প্রাতিষ্ঠানিক সাম্প্রদায়িকতা- প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
২২ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৪
মানুষ ধর্মীয় চেতনা ধারণ করলে তাতে তেমন ক্ষতি হয় না, মানুষের ধর্মীয় চেতনা পরিচিত জনের পীড়ার কারণ হলেও তেমনভাবে তা বিশাল একটা ভোক্তা শ্রেণীকে আক্রান্ত করে না। তবে যখন প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় চেতনা ধারণ করে কিংবা প্রতিষ্ঠান নিজেই সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মীয় চরিত্র এবং চিহ্ন ধারণ করে তখন সেটা সামগ্রীক ভাবে সকল ভোক্তা এবং কর্মীর ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠে।
ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করে এমন স্মারক পরিধান করা কিংবা না করাটা ব্যক্তি মানুষের নিজস্ব স্বাধীনতা, তার বিশ্বাসের স্বাধীনতার মতোই এটার অধিকার যথাযথ পালিত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়, তবে গতকাল প্রদত্ত আদেশ বলে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সকল মহিলা কর্মীকে এখন থেকে স্কার্ফ বেধে আসতে হবে। এই ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ করাটা তাদের চাকুরির কোনো শর্তে না থাকলেও যেহেতু নিয়োগ বিধিমালায় বলা আছে প্রয়োজনে কতৃপক্ষ নতুন কোনো আইন কিংবা বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, সেই বিশেষ ক্ষমতা বলে এখন সকল মহিলা কর্মীকে মাথায় স্কার্ফ বেধে চাকুরিতে আসতে হবে।
মাথায় স্কার্ফ বাধা উচিত কিংবা অনুচিত এই বিতর্ক না করে শুধুমাত্র ধর্মীয় ব্যাংকিং চেতনা ধারণ করে সকল মহিলা কর্মীর জন্য স্কার্ফ বাধ্যতা করার বিধিটা আদৌ সঙ্গত কি না এই প্রশ্নটাই আমার ভেতরে ডালপালা মেললো।
আমার অন্য সকল প্রশ্নের ভেতরে এই প্রশ্নটাই প্রথমে ছিলো, এটা ঠিক কি উপলক্ষে জারি করা হলো? শোভনতা সৌজন্যতা এবং শরিয়া মোতাবেক ব্যাংকিং চালানোর জন্য। আমি আশ্চর্য হলাম। বন্ধুকে বললাম তোমাদের এখানে অন্য ধর্মের কোনো কর্মচারী নেই?
তার উত্তর ছিলো বর্তমানে মনে হয় নেই- তাই এই বিধান যে কারো ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করবে না এমন না, তবে সেটা বিধর্মীর উপরে ধর্মীয় চিহ্নের আগ্রাসন হয়ে উঠবে না।
আমাদের বাংলাদেশের পূঁজিবাজারে শাহজালাল ব্যাংকের শেয়ারের দাম ভালো। বলা চলে চড়া, তবে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র পূঁজির চলন, যা শেয়ার বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানের উপরে আস্থা এবং অনাস্থার প্রকাশ ঘটায়, যেখানে সচেতনতার স্পষ্ট অভাব।অন্তত অন্য কোনো দেশে এমন ধর্মীয় বিভাজনমূলক যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া পড়তো শাহজালাল ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যে।
যেকোনো ধর্মীয় আগ্রাসনকে শেয়ারহোল্ডাররা বিনিয়োগের পক্ষে ক্ষতিকারক ভেবে থাকেন, তাই তারা খুব দ্রুতই এই শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন এবং এই অনাস্থার প্রভাব পড়তো শেয়ারের দামে।
এই সাম্ভাব্য অনাস্থার ভয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো যে দেশে- যে ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করুক না কেনো একটা আপাত অসাম্প্রদায়িক, ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখে।
শাহজালাল ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করলো, এর পরবর্তীতে সেখানে অন্য কোনো ধর্মের কর্মচারির নিয়োগ পাওয়া দুরহ। অন্তত এমন স্পষ্ট ধর্মীয় চেতনা যে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে সেখানে অন্য ধর্মের কোনো কর্মী কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না।
প্রতিষ্ঠান যখন এভাবে ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ করতে চায় এবং সেটাকে প্রতিষ্ঠানের বিধিতে স্পষ্ট করে প্রকাশ করে সেই প্রতিষ্ঠান অসাংবিধানিক আচরণ করে। বাংলাদেশের সংবিধানে কোথাও এই ধর্মীয় বিভাজনের সুযোগ নেই, যোগ্যতার বিচারে বিশেষ কোনো ধর্মের প্রাধান্যও নাকচ করা হয়েছে।
তবে বর্তমানের বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসে আছে পাকিস্তানের ভুত, তাই এই একটা প্রতিষ্ঠান শুধু নয়, বরং ধর্মীয় চেতনা ধারণকারী অন্য সকল ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অনেকখানেই অন্য ধর্মাবলম্বীদের হেনেস্থার শিকার হতে হচ্ছে।
আল মানারাত নামের একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমার এক পরিচিত শিক্ষকতার জন্য আবেদন করতে গিয়েছিলো, সেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও বলা ছিলো না বিশেষ একটা ধর্মকে প্রধান্য দেওয়া হবে। আমার এক পরিচিত রঞ্জন বণিক সেখানে গিয়েছিলো-
তার শিক্ষাগত সনদ দেখে, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র দেখে ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রথম প্রশ্ন ছিলো আপনি কি কালেমা তাইয়্যেবা জানেন?
