somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিল্লি বা মুম্বাই নয়, মীম ঢাকার

২২ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিপুল হাসান
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম



ঘটনাটি গত বছরের। একটি বিজ্ঞাপন চিত্রের শুটিংয়ে মীম গিয়েছিলেন ব্যাংকক। শুটিং দেখতে আসেন কজন প্রবাসী ভারতীয় । ব্রেকের সময় তারা এগিয়ে এসে মীমের সঙ্গে ধুমসে চালালেন হিন্দি বোলচাল। একটু একটু হিন্দি বুঝতে পারায় রক্ষা, নয়তো মীমের পক্ষে সৌজন্যতা বজায় রাখা মুশকিল হয়ে যেত। বিদায় নেওয়ার সময় একজন জানতে চাইলেন, তুমি কি মুমই থাকো না ম্যাঙ্গালুরে নাকি দিল্লি? মুচকি হেসে মীম উত্তর দিলেন, ঢাকা।

শুটিং দেখতে আসা ভারতীয়দের চোখ উঠলো কপালে, বলে কী এই মেয়ে! ঢাকাই মেয়েরা তো টিনএজ পেরুলেই হয়ে উঠে ধুমসি-পটাস। পাশের দেশের মানুষ হিসেবে এটা তাদের জানা। একজন তো প্রায় ধমক দিয়েই বসলেন, তুমি কী আমাদের সঙ্গে রসিকতা করছো!

লাক্সসুন্দরী মীমের এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়। দেশের বাইরে যেখানেই যান, তাকে হরহামেশা এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাকে বলিউডের কোনো নবাগত ভেবে ভুল করেন অনেকেই । অন্যরা হলে হয়তো এই ভুল ভাঙানোর প্রতি মনোযোগ দিতেন না। বরং বলিউডের মডেল-অভিনেত্রী পরিচয় দিয়ে কেউ কেউ হয়তো বাড়তি সুবিধা নিতেও কার্পন্য করতেন না । কিন্তু লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার খেতাব বিজয়ী বিদ্যা সিনহা মিম অন্যরকম। তিনি যেখানেই যান, লাল-সবুজের দেশের মেয়ে বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করেন। বিদেশ-বিভুঁইয়ে কোনো বিদেশী যদি মীমের মুখ থেকে বাংলাদেশ শুনে কন্ঠে কখনো সামান্য অবজ্ঞা ফুটিয়ে তোলেন; তাহলেই সেরেছে। মীম তার সামনে মেলে ধরবে, বায়ান্নর ভাষার সংগ্রাম আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। সত্যিই এরকম মর্যাদরা ইতিহাস পৃথিবীতে আর কয়টা দেশের আছে!

বিদ্যা সিনহা মীম ২০০৭ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার খেতাব জিতে মিডিয়ায় পা রাখেন। অবশ্য সংস্কৃতি অঙ্গনে কাজ করার প্রস্তুতিটা নেওয়া শুরু সেই শৈশবে। মায়ের অনুপ্রেরণায় এইটুকু বয়স থেকেই নাচ-গানে পারদর্শী হয়ে উঠেন। তারপর হাজার সুন্দরীর সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা করে সুন্দরীতমা হয়ে উঠা। মজার ব্যাপার হলো আজ থেকে পাঁচ বছর আগে মীম যেমন ছিলেন, এখনও তেমনি আছেন। সেই ছিপছিপে আকর্ষণীয় দেহবল্লরী আজও ধরে রেখেছেন। রহস্যটা কী ? জানতে চাইলে হাসি মাখা কন্ঠে মীম বললেন, রহস্য কিচ্ছু নেই। আমি আসলে এমনই। আমার গঠনটাই এমন। এরপর জানালেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি স্বল্পভোজী। খাওয়া- দাওয়ায় সবজী-সালাদ আর ফলমূল প্রাধান্য দেন। শরীর চর্চা বলতে কেবল করেন ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ।

পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে এই সময়ে পৌছে ব্যস্ততার তুঙ্গে আছেন মীম। পুজার ছুটির পর সেই যে টানা কাজ করছেন, ফুরসত পাচ্ছেনই না। ব্যস্ততাই আসলে তার পছন্দ, ব্যস্ত থাকার মাঝেই খুঁজে পান আনন্দ। সকাল থেকে মধ্যরাত কাজের মধ্যে থাকলে ক্লান্তি যেন তাকে স্পর্শ করে না কখনো। মুখে সেই চেনা হাসি আর চলনে-বলনে চঞ্চলতার ঘটতি নেই কোনো।

