ভিক্ষুক আবার ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা হয় কিভাবে। এটি আদো সত্য কি? তা হতে পারে না। ভিক্ষুকতো ভিক্ষুকই। কখনো তা সম্ভব নয় কিংবা এসব স্বপ্নের গল্পের মতো বলেই প্রথমে মনে করবেন যে কেউ। হঁ্যা সত্যিই ভিক্ষুক ব্যবসায়ী দেখা যাচ্ছে এখন ফেনীতে। সারা দিন ভিক্ষা শেষে বিকাল বেলায় ব্যবসা করছে কয়েকশ নারী, পুরুষ ভিক্ষুক। সবাই চাল ব্যবসায়ী। এক সময় এ বাড়ী, ও বাড়ী, বা শহরের বাসায় ভিক্ষার চাল তুলে দোকানে বিক্রি করলেও এখন তার ধরন পাল্টেছে। ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব ভিক্ষুক চাল নিয়ে রাস্তার উপর বসে পড়ছেন বিক্রির জন্য। কেজি বা ফট মাপে বিক্রি করছেন তারা। ক্রেতারও অভাব নেই। সবই দ্রব্যমূল্যের উধর্্বগতির কারনে। তেমিন ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় প্রতিদিন বিকালে বসে ভিক্ষুকের চালের হাট প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা ধরে। তবে বাজারের কেজির মাপের চেয়ে এ হাটের চাল মাপে বেশী হওয়ায় অন্যসব হাটের চেয়ে দিন দিন বেড়ে চলছে বেচা বিক্রি। তবে মজার ব্যাপার ভিক্ষুকের চালের হাটে বেশীর ভাগ ক্রেতাও ভিক্ষুক। আসর নামাজের পরে এহাটে সাধারণের চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। ভিক্ষুকের ও ধরন আছে তাও প্রমাণ মিলে ফেনী রেল ষ্টেশনে গিয়ে। গ্রামাঞ্চলে মহিলা, পুরুষ ভিক্ষুকরা তোলে চাল। আর শহরের বাসা বাড়ীতেও চাল তোলে অনেক ভিক্ষুক। তবে এখন বেশীর ভাগ ভিক্ষুকই নগদ টাকা ভিক্ষা করছে। চাল তোলা ভিক্ষুকরাই মূলত বিকালের ব্যবসায়ী আর টাকা তোলা ভিক্ষুকরাই বিকালের ক্রেতা। তবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় হত দরিদ্র পরিবারই এ হাটে বেশী ভিড় জমাচ্ছে। বাজারের চেয়ে কম দাম ও ওজনে বেশী হওযায় এখানে ক্রেতারা আসছে বলে জানা যায়। এখানে কেজি মাপে নয় ৪ ফটে ১ কেজি ধরে বিক্রি হয়। সরজমিনে রেলষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায় ভিক্ষুকের চাল হাট কতোটা জমজমাট আর সরগরম। নুর ইসলাম (৭৫) এর বাড়ী কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি থাকার শোরমল গ্রামে। দির্ঘ ২৫ বছর যাবত ফেনীতে ভিক্ষা ভিত্তি করছে। ৩ মেয়ে ৩ ছেলে থাকলেও পিতার খবর নেয়না কেউ। প্রতিদিন গ্রামে ভিক্ষা করে ৪-৫ কেজি করে চাল পায় নুর ইসলাম। বিকালে রেল ষ্টেশনে বিক্রি করছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা করে। গড়ে প্রতিদিন আয় তার ২শ টাকা। থাকেন ষ্টেশন এলাকায় মেথর পট্রিতে মাসিক দেড়শ টাকা ভাড়ায়। তিনি জানালেন মাসিক ভাড়া আর কোন খরচ নেই তার। যে কোন খানে না হয় হোটেলে খেয়ে নেন তিনি।