যার নাম রঞ্জন বণিক, যে তার সিভিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে তার ধর্ম হিন্দু- তাকে এই প্রশ্নটা করাটা উচিত হয়েছে কি না এটাও একটা বিবেচনার বিষয়।
সে বের হয়ে আসবার সময় একটাই কথা বলেছিলো ইন্টারভিউ বোর্ডকে। আমার মনে হয় না পদার্শ বিজ্ঞান পড়ানোর সাথে কালেমা তাইয়্যেবা জানবার কোনো সম্পর্ক আছে।
আমি ভেবেছিলাম এটা বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা। তবে ভুল ভাঙলো, তার দুই বছর পরে ফয়সাল কিংবা ফাহাদ, কোনো এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে সেখানে চাকুরির আবেদন করলো বিকাশ কুমার দাস-
ইন্টারভিউ বোর্ডে তাকে প্রথম যে প্রশ্নটা করা হলো আপনি সুরা ফাতিহা তেলাওয়াৎ করেন।
প্রশ্নটা অনেক দিন ধরেই করছি- বাংলাদেশ আদৌ কোনো ভাবে ধর্মান্ধ একটা রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে না কি এটা বাংলাদেশের সমাজ মানসেই ছিলো। এই বিধর্মী বিদ্বেষ যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেটাকে তীব্র ঘৃনা এবং এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই।
নেমেসিস বলেছেন:
পোস্টে একমত। কিন্তু গুটিকয়েক চিন্হিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডে পুরো বাংলাদেশের সমাজ মানসকে টানা কি ঠিক হলো ??
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের সমাজমানসকে টেনে আনবার কারণ হলো এরা এই বিষয়টাকে মৌন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কতিপয় প্রতিষ্ঠানে এই রীতি প্রচলিত হওয়ার পরে বাংলাদেশের তথাকথিত আইনি সহায়তা কেন্দ্র কিংবা মানবাধিকার ওয়াচ ডগেরা কেউই এই প্রথার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে নি। আমি এই ঘটনার অর্ধযুগ পুরণ হতে দেখলাম, তবে এখনও অলিখিত এই বিধির প্রতিবাদে কেউ একটা মামলা কিংবা আবেদন জানালো না।
সকালে একজনের সাথে কথা হচ্ছিলো- তারও এই প্রশ্ন ছিলো, যারা প্রকৃত ভুক্তভোগী হয় তারা আইনি সহায়তা নিতে পারে কি না।
আমার জানা নেই বাংলাদেশের শ্রম আইনে কিংবা বাংলাদেশের কর্পোরেট বিধিতে এমন কোনো স্পষ্ট নিরপেক্ষ পোশাক রীতির কথা বলা আছে না কি। যদি না থাকে তবে একটা নির্দেশনার প্রয়োজনেও কিছু করা প্রয়োজন, তবে সমাজ থেকে বাধাটা আসে এভাবেই যে মাথায় স্কার্ফ বাধাটা তো দোষের কিছু না, ভালোই করছে,
কালপুরুষ বলেছেন:
এভাবেও বলা যায়- কোন হিন্দু বা খৃষ্টান যত ভালই কোরাণ পড়তে জানুক বা তেলওয়াৎ করতে পারুক সে ইসলামী ব্যাংক-এ বা ধর্মীয় লোগোর অন্তর্গত কোন ব্যাংকে চাকরি পাবেনা। কারণ একটাই ধর্ম এবং তার অনুসারী হওয়া সেইসব ব্যাংকের চাকরির জন্য বাধ্যতামূলক একটা যোগ্যতা।
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
উদ্ধৃতি
প্রশ্নটা অনেক দিন ধরেই করছি- বাংলাদেশ আদৌ কোনো ভাবে ধর্মান্ধ একটা রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে না কি এটা বাংলাদেশের সমাজ মানসেই ছিলো।
- নতুন করে কিছুই হচ্ছে না । আগে এরা মাদ্রাসা খুলতো এখন ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক হাসপাতাল খুলছে । গত কয়েক দশকে তার অর্থনীতির ভিতটা গড়ে নিয়েছে । এই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের পা যখনই পড়ে তখনই এই ব্যাপারগুলো চোখে পড়ে ।
এই একইভাবে রাস্তায় হিজাব পরা মেয়েদের সংখ্যা বেড়ে কেন যাচ্ছে তার ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব । এরা আগে ঘরের ভেতরেই থাকতো । এখন বেরুচ্ছে রাস্তায় অর্থনৈতিক কারনে ।
আমাদের ব্যাচে কোন মেয়ে মাথায় হিজাব পরত না কিন্তু আমাদের ৫/৬ বছরের জুনিয়র ব্যাচের একটা গ্রুপ ফটো দেখলাম রিসেন্টলি। মোট ১২ মেয়ের মধ্যে ৩ জনেরই মাথায় হিজাব!!
