আমার প্রিয় পোস্ট

সালমান রুশদীকে অভিনন্দন

২১ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

রানীএলিজাবেথ তার জন্মদিন উপলক্ষে সালমান রুশদীকে নাইট উপাধিটে ভুষিত করেছেন- যেহেতু এই রাজটান্ত্রিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাজা এবং রানীগনের নিজস্ব তাই রাজা কিংবা রানী যদি তার নিজস্ব পছন্দ অনুসারে মানুষকে নাইটহুড দিয়ে ফেলেন সেটা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা-

তবে সালমান রুশদীর নাইটহুড নিয়ে ইসলামপন্থীদের উগ্রতা লজ্জাজনক, আবারও ফ্রিডম ওফ এক্সপ্রেশনের কথা বলটে হয়, বলতে হয় সহনশীলতার কথা- এবং লজ্জাজনক সত্য হলো সহনশীলতার মাত্রায় ইসলামপন্থীদের অবস্থান অনেক নীচুতে।

সালমান রুশদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ মুহাম্মদকে অবমাননার অভিযোগ- ইসলামপন্থীদের দাবী তার স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাসে নবীকে অবমাননা করা হয়েছে- মনে নেই অনেক আগে যতটুকু পড়েছিলাম সেখানের কিছুই মনে রাখা সম্ভব হয় নি- জিব্রাইল এবং মুহাম্মদ পাশাপাশি বসে আছে এবং কথা বলছে এমন কিছু ছিলো হয়তো সেখানে- যাই হোক- যখন এটা পড়েছিলাম তখনও আমার দুধদাঁত খসে যায় নি- তাই ইংরেজীতে অনভিজ্ঞ আমি কোনো ভাবেই অনুধাবন করতে পারি নি এর বিরুদ্ধ আনা অভিযোগটা আসলে কি?

তবে এখন সামান্য হলেও বুঝতে পারছি, যদিও এখন স্মৃতিতে নেই উপন্যাসটা তবে স্যাটানিক ভার্সেস বলে কথিত আয়াত কিংবা বদআয়াতগুলোর বক্তব্য মনে আছে এখন-

স্যাটানিক ভার্সেস কিংবা শয়তানের ছলনায় নাজিল হওয়া ওহীগুলো সবই মক্কাকালীন সময়ে- তবে মুহাম্মদের নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ আছে এখানে- কারণ ইশ্বর এবং ইশ্বরের বিপক্ষ শক্তি শয়টানের বানীর ভেতরে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে যে- তবে এটাই দুঃখজনক বাস্তবতা।

মনে রাখতে হবে ইসলাম তার একত্ববাদীতায় বলীয়ান হয়ে উঠেছে সময়ের সাথে- এই ধারাবাহিক বিবর্তনে একত্ববাদ, একেশ্বরবাদ, একেশ্বরবাদীদের জন্য পুরস্কারসমুহ এবং শিরককারী এবং নাফরমানদের জন্য বরাদ্দ শাস্তিসমুহের বিস্তারিত বর্ণনায় পরিপূর্ণ মক্কাকালীন সূরাগুলোর মূল বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত স্যাটানিক ভার্সেসের মূল বক্তব্য- তাই মুহাম্মদ নিজেই একেশ্বরবাদ এবং শিরকের ভেতরের পার্থক্য অনুধাবন করতে সম্পূর্ন ব্যর্থ-
শয়তানের প্ররোচনায় পাওয়া ঐশী বানীতে ছিলো শিরকের আহ্বান- কাবা তখনও মুর্তিপূজারীদের আখরা- সেখানের দেবদেবীগনের ভেতরে সবার সম্মানিত এক দেবী ছিলো প্রধান পূজ্য- শয়তান ইশ্বর এবং সেই দেবীকে ভজনার নির্দেশ জারী করে ঐশী বানী এনেছিলো--

