আর দেশে ফিরতে চান না সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। তার আশঙ্কা, দেশে ফিরলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। দেশে নিজেকে নিরাপদও মনে করেন না তিনি। এমন সব আশঙ্কার কথা তিনি ঘনিষ্ঠজনদের কাছেও বলেছেন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসই তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন। ইতোমধ্যে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। স্ত্রী, একমাত্র ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করলেও ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে দেশের খোঁজখবর রাখছেন। প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায় সরকারি বাড়ি ছেড়ে দিয়ে ড. ফখরুদ্দীন দেশ ত্যাগ করেন।
সূত্র জানায়, নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর বাংলাদেশে অবস্থানের সময়টায় প্রায় সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে যতটা সম্ভব লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন ড. ফখরুদ্দীন। অনেকটা এড়িয়ে চলেন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলো। একান্ত ঘনিষ্ঠজন ছাড়া কারও সঙ্গে কথাও বলেননি তিনি। দেশ ছাড়ার পর প্রথমে তিনি লন্ডনে যান এবং সেখানে বেশ কয়েক মাস অবস্থান করেন। কিছুদিন পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এর পর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। দ্বৈত পাসপোর্টধারী ড. ফখরুদ্দীন একাধারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই লন্ডন যান বলে জানা যায়।
সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, নানা আশঙ্কায় দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। দেশ ছাড়ার পেছনে মামলাভীতি ও নিরাপত্তাহীনতাই ছিল অন্যতম। তবে সে ভীতি তিনি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ বিষয়টি তিনি স্বজনদের একাধিকবার জানিয়েছেন। তাদের তিনি বলেছেন, দেশে ফিরলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ঘটে যাওয়া যে কোনো ঘটনার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। আর এ মামলার কারণে তাকে কারাগারেও যেতে হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, দেশে তার জীবনের নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও করেন তিনি। এসব ঝামেলা এড়াতেই প্রবাসজীবন বেছে নেন ড. ফখরুদ্দীন।
সূত্র জানায়, ড ফখরুদ্দীন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি সেখান থেকে বিভিন্ন দেশ সফর করলেও বাংলাদেশে আসতে চান না। তবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি তিনি অংশ নেন।
জাতিসংঘের চাকরি নিয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন দেশের এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান পদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশ পরিচালনার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন। তার দুই বছরের শাসনামলে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াসহ দেড় শতাধিক রাজনীতিককে গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে পাঠানো হয় শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
পরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়ী হয়। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি বর্তমান সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তবে নির্বাচনে মহাজোটের বিজয় ও ক্ষমতায় গ্রহণের বিষয়টিকে বিএনপি ড. ফখরুদ্দীনের ষড়যন্ত্র বলে মনে করে। এ ব্যাপারে এখনো বিভিন্ন সমাবেশ কর্মসূচিতে ফখরুদ্দীন আহমদকে দায়ী করে বক্তব্য দেন বিএনপির নেতারা।
কিন্তু ওনি কি জানেন দেশে ওনার অগণিত ভক্ত আজ ওনার অপেক্ষায়।
দেশে ফেরার আগ্রহ নেই সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।
সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।