অনিশ্চিত বলেছেন:
অদ্ভুত হলেও সত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি ধর্মীয় উন্মাদনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সমাজবিজ্ঞানের নিয়ম বলে, টিকে থাকা যখন জরুরি হয়; উন্মাদনা তখন চরমে পৌঁছে। তবে কি ধরে নেওয়া যায়, ধর্ম-উন্মাদনা ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেই এই উন্মাদনা দিন দিন বাড়ছে?
অপ বাক বলেছেন:
হাসিব মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে চেতনা এবং সামাজিক অধিনতা অমান্য করবার মানসিকতাও জন্মায়। স্বাধীকার বোধ জন্মায়।আমাদের সমাজ কাঠামোতে এই বিষয়টা কি অনুপস্থিত হয়ে যাচ্ছে?
এখানে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পথে যারা অগ্রসর তারা যদি নিজেদের চেতনাকে উন্মুক্ত না করে দাসত্ব কিংবা সামাজিক অধীনতা মেনে নেয় তাহলে এই পরিবর্তন আসবে কখনো?
আরিফুর রহমান বলেছেন:
বেদনাদায়ক হলেও সত্য আপনার প্রতিটি কথা। ধর্মীয় কারনে বৈষম্য আনয়ন করা হচ্ছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। মুসলিম না হলে বাংলাদেশে তার বেঁচে থাকা কষ্টকর করে তোলা হচ্ছে।
যে নারীকর্মীটি শাহজালাল ব্যাংকে কাজ করেন এবং নীতিগতভাবে হিজাব পড়ার বিরোধী, তাঁকে হিজাবে পড়তে বাধ্যতা করা কতটা হীনমন্যতা এবং বৈষম্যমূলক তা বোঝার মতো মননশীল... 'বাঙালী' আজ আর নেই।
বাংলাদেশে আজ বিচার ব্যবস্থাও দুর্বল ফলে নারীনীতি বা অন্যকোন ডিস্ক্রমিনেশন গ্রাউন্ডে মামলা করার কথা মনে হয় কেউ ভাবেনও না।
তবে উন্নত বিশ্বে এধরনের আগ্রাসী কর্মকান্ড চালানোর চেষ্টা করায় কোন কোন কোম্পানীকে মাসুল গুনতে হয়েছে, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিষ্চিত করার পাশাপাশি তাকে নিয়ন্ত্রনও করা হয় যাতে এর দাঁত নখে কেউ আহত না হয়।
আমাদের এই ব্লগই ধর্মীয় মানসিকতার চমৎকার আয়না। শুধূমাত্র ধর্মের লেবাস পড়লেই একশ্রেনীর ধর্মবাজের আস্ফালন স্নেহের দৃষ্টিতে দেখে থাকেন কতিপয় সরব (আপাতঃ দৃষ্টিতে আধুনিক কিন্তু ধর্মান্ধ মানসিকতার) ব্লগার।
সুতরাং এই বিশ্ব আগ্রাসনের প্রতিকার কি, আমি জানি না।
বাংলাদেশের সমাজে এই ধর্মান্ধ মানসিকতা আগেও ছিলো, কিন্তু তার ফসল তুলতে শুরু করেছে ইদানীংকালের ধর্মব্যাবসায়ীরা।
এর প্রতিকার করা যাচ্ছে না কিছু লোকের ধর্ম-ক্রিমিনালদের আস্কারা দেয়ার কারনে।
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
দেখুন, জামাতীরা ইবনে সিনা, মানরাত বানিয়েছে নিজেদের দলের লোকদের অন্ন সংস্থানের জন্য। তাদের নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাকে নিবে , কিসের ভিত্তিতে নিবে এটা তাদের নিজস্ব বিবেক বুদ্ধির ব্যাপার।এটা কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নয় যে, এর জন্য জাতির কাছে দায় বদ্ধ থাকতে হবে। জামাতের দল/ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি পাবার যোগ্যতা যদি হয় ধর্ম পরিচয় এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাকে যদি তারা আমলে না আনে, তাহলে তাদের ধ্বংস তারাই বুঝবে। এতে আমাদের কি আসে যায়?
