somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খারেজির নমাজ না পড়া...

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দরবেশরা ক্যান তাদের মজলিশে কুরআন না পইড়া কবিগো ডাকে!
গাজ্জালি একটা মজার উত্তর দিসিল। হা হা হা। পৈড়া আমি পুরা টাশকি।

ধরেন, দরবেশরা ভাবোন্মত্ত হৈয়া নাচতে চায়, নাচের মাধ্যমে আল্লার সাথে মিলিত হৈতে চায়। কিন্তু সেই ভাবে উন্মাতাল হওনের জন্যই গায়ককবিরে তার দর্কার।

ক্যান? কুরআন পৈড়া সেই ভাব আইব না?

আইতে পারে, গাজ্জালী কয়। তয় সেইটা নয়া আদমীগো লাইগা। এক্বার এক বেদুঈন ইস্লাম গ্রহণ কৈরা এক সুরার তেলাওয়াত শুইনা কাঁদতেসে দেইখা আবু বকর, কোমল হৃদয়ের জন্য যিনি খ্যাত, বললেন, আহা, একদিন আম্রাও কোরআন শুইনা কাঁনতে পারতাম। সময় আর বারংবার শ্রবন আমাদের হৃদয়রে পাত্থর বানায়া দিসে!

তো গাজ্জালির যুক্তি ওই। প্রতিদিন যা শুনেন, তার আর ওই পরিমান প্রভাব থাকে না যা আপানারে কান্দ্ইতে পারে, ভাবোন্মত্ত দরবেশী নাচ তো অসম্ভব... আর ভাবই যদি না আসল, কেমনে মহাকালের ঘুর্ণির ছন্দে নাচবেন, কেমনে ফুলের মতো পাখির সাথে মিশবেন, অপ্রকৃতিস্থ হয়া প্রকৃতির একজন হয়া উঠবেন?

তাই দরবেশের ক্বারীরে দর্কার নাই। দরবেশের দর্কার শায়েরিরে। যে প্রতিদিন নতুন নতুন কবিতা আউরায়, নয়া গান বান্ধে... হৈতে পারে আবেগটা চির পুরানা, কিন্তু এই মাত্র শব্দটা দিয়া ভাবটারে এমন ভাবে গ্রেফতার করে... প্রতিদিন জীবনটারে সে নতুন বানায়া দেয়, প্রতি মুহূর্তটারে বাঁচবার বানায়া দেয়।

কবিতা পড়ার জন্য তাই পাঠের ফজিলত বর্ণনা করা লাগে না, সোয়াবের হিসাব আর বাজারের হিসাব কাটাকাটি কৈরা হাশরের ময়দানের ব্যালান্স শিটের উদ্বৃত্তের পুলক কিংবা ঘাটতির ভীতির কথা ভাবা লাগে না।

দরবেশ হৈল একটা সঙ্কটের ফল, যে মোল্লাতন্ত্ররে মানতে পারে না, আবার বিজ্ঞানেও যার আস্থা নাই। আধুনিক কবিতা পাঠকরা সকলেই তো তাই, মনের এই ঘোরপ্যাচ আর দ্বিধাই তো আজাকের কবিতার জন্মভূমি।

তাই দরবেশ গাজ্জালী বলেন, কোরআন সাধারণ মোটাদাগের মোটামাথার লোকদের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু দরবেশের চাই নিত্য নতুন শিহরণ। তাই কবির আগমন।
কবি ওইটারেই কবিদের তরফ থাইকা কৈলেন: কেউ যাহা জানে নাই- কোনো এক বাণী-
আমি বহে আনি;
একদিন শুনেছো যে সুর--
ফুরায়েছে,
--পুরানো তা-- কোনো এক নতুন কিছুর আছে প্রয়োজন,
তাই আমি আসিয়াছি,-- আমার মতন আর নাই কেউ!
সৃষ্টির সিন্ধুর বুকে আমি এক ঢেউ
আজিকার;- শেষ মুহুর্তের
আমি এক; - সকলের পায়ের শব্দের
সুর গেছে অন্ধকারে থেমে;
তারপর আসিয়াছি নেমে
আমি;
আমার পায়ের শব্দ শোনো,- নতুন এ- আর সব হারানো পুরোনো।



তাইলে দেখেন, কবির অভিমান। এক কবি পুরনো সবাইকে বাতিল বলে ঘোষনা করলেন, কিন্তু বারংবার আউরাইলে সেইটারেও একঘেয়ে লাগে বললেন আরেক দরবেশ। আর আমাদের আধুনিক কবিও নিজেরেই সৃষ্টির শেষ ঢেউ বলে ঘোষণা করলেন।


তাইতো কথা। ঠিক আজকে তোমার যে দ্বন্দ্ব, তার খোঁজ গলকালের কবি কি পুরোটা জানে? বিচ্ছেদের ভাবটা চিরকালের, কিন্তু কালকের বিচ্ছেদ আর আজকের বিচ্ছেদের ঘটনাতো আলাদা। আনন্দও চিরকালের, কিন্তু রবি ঠাকুরের... ধুর, কথায় কথায় ঠাকুর নিন্দা আমার স্বভাব হৈয়া দাড়াইল। বাদ দেই। আপাতত, কবিতা পড়েন, আমি একখান নতুন কবিতার বই জোগার করছি। সেইটা পড়তে শুরু করতে গিয়া এত কথা মাথায় আসল। গাজ্জালি মাজ্জালি বৈলা আপনাদের আসলে লোভ দেখাবার পায়তারা, বিষয়টা আর কিসু না। পড়েন
"গৃহত্যাগী জোছনারা
ভুলে গেছে, তাকে ফেলে গেছে..."

ব্যাস। আপনি অনাদিকালের বিরহবেদনার একজন সঙ্গী হয়ে উঠলেন।

ডেসপারেট? পড়েন:
"অলক্ত এক ভুলের নেশায়
খুন চেপেছে, ডুবছি আমি
রাহুর দশা কার লেগেছে!
...
এমন আমার মধুর তম ভ্রান্তি বিলাম
পাগলী তোমায় চিনতে পারে স্বপ্নে, ঘুমে
বারের দোষে কপাল পুড়ে ছাই হয়ে যাক
একঘরে হই সমাজ যদি ব্রাত্য বলে"

আচ্ছা, এত কথা কওনের দর্কারটা কি? বইমেলায় আমুর স্টলে যান, বইটা কিনা নিয়া পড়া শুরু কৈরা দেন। নমাজ যদি আদায় হয়।


দ্রষ্টব্য ১: মন ভালো কিংবা খারাপ সর্বাবস্থায় কবিতা পড়া যায়।
দ্রষ্টব্য ২: আইজুর সাথে এই পুস্টের কুনু সম্পর্ক আছে।
দ্রষ্টব্য ৩: পড়ার মত নিত্য নতুন কবিতা পাওয়া সর্বদা যায় না বৈলাই নমাজ আদায় হয় না রেগুলার। এ ই পুস্টের ইহাই সারমর্ম।
১২টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×