somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেয়ার বাজার-

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাম্প্রতিক অবস্থা দেখে একটাই আশংকা হচ্ছে আরেকটা শেয়ার বাজার অঘটন কি অচিরেই দেখতে পারবো আমরা? শেয়ার বাজার সম্পর্কে বলবার মতো বিদ্যা- বুদ্ধি আমার নেই। বিনিয়োগকারীদের কিছুটা চিনি বলেই বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে শেয়ার বাজারটা বুঝবার চেষ্টা করেছি।

যতটুকু বুঝি সীমিত জ্ঞানে- যখন কোনো কোম্পানী বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করে তখন তারা নিজেদের কতৃত্বে কিছুটা শেয়ার রেখে বাকীটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। প্রধান উদ্যোক্তাদের হাতে থাকে অধিকাংশ শেয়ার, তারা কোম্পানির অধিকার এবং তাদের ক্ষমতার চর্চা নিরাপদ রাখবার জন্যই এ কাজটা করেন।
শেয়ার হোল্ডার সীমিত অর্থে সেই কোম্পানীর অংশীদার, তাদেরও যৌথ ভাবে কোম্পানীর নীতি নির্ধারণী বিষয়ে কিছু ভোটাধিকার থাকে, এই ক্ষমতা নির্ধারিত হয় শেয়ারের অনুপাতে।

বড় বড় বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে তখন সেই কোম্পানীর ভবিষ্যত বিষয়ে সংশয় কেটে যায় বলেই বড় বড় বিনিয়োগকারীরা যেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে সেইসব শেয়ারের বিনিয়ম মূল্য বাড়তে থাকে।

এইসব ভাবনার সাথে শেয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থা বুঝা যাবে না। বাংলাদেশে অধিকাংশ শেয়ার হাত বদল হয়ে যায় সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে, কোনো বড় বড় বিনিয়োগ সংস্থা তেমন ঘোষণা দিয়ে অমুক কোম্পানীর শেয়ার কিনতে চায় না। বরং বর্তমানের ধারাবাহিকতা যেমন তাতে যৌথ মালিকানার কারণে কোনো কোম্পানী একিভূত হচ্ছে, কোনো কোনো কোম্পানী বিদেশী মালিকের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

আশংকাটা যে কারণে, কদিন আগেই শেয়ার বাজারের উপরে একটা রিপোর্ট পড়ে জানলাম বাংলাদেশের শেয়ারবাজার অভার ভ্যালুড- অর্থ্যাৎ মার্কেট পোটেনশিয়াল যতটা, অন্তত বাংলাদেশের পণ্য বাজার বিবেচনা করে যেটুকু মার্কেট ভ্যালু এক একটা শেয়ার দাবি করে বাংলাদেশে সেটার পরিমাণ অনেক বেশী।

শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রনের জন্য বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারা কয়েকটা ভাগে ভাগ করেছেন কোম্পানীগুলোকে। এইসব ভাগের কারণ তারা আস্থাশীল কোম্পানীগুলোকে শেয়ারবাজারের গুডবুকে রেখেছেন।
কিছু কিছু শেয়ার তার কাগজে লিখিত মূল্যের তুলনায় কম দামে বিক্রী হচ্ছে, অর্থ্যাৎ সেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী নয়। অর্থ্যাৎ ক্রেতারা নিশ্চিত হয়েছে এইসব কোম্পানীর ভবিষ্যত খুবই খারাপ। তাদের আয় উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। আবার কিছু কিছু শেয়ারের মূল্য লিখিত মূল্যের অন্তত ৬০ থেকে ৮০ ভাগ বেশী।

এই বৈপিরিত্ব থাকবেই, মানুষের আস্থা না থাকলে মানুষ কোনো কোম্পানীর অংশীদার হতে চাইবে না। সমস্যাটা এই হিসাবের, যেখানে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের অধিকাংশ শেয়ারই অযৌক্তিক ভাবে বেশী। তাদের এতটা বিকশিত হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও বিক্রয় চাপে তাদের শেয়ারের দাম উত্তোরোত্তর বাড়ছে।