আমরা বড় জোর জামাতী প্রতিষ্ঠান গুলো কে আমরা চিহ্নিত করে রাখতে পারি। মানুষ কে জানাতে পারি, ঘৃণা করতে পারি। কিন্তু এটা দিয়ে কি জামাতীদের চরিত্র বদলানো যাবে?
@ তাকা, মোট ১২ মেয়ের মধ্যে ৩ জনেরই মাথায় হিজাব!! হিজাব পরাটা কি চরিত্রহীনতার লক্ষণ? এত বিস্ময় প্রকাশ কেন? তারা তো ব্যক্তি পর্যায়ে ধর্ম পালন করছে। কারো উপর চাপিয়ে দিচ্ছেনা। নাকি আপনারা নারীর পূর্ণ সৌন্দর্য দর্শন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাই এ গাত্র দাহ?
মাহবুব সুমন বলেছেন:
সাইফ শেরিফ না একবার অচেনা বাঙালিকে হিন্দু, আর আমাকে কম্যুনিস্ট বানাইছিলো !!
কিউপিড বলেছেন:
সহমত@সাঈফ শেরিফ
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
এই পোষ্টের মেরিট আমার কাছে যা মনে হয় তা হল সাম্প্রদায়িকতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। এই প্রক্রিয়াকে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল চেতনা আর প্রতিষ্ঠানকে কিংবা দুটোরই রাজনৈতিক অর্থনীতিকে পৃথক পৃথক করে না করে দেখা। ইসলামী ব্যাংক যে স্মারককে পোশাকের ছলে পরিবেশন ও প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তার একটি প্রচারমূলক পাটাতন রয়েছে। ফলে খেয়াল রাখার মত বিষয় হল এইচএসবিসির বিশেষ পোষাকের স্মারকত্বের অর্থ আর ইসলামী ব্যাংকের স্মারকত্মের অর্থ এক নয়। একটা কর্পরেট এবং আধুনিকতার পরিচয়বাহী অপরটি ধর্মীয় আচারের ইঙ্গিতবাহী।প্রতিষ্ঠান যখন পুঁজির সহায়তায় মতাদর্শকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যগ নেয় তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে মিহি হিসেবে দেখার কোন রাস্তা নেই। এটা একভাবে নতুন আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার গল্প। যেটা ব্লগের অনেক টেক-দেশী-প্রবাসী-আধুনিক এবং হাস্যকরভাবে কোরানে বিজ্ঞান দাবীকারীরা প্রায়ই করে থাকেন। বোরখাতে কিংবা বিকিনিতে কোনকালেই সমাজ মানসে ততটা সমস্যা হয় না যতক্ষণ তা সমাজ ক্ষমতা কাঠামোকে পরিবেশন না করে কিংবা নাড়া দেবার চেষ্টা করে। খুব সেক্যুলার বলয় থেকে দেখলে এই উদ্যগ আসলেই অনেক সাম্প্রদায়িক। যদি আবার জাতীয়তাবাদী বলয়কে ক্রিটিক্যালি দেখি তাহলে দেখার মত বিষয় হইল আদিবাসীদেরও অফিসের বিশেষ পোশাকে উপস্থিত হতে হয়। এবং যেটা আবার অফিসেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এই পোশাক সেই ভিন্ন জাতিসত্তাকে ক্রমান্বয়ে আধিপত্যশীল জাতি পরিচয়ের কাছে জানান দিতে থাকে। যেমনটা আমরা দেখতে পাই ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ইহুদিদের পোশাকে স্বস্তিকা চিহ্ন পরিধানের বাধ্যবাধকতায়।
জরূরী পর্যবেক্ষণ। প্রিয় পোষ্ট।



















রিভুজির যেমন বিনাশ নেই, এই ধারারও শেষ নেই।