মীম জানালেন, গত একমাসে প্রায় ডজন খানেক নাটকে তিনি কাজ করেছেন। যার মধ্যে সিংহভাগই একক নাটক। কাজ করেছেন সালমান হায়দার, সাইফুল ইসলাম, হিমু আকরাম, দিপঙ্কর দিপন, শুভ্রা আলম, অঞ্জন আইচ, মাইনুল হাসান, জাফর আল মামুন প্রমুখ নির্মাতার নাটকে। শুটিং করতে গিয়ে নিত্য নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন মীম। এরকম মজার দু’একটি অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে মীম বললেন, কিছুদিন আগে হিমু আকরামের পরিচালনায় ‘মকবুল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নাটক কাজ করলাম। এতে আমি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি, যার নেশা হলো পান খাওয়া। অথচ পান আমি দুচোখে দেখতে পারি না। জীবনে পান খাইনি। চরিত্রের প্রয়োজনে শুটিংয়ে আমাকে বার বার পান মুখে দিতে হয়েছে। একদিনে অন্তত পঞ্চাশটি পান খেয়েছি। প্রথমবার তো পান মুখে দিয়ে মাথা ভোঁ ভো করছিল। পরে অবশ্য অতটা খারাপ লাগে নি। বরং মনে হয়েছে পান জিনিষটা খারাপ নাা। হিঃ হিঃ।

মীম আরো জানালেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এবার ছিল শৈত্যপ্রবাহ। এ সময় পুবাইলের ভাদুনে হাসনাহেন শুটিং স্পটে আনিসুল হক রচিত ‘হৃদয়পুর’ নামের একটি নাটকে কাজ করেন মীম। সহশিল্পী ছিলেন সজল। নাটকের একটা দৃশ্য ছিল পুকুরে নামা। সজল ও তাকে পুকুরে নেমে ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে। হাড়কাপাঁনো শীত পানিতে নামার ভয়ে নির্মাতাকে গিয়ে সজল ধরলেন, ভাই ভালোবাসার পরীক্ষাটা অন্যভাবে নিন। পানিতে নামতে হলে একদম জমে যেতে হবে। পরিচালক জানালেন, উপায় নেই। এই দৃশ্যটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং কী আর করা। শীতে কাঁপতে কাঁপতে হিম-শীতল পানিতে সজল আর মীমকে ডুব দিতে হলো। চরিত্রের প্রয়োজনে অবশ্য এই কষ্টটা মেনে নিতে আপত্তি নেই মীমের। নিজের করা চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সবই তিনি করতে রাজি। কাজের প্রতি তার সিনসিয়রিটি বোঝা যায় নির্ধারিত সময়ের আগেই শুটিং স্পটে হাজির থাকার মধ্যেই।

লাক্সের খেতাব জয়ের পর শোবিজে বিদ্যা সিনহা মীমের অভিষেক হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ ছবিটির মধ্য দিয়ে। শুরুতেই জাহিদ হাসান, শাওন, ফেরদৌসের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ, যারা ছিলেন মীমের স্বপ্নের তারকা। সবার সহযোগিতায় প্রথম কাজে মীম উতরে গেলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের অভিনয় নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হলেন না নিজেই। বন্ধু-শুভানুধ্যায়ী আর সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বললেন, জেনে নিলেন নিজের দুর্বলতাটা কোথায়। ‘আমার আছে জল’ ছবিটির পর পর একাধিক সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন মীম। লম্বা সময় নিয়ে নিজেকে তৈরি করেন। এ

কবছর বিরতির পর আবার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। একেবারে টপ হিরো শাকিব খানের বিপরীতে ‘আমার প্রাণের প্রিয়’ ছবিতে। নতুন এক মীমকে দেখলেন দর্শক, ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্যও অর্জন। মীমের মধ্যে অমিত সম্ভাবনা খুঁজে পেয়ে বেশ কজন নির্মাতা তার দরোজায় কড়া নাড়েন। কিন্তু না, আগে পড়ালেখা। পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়কেই পড়াশোনার জন্য বেছে নিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হলেন।

সম্প্রতি অবশ্য নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করবেন বলে কথা দিয়েছেন বিদ্যা সিনহা মীম। ছবিটির নাম ‘আমার মন বলে তুমি আসবে’। দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত এ ছবিতে মীমের বিপরীতে নায়ক থাকছেন ইমন। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ছবিটির শুটিং শুরু হচ্ছে। তবে কী এখন চলচ্চিত্রে নিয়মিত হচ্ছেন? মীম জানালেন, ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। কারণ পড়াশোনা। একাডেমিক শিক্ষার শেষ ধাঁপটি ডিঙিয়ে তারপরই এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। আপাতত ভালো গল্পের মান সম্পন্ন ছবিতে বছরে এক-আধবার অভিনয় করবেন আর টিভিনাটকে অভিনয়টা নিয়মিত চালিয়ে যাবেন।

প্রেম আর বিয়ে? মীমের সাফ উত্তর, সময় নেই ভাবার। অন্তত আরো পাঁচ বছর পর এ ব্যাপারে ভাবার জন্য বাবা-মাকে জানিয়ে রেখেছি।

বাংলাদশে সময় ১৪৪০, জানুয়ারি ২১, ২০১২
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৭
২৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×