দরবেশরা ক্যান তাদের মজলিশে কুরআন না পইড়া কবিগো ডাকে!
গাজ্জালি একটা মজার উত্তর দিসিল। হা হা হা। পৈড়া আমি পুরা টাশকি।
ধরেন, দরবেশরা ভাবোন্মত্ত হৈয়া নাচতে চায়, নাচের মাধ্যমে আল্লার সাথে মিলিত হৈতে চায়। কিন্তু সেই ভাবে উন্মাতাল হওনের জন্যই গায়ককবিরে তার দর্কার।
ক্যান? কুরআন পৈড়া সেই ভাব আইব না?
আইতে পারে, গাজ্জালী কয়। তয় সেইটা নয়া আদমীগো লাইগা। এক্বার এক বেদুঈন ইস্লাম গ্রহণ কৈরা এক সুরার তেলাওয়াত শুইনা কাঁদতেসে দেইখা আবু বকর, কোমল হৃদয়ের জন্য যিনি খ্যাত, বললেন, আহা, একদিন আম্রাও কোরআন শুইনা কাঁনতে পারতাম। সময় আর বারংবার শ্রবন আমাদের হৃদয়রে পাত্থর বানায়া দিসে!
তো গাজ্জালির যুক্তি ওই। প্রতিদিন যা শুনেন, তার আর ওই পরিমান প্রভাব থাকে না যা আপানারে কান্দ্ইতে পারে, ভাবোন্মত্ত দরবেশী নাচ তো অসম্ভব... আর ভাবই যদি না আসল, কেমনে মহাকালের ঘুর্ণির ছন্দে নাচবেন, কেমনে ফুলের মতো পাখির সাথে মিশবেন, অপ্রকৃতিস্থ হয়া প্রকৃতির একজন হয়া উঠবেন?
তাই দরবেশের ক্বারীরে দর্কার নাই। দরবেশের দর্কার শায়েরিরে। যে প্রতিদিন নতুন নতুন কবিতা আউরায়, নয়া গান বান্ধে... হৈতে পারে আবেগটা চির পুরানা, কিন্তু এই মাত্র শব্দটা দিয়া ভাবটারে এমন ভাবে গ্রেফতার করে... প্রতিদিন জীবনটারে সে নতুন বানায়া দেয়, প্রতি মুহূর্তটারে বাঁচবার বানায়া দেয়।
কবিতা পড়ার জন্য তাই পাঠের ফজিলত বর্ণনা করা লাগে না, সোয়াবের হিসাব আর বাজারের হিসাব কাটাকাটি কৈরা হাশরের ময়দানের ব্যালান্স শিটের উদ্বৃত্তের পুলক কিংবা ঘাটতির ভীতির কথা ভাবা লাগে না।
দরবেশ হৈল একটা সঙ্কটের ফল, যে মোল্লাতন্ত্ররে মানতে পারে না, আবার বিজ্ঞানেও যার আস্থা নাই। আধুনিক কবিতা পাঠকরা সকলেই তো তাই, মনের এই ঘোরপ্যাচ আর দ্বিধাই তো আজাকের কবিতার জন্মভূমি।
তাই দরবেশ গাজ্জালী বলেন, কোরআন সাধারণ মোটাদাগের মোটামাথার লোকদের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু দরবেশের চাই নিত্য নতুন শিহরণ। তাই কবির আগমন।
কবি ওইটারেই কবিদের তরফ থাইকা কৈলেন: কেউ যাহা জানে নাই- কোনো এক বাণী-
আমি বহে আনি;
একদিন শুনেছো যে সুর--
ফুরায়েছে,
--পুরানো তা-- কোনো এক নতুন কিছুর আছে প্রয়োজন,
তাই আমি আসিয়াছি,-- আমার মতন আর নাই কেউ!
সৃষ্টির সিন্ধুর বুকে আমি এক ঢেউ
আজিকার;- শেষ মুহুর্তের
আমি এক; - সকলের পায়ের শব্দের
সুর গেছে অন্ধকারে থেমে;
তারপর আসিয়াছি নেমে
আমি;
আমার পায়ের শব্দ শোনো,- নতুন এ- আর সব হারানো পুরোনো।
তাইলে দেখেন, কবির অভিমান। এক কবি পুরনো সবাইকে বাতিল বলে ঘোষনা করলেন, কিন্তু বারংবার আউরাইলে সেইটারেও একঘেয়ে লাগে বললেন আরেক দরবেশ। আর আমাদের আধুনিক কবিও নিজেরেই সৃষ্টির শেষ ঢেউ বলে ঘোষণা করলেন।
তাইতো কথা। ঠিক আজকে তোমার যে দ্বন্দ্ব, তার খোঁজ গলকালের কবি কি পুরোটা জানে? বিচ্ছেদের ভাবটা চিরকালের, কিন্তু কালকের বিচ্ছেদ আর আজকের বিচ্ছেদের ঘটনাতো আলাদা। আনন্দও চিরকালের, কিন্তু রবি ঠাকুরের... ধুর, কথায় কথায় ঠাকুর নিন্দা আমার স্বভাব হৈয়া দাড়াইল। বাদ দেই। আপাতত, কবিতা পড়েন, আমি একখান নতুন কবিতার বই জোগার করছি। সেইটা পড়তে শুরু করতে গিয়া এত কথা মাথায় আসল। গাজ্জালি মাজ্জালি বৈলা আপনাদের আসলে লোভ দেখাবার পায়তারা, বিষয়টা আর কিসু না। পড়েন
"গৃহত্যাগী জোছনারা
ভুলে গেছে, তাকে ফেলে গেছে..."
ব্যাস। আপনি অনাদিকালের বিরহবেদনার একজন সঙ্গী হয়ে উঠলেন।
ডেসপারেট? পড়েন:
"অলক্ত এক ভুলের নেশায়
খুন চেপেছে, ডুবছি আমি
রাহুর দশা কার লেগেছে!
...
এমন আমার মধুর তম ভ্রান্তি বিলাম
পাগলী তোমায় চিনতে পারে স্বপ্নে, ঘুমে
বারের দোষে কপাল পুড়ে ছাই হয়ে যাক
একঘরে হই সমাজ যদি ব্রাত্য বলে"
আচ্ছা, এত কথা কওনের দর্কারটা কি? বইমেলায় আমুর স্টলে যান, বইটা কিনা নিয়া পড়া শুরু কৈরা দেন। নমাজ যদি আদায় হয়।
দ্রষ্টব্য ১: মন ভালো কিংবা খারাপ সর্বাবস্থায় কবিতা পড়া যায়।
দ্রষ্টব্য ২: আইজুর সাথে এই পুস্টের কুনু সম্পর্ক আছে।
দ্রষ্টব্য ৩: পড়ার মত নিত্য নতুন কবিতা পাওয়া সর্বদা যায় না বৈলাই নমাজ আদায় হয় না রেগুলার। এ ই পুস্টের ইহাই সারমর্ম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