মুহাম্মদের উপলব্ধী ওহীর ঘোর কাটবার পরেই হয়েছিলো নাকি কোনো বিদধ নওমুসলিম এই যৌক্তিক বিভ্রান্তি তার সামনে উম্মোচিত করেছিলো এটা বলা এখহন কঠিন-

ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো মুহাম্মদ এটা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলো ইশ্বরপ্রদত্ত বানী হিসেবেই এবং পরবর্তীতে এটাকে কোরাণের আয়াতের তালিকা থাকে বাদ দেওয়া হয়-

জীবনীকারেরা বলেছেন মুহাম্মদ স্বীকার করেছেন শয়তানের প্ররোচনায় একবার বিভ্রান্ত হয়ে তিনি শয়তানের বানী এবং ইশ্বরের বানীর পার্থক্য নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েৈলেন- এবং আল্লাহ তা'লা তাকে সঠিক পথে এনেছেন-
এটার নানাবিধ ব্যাখ্যা আছে- ইবনে হিশাম আর আবু ইসহাকের লিখিত মুহাম্মদের জীবনির ভেতরে সুন্নীদের ভেতর জনপ্রিয় হলো ইবনে হিশাম বিরচিত মুহাম্মদজীবনী- যার ৮০ শটাংশই আসলে আবু ইসহাকের পান্ডুলিপির অনুকরণ এবং বাকী ২০ শতাংশ হলো কল্পনা এবং মানুষের গালগল্পে মুহাম্মদ-
তবে এই দুজনের গ্রন্থ থেকে সংকলিত করে একজন মুহাম্মদের জীবনী রচনা করেছেন- তার ব্যাখ্যাটা আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-

তার বক্তব্য হলো মুহাম্মদ সব সময়ই একটা শক্তিশালী গোত্রের সাথে ঐক্য গড়তে সচেষ্ট ছিলো- মক্কায় থাকাকালীন সময়ে তার লক্ষ্য ছিলো মক্কার শক্তিশালী গোত্র এবং তার সগোত্র কুরাইশদের আনুকল্য লাভ করা- এবং সেখানের সীমিত একেশ্বরবাদী এবং মুর্তিপূজারীদের একত্রিত করা- এটার জন্যই যৌথ পূজ্যস্পদ নির্মাণ।

একই ধারাবাহিকটার মদীনায় প্রথমে মুহাম্মদের চেষ্টা ছিলো ইহূদিদের সাথে সখ্যতা তৈরী করা এবং এজন্য মুহাম্মদই যে তাওরাত বর্নিত শেষ নবী এটা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন ইহুদি ধর্মগুরুদের সাথে আলোচনা- তবে শেষ ফলাফল হলো ইহুদিরা তার নবীত্বে আপত্তি না তুললেও তার শেষ নবীত্বের প্রশ্নে আপোষ করে নি- এবং অবশেষে মদীনা থেকে ইহুদিদের বহিস্কার করা- তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ- লড়াই- নির্মম হত্যা-

এর পরের লক্ষ্য ছিলো খ্রীষ্টানদের সাথে ঐক্য গঠন- তখন বিবি মরিয়ম- ইসার অলৌকীক জন্ম- তার প্রশস্তিমূলক আয়াতগুলোর জন্ম হয়েছে- এর পরে অবশ্য তারাও তাকে গ্রহন করতে অস্বীকৃত হলে মদীনার মানুষদের নিয়েই তার সম্পূর্ণ বিবর্তিত ইসলামের যাত্রা শুরু- এবং এসময়ই ইসলাম তার নিজস্ব বৈশিষ্ঠসমুহ আরও নির্দিষ্ট করে ফেলে-

যেহেতু মনে পড়ছে না এই বিষয়টাই স্যাটানিক ভার্সেসের মূল বক্তব্য কি না- তবে যদি তাই হয়ে থাকে- যদি এখানে মুহাম্মদকে মানবীয় করে নির্মান করা হয়- সেখানে প্রলুব্ধতা আছে- যেখানে রিরংসা আর লোভ আছে- তবে এটা তেমন দোষের কিছু নয়-

