে) ।
দ্বিতীয় গল্পে দুটো পয়েন্ট মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রথমত: পয়গম্বর মুহাম্মদের হৃদয়ের কোমলতা । যেখানে একজন মায়ের প্রশ্ন তাকে অশ্রুসিক্ত করে। দ্বিতীয়ত: তার উক্তি, "আল্লাহ কাউকে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেবেন না"। দ্বিতীয় উক্তিটির আক্ষরিক অর্থ ধরে নিলে দাড়ায় এই দোজখের শাস্তির বিষয়টি যে বানোয়াট তা তিনি বেফাস স্বীকার করে নিলেন । হয়তো দোখজের জ্বলন্ত চুল্লিতে ডীপফ্রাই করার ভয় দেখিয়ে জাগতিক শৃঙ্খলা আনয়ন নিশ্চিত করাই তার উদ্দেশ্য। ঠিক?
অট: এলোমেলো প্রশ্ন । ল্যাটিন আমেরিকায় কেন কোন সেলিব্রেটি পয়গম্বর জন্ম নিলো না কেন? কেন অন্ধকার যুগে পড়লো শুধু একটি অংশ । আফ্রিকার কালো মানুষগুলো অসভ্য থেকেও কেন আইয়ামে জাহেলিয়াত দেখলো না।
(হয়তো মিডিল ইস্ট ম্যানেজ করা দুনিয়ার সবচেয়ে জটিল কাজ । পয়গম্বররা সাময়িক ভ্যাকসিন দিয়ে মহামারী সামাল দিয়েছে। যদিও রক্তারক্তি এড়ানো যায়নি, নৃশংসতাও। কিন্তু সেই প্রেক্ষাপটে এর চেয়ে দ্রুত কার্যকরী কিছু ছিল না। তারপর যেন সেই ভ্যাকসিনের লংটার্ম "মৌলবাদী" সাইড এফেক্ট থেকে আর মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। )
লেখক বলেছেন: আমার ওপর ভরসা রাখার জন্য ধন্যবাদ সোজা।
কিন্তু ল্যাতিন আমেরিকা নিয়ে যে পশ্নটা করলেন, তাতেই আবার কতটা আস্থা রাখেন, সেইখানে একটু কমতি হয়া গেল। আপ্নি কি কোন ঈমানদারের হৃদয়ে প্রশ্নের বীজ বপন করতে চাচ্ছেন? হাঃ হাঃ হাঃ
আচ্ছা, ল্যাতিন আমেরিরকা পর্যন্ত যাবার দর্কার কি? এভাবে ভাবলেও তো হয়: কেন সেমেটিক শত শত পয়গম্বর আরব পেনিনসুলায় ঘাসের বীজের মত গজাল, গ্রীসে নন একজনও। সেখানে বরং গজালো যুক্তিবিদ।
পয়গম্বররা যুক্তির ব্যবহার করতেন না তেমন না, রাজনীতি, দর্শন, অর্থনীতির ধারণা সেখানে একটা অস্ফূট আকারে থাকলেও সেটা মূলত ধর্মশাস্ত্রেই পরিনতি পেয়েছে।
যুক্তিবিদরা ধর্মের ব্যবহার করতেন (সক্রেটিস নিজে পরজন্মে বিশ্বাস করতেন!) না এমন নয়, কিন্তু তারা জন্ম দিলেন দর্শন, যুক্তিবিদ্যা আর প্রকৃতি বিদ্যার।
এত কাছাকাছি দুটে জায়গায়, যারা পরস্পেরর অচেনাও নয়, কেন এমন দুটো পরস্পরবিরোধী ধারার জন্ম হল, তাই বরং আরও বেশি ভাবার বিষয়।
আর প্রথম পয়েন্টের উত্তরে আপনার সন্দেহ ঠিক বলেই আমিও সন্দ করি; কেননা এমন সুস্পষ্ট আরও হাদিস আছে।
আর ফুটনোট নিয়া আমার আপত্তি আছে। আসলে ধর্মগুলা তার নিজ নিজ ক্ষুদ্র গোত্র আর সামাজের প্রেক্ষিতে জন্ম নিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্য বলে আমাদের আধুনিক ধারণাটা তো তখন ছিল ই না। পরস্পর বিরোধী দুটো গোত্র সর্বদাই দু ধরনের ঈশ্বরের নেতৃত্বে যুদ্ধমান থেকেছে।
ক্রিশ্চান ধর্মের আগে সকল সেমেটিক ঈশ্বরই গোত্রীয়। যিশু নিজেও নিজেকে ঈশ্বরের হারানো মেষ শাবকদের জন্য প্রেরিত বলেছেন, এই মেষশাবকরা ইহুদি।
সন্তু পল প্রথম ক্রিশ্চান ধর্মকে একট গ্রোত্রত্তীর্ণ রুপ প্রদান করেন।
সোজা কথা বলেছেন:
@একলব্যের পুনর্জন্ম.. হা হা হা, আমি কথার পিঠে কথা বলে খালাস। আমি নিজেও অনেক সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুজি এখানে ওখানে। সুতরাং ভুল ধরায়ে বা সমালোচনা করলেও মাইন্ড খাইনা।
লেখক বলেছেন: আমিও একলব্যরে তাই কইছিলাম।
সুজা মাঝেমধ্যে ব্যাকা কতা কইলেও শেষতক সুজাই।
এরা মাইন্ড খাইলেও খাতিরই বাড়ে।
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন:
ডাকি না তোমায় আর
আমরা গুনাহ্গার
ক্ষমা করো হে প্রভু
করবো না গুনাহ্- আর কভু....
