দাড়ি-টুপির জঙ্গলে পথ হারাচ্ছি আমরা
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৩৪
ইশ্বরে তাদের অগাধ আস্থা। আমাদের সেনাবাহিনী ক্রমশ একটা ধর্মবাদী যোদ্ধা সংগঠন হয়ে উঠছে। কিংবা তাদের ক্ষমতার চর্চার নিরাপদ পদ্ধতি হলো মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিকে কোমল পরিচর্যা। তাই আমাদের সেনাপ্রধানেরা ক্ষমতার কাছাকাছি আসলেই মসজিদের চত্তরে গিয়ে মৃদু হেসে বসেন।
মসজিদ হয়তো ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্র হতে পারে, আমাদের সেনাপ্রধানদের সাথে ধর্মব্যবসায়ীদের দহরম-মহরমের প্রথা পুরোনো। সবাই এই জোব্বা সংস্কৃতিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বর্তমানের ছায়াসরকারের প্রধান মইন উ আহমেদও এটার বাইরে যেতে পারেন নি। তিনি মানুষের ধর্মীয় অনুভুতির তারে আঙ্গুল রেখে বাজাতে চাইছেন। বগুড়ায় তার চাষী বাজার উদ্বোধনের বক্তব্যে এটার প্রমাণ ছিলো।
তবে গত কাল জুম্মার পর পর যা হলো সরকারি নির্দেশে সেটাকে কি বলা যাবে। সরকার আসন্ন বোরো মৌসুমে নিরাপদ ফসলের কামনায় বিশেষ মোনাজাট পরিচালনা করেছে। এ মর্মে সরকারি নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছে সরকারের কোন অধিদপ্তর? এটা কি কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত- মানে জলপাই কোনো উর্দিধারীর পবিত্র মস্তক থেকে নির্গত সিদ্ধান্ত এটা? না কি আমাদের সচিবালয়ের বিশিষ্ট আলেমদের প্ররোচনা।
বস্তুত ইশ্বরের অনুগ্রহের চেয়ে আমাদের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়াটা ভালো হতো। বিশেষত যখন আমরা জানি তাপমাত্রা এবং চাপমানের তারতম্য এবং এ জনিত প্রতিক্রিয়ায় আমাদের কালবৈশাখী হয়, আমাদের অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি, টর্নেডো আর সাইক্লোন- সবই আসলে প্রাকৃতিক কারণেই ঘটে। এখানে ইশ্বরের মন্দ অভিপ্রায়-ক্ষোভ কিংবা বিরাগের অনুভুতির প্রকাশ নেই। ইশ্বর কুপিত হয়েছেন এমন সিদ্ধান্ত টেনে তাকে তুষ্ট করবার প্রক্রিয়াটাকে আদিবাসি সংস্কার বলা চলে বড়জোর। এর বেশী কিছু বলা যাচ্ছে না এই আচরণকে।
নারীরা একটা সময়ে বিশেষ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলো, তারাই কৃষিজমিতে বীজ বপন করতো, কুমারি মেয়েরা নেচে গেয়ে পৃথিবীর মনোরঞ্জনের চেষ্টা করতো- এমন কি মদীনায় দেশি ইশতারের ক্ষমতা ছিলো প্রবল। এই যে কুমারী নারীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব, ফসলের লোভে কুমারীর যোনীর রক্ত জমিতে প্রদান, এই সব কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায় নি। এমন কি কলের লাঙল দিয়ে চাষ করলে অধিক ফসল ফলে, জেনেটিক্যালি মডিফাইড বীজ ফসলের উৎপাদন বাড়ায়- ইশ্বরের অনুগ্রহ লাভের নানাবিধ তরিকা অবলম্বন না করেও অনেক দেশেই চালের উৎপাদন বেড়েছে।
আমাদের ইশ্বরবিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী কৃষি গবেষকেরা এমন ধানের গাছ উদ্ভাবন করেছেন যারা পানির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে- বন্যায় তাদের কোনো ক্ষতি হয় না।
এইসব বৈজ্ঞানিক প্রথাগত গবেষণার ফসল। কোনো অলৌকিকত্ব নেই এখানে।