যদি বিষয়টা এমন হয় যে এখানে শয়তানই নায়ক তবে এমন উপন্যাসের কিংবা কাহিনীর ধারা পূর্বেও ছিলো- মাইকেল মধুসুদনের মেঘনাথ বধ - জন ব্লেকের ম্যারেজ ওফ হ্যাভেন এন্ড হেল- সবই প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের বিপরীতে গিয়ে নায়ককে তৈরি করেছে- তবে এ জন্য গোঁড়া হিন্দু বা গোঁড়া খ্রিষ্টানরা কেউই তাদের মৃত্যুর দাবী তুলে নি-

গত বছরের আলোচিত ডেনিশ কার্টুন নিয়ে যে বৃথা মাতামাতি হয়েছিলো এখনও তেমন মাতামাতি হচ্ছে না সালমান রুশদীকে নিয়ে- তবে বাস্তব সত্য হলো- মৌখিক বিতর্ক, সশস্ত্র বিদ্রোহ কিংবা বৈজ্ঞানিকতা বিচার করে ধর্মের শ্রেষ্ঠত প্রমাণ করা সম্ভব না- যে যার নিজস্ব বিশ্বাসকেই শ্রেষ্ঠ মনে করে- এবং এই বিশ্বাস করাটাই আদতে ভালো-

ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়ে ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা- তাদের সামগ্রিক আচরণ ধর্ম সম্পর্কে একটা ধারণা পৌঁছে দেয় ভিন্ন ধর্মের মানুষদের কাছে- ডেনিশ কার্টুন ছাপানোর প্রতিক্রিয়ায় যা দেখা গেছে যেটাই আসলে ডেনিশ কার্টুনে বিবৃত আছে- ব্যাঙ্গ ছিত্রগুলোতে মুহাম্মদের অনুসারীদের জঙ্গী চিহ্নিত করা হয়েছে- উন্মত্ব এবং কুমারীযোনী লোভি চিহ্নিত করা হয়েছে- তবে এর প্রতিক্রিয়ায় যা দেখা গেলো সেটা এই অনুমানকেই যথার্থ প্রমাণ করেছে-

সত্য হলো ইসলামপন্থী জঙ্গী দলের তুলনায় ইসলামী সাহায্য সংস্থাগুলো তাদের কাজের জন্য পরিচিত না- কিংবা ইসলামী সাহায্য সংস্থাগুলো আসলে তেমন ভাবে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার বাইরের জায়গায় নিজেকে নিয়ে যেতে পারে নি- এবং মানভিতৈষি ভুমিকায় আসলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় মুসলিমরা অনেক পেছনে পড়ে আছে- এবং ইসলামী জঙ্গীদলগুলোর কার্যকলাপ নিয়মিত সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে-

ইসলামী সাহায্য সংস্ঠাগুলোর কর্ম তৎপরতার অভাব এবং জঙ্গী দলের সক্রিয়তা যে বক্তব্য পৌঁছে দেয় সবার কাছে সেটার জন্য আসলে মুসলিমরা বেশী ক্ষতইগ্রস্থ হচ্ছে -

প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা আন্দোলন কোনো ইসলামী জঙ্গী আন্দোলন নয়- তবে ইসলামপন্থী জঙ্গী দলগুলো এটাকে মুসলিম আর ইহুদিদের বিরুদ্ধের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত করে ফেলেছে-
ইরাকের ভেতরের গোলোযোগ যদি সম্পূর্ণটাই মার্কিন বিরোধি বিক্ষোভ হতো তাহলে বলা যেতো সেটা ইরাকের স্বাধীকার আর সার্বভৌমত্বের লড়াই তবে- দুঃখজনক হলো