নুরুল হক (৮৭) গত ৭/৮ মাস ধরে ভিক্ষা করছেন ফেনীতে। তার বাড়ী নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়। ৫ ছেলে নিয়ে তার সংসার। মাসিক ৫শ' টাকা ভাড়া দিয়ে ছেলে, স্ত্রী নিয়ে থাকেন জিআরপি ঘরে। তিনি, স্ত্রী, ছেলেরা দিন ভর গ্রামে ভিক্ষা করে তোলা চাল বিক্রি করছেন রেল ষ্টেশন এলাকায়। তার দিনে আয় ৩শ' টাকার মতো। চাল কিনতে এলেন নাজমা আক্তার (৩৫)। স্বামী মোঃ হানিফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধি। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর হানিফ (৬২) বিয়ে করে নাজমাকে। তার সংসারে ১ ছেলে ২ মেয়ে। লক্ষীপুর জেলায় রায়পুর উপজেলায় চরবক গ্রামের তাদের বাড়ী। বর্তমানে থাকে ফেনী শহরের কদলগাজী সড়কে ভাড়া বাসায়। তিনি বলেন, তার স্বামী হানিফ দিনভর ভিক্ষা করে ভাড়া করা এক মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। ভিক্ষুকের হাটে কম দামে চাল পাওয়ার আসায় তিনি এসেছেন মাত্র আধা কেজি চাল আয়ের জন্য।
রাশেদা বেগম (৩২), স্বামী হাতিবুর রহমান, ১ ছেলে ১ মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ৫শ' টাকা ভাড়া বাসায় থাকেন কদল গাজী রোডে। স্বামী হাবিবুর রহমান রিক্সা ভ্যান্ড চালায়। আর তিনি ভিক্ষা করেন। প্রতিদিন বিকালে এ হাট থেকেই চাল কিনেন তারা। হবিগঞ্জের বানিয়াচং গ্রামের বাড়ী ছেড়ে দির্ঘ ১৬ বছর ফেনীতে ভিক্ষাকরেই চলছে তাদের পরিবার। তার ভিক্ষার চাল প্রতিদিন কিভাবে রেল স্টেশন এলাকায় বিক্রি করছেন। তিনি বলেন এক সময় ২ টাকা কম হলেও দোকানে বিক্রি করতেন। এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় নিজেরা বসে বিক্রি করছেন।
একই ভাবে সনিয়া বেগম (৩৮) ও চলে বিক্রি করতে এসেছিলেন রেল স্টেশনের। ২ ছেলে ১ মেয়ে ও স্বামী আবদুল আউয়াল কে নিয়ে তার সংসার। স্বামী দিনমজুর। আর সনিয়া ভিক্ষা করেন। কিশোরগঞ্জের দারিশ্য কামাপুর গ্রামছেড়ে এসেছেন ২ বছর আগে। ২৫০ টাকা ভাড়া বাসায় থেকে মেয়ে নাদিয়া বেগম (৮) ও ছেলে শাহজাহান (৫) কে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। তার মতে নিজেরা কষ্ট করে হলেও ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা করানোই তাদের একমাত্র লক্ষ।
চাল কিনতে এসেছিলেন জাকির হোসেন, রিক্সা চালান তিনি। লোকমান হোসেন মাপের তুলনায় দামকম শুনে এসেছেন ভিক্ষুকের চালের হাট। তিনি চাকরী করেন শহরের একটি কাপড় দোকানে। একই ভাবে ব্যবসায়ী। চাকুরীজীবি রাও ভিড় করছেন এ হাটে চালের জন্য। সব চালই বিক্রি হয়ে যায় এশার নামাজের আগে। অভাব আর উদ্বগতির কারনেই এ হাটের উৎপত্তি হয় বলে জানালেন স্থানীয়রা। এদিকে এ ঘাটকে ঘিরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় একশ্রেণীর টাউট। প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। আরা ভিক্ষুকদের রয়েছে সর্দার বা লিডারশীপ/দৈনিক মাসিক হারে সর্দারদের কমিশন দিতে হয় অন্যসব ভিক্ষুককে।
-ফেনী সংবাদদাতা, তথ্যসুত্র:http://www.noakhaliweb.com.bd/reveal/reveal.php#

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