তবে সরকার এমন একটা ইঙ্গিত দিলো এই আচরণে যে সব কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে এখন. অতিলৌকিক কোনো ঘটনাই আমাদের উদ্ধার হতে পারে।
নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করছে নিয়মিতই স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো। ইসলামি টিভি আগমনের পরে এই নতুন উন্মাদনার সাথে পাল্লা দিতে ইসলামী অনুষ্ঠানের সময় বাড়ানো হয়েছে-
এমনই এক অনুষ্ঠানে আমার প্রাক্তন শিক্ষক শমসের আলী বলেছেন পহেলা বৈশাখ আসলে একটা ব্যঙ্গ- দরিদ্র মানুষের দারিদ্র নিয়ে ব্যঙ্গ- আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যে এটা নেই- সেখানে মানুষ প্রতিদিন পান্তা খায়, বছরে একদিন পান্তা খেয়ে আমরা বাঙ্গালী হয়ে যাবো না। তার এই কথার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। একদিন ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে আমরা বাঙ্গালি হয়ে যাবো না। আমাদের এই শেকড়ে ফেরবার টানটাকে অপমান করলো যে বক্তব্য সেটাকে মানতে আপত্তি আছে আমার।
মানুষ সংস্কৃতি নির্মাণ করে। সাংস্কৃতিক উৎসবে নিত্যনতুনত্ব- অভিনবত্ব আনবার প্রয়াসটা নিন্দনীয় নয় মোটেও।
এই একটা আনন্দ উৎসবে সবাই নিজের সংস্কৃতিকে স্মরণ করছে এটাতে দোষের কি আছে।
হালখাতার মতো পূঁজিবাদী কিংবা সামন্ততান্ত্রিক উৎসব তার কাছে ঐতিহ্যসংলগ্ন মনে হয়। শমসের আলীর ভাবনার জগতে প্রবেশ করবো কি না এটা নিয়ে ভাববার অবকাশ আসলে ভাববো। তবে এই একটা মানুষ বাজারের মলম বিক্রেতার মতো খুবই আকর্ষনীয় বাচনিক যোগ্যতার অধিকারি, এটা মেনে নিতেই হবে। তাই তিনি যখন বললেন-হালখাতার ভেতরে একটা হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে উঠে মহাজন আর খাতকের ভেতরে- মানুষের দেনা- পাওনার হিসাব নতুন বছরের খাতায় তুলে রাখা, মানুষের দারিদ্রের চিহ্ন তুলে রাখা ভালো অনুষ্ঠান- এটা ঋণদাতা এবং ঋণগ্রহীতার ভেতরে আত্মার বন্ধন তৈরি করে সেটা মানতেই হবে।
তুমি গত বছর আমার কাছে ৫০০ টাকা ঋণী ছিলে, এ বছর শুধেছো ২০০- হাল নাগাদ করে নতুন বছরের খাতায় তোমার নামে ৩০০ টাকা লিপিবদ্ধ হলো। এ বছরের খন্দের জন্য কত লাগবে- আসো মিস্টিমুখ করো- দুপুরে খেয়ে যাও।
এই পদ্ধতিতে অনেক সুবিধা আছে। এটা প্রতিষ্ঠানিক প্রয়োজন, বছরের প্রথম দিনেই নিজের অশোধিত ঋণের অঙ্ক জেনে নেওয়া ভালো।
তবে প্রতিদিন আমাদের কৃষকেরা পান্তা ভাত খায়- এই সহজ তথ্য বলে দিয়ে আমাকে রীতিমতো বিষন্ন করে ফেললেন শমসের আলী। চাষীরা পান্তা খাওয়ার সুযোগ পায়? মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলে গেছে, এখন সকালে মুড়ি- গুড়- আটার রুটি গুড়, চিড়া কোঁচরে বেধে যাওয়া কৃষকেরা সবাই পান্তাজীবি হয়ে গেছে।
বিজ্ঞ মানুষেরা যাহাই বলেন সেটাই সঠিক।
এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শহুরে মানুষের নির্মমতার দলিল তুলে ধরে শমসের আলী আমাকেও ঋণী করে ফেললেন। যদি সুযোগ পাই এ বছর হালখাতায় এই ঋণের কথা তুলে আসবো আমি।
অন্য এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের কথা শুনে আরও ভালো লাগলো। তিনি হাসানুজ্জামান। আমার প্রিয় এক ছোটো ভাই জগন্নাথ হল থেকে ফোন করে জানালো সেখানে বিক্ষোভ মিছিল চলছে এখন। তারা হাসানুজ্জামনের পদত্যাগ দাবি করছে-