এই লড়াইটা মার্কিন বিরোধী না এটা শিয়া সুন্নি বিরোধ- এটা কুর্দি- সুন্নি বোরোধ- এবং এই আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আসলে কোনো পক্ষই নিজেদের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারছে না-
আফগানিস্তানের লড়াইটা এখন যেরূপ পেয়েছে সেটা স্বাধীনতার লড়াই তবে- আমার কাছে তালিবানী শাসনকে কোনোভাবেই উন্নত কোনো কিছু মনে হয় না- তালিবানী লড়াইকেও এখন সংবাদ মাধ্যমে ইসলামী জঙ্গী আন্দোলন চিহ্নিত করা হয়েছে- কারণটা সহজ- এখানেও একই ভাবে ইসলামের বিপন্নতা এবং খ্রীষ্টান বিরোধিতার উপাদান যুক্ত করা হয়েছে- যখনই কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বাতিল করবার চেষ্টা করা হবে- তখনই যেকোনো আন্দোলনই সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে সময়ের সাথে উগ্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর বিচ্ছিন্নতা বাড়তে থাকবে-

এখন আমরা ২৫০০ বছর আগের কোনো সময়ে নেই যেখানে আমাদের জাতিগত বিশুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে- আমরা নিজেদের নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবো এমন বাস্তবতা যেহেতু নেই -তাই উগ্র জাতীয়তাবাদ ধর্মীয় মৌলবাদ কিংবা সাম্প্রদায়িকতা চর্চার সময় এটা না- এটা সহনশীলটার জায়গা- এখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ- তাই যেকোনো ধর্মাবলম্বিদের একটা ভুল এবং একটা বর্বরতা তাদের ধর্মাবলম্বি আরেকজনের কিংবা আরও অনেক জনের দুর্ভগের কারণ হয়ে উঠে-

সালমান রুশদীকে নিয়ে সদ্য জায়মান এই সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ব্যপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই এটা ভাবতে হবে সবাইকে-

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ১৯৯৯ রাত ১২:০০

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ৯৬৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ২১ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৩
comment by: কৌশিক বলেছেন: মুসলিম উগ্রতাবাদকে পশ্চিমারা কিন্তু ভীষন পছন্দ করে। দে আর লাভিং দিস। তোমার ট'এর সমস্যা গেল না। তবে এত তথ্য কিভাবে সংগ্রহ করলা? দারুণ তথ্য সমৃদ্ধ নিঃসন্দেহে বলা যায়। গুড ওয়ার্ক।
২. ২১ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০২
comment by: মদন বলেছেন: বুদ্ধিভিত্তীক লড়াইয়ে মুসলমানরা বরাবর পিছনে। মাথা গরম সব সময়
৩. ২১ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৫
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: সত্যবচন।আর ঘোষিত ৫!
৪. ২১ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৭
comment by: তীরন্দাজ বলেছেন: অপ বাকের সতবাক! আমারও ঘোষিত ৫!
৫. ২১ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১০
comment by: সুমন চৌধুরী বলেছেন: পড়লাম।

৬. ২১ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৭
comment by: মম বলেছেন: আপনি রুশদীরে অভিনদন দিয়া সুরু করলেও আলোচনা ব্যাপক করসেন। আমার ইংরেজি ভাষায় ফিকশন পড়ন সুরুই বলতে পারেন "মিড নাইট চিলডরেন দিয়া।" আমি তার লেখনীর ভকতো।তবে তিনি অত্যানতো চালাক মানুষ, চ্যানেল মেনটেইন ভাল জানেন।
মুহামমদের বায়োগেরাফী নিয়া পেরায় ১০০ র বেশী বই আছে। মোসট লেটেসট ওয়ান আই বিলিভ বাই ইংরেজ, ক্যাথোলিক, লেখক নাম "ক্যারেন আমসটরং" । আপনি দয়া কৈরা উনার বই খানা পড়বেন। উনি বই খানা লিখসেনই মুসলিম বিশ্বে রুশদী র সাটানিক ভারেসেস উপর পতিকিরিয়া দেইখা।
উনার বইতে সবচাইতে বড় চাপটারই হৈল, সাটানিক ভারসেসের এনকাউনটার।
আপনের ভাল লাগবে, তথ্যের নতুন দুয়ার পাইবেন আশাকরি।
আর একটা কথা, আপনের শিয়া-সুননি বিষয়ক ওয়াজ টা সঠিক বৈলা আমিও মনে করি।
৭. ২১ শে জুন, ২০০৭ রাত ৮:৩৮
comment by: কাজী ইফতেখার আলম বলেছেন: একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকটি অন্যায়কে সমর্থন করা গ্রহনযোগ্য নয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই ইসলামী শাসন এবং অনুশাসনের মূলভিত্তি। সেটাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে কিছু মুসলামান নামধারী মানুষের ধর্মান্ধতার সুযোগ নিয়ে।
৮. ২১ শে জুন, ২০০৭ রাত ৯:৩৮
comment by: মেজভাবী বলেছেন: অপবাক, তুমি ত আমাকে নির্বাক করে দিলে সোনা।