এখন যে দামে কয়েকটা কোম্পানীর শেয়ার বিক্রী হচ্ছে, যেমন বাটা, ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়ার ফান্ড, স্কয়ার, এদের শেয়ার যে দামে বিক্রী হচ্ছে তা তাদের বাজার কব্জা করবার যোগ্যতার তুলনায় বেশী। অন্তত যে দামে বিক্রী হচ্ছে সেই দাম হতে হলেও কোনো কোনো কোম্পানীকে অন্তত পরবর্তী ২০ বছর একই হারে নিজেদের বাজার বাড়াতে হবে।

এখানেই ভয়টা তৈরি হয়, বাংলাদেশের সীমিত ভোক্তা, এখানে ব্যাংকগুলোর উপরে মানুষের আস্থা বেশি, অন্তত তারা সহসাই দেউলিয়া হয়ে যাবে না এই নিশ্চয়তা আছে, বাটা স্বনামধন্য কোম্পানী, স্কয়ার বাংলাদেশের অন্যতম একটা প্রতিষ্ঠান, তাদের সুনাম আছে, তবে তাদের শেয়ার মূল ক্ষমতার তুলনায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ গুন বেশী দামে বিক্রী হচ্ছে।

হয়তো তাদের সেই ক্ষমতাই নেই, অন্তত ১০০ টাকার শেয়ার ৬০০০ টাকা দিয়ে কেনা মানে মূল দামের ৬০ গুন বেশী দামে একটা শেয়ার কেনা হচ্ছে। সম্ভবনা কোম্পানিটা একদিন ১০০ টাকার বিপরীতে ৬০০০ টাকা আয় করতে পারবে। এই ক্ষমতা কি আছে সেই কোম্পানীর?

বিনিয়োগকারীরা আসছে ফাটকা লাভের আশায়, তাদের অধিকাংশই মৌমাছির মতো বিনিয়োগকারী, শেয়ারবাজার চাঙ্গা হতে থাকলে তারা কয়েক সপ্তাহের জন্য একটা শেয়ার ধরে রেখে মুনাফার জন্য বেচে দেন, এরাই অধিকাংশ শেয়ারের ক্রেতা। তাদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের চাহিদা দীর্ঘ মেয়াদি ীনিয়োগের জন্য নয়, তারা বিনিয়োগ করছে অল্প সময়ে ধনী হওয়ার লোভে।

এরা বলছে মার্কেটে তেমন ভালো মানের শেয়ার নেই বলেই অতরিক্ত দাম হলেও তারা এইসব শেয়ার কিনছেন। এই চাহিদার তুলনায় যোগান কম তত্ত্ব দিয়ে হয়তো এটার ব্যখ্যা দেওয়া সম্ভব, তবে মানুষের বোকামি সীমাহীন। তারা অযথাই এক টুকরো কাগজের দাম বাড়াচ্ছেন, এবং তারা সবাই লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

সব সময়ই কি এই হিসাবটা খাটে? মাঝে পিরামিড মার্কেটিং বলে একটা ধারণা এসেছিলো বাজারে, আমার দুই হাত, আমি দুই জনকে ধরলাম, এই গাণিতিক ফাটকবাজীতে হিসাব বলে অন্তত ১৫ হাত ঘুরবার পরে আসলে একটা বড় শহরে তেমন কোনো মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না, যারা এই চক্রের সদস্য হতে পারে। এই প্রতারণা যেসব কোম্পানী করেছে, তারা লাভবান হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছে, শেয়ার বাজারে কবে নিজেদের ভেতরে লড়াই করে কাগজের টুকরার দাম বাড়ানো মানুষগুলো প্রতারিত হবে এই আশংকা নিয়ে শেয়ারের দরদাম দেখি।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×