হাসানুজ্জামান একজন দ্বীনে ইসলামের সেবক। তিনি পড়ান রাজনৈতিক সংস্কৃতি- প্রাচ্যের রাজনৈতিক দর্শণ -প্রথম আলোর আজকের শেষ পাতায় তার কীর্তি বর্নিত হয়েছে-
মানুষের ধর্মপালনের স্বাধীনতা- ধর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা এবং ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতার ভেতরে কোনটাকে নিয়ন্ত্রন করা উচিত - এই প্রশ্নের উত্তরে আমার বক্তব্য হবে। মানুষের অতিরিক্ত ধর্ম পরিচয়কে নিজের ঢাল করে তোলার প্রক্রিয়াটাকে নিষিদ্ধ করা উচিত। মানুষের ধর্ম প্রচারের বাতিক, এবং ধর্মীয় বিধি চাপিয়ে দেওয়ার বাতিককে নিয়ন্ত্রন করা উচিত।
হাসানুজ্জামামনের নিজস্ব ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে আমার প্রশ্ন নেই- তার যা ইচ্ছা তিনি বিশ্বাস করতে পারেন। তার যদি মনে হয় মেয়েদের ঢেকে আব্রু মেনে পোশাক পড়া উচিত- সেটা তার নিজস্ব বিশ্বাসের স্বাধীনতা- এখানে আমি কোনো খবরদারির পক্ষপাতি নই- কিন্তু ক্লাশরুমে যখন তিনি শিক্ষক তখন পাঠ্যসূচিকে সম্মান করা তার পেশাগত দায়িত্ব। পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনীহা কিংবা ছাত্রদের জিম্মি করে তাদের মনের বিরুদ্ধে কিছু করতে বাধ্য করাটা রীতিমতো অন্যায়।
তিনি ক্লাশে ধর্ম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। অনুশোচনাবিহীন ভাবে বলছেন চাইলে বিধর্মীরা তার ক্লাশ নাও করতে পারে- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সকল ছাত্রকে ধর্মীয় পরিচয়ে চিহ্নিত করছেন। তিনি বলেই দিচ্ছেন- ক্লাশে ঢুকবার প্রথম এবং অন্যতম যোগ্যতা তার ধর্ম পরিচয়। এই যে ধর্মবোধকে সামনে নিয়ে আসা -এটা শিক্ষক হিসেবে তার নির্দিষ্ট দায়িত্বের প্রতি অবহেলা প্রদর্শনের পর্যায়ে পরবে কি না?
বাংলাদেশের দন্ডবিধির ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধারায় যে ফৌজদারি অপরাধ তিনি করলেন সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সংবাদের বিস্তারিত এখানে
Click This Link
তবে এটাতে আমার শুধুমাত্র বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিবর্তন নজরে আসলো। আমরা পুনরায় ধর্মীয় বিদ্বেষের নোংরা পথে চলাচল শুরু করেছি। আমাদের সাংস্কৃতিক নির্মাণের জায়গাটাতে এখন শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে উঠছে। এই আত্মবিধ্বংসী পথ থেকে আমরা ফিরে আসবো কবে? আমাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এই প্রথার চর্চা চলছে এবং সাম্প্রতিক সময়ের খবরের কাগজে এবং আমাদের সরকারের বিভিন্ন আচরণ এবং উক্তিতেও এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আমরা সবাই দাড়ি- টুপির জঙ্গলে পথ হারাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মনিটর বলেছেন:
অসাধারন লেখা।অসাধারন-------
নিভৃত পথচারী বলেছেন:
আপনার বক্তব্যের সাথে ভিন্নমত পোষন করছি। কারো ব্যক্তিগত অথবা সমষ্টিগত ভ্রান্ত বিশ্লেষণ, মনোভাব বা আচরণের কারণে প্রকৃত বিষয়বস্তুর মূল্যহানি ঘটে না। মুসলমানদের প্রকৃত বিশ্বাস ও তাদের বিশুদ্ধ কার্যাবলী সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন সত্য উপলদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রগামী করবে গোড়া অবিশ্বাসীদের নিঃসন্দেহে। দাড়ি টুপি সম্বলিত ব্যক্তি কৃত প্রত্যেক কার্যই ইসলাম নির্দেশিত এরূপ উদ্ভট ধারণা আপনার কি করে জন্মালো? প্রকৃতিতে বিরাজমান নিউটন আবিষ্কৃত গতির সূত্র অস্বীকার করলে কেবলমাত্র অজ্ঞতার নিকটই আত্মসমর্পণ করা হয়, তাতে গতির সূত্রের কিছু ক্ষতি -বৃদ্ধি হয় না।জেনে নিন,খুব অল্প কথায় বলতে গেলে মুসলমানদের ইমান বা বিশ্বাস হচ্ছে রাসুল (সঃ) এর প্রতি ভালোবাসা এবং আমল বা কার্যাবলী হচ্ছে রাসুল (সঃ) অবিকল অনুসরণ।
এর বিপরীত কোন কার্যাবলীর দায়ভার মুসলমাননামধারী কেউ করলে তার দায়ভার প্রকৃত ইসলামের নয়। সমস্যার মূল অনুসন্ধানে সচেষ্ট হউন। দাড়ি টুপিকে বৃথা দোষ দিচ্ছেন কেন? প্রকৃত মুসলমান তো আল্লাহর ফকির।বৈষয়িক স্বার্থ সিদ্ধিতে তার কৌতুহলই বা কি , তার অবকাশই বা কোথায়? আল্লাহ্ র সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের চেষ্টায়ই যে সদা বিভোর।তোমরা আল্লাহর রঙ্গে রঞ্জিত হও- এ হচ্ছে মুসলমানের প্রতি তার প্রভুপ্রতিপালকের আদেশ।
দাড়ি টুপি পরিহিত প্রকৃতমুসলিম ফকির দরবেশরাই তো শান্তি প্রচেষ্টায় চির ব্রতী ।
আজ বিশ্ব জুড়ে এত অশান্তি কি মুসলমানের সৃষ্টি না কি ভিন্নধর্মী সাম্রাজ্যবাদী ষঢ়যন্ত্রীদের নীল নকশা?
ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম প্রতিষ্ঠার করতে যে অক্ষম তার সমাজ বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আস্ফালনের কি হেতু থাকতে পারে?
অপ বাক বলেছেন:
পথচারী পথ চলতে চলতে এখানে হঠাৎ থেকে যেই জ্ঞান বিতরণ করলেন- তাতে আপনাকে ঠিক কি বলে ধন্যবাদ দিবো বুঝতে পারছি না। আমার ভ্রান্তি এভাবে তুলে ধরলেন আমি রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমাকে তো কেউ আগে এমন ভাবে বলে নি।টুপি আর দাড়ি সম্বলিত ব্যক্তিকে আক্রমন করে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে
আপনার বক্তব্য পড়ে আমার যে উপলব্ধি হলো সেটাই বলছি- এইখানে দাড়ি- টুপি উপমাটা এসেছে ধর্মীয় লেবাসধারী মানুষের প্রতীক হিসেবে- যদিও যারা উপমায় রচিত কেতাবের বিভিন্ন উপমার কয়েক হাজার তাফসির পড়ে তারা আবার সাধারণ মানুষের উপমাকে উপলব্ধি করতে পারে না। প্রকৃত ধার্মিক মানুষ কখনই কোনো জনগোষ্ঠির জন্য হুমকিস্বরুপ হতে পারে না। বরং আচরণসর্বস্ব মানুষ যারা ধর্মকে উপলব্ধি করে না তারাই ধর্মের ক্ষতি করে সবচেয়ে বেশী।
লাক্ষ্ণৈএ এসে বাইজী বাড়ি দেখবো না- এটাতো মক্কায় গিয়ে কা'বা শরীফ না দেখার মতো- এই উপমাতে যারা আবিস্কার করেছিলো কা'বাকে বাইজী বাড়ি বলা হয়েছে- তাদের তুলনায় আপনার উপমা বুঝবার যোগ্যতা যে একচুলও বেশী না এটা বুঝলাম।
রসুলের প্রতি ভালোবাসা ঈমান না।
এই একটা বিষয়ে আগে পরিস্কার হন তার পরে ধর্মের বাকী পাঠ দিবো আপনাকে। আগে ঈমানের ভিত্তিটা ঠিক করেন।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