মম, তুমি কি "ক্যারেন আর্মসটরং"-এর বই মন দিয়ে পড়েছ? উনি কিন্তু ইসলাম আর মুহম্মদের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ধর্মীয় বা পয়গম্বরী ব্যাখ্যা নয়। আজকে তোমার ভাইয়ার বুক শেলফ থেকে ক্যারেন আর্মস্ট্রং -এর "হিস্ট্র অব গড" বইটা থেকে কিছু অংশ তোমার জন্য তুলে দিলাম :

He (Muhammad) had brought the Arabs a spirituality that was uniquely suited to their own traditions. (দেখো, এখানে কিন্তু শুধু আরবদের পথে এনেছেন বলা হয়েছে, সকল মানবজাতিকে নয়)

Like many of the Arabs, Muhammad had come to believe that al-Lah, the High God of the ancient Arabian pantheon, whose name simply meant 'the God',â was identical to the God worshipped by the Jews and the Christians. He also believed that only a prophet of this God could solve the problems of his people, but never believed for one moment that he was going to be that prophet. (দেখো, এখানে কিন্তু প্রকারান্তরে আপবাকের কথাই সমর্থন করেছেন ক্যারেন আর্মস্ট্রং। মুহম্মদ প্যাগান এবং ইহুদিদের আল-লাহতে বিশ্বাস করতেন। এই কথাগুলোই সরাসরি লিখার জন্য এক ব্লগারের পোস্ট মুছে দিয়েছিলেন সামহোয়্যারইনের কর্তৃপক্ষ। এখানেও প্যাগান আর ইহুদীদের সাথে নেগোসিয়েশনের ইংগিত আছে যা অপবাকের বক্তব্যের সাথে মিলে যায় বাছা) ।

Muhammad made his converts bow down in ritual prayer twice a day. (দেখুন পাঁচবার নামাজ নয়, দুইবার । আর "মেড হিজ কনভার্টস বো ডাউন" -খুব ভাল করে ভাষাটা খেয়াল করো)।

এরকম অনেক উদাহরণ দিতে পারি। ক্যারেনের সবগুলো বই পড়া হয়ে উঠেনি যদিও। তুমি পড়েছ?

যাই আজকে, বাসায় আবার অনেক কাজ।
৯. ২২ শে জুন, ২০০৭ সকাল ৮:৪৮
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: সালমান রুশদী নিজে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মুসলিমদের মনে "অনিচ্ছাকৃত" আঘাত দেয়ার জন্য।

বইটা একটা 'মিথ' কে কেন্দ্র করে, তিনি নিজেও দাবী করেন নি সেগুলো সত্যি। কেবল ক্রিয়েটিভিটি হিসেবেই নিয়েছেন--তাই দাবী করেন। তিনি কখনও বলেন না, সেটাকে একমাত্র সত্য হিসেবে এস্টাবলিশ করার জন্য লিখেছেন।