লেখক বলেছেন: দোয়া-দরুদ নিজের ঘরে নাইলে মসজিদে গিয়া পড়লেই ভাল হইত।
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন:
মন মেজাজ এখন আমার ভালো।
লেখক বলেছেন: বুঝতে পারলাম না,
আমি কি জানতে চেয়েছিলাম?
আমি শুধু বলেছি দোয়া দরুদ দূরে গিয়া পরতে।
সোজা কথা বলেছেন:
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন: মন মেজাজ এখন আমার ভালো।তাড়া হুড়ার কিছু নাই ভাইজান। পাক পবিত্র জায়গা ছাড়া দোয়া দরুদ পৈরেন না।
উদাহরণস্বরূপ একজন ইমানদার ব্লগার তো চে গুয়েভারার মাথায় টুপি দেইখা তার পিছনে জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য রেডী হইছিল। দেখি ব্লগের প্রফাইল সেট করেও রাখছিল। পরে তার সঙ্গী দু একজন চিনতে পাইরা ঝাড়ি দিলো দেখলাম। কে জানে দাঁড়ি দিয়ে মমিন মুসলমান গুগলে সার্চ করে হজরত কাল মার্ক্স রে না আবার প্রফাইলে সেট করে।
লেখক বলেছেন: থাউক, উনি পরে ফরাসী ভাষায় কতা কওয়া শুরু করবেন।
বাদ দেন।
উনি একে কবি, তারউপ্রেফার্সূীস্যুুনিতদিকাদুকাৃদ ভাষা জানেন।
ইন্ডিয়ানা জোন্স বলেছেন:
সরি খারেজী... কিন্তু দুই নং টার মর্মার্থ বুঝতে পারলাম না!!! আসলে রাসুল সাঃ কি বুঝাইতে চাইছেন???
লেখক বলেছেন:
বুঝাইতে চাইছেন, আসলে দোজখ বইলা কিছু নাই।
...
আপনার স্মৃতিতে কেউ যদি দোজখে থাকে, তখনই সে দোজখে আছে। আপানর স্মৃতিতে যে বেহেস্তে, সে বেহেস্তবাসী।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
ব্লগে ফালতু লেখার মাঝে ভালো লেখাটা খুঁজে বের করা দায়। কাহিনী দুটো ভালো লাগলো খারেজী সাহেব। কিন্তু একটু এডিটেড করেছেন যে? কোথায়? ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
এডিট করা বলা হয়েছে, কারণ ১. স্মৃতি থেকে বলা, ২. বলা যাবে না।
তবে বিকৃত করা হয়নি কোন ভাবে।
নুশেরা বলেছেন:
প্রথম গল্পটার কায়দায় কয়েকটা গল্প আছে; ঈশপ টাইপের কিছু চরিত্রের বয়ানে। "এমনি আরও হাজারও গল্প, মানুষের আত্মার ইতিহাসকে যা বুকে ধরে আছে, কখনোই প্রচার পায়না। হয়তো স্বার্থে মেলে না বলে।"-- কথাটা দারুণ বলেছেন। তবে আমাদের ছোটবেলায় কাঁটা-বিছানো বুড়ির গল্পটা পাঠ্য ছিল। এখন আছে কিনা জানিনা।
লেখক বলেছেন: না, বুড়ির গল্প বহুকাল পাঠ্য নাই। অদ্ভুদ একটা গল্প। যতবার শুনতাম... অন্যরকম একটা ব্যাপার ছিল...
আর প্রথম গল্পটার অসাধারণ ব্যবহার করছেন তলস্তয়। খুনের অভিযোগে এক পতিতার বিচার করতে যেয়ে বিচারক টের পেলেন, এই মেয়ে খুন করুক, না করুক; তিনি নিজে এই মেয়ের পতিতা হবার জন্য দায়ী। তারপর তার আত্মশুদ্ধির সংগ্রাম... আইন, ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতিকে তলস্তয় ঘুঁটে দিয়েছেন এই এক উপন্যাসে। সেই বিচারক ওই মেয়ের সাথে সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে যায়, ক্রমাগত আত্মশুদ্ধি করে, মেয়েটা কিন্তু বলে যে আপনি বেহেস্তর আশায় এই সব করছেন! সে বরং ভালবাসে আরেক নির্বাসিত বিল্পবীকে। তলস্তয় একটা লাইনই খালি কোট করছেন বারেবারে: বিচারের অধিকার আমাকে দেয় কে? আমিই তো পাপী!
খুব বেশি আধ্যাত্মিক বলে তলস্তয়ের সমালোচনা করা হলেও এটুকু আত্মা বস্তুবাদীদেরও থাকা উচিত।
জাতিষ্মর বলেছেন:
দুটা গল্পই অসম্ভব সুন্দর ।১। "ঈসা মাটি থেকে মুখ না তুলেই বললেন, ঠিক, ওর মৃত্যুদণ্ডই পাওনা। তোমাদের মাঝে যে সবচে' বেশি নিষ্পাপ, সেই প্রথম পাথরটা ছুড়ে মার। "
আর এই জন্যই নিস্পাপ ঈশ্বর দরকার,গ্রীক-ভারতী্যদের মত নাহ।
২।আগুনে পুড়িয়ে শাস্তির ভয় দেখায় কিন্তু পোড়াবে নাহ তো।
লেখক বলেছেন: ১.
ঈশ্বর হৈতে গেলে আর নিষ্পাপ থাকাটা সম্ভব না।
গ্রিক-ভারতীয় ঈশ্বররা আবার চিন্তাশীল খুব, মানুষের মতই।
২.
কিন্তু ওই মা কি কৈল দেখেন, সে তো ওই ডরটা দেখানোর কথাই ভাবতে পারে না!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