ঠিকাছে।পথ-তো হারিয়েছে মেলা আগেই, হারানো পথ আরো ঘন করে হারানোর প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত। যন্ত্রনার উপরে যন্ত্রনা।
"তাই আমাদের সেনাপ্রধানেরা ক্ষমতার কাছাকাছি আসলেই মসজিদের চত্তরে গিয়ে মৃদু হেসে বসেন।" - যেটা দুশ্চিন্তার তা হলো এই প্রক্রিয়ায় রাজাকার / যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটাও না হতে দেওয়ার সমুহ সম্ভাবনা। হাজার হলেও মসজিদ আর ধর্ম নির্ভর রাজনীতি ব্যবসাটাতো যুদ্ধাপরাধীদের অন্যতম আস্তাবল।
নিভৃত পথচারী বলেছেন:
আমার প্রতিবাদটি ছিল দাড়ি টুপির প্রতি কটাক্ষকর মন্তব্যের বিপরীতে। লেখার মূল বিষয়বস্তুর প্রতি নয়। উপরন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহমতই পোষন করি উল্লেখিত বিষয়াবলীর প্রতি।যে বিষয়টি জানাবার প্রয়োজন বোধ করছি তা হচ্ছে , হিব্বুর রাসুল বা রাসূলে র প্রতি ভালোবাসাই হচ্ছে ঈমান - এমন গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করার মত স্পর্ধা আমার মত দীনহীনের কখনই নেই। ইমামে রব্বানী হযরত মোজাদ্দেদে আলফেসানী শায়খ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী (রঃ) তার রচিত মকতুবাত শরীফে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আর হযরত মোজাদ্দেদে আলফেসানী শায়খ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী (রঃ) এর পরিচয় সম্পর্কে আশা করি নতুন করে আপনাদের মত বিদ্বান ব্যক্তিগণের নিকট বলার কিছু নেই। পবিত্র হাদিস শরীফে বলা আছে সম্মানিত সাহাবা আজমাইন(রঃ) এর পরে ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন পর্যন্ত তিনিই শ্রেষ্ঠ ইমাম ও মোজাদ্দেদ।
আর জ্ঞান দান করেন একমাত্র আল্লাহতা'লা। মানুষতো কেবল অন্বেষন করতে পারে। আমি কেমন করে আপনাকে জ্ঞান দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হতে পারি।
হাদিসে আছে জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ। দান করাটা নিতান্তই আল্লাহতা'লার মর্জি।
আর আপনার কাছে যদি সত্যিই শিক্ষা করবার মত বিশুদ্ধ পাঠ থাকে তবে আমার কিন্তু তা শিখতে বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই।
তবে জানেন নিশ্চয়ই, জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য জ্ঞান প্রচার করা ফরজে কেফায় অর্থ্যাৎ তাদের মধ্যে কেই একজন প্রচার করলেই সমষ্টিগত ফরজ আদায় হয়, কিন্তু মূর্খের জন্য জ্ঞান প্রচারের প্রচেষ্টা হারাম....
এখন বিবেচনা করুন আপনি কি সত্যিই ধর্ম পাঠ দেয়ার যোগ্যতা রাখেন..?
নেমেসিস বলেছেন:
ধর্মের আঁচলে ঢেকে নিজেকে রক্ষা করতে চায় কেবলমাত্র নপুংসকরাই ।
শাওন বলেছেন:
ধর্ম ব্যবসায়ী বিষয়ক লেখা পড়লাম । এইবার মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসায়ী নিয়ে লেখা দ্যান । পড়ে সওয়াব অর্জন করি ।
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
স্বৈরশাসক বা এক নায়ক বা সেনা শাসক সবাই ধর্মের ঢালের নিচে আশ্রয় নিয়ে নিজের উর্দি রক্ষা করে। কেননা ওটা সহজ ও মানুষকে ধোকা দিতে এ পন্থা বহুল পরীক্ষিত। ধর্মের ঢাল দিয়ে চিরকাল রাষ্ট্র ক্ষমতা আকড়ে থাকার চেষ্টা হয়েছে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