যদিও মাথা কাটার ফতোয়া আর শারিরীক ক্ষতির হুমকি সমর্থন করি না, কিন্তু আমিও মনে করি বইটা লাইন ক্রস করেছে। অনেকটুকুই। মুসলিমদের রাগান্বিত প্রতিক্রিয়া গ্রহনযোগ্য না হলেও 'স্বাভাবিক' ছিল। খুব সহজে মুসলিমরা কুরআন, নবীর চরিত্র আর আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা লেখাকে 'শিল্প' বলে স্বীকৃতি দিতে পারবে না।

যাক গে, একে, সালমান রুশদী সফলতাই বলতে হবে--বইটা না পড়েই তার সাফাই গেয়ে বিশাল লেখা ঝেড়ে ফেলার মত বিজ্ঞানমনস্ক অন্ধ ভক্ত পয়দা করতে পেরেছেন!
১০. ২২ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১০:০৮
comment by: র্দশক বলেছেন: বই টা পড়ে যদি আর ও মনের মাধুরি মিশিয়ে ঝাল মেটাতেন!!!
১১. ২২ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১০:১৬
comment by: কাশেম বিন আবু বকর বলেছেন: এই অপবাক টা কে?
১২. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৩১
comment by: অপ বাক বলেছেন: মম আমার মনে হয় না আসলেই নতুন করে মুহাম্মদের জীবনিতে কোনো উপকরণ যুক্ত করা যাবে- একটা মানুষের জীবিতকালে তার সহচার্যে এসেছে এমন মানুষদের জবানিতে মুহাম্মদকে দেখার কাজটা সেই ১২০০ বছর আগেই সমাপ্ত-
তবে নতুন নতুন জীবনিতে আধুনিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আসবে- ওরাও আমার মতোই পুরোনো গল্পের একটা নতুন দৃষ্টি দিবে- তাতে মুহাম্মদের জীবিতকালে কৃত কাজগুলোর কোনো পরিবর্তন হবে না।
ঘটনা যা ঘটার তা ঘটে গেছে- এখন তার ব্যাখ্যা অন্য মানুষের কাছে শোনার জন্য বসে থাকলে হবে-
১৩. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৪২
comment by: অপ বাক বলেছেন: কাউকে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার জন্য তার ভক্ত হতে হয় না- সন্ধ্যাবাতি বিষয়টা নিজস্ব দর্শণের- তোমার কাছে হয়তো বিষয়টা আবেগ অনুভুতির কারণ তুমি এখনও অবচেতনে মানুষকে মুসলিম অমুসলিম হিসাবে বিভাজিত দেখতে পছন্দ করো-

কাউকে কিছু বলা কিংবা তার কাজের সমালোচনা বা সমর্থন করার জন্য যখন তার ধর্মবিশ্বাসের জায়গাটাকে সামনে এনে মানুষ বিচার করা ধরবে তখন বিষয়গুলো একটু গোলমেলে হবে-

সালমান রুশদীর বইটা আমি যখন পড়ছি তখন বইটার বিতর্কের কারণটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো- তখনও স্যাটানিক ভার্সেসের বিষয়টা আমার জ্ঞাত ছিলো না- সময়টা ১৯৮৯ কিংবা ১৯৯০- সে সময় এর প্যাঁচটা বুঝতে পারি নি- কোনো কারণ খুঁজে পাই নি- এখন জেনে যদি পড়ি তাহলে হয়তো আরও কিছু নতুন অবস্থান খুঁজে পেতাম

যাই হোক বিষয়টা আমার অন্ধ ভক্তির না বিষয়টা ফ্রিডম ওফ এক্সপ্রেসন কে সমর্থন করার দৃষ্টিভঙ্গির-
সালমান রুশদী মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত হানার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার পরও তার অপরাধ যে স্খলিত হয় নি সেটার প্রমাণ এখনও বর্তমান-
হায়রে মুসলিম জাতি এবং তার একান্ত অনুগত ভক্ত সন্ধ্যাবাতি-
ক্ষমা প্রদর্শন মহান ধর্ম, নবীজি ক্ষমা করতেন করতে পছন্দ করতেন- এসব বাক্যজালে বিভিন্ন মধুর কথা বললেও আচরনে সেসব প্রমাণ করতে সব সময়ই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে- এখানেও সেই একই বিষয়-
সুন্নাহর অনুগামী হিসেবে ফ্রিডম ওফ এক্সপ্রেশন নিয়ে আমার অবস্থানটা অন্তত তথাকথিত মুসলিমদের তুলনায় অনেক বেশী ইসলাম ঘেঁষা আচরণ-
১৪. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৩
comment by: নাজিরুল হক বলেছেন: "স্যাটানিক ভার্সেস কিংবা শয়তানের ছলনায় নাজিল হওয়া ওহীগুলো সবই মক্কাকালীন সময়ে"
সে ওহী গুলো ছিল শয়তানের বানী, আর আপনার বানী গুলো হল শ্রষ্টা প্রদত্ব। যদি আপনি শ্রষ্টার বানীকে ওহীর মাধ্যমে নাজিল হওয়াকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তাহলে তো শয়তান আছে বলেও বিশ্বাস করার কথা না।
১৫. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৬
comment by: উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: অপ বাক, আমার কমেন্ট ডিলিট মারলা কেন?

সত্য কথাডা মনে লয় মধু লাগে নাই। তাইলে এই হানে পোষ্টাও কেন!
১৬. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:০০
comment by: অপ বাক বলেছেন: উদাসি আমি কমেন্ট বিষয়ে এখনও কোনো রকম বাছবিচার করতেছি না- সত্য বিষয়টা সব সময়ই জাগ্রত- আরও একটু চেষ্টা করলেই আবারও লিখে ফেলতে পারবে-
১৭. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:০৩
comment by: অপ বাক বলেছেন: নাজিরুল আমার বানী ইশ্বর প্রদত্ত কিনা বিতর্ক এটা নিয়ে না- বিতর্ক যেখান সেখানে গিয়া বিতর্ক করো-
১৮. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:১৩
comment by: নাজিরুল হক বলেছেন: একটা সত্যকে কিছু দূর্বল যুক্তি দিয়ে মিথ্যা প্রমানিত করার ব্যার্থ খায়েস আমার নাই।
১৯. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৩৮
comment by: অপ বাক বলেছেন: তাহলে অযথা বিষ্ঠা ছড়ানোর কাজে মনোযোগী না হলেও চলবে
২০. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৫৪
comment by: বকলম বলেছেন: আরে ইসলাম আর মুহাম্মদের ভিতরে দেখি অনেক ফাঁক ফোকর (?!)।

আমার এখন কি করা উচিৎ?!!

ইসলাম বাদ দিয়া অন্য কোন ধর্ম ভাল যেটা গ্রহণ করা যায়?!!

নাকি নাস্তিক হওয়াই বেটার??!!
ভালই তো হবে... "দুনিয়াটা মস্ত বড়, খাও পিও ফূর্তি কর, আগামীকাল আসবে কিনা ! বলতে পারো?!!"
২১. ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৫৬
comment by: হেজাব বলেছেন: হাহ হাহ মডু ইন একশান।
প্রথম পাতা থেকে হোসেইন আর আমার পোস্ট গায়েব!!

সময়: ১৩:৫১
তারিখ: ২৬ জুন, ২০০৭
২২. ২৭ শে জুন, ২০০৭ রাত ১২:১৪
comment by: মম বলেছেন: অপবাক, আমারে লিখা আপনের মনতব্যের সাথে একমত।
মেঝ ভাবী, আপনে আমারে নক আউটের চেসটা
না কৈরা, নিজে পড়াশুনা করেন। সময় রে যথা ব্যাবহার হৈব। আমি ইমানদার মুসলমান।

 

 


তবু ও মানুষ কাঁদে
অধিকার চায় একটি শিশুর
তবুও মানুষ বাঁচে
কার হাতে অধিকার
মানুষ না যীশুর............

অধিকার সবার চাই, মতপ্রকাশের অধিকার নামান্তরে মতদ্্বৈত্বতার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